প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের প্রথম ১০০ দিন ছিল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে যাত্রার সূচনা। এ সময় অর্থনীতি, কৃষি, প্রশাসন, বিনিয়োগ, সামাজিক সুরক্ষা ও বৈদেশিক সম্পর্ক, বিভিন্ন খাতে নতুন দিকনির্দেশনার চেষ্টা দেখা গেছে। তবে উদ্যোগের পাশাপাশি বাস্তব ফল, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং সুশাসনের প্রশ্নও সামনে এসেছে।
শুরুটা ছিল প্রত্যাশার : প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের সামনে একদিকে যেমন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রত্যাশা পূরণের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপনের সুযোগও এসেছে। বিরোধী রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় কাটানোর কারণে তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং প্রশাসনিক পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে জনমনে স্বাভাবিকভাবেই উচ্চ প্রত্যাশা ছিল। সমর্থকদের কাছে তিনি ছিলেন পরিবর্তনের সম্ভাবনার প্রতীক, আর সমালোচকদের প্রশ্ন ছিল, দলীয় নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাকে তিনি কতটা কার্যকরভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতায় রূপ দিতে পারবেন।
প্রথম ১০০ দিনে সরকার যে বার্তাটি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দিতে চেয়েছে, তা হলো গতি ও সমন্বয়ের। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিয়মিত আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ, অর্থনীতি, কৃষি, বিনিয়োগ ও প্রশাসনিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ—এসব উদ্যোগ একটি সক্রিয় প্রশাসনিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত বহন করে। একই সঙ্গে তিনি মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে নীতিগত সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগোয়। যদিও এই উদ্যোগগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল মূল্যায়নের জন্য আরো সময় প্রয়োজন, তবু প্রথম ১০০ দিনের অভিজ্ঞতা বলছে, নতুন সরকার অন্তত শুরুতেই একটি কর্মমুখী, সিদ্ধান্তনির্ভর এবং ফলাফলকেন্দ্রিক প্রশাসনের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
অর্থনীতিতে আস্থার বার্তা : নতুন সরকারের সামনে প্রথম ও সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠন। প্রথম ১০০ দিনে সরকার রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকিং খাতে সংস্কারের উদ্যোগ, ব্যবসা সহজীকরণ এবং রপ্তানিমুখী শিল্পে নীতিগত সহায়তার ওপর জোর দেয়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদার, প্রবাসী বিনিয়োগকারী এবং দেশীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ অর্থনৈতিক কূটনীতিকে সক্রিয় করেছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, নীতিগত ঘোষণা ইতিবাচক হলেও এর প্রকৃত প্রভাব মূল্যায়ন করতে সময় লাগবে। কারণ মূল্যস্ফীতির চাপ, বিনিয়োগের ধীরগতি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মতো সূচকে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে ধারাবাহিক নীতি বাস্তবায়ন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বাজারে আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
কৃষিতে উদ্যোগ, কিন্তু প্রশ্নও আছে : তারেক রহমানের সরকার কৃষিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করে স্মার্ট কৃষি, ডিজিটাল কৃষক নিবন্ধন, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষিঋণ সহজীকরণের মতো উদ্যোগের কথা বলেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতায় এসব পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী। তবে দীর্ঘদিন কৃষি খাতের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে আমার পর্যবেক্ষণ হলো, এই খাতের সবচেয়ে বড় সংকট প্রকল্পের সংখ্যা নয়, বরং নেতৃত্ব ও সুশাসন। অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমন্বয়ের অভাব, দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব, স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রভাব এবং জবাবদিহির ঘাটতি নীতির কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের সুযোগ যেমন তৈরি হয়েছে, তেমনি কোথাও কোথাও সেই পরিবর্তনকে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত সুবিধার জন্য ব্যবহার করার অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। এই বাস্তবতায় শুধু পদ পরিবর্তন বা নতুন প্রকল্প ঘোষণা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কর্মদক্ষতা, সততা ও জবাবদিহির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা। কৃষি খাতে টেকসই পরিবর্তন আনতে হলে অনিয়মের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান, দক্ষ নেতৃত্বের বিকাশ এবং মাঠ পর্যায়ে নীতির সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই হবে সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
