দ্বিনের ওপর দৃঢ় থাকো, কারামাত চেয়ো না। কেননা প্রবৃত্তি কারামাত চায় আর আল্লাহ চান দ্বিনের ওপর দৃঢ়তা।
ইবনু আতা (রহ.)

দ্বিনের ওপর দৃঢ় থাকো, কারামাত চেয়ো না। কেননা প্রবৃত্তি কারামাত চায় আর আল্লাহ চান দ্বিনের ওপর দৃঢ়তা।
ইবনু আতা (রহ.)

কোমল পানীয় পান করার বিধান
প্রশ্ন : বর্তমান বাজারে প্রচলিত কোমল পানীয় ও এনার্জি ড্রিংক পান করার বিধান কী? অনেকের ধারণা, এসব পানীয়তে বিভিন্ন অপবিত্র দ্রব্য, যেমন—অ্যালকোহল, শূকরের চর্বি ইত্যাদি মিশ্রিত থাকে।
মাহফুজুর রহমান রাসেল
পান্থপথ, ঢাকা
উত্তর : যদি সুস্পষ্ট ও নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে উল্লিখিত পানীয়তে শূকরের চর্বি, নাপাকি বা মাদকদ্রব্য ও হারাম অ্যালকোহল ইত্যাদি মিশ্রণ করা হয়েছে, তাহলে পান করা বৈধ হবে না, অন্যথায় পান করা বৈধ হবে। (তিরমিজি, হাদিস : ২০৫, ফাতহুল মুলহিম : ৩/২২৫, উমদাতুল কারি : ১১/১৬৬)

আয়াতের অর্থ
‘আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সর্বময় কর্তৃত্ব আল্লাহরই, তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। তোমরা যখন যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সংগ্রহের জন্য যাবে তখন যারা পশ্চাতে রয়ে গিয়েছিল, তারা বলবে, আমাদেরকে তোমাদের সঙ্গে যেতে দাও। তারা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি পরিবর্তন করতে চায়। বোলো, তোমরা কখনো আমাদের সঙ্গী হতে পারবে না। আল্লাহ পূর্বেই এরূপ ঘোষণা করেছেন।...’
(সুরা : ফাতহ, আয়াত : ১৪-১৫)
আয়াতদ্বয়ে মোনাফিকদের লোভ-লালসা ও মুমিনদের প্রতি আল্লাহর অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।
শিক্ষা ও বিধান
১. আয়াত থেকে জানা যায়, পার্থিব দায়মুক্তি ও ক্ষমা পরকালীন দায়মুক্তি ও ক্ষমার নিশ্চয়তা দেয় না।
২. আয়াতে আল্লাহ খায়বার যুদ্ধের বিজয় ও গনিমতের সুসংবাদ দিয়েছেন। এই যুদ্ধে মুমিনরা বিপুল পরিমাণ গনিমত লাভ করেছিল।
৩. হুদাইবিয়ার কিছুদিন পর সপ্তম হিজরির মহররম মাসে খায়বার যুদ্ধ হয়েছিল। হুদাইবিয়ায় অংশগ্রহণকারী সাহাবিরাই প্রধানত এই যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।
৪. ইসলামের বিধান হলো, যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধারাই শুধু গনিমত লাভ করবে। মোনাফিকরা এর বিপরীতে যুদ্ধ না করেই গনিমতের অংশ চেয়েছিল।
৫. ‘তোমরা আমাদের সঙ্গী হতে পারবে না’ বাক্যে তাবুক যুদ্ধে মোনাফিকরা যে অংশগ্রহণ করবে না সেদিকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। (তাফসিরে আবু সাউদ : ৮/১০৮)

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বান্দার তাওবার কারণে সেই লোকটির চেয়েও অধিক খুশি হন, যে লোকটি মরুভূমিতে তাঁর উট হারানোর পর তা খুঁজে পায়। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৩০৯)
শিক্ষা
হাদিসের ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেন—
১. আল্লাহ বান্দার পাপ মার্জনা করেন, এটা মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। তবে তিনি শাস্তিদানেও কঠোর।
২. বুজুর্গ আলেমরা বলেন, আল্লাহর ক্ষমার গুণ দেখে কেউ যেন পাপ পরিহারে শৈথিল্য না দেখায়। কেননা পাপের প্রতি উদাসীনতা তাওবার দুয়ার বন্ধ করে দেয়।
৩. কোনো গুনাহই ছোট না। কেননা সগিরা গুনাহ মানুষকে কবিরা গুনাহের দিকে নিয়ে যায়। যেমন— আগুনের ছোট স্ফুলিঙ্গও ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে
৪. মানুষ তাওবা করলে আল্লাহর কোনো লাভ নেই। তবু তিনি খুশি হন। কেননা তিনি মানুষের স্রষ্টা ও প্রতিপালক।
(মাউসুয়াতুল হাদিসিয়্যা)