• ই-পেপার

তাইওয়ান সীমান্তে চীনের তৎপরতা বৃদ্ধি, সতর্ক তাইপেই

আইসিসি ‘উন্মাদদের দ্বারা পরিচালিত বোকা সংস্থা’: মার্কো রুবিও

অনলাইন ডেস্ক
আইসিসি ‘উন্মাদদের দ্বারা পরিচালিত বোকা সংস্থা’: মার্কো রুবিও
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি আদালতটিকে ‘বোকা একটি সংস্থা’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন, আইসিসি এমন কিছু মানুষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে যারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক পদক্ষেপ নিতে চাইছে।

বৃহস্পতিবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রুবিও। এ সময় তাকে প্রশ্ন করা হয়, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আদালতের প্রয়োজন থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র কেন আইসিসির বিরোধিতা করছে। জবাবে রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয় এবং কখনোই আদালটির প্রতিষ্ঠার চুক্তিতে অংশ নেয়নি। তাই মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইসিসির কোনো বিচারিক ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না। রুবিও বলেন, ‘আমরা আইসিসির সদস্য নই। আমরা কখনো সেই চুক্তিতে সই করিনি। আমরা কখনো এতে যোগও দিইনি। এরপরও তারা দাবি করছে, যারা ওই চুক্তির সদস্য নয়, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তাদের আছে।’

তিনি আরো বলেন, আইসিসি রাষ্ট্রপ্রধানসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় আনার এবং কারাগারে পাঠানোর ক্ষমতা রাখে বলে দাবি করছে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, এটি আদালটির ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা। রুবিও বলেন, ‘আইসিসিতে এমন কিছু উন্মাদ মানুষ আছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কথা বলছে। এমনকি বর্তমান বা ভবিষ্যতের মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনার কথা বলছে। এটা কখনোই হবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘যারা এই সংস্থার সদস্য হতে চায়, তারা হতে পারে। কিন্তু আমরা এর সদস্য হব না। তারা মার্কিন নাগরিকদের ওপর তাদের বিচারিক ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারবে না।’

রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও আইসিসিকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন এখনো আদালটির দাবি মেনে নিচ্ছে না এবং ভবিষ্যতেও নেবে না। তার এই বক্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আইসিসিকে মার্কিন সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে একটি নতুন উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। ১৩ জুলাই প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে একটি কর্মসূচি শুরু করেছেন। এর উদ্দেশ্য হলো আইসিসির কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা কমানো, মার্কিন সেনাসদস্য ও কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা ঠেকানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই আইসিসির প্রতিষ্ঠার মূল চুক্তি ‘রোম সংবিধি’-তে যোগ দেয়নি। এরপরও আদালতটি মার্কিন সেনাসদস্য ও কর্মকর্তাদের বিচার করার ক্ষমতা দাবি করছে। যুক্তরাষ্ট্র এটিকে ‘অসহনীয় হুমকি’ হিসেবে দেখছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অভিযোগ, এর আগে আইসিসি মার্কিন সেনাসদস্য ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল। ওয়াশিংটনের দাবি, আদালতটি ধীরে ধীরে এমন একটি বৈশ্বিক বিচারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে চাইছে, যার ওপর কোনো জবাবদিহি নেই।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আইসিসির বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপে কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ বাদ দেওয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোকে মার্কিন নাগরিকদের ওপর আইসিসির বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাখ্যান করতে উৎসাহ দেওয়া, আইসিসিকে সমর্থনকারী দেশগুলোর ভূমিকা পর্যবেক্ষণ বাড়ানো এবং রোম সংবিধিতে যোগ না দেওয়া দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে কাজ করা। এ ছাড়া আইসিসির কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরো ভিসা নিষেধাজ্ঞা, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ও বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। রুবিওর মন্তব্য ও পররাষ্ট্র দপ্তরের এই উদ্যোগে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, আইসিসির বিচারিক ক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আদালটির দীর্ঘদিনের বিরোধ আরো তীব্র হচ্ছে।
 