প্রশাসনিক সংস্কারের ইঙ্গিত : প্রশাসনকে আরো গতিশীল করার ঘোষণা নতুন সরকারের ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, ফাইল নিষ্পত্তির সময় কমানো এবং কর্মদক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়নের উদ্যোগ প্রশাসনিক সংস্কারের ইঙ্গিত বহন করে। তবে আমার পর্যবেক্ষণ হলো, শুধু নীতিগত ঘোষণা দিয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।
প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এখনো সেই পুরনো কর্মসংস্কৃতি, সিদ্ধান্তহীনতা এবং প্রভাবনির্ভর চর্চার ছাপ রয়ে গেছে। কোথাও কোথাও দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা স্বার্থান্বেষী নেটওয়ার্ক ও অনানুষ্ঠানিক ক্ষমতার বলয় সংস্কারের গতিকে ধীর করে দেয়। রাজনৈতিক পরিবর্তন তখনই অর্থবহ হবে, যখন প্রাতিষ্ঠানিক আচরণেও পরিবর্তন আসবে।
একই প্রশাসনিক মানসিকতা ও জবাবদিহিহীন চর্চা বহাল থাকলে নতুন নীতির সুফলও সীমিত হয়ে পড়বে। তাই দক্ষতা, সততা ও কর্মদক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব বণ্টন এবং অনিয়ম, প্রভাবের অপব্যবহার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণই হবে প্রশাসনিক সংস্কারের প্রকৃত মানদণ্ড।
পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্যের চেষ্টা : প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান শুরু থেকেই অর্থনৈতিক কূটনীতিকে পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন। বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ জনশক্তির জন্য নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি এবং জলবায়ু অর্থায়ন আকর্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের প্রচেষ্টা বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তবে কূটনৈতিক সাফল্যের প্রকৃত মানদণ্ড হবে সমঝোতা স্মারক নয়, বরং বাস্তব বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং রপ্তানি আয়ে তার দৃশ্যমান প্রতিফলন।
প্রথম ১০০ দিনের মূল্যায়নে সরকারের কিছু ইতিবাচক দিক স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। সক্রিয় নেতৃত্বের ইঙ্গিত, অর্থনীতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা, কৃষি ও জলবায়ু অভিযোজনকে অগ্রাধিকার, প্রশাসনিক ডিজিটাইজেশনের উদ্যোগ এবং অর্থনৈতিক কূটনীতিকে জোরদার করার চেষ্টা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক ভিত্তি তৈরি করেছে। তবে একই সঙ্গে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়ে গেছে। ঘোষিত সংস্কারের অনেকগুলোর বাস্তব প্রভাব এখনো দৃশ্যমান নয়, মূল্যস্ফীতির চাপ সাধারণ মানুষের জন্য বড় উদ্বেগ হিসেবেই রয়েছে। কৃষিপণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক সংস্কারের বাস্তবায়ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মাঠ পর্যায়ের কার্যকারিতার মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, সেটি কমানোই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রথম ১০০ দিনের সাফল্যের প্রকৃত মূল্যায়ন শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে দৃশ্যমান ফলাফলের ওপর।
প্রথম ১০০ দিনে সরকার নীতিগত সক্রিয়তার একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। অর্থনীতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে রাজস্ব সংস্কার, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ এবং ব্যবসায়ী ও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করেছে। একই সঙ্গে কৃষিতে স্মার্ট প্রযুক্তি, জলবায়ুসহনশীল উৎপাদনব্যবস্থা এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনে সেবার গতি বাড়াতে ডিজিটাল গভর্ন্যান্স ও কর্মদক্ষতাভিত্তিক ব্যবস্থাপনার আলোচনা নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে রপ্তানি, বিদেশি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানের প্রচেষ্টা ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির ভিত্তি শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সামনে আসল পরীক্ষা : প্রথম ১০০ দিন কোনো সরকারের সাফল্যের মানদণ্ড নয়, বরং এটি সরকারের অগ্রাধিকার, নীতিগত দর্শন এবং প্রশাসনিক সক্ষমতার একটি প্রাথমিক সূচক। এই সময়ে সরকার অর্থনীতি, কৃষি, প্রশাসনিক সংস্কার এবং অর্থনৈতিক কূটনীতিতে সক্রিয়তার বার্তা দিয়েছে, যা জনমনে নতুন প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে। তবে নীতিগত ঘোষণা ও বাস্তব পরিবর্তনের মধ্যে যে ব্যবধান, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগকে বাস্তব প্রকল্পে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি এখনো প্রত্যাশিত। