'সব ধরনের গ্যাসের দাম বাড়ছে'- গত ৩০ সেপ্টেম্বর দৈনিক সংবাদপত্রে এই শিরোনামে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, 'দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিইআরসি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেবে। ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ানোর ঘোষণা বিইআরসি দেবে না।' অর্থাৎ সরকার দেবে। গ্যাস অনুসন্ধান, উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণে নিয়োজিত কম্পানিগুলো তাদের নিজ নিজ কম্পানির আয় ও ব্যয়ের ভিত্তিতে তাদের রেভিনিউ চাহিদা পৃথক পৃথকভাবে নির্ধারণ করবে। যেহেতু এসব কম্পানি সরকারি মালিকানাধীন, সেহেতু আইনি বিধান অনুযায়ী এসব কম্পানি মুনাফা হিসেবে কোনো মার্জিন পাবে না। অর্থাৎ কম্পানির রেভিনিউ চাহিদা নির্ধারণ হবে নো-লস নো-প্রফিট এই কর্মনীতির ভিত্তিতে। অতঃপর আয় দিয়ে যদি কম্পানি তার রেভিনিউ চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম না হয়, ঘাটতি থেকে যায়, তাহলেই কেবল সে ঘাটতি পূরণের জন্য গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি আবশ্যক হয় এবং মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব আসে। কিন্তু আলোচ্য মূল্যবৃদ্ধি গ্যাস খাতের ঘাটতি পূরণের জন্য নয়। কারণ গ্যাস খাত আগেও লাভজনক ছিল, এখনো লাভজনক। অনুমোদিত প্রস্তাবে মূল্যহার বৃদ্ধি হবে ভোক্তাভেদে ৯.৭১ থেকে ১২২.২২ শতাংশ অবধি। কিন্তু কাফকো ও লাফার্জের যথাক্রমে সার ও সিমেন্ট কারকানায় ব্যবহৃত গ্যাসের মূল্যহার বৃদ্ধি হবে না। ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের মূল্যহার প্রায় ১০৩ শতাংশ বাড়বে। অথচ ব্যক্তি খাতের বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের মূল্যহার বৃদ্ধির কথা ওঠেনি। ছোট, বড় ও মাঝারি শিল্প-ভোক্তাভেদে গ্যাসের মূল্যহার বৃদ্ধিতে তারতম্য নেই। বাণিজ্যিক ভোক্তাভেদেও মূল্যহার বৃদ্ধিতে কোনো ভেদাভেদ নেই। প্রান্তিক ভোক্তাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়নি। তা ছাড়া দেশি কম্পানির উৎপাদিত গ্যাসের মূল্যহার বৃদ্ধির প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। অতীতে এ গ্যাসের মূলহার ছিল সাত টাকা। ২০০৮ সালে বাপেক্সের গ্যাসের মূল্যহার সাত থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। অন্য দুটি গ্যাস উৎপাদন কম্পানির গ্যাসের মূল্যহার তখন বাড়েনি। কারণ অনুসন্ধান ব্যয় বৃদ্ধিতে বাপেক্সের গ্যাস উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং বাপেক্স আর্থিক ঘাটতির শিকার হয়। ফলে এ মূল্যহার বৃদ্ধিতে ঘাটতি মোকাবিলা করা বাপেক্সের জন্য সহজ হয়। অন্য দুটি কম্পানি লাভে থাকায় তাদের গ্যাসের মূল্যহার বাড়ানো হয়নি। কেবল রাষ্ট্রের আয় ও কম্পানির মুনাফা বাড়ানোর জন্য এ গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি যৌক্তিক নয়। কারণ ভোক্তা পর্যায়ে এ গ্যাস বিক্রির অর্থের ৫৫ শতাংশ পায় ট্যাক্স-ভ্যাট বাবদ রাষ্ট্র। মুনাফা হিসেবে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ কম্পানিগুলো পায় প্রায় ২৫ শতাংশ। এ অর্থ কম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিলি-বণ্টন হয়। আলোচ্য মূল্যহার বৃদ্ধিতে সরকারের আয় যেমন বৃদ্ধি হবে, তেমনি কম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফাও বৃদ্ধি পাবে। আর্থিক ঘাটতি মোকাবিলায় ২০০৮ সালে গ্যাসের মূল্যহার ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব বিইআরসিতে আসে। গণশুনানিতে প্রমাণিত হয়, গ্যাস খাত আর্থিক ঘাটতিতে নেই; বরং লাভে আছে। তখনকার হিসাবে সে লাভের পরিমাণ ছিল বছরে ১৬৫ কোটি টাকা। তাই যৌক্তিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ বিবেচিত না হওয়ায় মূল্যবৃদ্ধির ওই প্রস্তাব বিইআরসি নাকচ করে। পাশাপাশি গ্যাসের সরবরাহ ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গণশুনানিতে গুরুত্ব পায়। ফলে সরবরাহকৃত গ্যাসে দেশি কম্পানির গ্যাসের অনুপাত যেন বৃদ্ধি পায়, সে লক্ষ্যে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে দেশি কম্পানির বিনিয়োগ সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিইআরসি শর্তসাপেক্ষে 'গ্যাস উন্নয়ন তহবিল' গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। শর্ত ছিল, গ্যাস বিলের সঙ্গে ভোক্তারা যে বাড়তি অর্থ দেবে, গ্যাস উন্নয়ন তহবিলে সে অর্থ জমা হবে। তা থেকে সরকার বা কম্পানি- কেউই কোনো অর্থ পাবে না। ২০০৯ সালে সরকার এ প্রস্তাবে সম্মত হওয়ায় গ্যাস বিলের সঙ্গে নেওয়া বিলের ১১ দশমিক ২২ শতাংশ অর্থে গ্যাস উন্নয়ন তহবিল গঠিত হয়। তাতে শর্ত রয়েছে, এ তহবিলের অর্থ একটি নীতিমালা ও কৌশলগত পরিকল্পনার আওতায় দেশীয় কম্পানির মাধ্যমে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে বিনিয়োগ হবে। অথচ এ তহবিল এখন বিভ্রান্তির বেড়াজালে। ২০১১ সালের ১২ মে সিএনজির মূল্যহার ৪৯.২৫ শতাংশ বাড়ানো হয়। গ্যাস খাত লাভে থাকায় গণশুনানিতে সব পক্ষের সম্মতিক্রমে বাড়তি সমুদয় অর্থ গ্যাস উন্নয়ন তহবিলে দেওয়ার প্রস্তাব বিইআরসি গ্রহণ করে। অথচ বিইআরসির আদেশে তা বদলানো হয় এবং ওই মূল্যহার বৃদ্ধিতে প্রাপ্য বাড়তি অর্থ পেট্রোবাংলার লিখিত প্রস্তাব মতে বিভিন্ন পর্যায়ে বিলি-বণ্টনের আদেশ হয়। সে আদেশেই ওই বাড়তি অর্থ বিলিবণ্টন হয়। গ্যাস খাত আর্থিক ঘটতিতে না থাকা সত্ত্বেও ওই বছরেরই ১৯ সেপ্টেম্বর তেলের মূল্যহার বৃদ্ধির সঙ্গে গণশুনানি ছাড়াই সিএনজির মূল্যহার আবারও ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়। এ বাড়তি অর্থও ওই একইভাবে বিলিবণ্টন হয়। এ বিলিবণ্টন বিইআরসির গ্যাসের মূল্যহার নির্ধারণনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অন্যদিকে কৌশলগত পরিকল্পনা ছাড়াই গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। পেট্রোবাংলা একটি কৌশলগত পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য বিইআরসিতে জমা দেয়। কিন্তু এ পরিকল্পনা প্রস্তাবটি ওই তহবিল গঠনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় অনুমোদন হয়নি। এ পরিকল্পনা প্রস্তাব যথাযথ সংশোধনীসহ জমা দেওয়ার জন্য বিইআরসি নির্দেশ দিলেও পেট্রোবাংলা সে নির্দেশ পালন করেনি। বিইআরসিও কোনো পরিকল্পনা প্রণয়ন করেনি। তবে গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের অর্থ ব্যয়ের নীতিমালা সব পক্ষের সম্মতিতে বিইআরসি তৈরি করেছিল। তাতে বিশেষভাবে উল্লেখ ছিল, এ তহবিলের শতভাগ অর্থ অনুদান হিসেবে বিনিয়োগ হবে। অথচ অনুমোদিত পরিকল্পনা ছাড়াই স্বীয় বিবেচনায় জ্বালানি বিভাগ এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে নিজেই