• ই-পেপার

কোরআন থেকে শিক্ষা

  • পর্ব-১১৭৬

প্রশ্ন-উত্তর

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা

প্রশ্ন-উত্তর

গোসলখানায় দোয়া পড়ার বিধান

প্রশ্ন : আমাদের দেশে বহু স্থানে দেখা যায় বাথরুম ও অজুখানা একই রুমে। আমার প্রশ্ন হলো, এ রকম রুমে অজু করার সময় বিসমিল্লাহ ও অন্যান্য দোয়া পড়ার বিধান কী?

      রুহুল আমিন, বরিশাল

উত্তর : দুর্গন্ধময় স্থানে আল্লাহর জিকির করা মাকরুহ। সুতরাং বর্তমান জামানায় যেসব গোসলখানা ও টয়লেট একসঙ্গে হয় সেগুলো যদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয় এবং কোনো ময়লা বা দুর্গন্ধ না থাকে, তাহলে তাতে বিসমিল্লাহ ও অজুর অন্যান্য দোয়া পড়া যাবে। (ফাতাওয়ায়ে নাওয়াজেল : ২২, তুহফাতু আলমায়ী : ১/২০২)

 

রাস্তার কাদা ও ময়লা পানির বিধান

 

প্রশ্ন : আজকাল বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও বাজার এলাকায় দেখা যায় আশপাশের বাড়িঘর, দোকান, কারখানা ইত্যাদি থেকে গোসলখানার পানি, কাপড় ধোয়ার পানিএমনকি অবিশ্বাস্য হলেও সত্য অনেকেই গোয়ালঘরের আবর্জনা, অর্থাৎ গুরু-ছাগলের মলমূত্র ইত্যাদিও ড্রেন কেটে বাজার ও রাস্তায় বের করে দেন। শুকনা রাস্তায় এসব থেকে বাঁচা সহজ হলেও বৃষ্টি পড়লে বা বর্ষাকালে এ থেকে বাঁচা যায় না। এতে শরিয়তের বিধান কী? এ অবস্থায় যদি উক্ত কাদা বা রাস্তার পানিতে নাপাকির রং বা দুর্গন্ধ অনুভূত না হয়, তাহলে কি তা পাক বলে গণ্য হবে ?

হেলাল, চট্টগ্রাম

উত্তর : আপনার প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী রাস্তাঘাটের আবর্জনাযুক্ত পানি ও কাদায় নাপাকির আলামত পরিলক্ষিত না হলে তা নাপাক বলে গণ্য হবে না এবং উক্ত পানির ছিটা শরীর বা কাপড়ে লাগলে শরীর ও কাপড় কিছুই নাপাক হবে না। (রাদ্দুল মুহতার : ১/৩২৪, হিন্দিয়া : ১/১৭, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ৩/৮৯)

জেদ্দার জাদুঘরে কোরআনের বিরল পাণ্ডুলিপি

ইসলামী জীবন ডেস্ক
জেদ্দার জাদুঘরে কোরআনের বিরল পাণ্ডুলিপি

সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত আল-তাইয়্যিবাত ইন্টারন্যাশনাল সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড নলেজ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত রয়েছে দেশটির অন্যতম বিরল কোরআনের পাণ্ডুলিপির বিশাল ভাণ্ডার। যেখানে দ্বিতীয় থেকে চতুর্দশ হিজরি শতাব্দীর বিভিন্ন সময়ে লিখিত পবিত্র কোরআনের কপি ও মূল্যবান পাণ্ডুলিপি স্থান পেয়েছে।

ঐতিহাসিক এই কোরআন সংগ্রহশালায় হাজার বছর ধরে কোরআন লিপিবদ্ধ করার পদ্ধতি এবং আরবি ক্যালিগ্রাফির ধারাবাহিক বিবর্তনের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

এখানে সংরক্ষিত থাকা পবিত্র কোরআনের মূল্যবান পাণ্ডুলিপিগুলো ইসলামী সভ্যতার বিভিন্ন যুগে বিকশিত হওয়া শিল্পরীতি ও ক্যালিগ্রাফির বৈচিত্র্যকে ফুটিয়ে তুলেছে। এখানে প্রাথমিক যুগের কোরআনের সঙ্গে সম্পর্কিত কুফি লিপি থেকে শুরু করে নাসখ, সুলুস, মুহাক্কাক ও রাইহানি লিপিতে লেখা পাণ্ডুলিপি রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে দৃষ্টিনন্দন অলংকরণে সজ্জিত কোরআনের কপি, যা ইসলামী ইতিহাসের বিভিন্ন যুগে কোরআনের পাণ্ডুলিপি অলংকরণের শিল্পকলার বিকাশের অনন্য নিদর্শন।

