• ই-পেপার

গুহার অন্ধকারে লুকিয়ে ছিল ৩,৫০০ বছরের ইতিহাস, নাগাল্যান্ডে মিলল বিস্ময়কর নিদর্শন

তীব্র খাদ্য ঝুঁকিতে পড়বে বাংলাদেশের এক কোটি ৮১ লাখ মানুষ : ডব্লিউএফপি

অনলাইন ডেস্ক
তীব্র খাদ্য ঝুঁকিতে পড়বে বাংলাদেশের এক কোটি ৮১ লাখ মানুষ : ডব্লিউএফপি

খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ইউরিয়ার দাম বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ সম্ভাব্য সার সংকটের মুখে পড়তে পারে। 

ডব্লিউএফপির নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ তার ইউরিয়া সারের প্রায় ৮০ শতাংশ সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে আমদানি করে। বর্তমানে দেশটিতে মজুদ থাকা ইউরিয়া অক্টোবর পর্যন্ত চাহিদা পূরণ করার মতোই রয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়েছে, ইউরিয়ার দাম বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে গ্যাস সংকটের কারণে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচটি ইউরিয়া কারখানার মধ্যে তিনটি উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।

ডব্লিউএফপি আরো জানিয়েছে, চলমান এ সংকটের ফলে বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৮১ লাখ (১৮.১ মিলিয়ন) মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করা দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে আনসার আল্লাহ (হুথি)। লোহিত সাগরে আরোপিত সামুদ্রিক অবরোধ লঙ্ঘনের জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) হামলার বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি।

গোষ্ঠীটির আল-মাসিরাহ টেলিভিশনে প্রচারিত বিবৃতিতে বলা হয়, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। হামলার শিকার জাহাজ দুটির নাম এনসেলিয়াএবং লায়লা এ অভিযানে ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের দ্রুত বিচার করে কড়া শাস্তির বার্তা মোদির

অনলাইন ডেস্ক
প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের দ্রুত বিচার করে কড়া শাস্তির বার্তা মোদির

প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার করতে উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি তাদেরকে কড়া শাস্তি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (টুইটার)-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ রক্ষা করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

মোদি লিখেছেন, ‘আমাদের যুবসমাজের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই হতে পারে না। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’

প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানী নয়াদিল্লিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, বিরোধী দলগুলোর প্রতিবাদ এবং সংসদে তীব্র রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলছে। একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও জোরালো হয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বুধবার দাবি করেন, গত ১০ বছরে ভারতে ১৫০টিরও বেশি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু এসব মামলায় এখন পর্যন্ত একজনেরও দণ্ড নিশ্চিত করা যায়নি।

এর আগে মঙ্গলবার এনডিএ জোটের বৈঠকেও প্রশ্নফাঁসকে ‘ঘোর পাপ’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি।

সূত্র : এনডিটিভি

সিজেপি বিক্ষোভে দিল্লির ১৬ মেট্রো স্টেশন বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক
সিজেপি বিক্ষোভে দিল্লির ১৬ মেট্রো স্টেশন বন্ধ
সংগৃহীত ছবি

ভারতের নয়াদিল্লিতে চলমান বিক্ষোভের কারণে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে রাজধানীর ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব স্টেশনে যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়া বন্ধ থাকবে। বিক্ষোভ আরো তীব্র হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দিল্লি মেট্রোরেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে এ তথ্য জানায়। সংস্থাটি জানায়, বন্ধ থাকা স্টেশনগুলো হলো— লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চৌক, প্যাটেল চৌক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাখাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ এবং শিবাজি স্টেডিয়াম। তবে যাত্রীদের জন্য একটি সুবিধা চালু রাখা হয়েছে। রাজীব চৌক, মান্ডি হাউস এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনে আন্তঃলাইন পরিবর্তন (ইন্টারচেঞ্জ) করা যাবে। অর্থাৎ, যাত্রীরা এসব স্টেশনে ট্রেন পরিবর্তন করতে পারবেন। তবে স্টেশনের বাইরে বের হওয়া বা বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করা যাবে না। ডিএমআরসি তাদের পোস্টে জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্টেশনগুলো আবার খুলে দেওয়া হবে।

এদিকে, কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ আরো তীব্র হয়েছে। দলটি নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে প্রতিবাদ করছে। একই সঙ্গে তারা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও জানাচ্ছে। বিক্ষোভকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। যন্তর মন্তর এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানে সিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিক্ষোভকারীদের জন্য পরিচয় প্রকাশ না করা কয়েকজন দাতা খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থাও করেছেন বলে জানা গেছে।

