প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণার লক্ষ্যে ইউআরসি (উপজেলা রিসোর্স সেন্টার) গঠিত হলেও সুনামগঞ্জে জনবলসংকটে খুঁড়িয়ে চলছে এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম। জেলায় ৪৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১২ জন। এর মধ্যে বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলায় একজনও নেই। এই দুটি উপজেলায় অন্য উপজেলার ইনস্ট্রাক্টর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন দেশের অন্যান্য জেলায় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানে যথেষ্ট লোকবল থাকলেও পিছিয়ে আছে হাওর জনপদের জেলা সুনামগঞ্জ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ইউনূস সরকার প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ইউআরসি থেকে ইউপিইটিসি (উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণকেন্দ্র) নামকরণ করে। নতুন নামকরণ করলেও প্রতিষ্ঠানটির মানোন্নয়ন বা জনবল নিয়োগ দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে কোনো ভূমিকা নেয়নি তৎকালীন সরকার। সূত্র জানায়, প্রাথমিক শিক্ষকদের পেশাগত ও বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ পরিচালনা, বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান, আধুনিক শিখন পদ্ধতি প্রয়োগ, বিদ্যালয় পরিদর্শন, একাডেমিক সহায়তা প্রদান, সাব ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা, প্রধান শিক্ষকদের লিডারশিপ উন্নয়ন এবং উপজেলার সব শিক্ষকের তথ্য সংরক্ষণসহ শিক্ষার উন্নয়নে নানা কাজ করে প্রশিক্ষণকেন্দ্র। জেলার ১২টি উপজেলায় ১১টি প্রশিক্ষণকেন্দ্র থাকলেও মধ্যনগর উপজেলায় এখনো পদ সৃষ্টি হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিটি উপজেলায় একজন ইনস্ট্রাক্টর, একজন সহকারী ইনস্ট্রাক্টর, একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর ও একজন নাইট গার্ডের পদ রয়েছে। কিন্তু সুনামগঞ্জে চার ভাগের তিন ভাগ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন ও গবেষণায় কাঙ্ক্ষিত অবদান রাখতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। শিক্ষকরাও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে চারটি পদের বিপরীতে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পদ খালি রয়েছে। বর্তমানে ইনস্ট্রাক্টর ও নাইট গার্ড আছেন। এই অফিসের ইনস্ট্রাক্টর বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্বম্ভরপুরে বর্তমানে কেউ কর্মরত নেই। একইভাবে তাহিরপুর উপজেলায়ও কেউ কর্মরত নেই। এই উপজেলায় সুনামগঞ্জ পিটিআইয়ের একজন ইনস্ট্রাক্টর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এই দুটি উপজেলাসহ জগন্নাথপুর, দোয়ারাবাজার, শান্তিগঞ্জ ও ধর্মপাশায় শুধু ইনস্ট্রাক্টর রয়েছেন।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার প্রাথমিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রের ইনস্ট্রাক্টর সৈয়দ সাহলান আহমদ বলেন, সুনামগঞ্জের সব উপজেলায় লোকবল না থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পিটিআই সুপার দীপঙ্কর মোহান্ত বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নের জন্য লোকবল নিয়োগ জরুরি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।