নীতিমালা প্রণয়ন করে ওই তহবিলের অর্থ ব্যয় করছে এবং এ অর্থ গ্যাস খাতে সুদে খাটাচ্ছে। ১০ বছর পর আর এ অর্থ গ্যাস খাতকে দেবে না। ফলাফলে দেখা যায়, ২০০৮ সালে সরবরাহকৃত গ্যাসে বিদেশি কম্পানির গ্যাসের অনুপাত ছিল ৪৮ শতাংশ, এখন ৫৪ শতাংশ। অর্থাৎ দেশি কম্পানির গ্যাসের অনুপাত কমেছে। গ্যাস উন্নয়ন তহবিল ব্যর্থ হয়েছে। এবারের মতোই ২০১২ সালের ২০ মে পেট্রোবাংলা এককভাবে সব ধরনের গ্যাসের দামহার বাড়ানোর প্রস্তাব বিইআরসিতে দাখিল করে। সে প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের কথা ওঠেনি। নিম্নের দুটি কারণে আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় বিইআরসির উন্মুক্ত সভায় ওই প্রস্তাবটি নাকচ হয় : ১. উৎপাদন কম্পানির গ্যাসের দামহার বাড়িয়ে ২৫ টাকা করার প্রস্তাব ছিল। কিন্তু এ দামহার নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসির নেই, সরকারের। সরকারের নির্ধারিত দামহার গেজেটে প্রকাশিত হলে কার্যকর হয়। ২. ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের দামহার বাড়ানোর প্রস্তাব বিতরণ কম্পানির পরিবর্তে পেট্রোবাংলা এককভাবে দাখিল করে। পরবর্তী সময়ে তাদের পৃথক পৃথকভাবে প্রস্তাব দাখিল করতে বলা হলেও তারা তা করেনি। আইন ও আদেশ লঙ্ঘন করেছে। ২০১২ সালের ওই প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ছিল না। এবারের প্রস্তাবে আছে। এ ছাড়া এ দুয়ের মধ্যে আর কোনো গুণগত পার্থক্য নেই। ফলে যে কারণে আগের প্রস্তাবটি আমলযোগ্য ছিল না, সে কারণেই এবারের প্রস্তাবটিও আমলযোগ্য নয়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৮২০ বিসিএফ গ্যাস ব্যবহার হয়। বিদ্যুৎ, সার, শিল্প, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ, বাণিজ্য ও চা, সিএনজি এবং আবাসিক খাতে সে গ্যাস ব্যবহার হয়েছে যথাক্রমে ৪১, ০৮, ১৭, ১৭, ০১, ০৫ এবং ১১ শতাংশ। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ব্যবহৃত গ্যাস ৬৪৩ বিসিএফ। তার ৩৯.৯১ শতাংশ বিদ্যুৎ, ১১.৬৩ শতাংশ সার, শিল্পে ১৬.২৪ শতাংশ এবং ১৪.৭৯ শতাংশ ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়। গ্যাস কেবল সংযোগেই নয়, হিসাবেও চুরি হয়। বিগত ছয় বছরে গ্যাস উৎপাদন বেড়েছে ২৭.৫৩ শতাংশ। নীতিমালা না থাকায় সে বাড়তি গ্যাসের খাতভিত্তিক বণ্টন সুষম হয়নি। ফলে অপরিকল্পিত গ্যাস ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। রাষ্ট্রের আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে অসাধু ব্যবসার প্রসার ঘটেছে। তাই অবৈধ গ্যাস সংযোগ থামেনি। প্রকট গ্যাস সংকটেও নতুন নতুন ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ প্লান্ট ও সিএনজি স্টেশন হচ্ছে। গ্যাস সংযোগ পাচ্ছে। অথচ গ্যাসের অভাবে হাজার হাজার কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও উৎপাদন হয় না, তেলবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ে এবং সার কারখানাগুলোর উৎপাদন কখনো বন্ধ থাকায় বা স্বল্প উৎপাদন হওয়ায় লাখ লাখ টন সার আমদানি হয়। ফলে বিদ্যুৎ ও সারে ভর্তুকি বাড়ে এবং মূল্য বৃদ্ধি হয়। অসাধু ও গণস্বার্থবিরোধী ব্যবসা রাষ্ট্রের প্রশ্রয় না পেলে গণস্বার্থসম্মত গ্যাস বণ্টন এবং মূল্যহার নির্ধারণ নীতিমালা হতো এবং গণমুখী পরিকল্পনায় জ্বালানি খাত উন্নয়ন