• ই-পেপার

১১০০০ শূকর নিধন করবে সার্বিয়া

ফিলিপাইনে ভূমিধসে নিহত ৫

অনলাইন ডেস্ক
ফিলিপাইনে ভূমিধসে নিহত ৫
ছবি : রয়টার্স

কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় টাইফুনটি শুক্রবার অঞ্চলটির দিকে ধেয়ে আসায় ফিলিপাইনে ভূমিধসে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া তাইওয়ানে শত শত মানুষকে তাদের বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

টাইফুন ‘বাভি’ আজ শুক্রবার ও শনিবার তাইওয়ানের উত্তর ও পূর্ব এবং জাপানের প্রত্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিম দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানার পর চীনে আছড়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বাভির প্রভাবে সৃষ্ট ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ মিন্দানাওতে ভূমিধসে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরো ছয়জন নিখোঁজ হয়েছেন। শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’ আঘাত হানার আশঙ্কায় তাইওয়ানের বন্দরনগরী কিলুংয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা খাবার মজুত করছেন, জানালায় টেপ লাগাচ্ছেন এবং দোকানের সামনে বালির বস্তা রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছেন। 

কিলুংয়ের ৭৬ বছর বয়সী মুদি দোকান মালিক চ্যাং শি-হুও বলেন, টাইফুনটি খুব শক্তিশালী হবে বলে জানানো হয়েছে। তাই তারা ইনস্ট্যান্ট নুডলস, রুটি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাবার মজুত করেছেন। আবহাওয়া আরো খারাপ হলে দোকান বন্ধ করে দেবেন বলেও জানান তিনি।

গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানাসে সুপার টাইফুন হিসেবে আঘাত হানার পর প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় বাভির শক্তি কিছুটা কমেছে। তাইওয়ানের সেন্ট্রাল ওয়েদার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (সিডব্লিউএ) জানিয়েছে, শুক্রবার টাইফুনটির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৯৮ কিলোমিটার।

আবহাওয়াবিদ ওয়াং পিং-হসিয়াং জানান, অনুকূল পরিবেশ না থাকায় টাইফুনটি কিছুটা দুর্বল হতে পারে। তবে তাইপে, নিউ তাইপে, কিলুং ও ইলান এলাকায় এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে। এ ছাড়া মধ্য ও উত্তর তাইওয়ানের পার্বত্য অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাভির শক্তিশালী বাতাসের বিস্তৃতি প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার। ফলে এটি গত ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে তাইওয়ানে আঘাত হানা সবচেয়ে বড় টাইফুনগুলোর একটি হতে পারে।

টাইফুন ‘বাভি’র প্রভাবে শুক্রবার রাজধানী তাইপেইসহ উত্তর ও পূর্ব তাইওয়ানের অনেক স্কুল, অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি শত শত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কিলুং শহরে মানুষ প্রয়োজনীয় ফল ও সবজি কিনতে বাজারে ভিড় করছেন। রাস্তার দোকানিরা তাদের দোকান নিরাপদ করার কাজ করছেন। 

কিলুংয়ের রেস্তোরাঁ মালিক পেনি প্যান বলেন, গত ১০ বছরে এমন পরিস্থিতি তারা দেখেননি। তিনি জানান, আগে কখনও টাইফুনের জন্য বালির বস্তা ব্যবহার করতে হয়নি। তবে এবার শক্তিশালী দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস থাকায় জেলে ও নৌযানচালকদের পরামর্শে তারা অতিরিক্ত সতর্কতা নিচ্ছেন।

‘প্রবল বাতাস ও ভারি বৃষ্টি’ 

টাইফুন ‘বাভি’র প্রভাবে তাইওয়ানের বিভিন্ন এলাকায় এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে এক হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য হুয়ালিয়েন কাউন্টির বাসিন্দা। সেখানে দুটি বাঁধে সার্বক্ষণিক নজর রাখছে কর্তৃপক্ষ।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিংতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম ও যানবাহনসহ ২০ হাজারের বেশি সেনাসদস্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিউ তাইপেই সিটির উপকূলীয় এলাকা বালির একটি নুডলসের দোকানের কর্মী স্যামুয়েল ফু বলেন, দোকান চালু হওয়ার পর এই প্রথম এতো বড় টাইফুনের মুখোমুখি হচ্ছেন তারা। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কথাও জানান তিনি।