এর মধ্যেই বুধবার রাতে দিল্লির কনট প্লেস এলাকায় নতুন করে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে তলস্তয় মার্গের কাছে একদল দুর্বৃত্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর ও বোতল ছোড়ে। এ ঘটনায় কনট প্লেসের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) বিবেক ভগত আহত হন। পরে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা তাকে দ্রুত রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে নিয়ে যান। পুলিশ জানায়, কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আসে।

অন্যদিকে, বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য অভিযোগ করেছেন, কর্মী সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। তারা মেদান্তা হাসপাতালে ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হাসপাতালের ফটকেই তাদের আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার (জেএমএম) সংসদ সদস্য মহুয়া মাজি সাংবাদিকদের বলেন, সংসদের অধিবেশন শুরুর আগেই এই বিক্ষোভ ২২ দিন ধরে চলছিল। তখন দিল্লি সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি দাবি করেন, সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রীর কাছ থেকে তারা জানতে পেরেছেন, তার সঙ্গে দেখা করার ওপর আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তারপরও তাদের হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) সংসদ সদস্য সঞ্জয় যাদবও সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এত বড় জনরোষের পরও সরকার যদি শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে রাজনীতি না করার কথা বলে, তাহলে সেটি সরকারের ঔদ্ধত্যের প্রকাশ। তার দাবি, এটি কোনো একক রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের আন্দোলন নয়। সরকারের নীতি এবং পুলিশের কঠোর আচরণে ক্ষুব্ধ তরুণরাই এই আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন। এদিকে, আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুকও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। তিনি বলেছেন, ২৫ দিনের অনশন শেষ করার আগে তিনি সরকারের কাছ থেকে লিখিত নিশ্চয়তা চান। সেই নিশ্চয়তায় বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—এমন প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে।
 

কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, জাতিসংঘে পাকিস্তানকে ভারতের জবাব

অনলাইন ডেস্ক
কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, জাতিসংঘে পাকিস্তানকে ভারতের জবাব
সংগৃহীত ছবি

জাতিসংঘের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আবারও কড়া অবস্থান নিয়েছে ভারত। দেশটির অভিযোগ, পাকিস্তান রাষ্ট্রের নীতির অংশ হিসেবে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে ভারত স্পষ্ট করে বলেছে, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। 

বুধবার (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময়) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ‘প্রাকৃতিক সম্পদের সুশাসন : শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির ভিত্তি’ শীর্ষক উন্মুক্ত বিতর্কে এসব কথা বলেন জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত পর্বতনেনি হরিশ। বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে হওয়া এই বৈঠককে পাকিস্তান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে। তার দাবি, আলোচনার মূল বিষয় থেকে সরে গিয়ে পাকিস্তান কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা অভিযোগ’ তুলেছে।

পর্বতনেনি হরিশ বলেন, এই বৈঠকে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলার পরিকল্পনা ভারতের ছিল না। কিন্তু পাকিস্তান আলোচনার সুযোগ নিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরায় ভারতকে তার জবাব দিতে হয়েছে। কাশ্মীর প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ। এটি ভারতের সংবিধান ও আইনের দৃষ্টিতেও প্রতিষ্ঠিত বাস্তবতা। তবে পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে এই বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভারতের রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে একমাত্র অমীমাংসিত বিষয় হলো, ভারতের দাবি অনুযায়ী পাকিস্তান ওই অঞ্চলের কিছু অংশ অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। সেই ভূখণ্ড খালি করাই এখন প্রধান বিষয় হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বক্তব্যে তিনি সিন্ধু পানি চুক্তির বিষয়ও তুলে ধরেন। এ সময় পাকিস্তানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, পারস্পরিক বিশ্বাস ও সদিচ্ছার ভিত্তিতে কোনো চুক্তি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়, যদি একটি দেশ একই সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন বা ব্যবহার করে।

তিনি বলেন, সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট এবং এতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা তখনই সম্ভব, যখন পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের পরিবেশ থাকবে। বক্তব্যের শেষ দিকে পাকিস্তানকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান ভারতের এই কূটনীতিবিদ। তার ভাষায়, ভারতের সমালোচনা করার পরিবর্তে পাকিস্তান যদি নিজেদের দেশের সমস্যাগুলো সমাধানে গুরুত্ব দেয়, তাহলে সেটিই দেশটির জনগণের জন্য বেশি উপকারী হবে।