• ই-পেপার

ভিডিও বার্তায় শিক্ষার্থীদের যেসব আশ্বাস দিলেন মোদি

ইরানযুদ্ধ

ট্রাম্পের ক্ষমতা কমাতে প্রতিনিধি পরিষদের প্রস্তাব সিনেটে বাতিল

অনলাইন ডেস্ক
ট্রাম্পের ক্ষমতা কমাতে প্রতিনিধি পরিষদের প্রস্তাব সিনেটে বাতিল
ছবি: রয়টার্স

ইরানের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। তবে একই ধরনের একটি প্রস্তাব সিনেটে পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়ায় বাতিল হয়েছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে ভোট হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিয়ে আইনপ্রণেতারা দ্বিতীয়বারের মতো এ ধরনের ভোট দিলেন। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট সদস্য প্রমিলা জয়পালের আনা প্রস্তাবটি ২১৪-২০৮ ভোটে পাস হয়। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি চারজন রিপাবলিকান সদস্যও এর পক্ষে ভোট দেন। এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য হলো, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বা সামরিক সম্পৃক্ততা চালিয়ে যাওয়া বন্ধ করা। তবে সিনেটে একই ধরনের প্রস্তাবটি পাস হয়নি। ভোটাভুটিতে এটি ৪৭-৪৯ ভোটে পরাজিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর এই বিষয়ে সিনেটে এটিই ছিল প্রথম সরাসরি ভোট। সিনেটে রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান রিপাবলিকানদের সঙ্গে মিলে প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন।

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে সংঘাত নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডিও গোপন নিরাপত্তা ব্রিফিং পাওয়ার পর অবস্থান বদলে প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে ভোট দেন। তবে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া প্রস্তাবটি সিনেটেও অনুমোদন পেলেও তা সরাসরি আইনে পরিণত হতো না। কারণ, এ ধরনের যৌথ প্রস্তাব প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর বা ভেটোর জন্য পাঠানো হয় না। তারপরও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদের এই ভোট ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা ভেঙে যাওয়া এবং যুদ্ধবিরতির অবসানের পর দুই দেশের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। নতুন করে সংঘর্ষ শুরুর এই পরিস্থিতির মধ্যেই কংগ্রেসে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হলো।

ডেমোক্র্যাটরা দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। সাম্প্রতিক সময়ে চলমান সংঘাত নিয়ে রিপাবলিকান দলের ভেতরেও উদ্বেগ বাড়তে শুরু করায় কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্যও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একমত হয়েছেন। চলতি বছরের শুরু থেকে ইরান-সংক্রান্ত সামরিক ক্ষমতার প্রশ্নে সিনেটে এটি ছিল ১২তম ভোট। এদিকে একই দিনে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরো বড় পরিসরের নতুন সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য এই অভিযান চলতি বছরের শুরুতে পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র চেয়েও বড় হতে পারে।

অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি বড় ধরনের একটি সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্তের খুব কাছাকাছি রয়েছেন। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি বলেন, 'আমি বড় ধরনের একটি হামলার কথা ভাবছি। এটি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড় হবে। আমি সিদ্ধান্ত নেওয়ার খুব কাছাকাছি আছি। এর জন্য আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে।' তবে যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনীকে নতুন কোনো সামরিক নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
 

তাইওয়ান সীমান্তে চীনের তৎপরতা বৃদ্ধি, সতর্ক তাইপেই

অনলাইন ডেস্ক
তাইওয়ান সীমান্তে চীনের তৎপরতা বৃদ্ধি, সতর্ক তাইপেই

তাইওয়ান ও তার আশপাশের অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে চীন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির ভূখণ্ডের চারপাশে চীনা পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ৮টি যুদ্ধবিমান, নৌবাহিনীর ৬টি জাহাজ ও ৪টি সরকারি জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে।

এর মধ্যে ৮টি যুদ্ধবিমানের ৬টিই তাইওয়ান প্রণালীর মধ্যরেখা অতিক্রম করে দেশটির উত্তর, দক্ষিণ-পশ্চিম এবং পূর্বাঞ্চলীয় এয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জোনে প্রবেশ করে। তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনী পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, গত কয়েকদিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে চীনের এই তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। 

তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক স্তরেও আলোচনা চলছে। গত ৩ জুলাই চীন আশা প্রকাশ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ান সম্পর্কিত বিষয়গুলো বিচক্ষণতার সাথে সামলাবে। ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং জানান, চিনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কথোপকথনে দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো আলোচনা করে সঠিক পথে অবিচল থাকারঙ্কথা বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৬৮৩ সালে চিং রাজবংশের দ্বীপটি দখলের পর থেকেই মূলত তাইওয়ানের ওপর চীনের দাবির সূত্রপাত। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করলেও, তাইওয়ান স্বশাসিত সরকার, নিজস্ব সামরিক বাহিনী ও অর্থনীতি নিয়ে স্বাধীনভাবে নিজেদের বজায় রেখেছে।

১২.৫% নয়, বাংলাদেশ-ভারতের জন্য মার্কিন শুল্ক ১০ শতাংশ

অনলাইন ডেস্ক
১২.৫% নয়, বাংলাদেশ-ভারতের জন্য মার্কিন শুল্ক ১০ শতাংশ
ছবি: রয়টার্স