জাহাজ-কার্গোর ক্ষতিপূরণ ইরানের অর্থ থেকে দেবে যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
জাহাজ-কার্গোর ক্ষতিপূরণ ইরানের অর্থ থেকে দেবে যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় নতুন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে জাহাজ, পণ্য বা এ-সম্পর্কিত কোনো সম্পদের ক্ষতি হলে তার ক্ষতিপূরণ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের অর্থ থেকে দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। ট্রাম্প লিখেছেন, এখন থেকে জাহাজ, পণ্য বা এ-সম্পর্কিত যেকোনো কিছুর ক্ষতি হলে সেই ক্ষতিপূরণ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের অর্থ থেকে পরিশোধ করা হবে। তিনি বলেন, ক্ষতির পরিমাণ অনেক বড় হতে পারে। তবে তার মতে, এটিই ‘ন্যায্য ও সমান’ সিদ্ধান্ত। এই ঘোষণার মাধ্যমে ইরানের জব্দ থাকা অর্থ ব্যবহার করে সম্ভাব্য ক্ষতির অর্থ পরিশোধের ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এদিকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরানের প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ অবস্থায় রয়েছে। এসব সম্পদের ওপর বর্তমানে ইরানের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা বাস্তব পরিস্থিতি না বুঝেই আগ্রাসী অবস্থান নিচ্ছেন। তার দাবি, এই নীতি শেষ পর্যন্ত উল্টো ফল বয়ে আনবে। আরাগচি লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নীতিনির্ধারক বাস্তবতা থেকে দূরে সরে গেছেন। তারা মাঠের পরিস্থিতি উপেক্ষা করছেন এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক হিসাব নিয়ে ব্যস্ত। তিনি বলেন, এই ধরনের আগ্রাসী অবস্থান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে কোনো সম্ভাব্য সমঝোতা করতে চাইলে তার মূল্য আরো বাড়িয়ে দেবে।

এর আগে বৃহস্পতিবারই ট্রাম্প আরেকটি বক্তব্যে বলেন, ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে আমরা খুব ভালো করছি। আমরা দারুণভাবে এগিয়ে আছি। তারা কিছু করতে চায়। কিন্তু আমি বলছি, তারা এখনো প্রস্তুত নয়। তাদের আরো একই ধরনের চাপ দরকার। তাদের কিছু খারাপ উদ্দেশ্য আছে। আমরা তাদের পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দিতে পারি না।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ইরানকে শুধু পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা নয়, এমন চিন্তা করার সুযোগও দেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, ‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। এই সমস্যা অনেক আগেই সমাধান হওয়া উচিত ছিল। যদি আমরা ব্যবস্থা না নিই, তাহলে আর কেউ নেবে না। আমরা সেই সক্ষমতা রাখি এবং প্রয়োজন হলে আমরা সেটাই করব।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের এই মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্ককে আরো জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানযুদ্ধ

ট্রাম্পের ক্ষমতা কমাতে প্রতিনিধি পরিষদের প্রস্তাব সিনেটে বাতিল

অনলাইন ডেস্ক
ট্রাম্পের ক্ষমতা কমাতে প্রতিনিধি পরিষদের প্রস্তাব সিনেটে বাতিল
ছবি: রয়টার্স

ইরানের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। তবে একই ধরনের একটি প্রস্তাব সিনেটে পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়ায় বাতিল হয়েছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে ভোট হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিয়ে আইনপ্রণেতারা দ্বিতীয়বারের মতো এ ধরনের ভোট দিলেন। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট সদস্য প্রমিলা জয়পালের আনা প্রস্তাবটি ২১৪-২০৮ ভোটে পাস হয়। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি চারজন রিপাবলিকান সদস্যও এর পক্ষে ভোট দেন। এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য হলো, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বা সামরিক সম্পৃক্ততা চালিয়ে যাওয়া বন্ধ করা। তবে সিনেটে একই ধরনের প্রস্তাবটি পাস হয়নি। ভোটাভুটিতে এটি ৪৭-৪৯ ভোটে পরাজিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর এই বিষয়ে সিনেটে এটিই ছিল প্রথম সরাসরি ভোট। সিনেটে রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান রিপাবলিকানদের সঙ্গে মিলে প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন।

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে সংঘাত নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডিও গোপন নিরাপত্তা ব্রিফিং পাওয়ার পর অবস্থান বদলে প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে ভোট দেন। তবে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া প্রস্তাবটি সিনেটেও অনুমোদন পেলেও তা সরাসরি আইনে পরিণত হতো না। কারণ, এ ধরনের যৌথ প্রস্তাব প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর বা ভেটোর জন্য পাঠানো হয় না। তারপরও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদের এই ভোট ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা ভেঙে যাওয়া এবং যুদ্ধবিরতির অবসানের পর দুই দেশের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। নতুন করে সংঘর্ষ শুরুর এই পরিস্থিতির মধ্যেই কংগ্রেসে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হলো।

ডেমোক্র্যাটরা দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। সাম্প্রতিক সময়ে চলমান সংঘাত নিয়ে রিপাবলিকান দলের ভেতরেও উদ্বেগ বাড়তে শুরু করায় কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্যও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একমত হয়েছেন। চলতি বছরের শুরু থেকে ইরান-সংক্রান্ত সামরিক ক্ষমতার প্রশ্নে সিনেটে এটি ছিল ১২তম ভোট। এদিকে একই দিনে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরো বড় পরিসরের নতুন সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য এই অভিযান চলতি বছরের শুরুতে পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র চেয়েও বড় হতে পারে।

অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি বড় ধরনের একটি সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্তের খুব কাছাকাছি রয়েছেন। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি বলেন, ‘আমি বড় ধরনের একটি হামলার কথা ভাবছি। এটি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড় হবে। আমি সিদ্ধান্ত নেওয়ার খুব কাছাকাছি আছি। এর জন্য আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে।’ তবে যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনীকে নতুন কোনো সামরিক নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
 

১২.৫% নয়, বাংলাদেশ-ভারতের জন্য মার্কিন শুল্ক ১০ শতাংশ

অনলাইন ডেস্ক
১২.৫% নয়, বাংলাদেশ-ভারতের জন্য মার্কিন শুল্ক ১০ শতাংশ
ছবি: রয়টার্স

বাংলাদেশ ও ভারতসহ বিশ্বের প্রায় ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন ব্যবস্থায় দেশভেদে ১০ শতাংশ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। আজ শুক্রবার থেকে এই শুল্ক কার্যকর হবে।

জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) দপ্তর এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর কার্যকর নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেনি বা সেই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এই শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। 

নতুন সিদ্ধান্তে ভারতকে ১০ শতাংশ শুল্কের তালিকায় রাখা হয়েছে। শুরুতে ভারতের জন্য ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, শ্রমনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের গঠনমূলক আলোচনা এবং অগ্রগতির কারণে শেষ পর্যন্ত দেশটিকে কম হারের শুল্কের আওতায় আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৭টি দেশের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেসব দেশে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, অথবা যারা এমন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিংবা আংশিকভাবে ব্যবস্থা নিয়ে কিছু পণ্যের আমদানি বন্ধ করেছে, তাদের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। 

১০ শতাংশ শুল্কের এই তালিকায় রয়েছে ভারত, বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, জর্ডান, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগো। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের যেসব পণ্য আগে থেকেই অন্য কারণে শুল্কমুক্ত নয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্কের পাশাপাশি ১০ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে। এছাড়া অন্য দেশগুলোর জন্য শুল্কের হার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। 

নতুন শুল্ক শুক্রবার থেকে কার্যকর হবে। এটি ভারত, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, জাপানসহ যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর প্রযোজ্য হবে। বৃহস্পতিবারের ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর বলেছে, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে বা তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি, তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা অনুযায়ী, অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার অভিযোগে কোনো দেশের বিরুদ্ধে শুল্ক বা অন্য বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশ্বাস, শুধু নৈতিক আহ্বান জানিয়ে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় জোরপূর্বক শ্রমের ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় একশ বছর ধরে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং দেশটি কঠোরভাবে সেই আইন বাস্তবায়ন করে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক অংশীদারদেরও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে। গ্রিয়ার আরো বলেন, অনেক দেশ দ্রুত জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা চালু করেছে, যা ইতিবাচক। তবে সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এই সিদ্ধান্তের আগে চলতি বছরের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১(খ) ধারায় ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের উদ্দেশ্য ছিল, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, তা যাচাই করা। তদন্ত চলাকালে ৪৫টির বেশি দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি একাধিক গণশুনানির আয়োজন করা হয় এবং ১ হাজার ৬০০টির বেশি লিখিত মতামত পর্যালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাণিজ্য নীতির অন্যতম বড় পদক্ষেপ।

উল্লেখ্য যে, গত বছর ক্ষমতায় ফিরে এসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত তথাকথিত ‘পারস্পরিক শুল্ক’ আরোপ করেছিলেন। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই শুল্কের বড় অংশ বাতিল করে দেয়। আদালতের মতে, জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে ওই শুল্ক আরোপ আইনসম্মত ছিল না। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন নতুন আইনি ভিত্তিতে শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা ব্যবহার করে নতুন শুল্ক কার্যকর করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারা ব্যবহার করায় নতুন শুল্ক আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও টিকে থাকার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। কারণ অতীতেও ৩০১ ধারার আওতায় নেওয়া পদক্ষেপ আদালতে বহাল ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বিশ্বের ৬০টি অর্থনীতির পণ্যের ওপর নতুন এই শুল্ক কার্যকর করা হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন ১৫০ দিনের জন্য সব আমদানির ওপর অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্ক চালু করেছিল। সেই মেয়াদ আজ শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে শেষ হবে। ঠিক এরপরই নতুন ১০ ও ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। তবে ইতোমধ্যে পথে থাকা বা পরিবহনে থাকা পণ্য ২৮ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত নতুন শুল্ক থেকে ছাড় পাবে।