kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ভারতীয় আলেমদের বিশ্ববিখ্যাত ৭ রচনা

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভারতীয় আলেমদের বিশ্ববিখ্যাত ৭ রচনা

ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখায় ভারতীয় আলেমরা অসংখ্য কিতাব রচনা করেছেন। এখানে সংক্ষিপ্তভাবে এমন কিছু গ্রন্থের কথা উল্লেখ করা হলো, যার খ্যাতি ভারতবর্ষের সীমানা ছাড়িয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে এবং আরব আলেমরাও তা সানন্দে গ্রহণ করেছেন।

১. আল উবাবুঝ-ঝাখির : রচয়িতা ইমাম হাসান বিন মুহাম্মদ আস-সাগানি আল-লাহোরি (রহ.)। তিনি হিজরি সপ্তম শতকের একজন আরবি ভাষাবিদ। তাঁকে আরবি ভাষার নির্ভরযোগ্য উৎস মনে করা হয়। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো প্রামাণ্যগ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। আধুনিক ও প্রাচীন ভাষাবিদরা তাঁর দ্বারা উপকৃত। তাঁরা তাঁর মেধা, দূরদর্শিতা, নির্ভরযোগ্যতা ও আস্থাশীলতার কথা স্বীকার করেন। ইমাম সুয়ুতি (রহ.) বলেন, ‘তিনি ছিলেন ভাষার পতাকাবাহী।’

২. কানজুল উম্মাল : রচয়িতা শায়খ আলী ইবনে হিসামুদ্দিন আল-মুত্তাকি বুরহানপুরি (রহ.)। তিনি হিজরি দশম শতকের বিশিষ্ট হাদিসবিশারদ। ‘কানজুল উম্মাল’ মূলত ইমাম সুয়ুতি (রহ.)-এর ‘জামে’গুলোর একটি বিন্যস্ত ও সমন্বিত সংকলন। হাদিস গবেষক ও চর্চাকারীরা গ্রন্থটি দ্বারা ব্যাপকভাবে উপকৃত। শায়খ আলী মুত্তাকি দীর্ঘ সময় ও অক্লান্ত পরিশ্রমে সংকলনটি দাঁড় করিয়েছেন। শায়খ আবুল হাসান বিকরি আশ-শাফেয়ি—যিনি দশম হিজরিতে আরববিশ্বের অন্যতম প্রধান আলেম হিসেবে বিবেচিত হতেন, তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই জগত্বাসীর ওপর ইমাম সুয়ুতির ঋণ আছে আর ইমাম সুয়ুতির ওপর ঋণ আছে আলী মুত্তাকির।’

৩. মাজমাউ বিহারিল আনওয়ার : গ্রন্থটির পুরো নাম হলো ‘মাজমাউ বিহারিল আনওয়ার ফি গারায়িবিত-তানজিলি ওয়া লাতায়িফিল আখবার’। রচয়িতা শায়খ তাহির আল-পাটনী (মৃত্যু ৯৮৬)। আল্লামা সাইয়েদ আবদুল হাই (রহ.) ‘নুজহাতুল খাওয়াতির’ গ্রন্থে লেখেন, ‘লেখক এই গ্রন্থে সব ‘গারিব’ হাদিস (হাদিসশাস্ত্রের একটি পরিভাষা) ও তার সম্পর্কে যা কিছু লেখা হয়েছে, তা একত্র করেছেন। গ্রন্থটি রচিত হওয়ার পর থেকে তা আলেমদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে। একইভাবে তাঁর ‘তাজকিরাতুল মাওদুয়াত’কে জাল হাদিস বিষয়ে একটি প্রামাণ্যগ্রন্থ বিবেচনা করা হয়।

৪. ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : এই গ্রন্থটিকে ইসলামী বিশ্বের অন্যতম প্রামাণ্যগ্রন্থ মনে করা হয়। ‘আস-সাকাফাতুল ইসলামিয়া ফিল-হিন্দ’ গ্রন্থকার বলেন, ‘ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি—যাকে ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াও বলা হয়, তা ফাতাওয়াবিষয়ক গ্রন্থগুলোর মধ্যে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। বিশেষত, মাসআলার আধিক্য, ভাষার সাবলীলতা, জটিল বিধানের সহজ সমাধানের বিচারে তা অত্যন্ত উপকারী একটি গ্রন্থ। আরব উপদ্বীপ, সিরিয়া ও মিসরে গ্রন্থটি ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া নামে পরিচিত। বৃহৎ কলেবরের ছয় খণ্ডের গ্রন্থটিকে ‘হেদায়া’র সূচি অনুসারে বিন্যস্ত করা হয়েছে। সম্রাট আওরঙ্গজেব আলমগীর (আল্লাহ তাঁর কবরকে আলোকিত করুন) তাঁর রাজত্বের শুরুভাগে শায়খ নিজামুদ্দিন বুরহানপুরি (রহ.)-কে ফিকহে হানাফির আলোকে ফাতাওয়া সংকলনের দায়িত্ব দেন। এ জন্য তিনি দুই লাখ রুপি খরচ করেন।

৫. মুসাল্লামুস সুবুত : ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি বিষয়ক গ্রন্থটি রচনা করেন আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ ইবনে আবদুশ শাকুর হানাফি বিহারি (রহ.) (মৃত্যু ১১১৯ হি.)। গ্রন্থটি ভারতবর্ষ ছাড়াও মুসলিম বিশ্বের অন্য অঞ্চলেও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্য হিসেবে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে। সমকালীন বড় বড় আলেম তার পাঠদান করেছেন এবং ব্যাখ্যা গ্রন্থ রচনা করেছেন। ভারতের শীর্ষস্থানীয় ১০ জন আলেম ‘মুসাল্লামুস সুবুত’-এর ব্যাখ্যা গ্রন্থ রচনা করেছেন।

৬. কাশশাফু ইস্তিলাহাতিল ফুনুন : রচয়িতা শায়খ মুহাম্মদ আলী থানবি (রহ.)। তিনি দ্বাদশ শতাব্দীর বিশিষ্ট মনীষী ছিলেন। অত্যন্ত উপকারী একটি গ্রন্থ। আরবের জ্ঞানী ও গবেষকরা বইটি উষ্ণতার সঙ্গে গ্রহণ করেছেন। তাঁরা প্রশংসা করে বলেছেন, এটি শাস্ত্রীয় পরিভাষার জন্য একটি অভিধানতুল্য, যা শত শত বইয়ের হাজার হাজার পৃষ্ঠা পড়ে দেখার শ্রম থেকে রক্ষা করে। পরিভাষা বিষয়ে তখনো কোনো বড় গ্রন্থ ছিল না। এখনো সাধারণ আলেম, লেখক ও গবেষকরা কিতাবটি দ্বারা উপকৃত হচ্ছেন।

৭. হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ : প্রখ্যাত ভারতীয় মুসলিম দার্শনিক ইমাম ওয়ালিউল্লাহ দেলভি (রহ.) এই অনন্য সাধারণ গ্রন্থটি রচনা করেন। গ্রন্থটিতে শরয়ি বিধি-বিধানের অন্তর্নিহিত কারণ এবং শরিয়তের দার্শনিক ভিত্তিগুলো ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ’ প্রথম গ্রন্থ। আরবি ভাষায়ও এর সমতুল্য কোনো গ্রন্থের সন্ধান পাওয়া যায় না। দার্শনিক আলেমরা গ্রন্থটিকে বিশেষ মর্যাদা দেন। মিসরসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বইটির অসংখ্য সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে।

তথ্যঋণ : আল-মুসলিমুনা ফিল হিন্দ



সাতদিনের সেরা