এসব পাণ্ডুলিপির গুরুত্ব শুধু ঐতিহাসিক দিকেই সীমাবদ্ধ নয়। এগুলো পবিত্র কোরআনের প্রতি মুসলিমদের গভীর শ্রদ্ধা, যত্ন ও ভালোবাসার জীবন্ত সাক্ষ্য বহন করে। একই সঙ্গে কোরআনের কপি তৈরিতে নিয়োজিত সুলিপিকার ও ক্যালিগ্রাফারদের অসাধারণ দক্ষতা, সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং নান্দনিক শিল্পকর্মও এতে প্রতিফলিত হয়েছে। পাণ্ডুলিপিগুলোর অলংকরণ, স্বর্ণখচিত নকশা ও শৈল্পিক সৌন্দর্য ইসলামী সভ্যতার সমৃদ্ধ বিকাশের পরিচয় বহন করে।

গণমাধ্যমের তথ্য মতে, আব্দুর রউফ খলিল প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরটি সৌদি আরবের অন্যতম প্রধান বেসরকারি জাদুঘর। প্রায় ১০ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এ জাদুঘরে ১২০টিরও বেশি প্রদর্শনী হল রয়েছে। প্রতিটি হলে দুটি করে কক্ষ রয়েছে, যেখানে আরব উপদ্বীপের ইতিহাস এবং মানবসভ্যতার বিভিন্ন পর্যায়ের হাজারো ঐতিহ্যবাহী ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন প্রদর্শন করা হয়।

জাদুঘরটি সৌদি আরব ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাসবিষয়ক গবেষক এবং দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত।

(সূত্র : সৌদি প্রেস এজেন্সি)

হত্যার ক্ষেত্র তৈরিকারী সব কাজ ইসলামে নিষিদ্ধ

উম্মে আহমাদ ফারজানা
হত্যার ক্ষেত্র তৈরিকারী সব কাজ ইসলামে নিষিদ্ধ

ইসলাম কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার দিকে নিয়ে যায়এমন সব পথ ও উপায় বন্ধ করে দিয়েছে। এ বিষয়ে মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর বহু হাদিস আছে। নিচে সেগুলোর উপস্থাপন করা হলো

মুসলিমকে ভয় দেখানোও হারাম : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিমের জন্য অন্য মুসলিমকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা বৈধ নয়।

(সহিহুল জামে, হাদিস : ৭৬৫৮)

অস্ত্র তাক করা বা ইশারা করাও নিষিদ্ধ : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন তার ভাইয়ের দিকে অস্ত্র নিয়ে না চলে এবং অস্ত্র দ্বারা ইশারা না করে। কারণ সে জানে না, হয়তো শয়তান তার হাতকে ফসকে দেবে। ফলে সে জাহান্নামের গর্তে পতিত হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭০৭২)

লোহার অস্ত্র দিয়ে ইশারা করলেও ফেরেশতাদের অভিশাপ : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের দিকে লোহার অস্ত্র দিয়ে ইশারা করে, ফেরেশতারা তাকে অভিশাপ দিতে থাকে, যদিও সে তার আপন সহোদর ভাই হয়।

(মুসলিম, হা : ২৬১৬)

মুসলমানের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করা ইসলামের আদর্শের পরিপন্থী : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। (বুখারি, হাদিস : ৭০৭১)

দুই মুসলিম অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি হলে : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন দুই মুসলিম একে অপরের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে, তখন তারা উভয়েই জাহান্নামের কিনারায় থাকে। আর যদি একজন অন্যজনকে হত্যা করে, তবে উভয়েই জাহান্নামে যাবে। (মুসলিম, হাদিস : ২৮৮৮)। বুখারির বর্ণনায় এসেছে, যখন দুই মুসলিম তরবারি নিয়ে মুখোমুখি হয় তখন হত্যাকারী ও নিহত উভয়েই জাহান্নামি। সাহাবিরা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! হত্যাকারীর ব্যাপারটি তো বুঝলাম, কিন্তু নিহত ব্যক্তি কেন? তিনি বললেন, কারণ সেও তার সঙ্গীকে হত্যা করার প্রবল ইচ্ছা পোষণ করেছিল। (বুখারি, হাদিস : ৩১)

বাজার বা মসজিদে অস্ত্র বহনের আদব : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন মসজিদে বা বাজারে তীর-ধনুক নিয়ে যাবে, তখন যেন তীরের ফলাগুলো ধরে রাখে, যাতে কোনো মুসলিম আহত না হয়। (বুখারি, হাদিস : ৭০৭৫, মুসলিম : ২৬১৫)। জাবির (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি মসজিদে খোলা তীর নিয়ে যাচ্ছিল। তখন তাকে নির্দেশ দেওয়া হলো তীরের ফলা ধরে রাখো, যাতে কোনো মুসলিমের গায়ে আঁচড় না লাগে।

(বুখারি : ৭০৭৪, মুসলিম : ২৬১৪)

ইচ্ছাকৃতভাবে মুমিনকে হত্যা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করতে পারেন, কিন্তু যে ব্যক্তি কাফির অবস্থায় মারা যায় অথবা যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করে, তার ব্যাপার ভিন্ন। (সহিহুল জামে, হাদিস : ৪৫২৪)

মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মান পবিত্র : রাসুলুল্লাহ (সা.) বিদায় হজের ভাষণে বলেছেন, নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের সম্মানএগুলো একে অপরের জন্য ততটাই পবিত্র, যেমন আজকের এই দিন, এই মাস এবং এই নগর পবিত্র। উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে এ কথা পৌঁছে দেয়। (বুখারি, হাদিস : ৬৭)

হত্যার জন্য বাধ্য করা হলেও হত্যা বৈধ নয়

যদি কাউকে বলা হয়, অমুককে হত্যা করো, না হলে তোমার সম্পদ কেড়ে নেওয়া হবে অথবা তাকে মারধরের ভয় দেখানো হয়, তবু নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করা ইসলামে বৈধ নয়।

অনেক আলেমের মতে, হত্যার নির্দেশদাতা ও হত্যাকারীউভয়েই অপরাধে অংশীদার এবং উভয়ের ওপর কিসাস প্রযোজ্য হতে পারে। ইমাম আবু ইসহাক আশ-শিরাজি (রহ.) বলেন, উম্মতের ঐকমত্য হলো, যাকে হত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে, তারও হত্যা করা বৈধ নয়। সে যদি হত্যা করে, তবে সে গুনাহগার হবে।

ফাতহুল বারি : ১২/৩১২)

ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেন, যাকে অন্যকে হত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে, তার জন্য সেই ব্যক্তিকে হত্যা করা, প্রহার করা বা তার সম্মান লঙ্ঘন করা কোনোভাবেই বৈধ নয়। বরং সে নিজে কষ্ট সহ্য করবে; নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য অন্যের জীবন নেওয়া বৈধ নয়। (তাফসিরে কুরতুবি : ১০/১৮৩)। অতএব জবরদস্তি করে হত্যার আদেশ দেওয়া হলেও তা পালন করা ইসলামে বৈধ নয়।

আর আমি শুধু আদেশ পালন করেছি’—এ অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়।

আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশ পালন করেছি, এমন কথা মানুষ হত্যার বৈধ দলিল হতে পারে না। এই অজুহাত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। দুনিয়ার আদালতেও গ্রহণযোগ্য নয়।

 

স্পেনের আইতোনা শহরে নতুন মসজিদের উদ্বোধন

ইসলামী জীবন ডেস্ক
স্পেনের আইতোনা শহরে নতুন মসজিদের উদ্বোধন

স্পেনের কাতালোনিয়া অঞ্চলের লেইদা প্রদেশের আইতোনা শহরে সম্প্রতি নতুন মসজিদের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে। শহরের বাসিন্দা ও মুসলিম কমিউনিটির সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

আইতোনার মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য জাকারিয়া গাজিলি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত সব অতিথির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই মসজিদ নির্মাণে শহরের মুসলিম ও অমুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের এই সমর্থনের কারণেই প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

নতুন মসজিদটির নামাজের হলে একসঙ্গে প্রায় ২০০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। এ ছাড়া বাইরের খোলা প্রাঙ্গণে আরো ১০০ জনের নামাজের ব্যবস্থা আছে। এর মাধ্যমে পুরনো মসজিদের স্থান সংকুলানের সমস্যার সমাধান হয়েছে। কারণ আগের মসজিদটি ক্রমবর্ধমান মুসল্লিদের ধারণ করতে সক্ষম ছিল না।

মসজিদটির স্থাপত্যশৈলীতেও বিশেষ নান্দনিকতার ছাপ আছে। বিশেষ করে এর নকশায় ব্যবহৃত দৃষ্টিনন্দন সিরামিক অলংকরণ অঞ্চলটির অন্যান্য ইসলামী স্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি আইবেরীয় উপদ্বীপে ইসলামী ঐতিহ্যের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারকে সুন্দরভাবে তুলে ধরে।

আইতোনার মেয়র রোজা পুজোল শহরের মুসলিম সম্প্রদায়ের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নতুন মসজিদের উদ্বোধন শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনার উদ্বোধন নয়; বরং এটি আইতোনায় মুসলিম সমাজের সুদৃঢ় উপস্থিতি এবং শহরের উন্নয়নে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রতীক।

মুসলিম কমিউনিটির সদস্য ইদরিসি বুয়াজা জানান, মসজিদের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি ও নির্মাণকাজ মূলত কমিউনিটির সদস্যদের স্বেচ্ছাশ্রমে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রীও বিশেষভাবে ক্রয় করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, মসজিদে নারীদের জন্য একটি পৃথক ও স্বতন্ত্র নামাজের স্থান রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, লেইদা অঞ্চলে নিবন্ধিত ৪৩টি মুসলিম সংগঠন আছে। সংগঠনগুলো ধর্মীয় কার্যক্রম, ইসলামী শিক্ষা ও সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম আরো বেগবান করতে কাজ করে যাচ্ছে।