ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের দুই হাজার কোটি টাকার তহবিলের মধ্যে মাত্র ১৯২ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু ফারাহ মো. নাসের। গতকাল শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘সিএমএসএমইদের অর্থায়নে প্রতিবন্ধকতা এবং সম্ভাবনা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ডেপুটি গভর্নর বলেন, ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বর্তমানে সেবা ও উৎপাদনশীল খাতকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, ফলে পণ্যের উৎপাদন হ্রাসের মাধ্যমে পণ্যের দাম কমে আসবে এবং বেশি হারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, এসএমই খাতে অর্থায়ন বৃদ্ধিতে ব্যাংকসমূহের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের চেয়ে ‘উপশাখা’ কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণে জোর দেওয়া হচ্ছে, ফলে ব্যাংকগুলোর প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহের পরিমাণ হ্রাস পাবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ১৯টি ক্লাস্টার নির্বাচন করে দিয়েছে এবং দেশের ব্যাংক এবং নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে ওই ক্লাস্টারভুক্ত সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদানে এগিয়ে আসতে হবে। মো. নাসের বলেন, কভিড মহামারি-পরবর্তী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আরোপিত নানাবিধ অবরোধের কারণে গোটা পৃথিবীর সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক দুই হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করলেও আজ পর্যন্ত সেখান থেকে বিতরণ হয়েছে মাত্র ১৯২ কোটি টাকা, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। তবে ঋণ প্রাপ্তির এ হার বৃদ্ধিতে ব্যাংকগুলোকে আরো সক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি এ খাতের উদ্যোক্তাদের ব্যাবসায়িক কার্যক্রম আরো প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করার ওপর জোর দিতে হবে। কর্মশালায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (এসএমইএসপিডি) মো. জাকের হোসেইন এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক মো. নাজিম হাসান সাত্তার দুটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।