হতো। এভাবে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ত না। গ্যাসের দাম বাড়ানো নয়, যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য জরুরি। বিইআরসি আইনের ২২(ঘ) উপধারা মতে, গ্যাস খাত উন্নয়ন পরিকল্পনার ভিত্তিতে স্কিম অনুমোদন এবং ৩৪(১) উপধারা মতে, ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের বণ্টন এবং মূল্যহার নির্ধারণ নীতিমালা প্রণয়নের এখতিয়ার বিইআরসির। এ আইন অথবা বিইআরসির আদেশ বা নির্দেশ পালন না করলে বা ব্যর্থ হলে ওই আইনের ৪২ ও ৪৩ ধারায় কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। আবার কোনো ব্যক্তি গ্যাস চুরি করলে বা চুরিতে সহায়তা করলেও এ আইনের ৪৪ ধারায় ওইরূপ দণ্ডের বিধান রয়েছে। এসব আইনি বিধিবিধান এখন অচল। সংবিধানের ১৩ ধারা মতে, উৎপাদনযন্ত্র, উৎপাদনব্যবস্থা ও বণ্টনপ্রণালিগুলোর মালিক বা নিয়ন্ত্রক জনগণ। অথচ গ্যাস খাত ব্যক্তি মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। হেনরিক ইবসেনের ১৮৮২ সালের 'এন এনিমি অব পিইউপল' নামক গল্প অবলম্বনে সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র 'গণশত্রু'। গল্পটির প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল, দীর্ঘকাল যাবৎ লালিত বিশ্বাস যদি কুসংস্কারও হয় এবং বৈজ্ঞানিকভাবে ভুলও প্রমাণিত হয়, তবু সাধারণ মানুষ তা গ্রহণ করে না। বরং যাঁরা তা প্রমাণ করেন, তাঁরা গণশত্রু হিসেবে গণ্য হন। ১০০ বছরেরও আগের গল্পটি ভারতের প্রেক্ষাপটে সত্যজিৎ রায় ওই গণশত্রু নামক চলচ্চিত্রে প্রকাশ করেন। হিন্দুদের তীর্থস্থান 'চণ্ডীপুর'। সেখানকার মন্দিরসংলগ্ন জলাশয়ের পানি জনসাধারণ পবিত্র চরণামৃত বলে বিশ্বাস করে এবং পান করে। হঠাৎ দেখা গেল, সেখানকার মানুষ হেপাটাইটিস ও শ্বাসজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। জনৈক ডাক্তারের ধারণা, এর কারণ মন্দিরের দূষিত পানি। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তা প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও জনগণের বিশ্বাস ধরে রাখা এবং পর্যটকদের কাছ থেকে প্রকৃত সত্য আড়াল করার জন্য মন্দির কর্তৃপক্ষ তৎপর হয়। ফলে ডাক্তার নানামুখী চাপের সম্মুখীন হন। এমনকি দেয়াল লিখনের মাধ্যমে জনগণ তাঁকে সামাজিকভাবে বর্জন করে এবং 'গণশত্রু' হিসেবে আখ্যায়িত করে। এখানেই হেনরিক ইবসেনের গল্প শেষ হয়। কিন্তু সত্যজিৎ রায় তাঁর চলচ্চিত্রে দেখান, পরিশেষে ডাক্তার তাঁর বক্তব্য জনগণের কাছে প্রকাশ ও প্রচার করতে সক্ষম হন। ফলে জনগণ তাদের ভুল বুঝতে পারে এবং গণশত্রুর পরিবর্তে তাঁকে 'গণ-অধিনায়ক' হিসেবে আখ্যায়িত করে। গ্যাস খাত কর্তৃপক্ষ গ্যাস খাত উন্নয়নের নামে অর্থ ও গ্যাস বিলি-বণ্টনে অস্বচ্ছতা ও অসততার আশ্রয় নিচ্ছে, অসাধু ব্যবসার প্রসার ঘটাচ্ছে এবং জনস্বার্থহানি করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছে। উদ্বেগের বিষয়, আইন-কানুন এমনকি সংবিধান মতে রাষ্ট্র এসবের প্রতিকার বা প্রতিরোধ করতে আজ আর সক্ষম নয়। কর্তৃপক্ষীয় ব্যক্তিরা জনগণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে ওই মন্দির কর্তৃপক্ষের মতোই তৎপর। কিন্তু জনগণ বিভ্রান্ত হচ্ছে না। প্রকৃত সত্য জানতে ও বুঝতে পারছে। ফলে এসব কর্তৃপক্ষ ও কর্তৃপক্ষীয় ব্যক্তিরা গণশত্রুতে পরিণত হচ্ছেন। এর পরিণাম ভয়াবহ না হয়ে পারে না। লেখক : জ্বালানি বিশেষজ্ঞ