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেখায়, সফল সরকার সেই, যারা নীতিকে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে এবং প্রতিশ্রুতিকে পরিমাপযোগ্য ফলাফলে রূপ দিতে পারে। তারেক রহমানের সরকারের ক্ষেত্রেও প্রকৃত মূল্যায়ন হবে তখনই, যখন সংস্কারের সুফল সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, কৃষকের আয়, কর্মসংস্থানের সুযোগ, বিনিয়োগের পরিবেশ এবং জনসেবার মানে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে। শেষ পর্যন্ত ইতিহাস উদ্যোগ বা ঘোষণাকে নয়, বরং মানুষের জীবনে আনা বাস্তব পরিবর্তনকেই স্মরণে রাখে।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি




বৈদেশিক বিনিয়োগ যেমন অন্য দেশ থেকে নিজের দেশে আসতে পারে, তেমনি নিজ দেশ থেকে অন্য দেশে যেতেও পারে। যেমন
পুলিশ সদস্যসহ সবাইকেই স্মরণে রাখতে হবে, মানুষের জীবনে সমস্যা আসে এবং সমস্যা আসবেই। আর এটিই স্বাভাবিক। তার মানে এই নয় যে জীবনে সমস্যা এলে আত্মহত্যা করে জীবনকে শেষ করে দিতে হবে। বরং জীবনে কোনো ধরনের সমস্যা এলে পুলিশ সদস্যসহ সবাইকে আবেগনির্ভর না হয়ে সুস্থ মস্তিষ্কে বাস্তবতার আলোকে সেই সমস্যার সমাধান করা উচিত। প্রয়োজনে কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা পেশাদার কোনো কাউন্সেলরের শরণাপন্ন হওয়া যেতে পারে। বলা বাহুল্য, আত্মহত্যা হচ্ছে মানবজীবনের এক চরম অসহায়ত্ব। ক্ষণিক আবেগে একটি মহামূল্যবান জীবনের চির অবসান ঘটানো, যা কোনো কিছুর বিনিময়েই ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। আর আত্মহত্যার মাধ্যমে নিজের মূল্যবান জীবনকে যেমন একদিকে শেষ করে দেওয়া হয়, তেমনি একটি সম্ভাবনারও চির অবসান ঘটে। শুধু পুলিশ সদস্যই নয়, বরং যেকোনো ব্যক্তির আত্মহত্যা করার পেছনে যেসব কারণ সাধারণভাবে নিহিত থাকে, তার মধ্যে রয়েছে বিষণ্নতা, আর্থিক, সামাজিক, পারিবারিক সমস্যা কিংবা নিতান্ত ব্যক্তিগত মনঃকষ্ট, বাইপোলার ডিস-অর্ডার, সিজোফ্রেনিয়া, পারসোনালিটি ডিস-অর্ডার, অ্যাংজাইটি ডিস-অর্ডার, অ্যালকোহল ব্যবহার জনিত ডিস-অর্ডার ইত্যাদি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান মতে, বর্তমান বিশ্বে প্রায় ১২১ মিলিয়ন মানুষ মাত্রাতিরিক্ত বিষণ্নতার শিকার। ডব্লিউএইচওর জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে বার্ষিক আত্মহত্যার হার ১১.৪ শতাংশ। জরিপে দেখা যায়, শুধু ২০২৫ সালে সারা বিশ্বে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে আট লাখ। হিসাব মতে, প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একটি করে আত্মহত্যা সংঘটিত হচ্ছে। তবে এর মধ্যে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। আর বাংলাদেশে বার্ষিক আত্মহত্যার সংখ্যা গড়ে ১০ হাজার ২২০। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আত্মহত্যার পেছনে কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে পারিবারিক বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়া, সম্পর্কের ঘাটতি বা বিচ্ছেদ ঘটা, অপরিসীম অর্থকষ্ট, যৌন, শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন-নিপীড়ন, মাদকাসক্তি সংক্রান্ত সমস্যা, নানা ধরনের মানসিক অসুস্থতা ইত্যাদি। পাশাপাশি রয়েছে পরিবারের সদস্য বা নিকটাত্মীয়, প্রিয় বন্ধু-বান্ধবী কিংবা প্রিয় কোনো নেতা, অভিনেতা, শিল্পী, খেলোয়াড়ের আকস্মিক মৃত্যু বা আত্মহত্যার সংবাদ, কর্মস্থল বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সহকর্মী বা সহপাঠীদের সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়া, দীর্ঘদিনের বেকারত্ব বা হঠাৎ চাকরিচ্যুতি বা চাকরিতে পদাবনতি ঘটা ইত্যাদি। এসব চিন্তা-ভাবনার ফলে মনের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া প্রচণ্ড রকমের হতাশা ও ক্ষোভের কারণে মানুষ তার নিজের প্রতি আস্থা ও সম্মানবোধ হারিয়ে ফেলে। তখন থেকেই সে সবার কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করে এবং একসময় আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। আবার কিছু ব্যর্থতা কিংবা কোনো কিছু কারো কাছ থেকে চেয়ে না পাওয়ার বিষয়টিও মানুষকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দেয়।