বাংলাদেশ ও ভারতসহ বিশ্বের প্রায় ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন ব্যবস্থায় দেশভেদে ১০ শতাংশ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। আজ শুক্রবার থেকে এই শুল্ক কার্যকর হবে।

জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) দপ্তর এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর কার্যকর নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেনি বা সেই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এই শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। 

নতুন সিদ্ধান্তে ভারতকে ১০ শতাংশ শুল্কের তালিকায় রাখা হয়েছে। শুরুতে ভারতের জন্য ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, শ্রমনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের গঠনমূলক আলোচনা এবং অগ্রগতির কারণে শেষ পর্যন্ত দেশটিকে কম হারের শুল্কের আওতায় আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৭টি দেশের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেসব দেশে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, অথবা যারা এমন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিংবা আংশিকভাবে ব্যবস্থা নিয়ে কিছু পণ্যের আমদানি বন্ধ করেছে, তাদের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। 

১০ শতাংশ শুল্কের এই তালিকায় রয়েছে ভারত, বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, জর্ডান, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগো। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের যেসব পণ্য আগে থেকেই অন্য কারণে শুল্কমুক্ত নয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্কের পাশাপাশি ১০ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে। এছাড়া অন্য দেশগুলোর জন্য শুল্কের হার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। 

নতুন শুল্ক শুক্রবার থেকে কার্যকর হবে। এটি ভারত, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, জাপানসহ যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর প্রযোজ্য হবে। বৃহস্পতিবারের ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর বলেছে, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে বা তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি, তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা অনুযায়ী, অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার অভিযোগে কোনো দেশের বিরুদ্ধে শুল্ক বা অন্য বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশ্বাস, শুধু নৈতিক আহ্বান জানিয়ে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় জোরপূর্বক শ্রমের ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় একশ বছর ধরে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং দেশটি কঠোরভাবে সেই আইন বাস্তবায়ন করে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক অংশীদারদেরও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে। গ্রিয়ার আরো বলেন, অনেক দেশ দ্রুত জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা চালু করেছে, যা ইতিবাচক। তবে সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এই সিদ্ধান্তের আগে চলতি বছরের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১(খ) ধারায় ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের উদ্দেশ্য ছিল, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, তা যাচাই করা। তদন্ত চলাকালে ৪৫টির বেশি দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি একাধিক গণশুনানির আয়োজন করা হয় এবং ১ হাজার ৬০০টির বেশি লিখিত মতামত পর্যালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাণিজ্য নীতির অন্যতম বড় পদক্ষেপ।

উল্লেখ্য যে, গত বছর ক্ষমতায় ফিরে এসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত তথাকথিত ‘পারস্পরিক শুল্ক’ আরোপ করেছিলেন। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই শুল্কের বড় অংশ বাতিল করে দেয়। আদালতের মতে, জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে ওই শুল্ক আরোপ আইনসম্মত ছিল না। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন নতুন আইনি ভিত্তিতে শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা ব্যবহার করে নতুন শুল্ক কার্যকর করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারা ব্যবহার করায় নতুন শুল্ক আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও টিকে থাকার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। কারণ অতীতেও ৩০১ ধারার আওতায় নেওয়া পদক্ষেপ আদালতে বহাল ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বিশ্বের ৬০টি অর্থনীতির পণ্যের ওপর নতুন এই শুল্ক কার্যকর করা হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন ১৫০ দিনের জন্য সব আমদানির ওপর অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্ক চালু করেছিল। সেই মেয়াদ আজ শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে শেষ হবে। ঠিক এরপরই নতুন ১০ ও ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। তবে ইতোমধ্যে পথে থাকা বা পরিবহনে থাকা পণ্য ২৮ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত নতুন শুল্ক থেকে ছাড় পাবে।

মোদির আশ্বাসের পর ২৭ দিনের অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক

অনলাইন ডেস্ক
মোদির আশ্বাসের পর ২৭ দিনের অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক
সংগৃহীত ছবি

প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কঠোর পদক্ষেপ ও ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও বার্তার পরেই দীর্ঘ ২৭ দিনের মাথায় অনশন প্রত্যাহার করলেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে হাসপাতালের খাটে বসেই তিনি অনশন ভঙ্গ করেন।

অনশন ভাঙার সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জৈন আংমো এবং দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহ। অনশন প্রত্যাহারের পর উপস্থিত সকলে তাকে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মান জানান। প্রধানমন্ত্রী মোদিও সমাজমাধ্যমে ওয়াংচুকের দ্রুত সুস্থতা এবং স্বাভাবিক ওজনে ফিরে আসা কামনা করেছেন।

সরকারের এই সিদ্ধান্তে কৃতজ্ঞতা ও সন্তোষ প্রকাশ করে ওয়াংচুক জানান, দেশে কোনোভাবেই যেন হিংসা না ছড়ায়, সেই দিকটি মাথায় রেখে এবং কিছু শর্ত নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পরেই তিনি অনশন তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই শর্তগুলির বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে শীঘ্রই একটি আলাদা ভিডিও প্রকাশ করবেন বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে দেশবাসীকে যেকোনো ধরনের হিংসা থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানান সোনম।

সোনম ওয়াংচুক শারীরিক অনশন প্রত্যাহার করলেও এই প্রতিবাদ এখনই সম্পূর্ণ থামছে না। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক ওয়াংচুকের এই ত্যাগকে শ্রদ্ধা জানালেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত যন্তর মন্তরে তাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।