জাপানের প্রত্যন্ত সাকাশিমা দ্বীপপুঞ্জের দিকে টাইফুন বাভি এগিয়ে আসায় কিছু এলাকায় স্কুল ও অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আবহাওয়া কর্মকর্তারা উঁচু ঢেউ, প্রবল ঝড় ও ভূমিধসের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। মিয়াকো দ্বীপের একটি হোটেলের কর্মী মাসারু নাকামুরা জানান, ঝড়ের ক্ষতি এড়াতে তারা বিভিন্ন জিনিসপত্র জাল দিয়ে ঢেকে রেখেছেন। তিনি বলেন, ঝড়টি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

ওকিনাওয়ার বাসিন্দা কোকি ওহামা বলেন, ঝড়ের কারণে নাহা শহরে তার ওয়াটার স্পোর্টস ও বারবিকিউ ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়েছে। ৩০ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ী জানান, সপ্তাহান্তের জন্য আগে থেকেই সব বুকিং ছিল, কিন্তু ঝড়ের কারণে সব বাতিল হয়ে গেছে। জাপানের দ্বীপপুঞ্জ ও তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চল অতিক্রম করার পর টাইফুন বাভি সপ্তাহান্তে পূর্ব চীনের উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, চীনের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে চলতি সপ্তাহের বৈরী আবহাওয়া ইতোমধ্যেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। ঝড় ও বন্যায় অন্তত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, অনেক নদী উপচে পড়েছে এবং একটি জলাধারের বাঁধ ভেঙে গেছে।

গত সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস মেরিন সার্ভিস জানিয়েছে, বিশ্বের মহাসাগরগুলোতে এবার ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ জুন মাস রেকর্ড করা হয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, আগামী মাসগুলোতে সমুদ্রের তাপমাত্রা নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।

সমুদ্রের পানি বেশি উষ্ণ হলে ক্রান্তীয় ঝড় শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং বাতাসে বেশি আর্দ্রতা যোগ করে। এর ফলে ঝড়ের সময় ভারী বৃষ্টিপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এদিকে, এ বছর আবারও এল নিনো ফিরে এসেছে। এটি একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা, যা প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর এল নিনো দেখা যায়।


 

শিক্ষা সংকট কাটাতে ‘ঋণ-শিক্ষা বিনিময়’ সম্প্রসারণের আহ্বান ইউনেস্কোর

অনলাইন ডেস্ক
শিক্ষা সংকট কাটাতে ‘ঋণ-শিক্ষা বিনিময়’ সম্প্রসারণের আহ্বান ইউনেস্কোর
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বজুড়ে শিক্ষা খাতে অর্থায়নের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের ১১৩টি দেশ তাদের জনগণের শিক্ষার পেছনে যে পরিমাণ খরচ করে, তার চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করছে বিদেশি ঋণ পরিশোধে। এই ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবিলায় সরকার এবং আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের প্রতি ‘ঋণ-শিক্ষা বিনিময়’ কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ইউনেস্কো

প্যারিসে অনুষ্ঠিত এক বৈশ্বিক শিক্ষা সম্মেলনে জাতিসংঘের এই সংস্থাটি নতুন একটি নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। ইউনেস্কো জানায়, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুল ঋণে জর্জরিত দেশগুলো তাদের ব্যয়বহুল ঋণ পরিশোধের টাকা বাঁচিয়ে তা স্কুল নির্মাণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের সহায়তায় ব্যয় করতে পারবে।

নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের প্রায় ৬১০ কোটি মানুষের আবাসস্থল এমন ১১৩টি দেশে শিক্ষার চেয়ে ঋণ পরিশোধে বেশি অর্থ খরচ হচ্ছে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ শিক্ষা ব্যয়ের চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশি। এমনকি সবচেয়ে বেশি ঋণগ্রস্ত ১৮টি দেশে এই খরচ তাদের শিক্ষা বাজেটকে অন্তত পাঁচগুণ ছাড়িয়ে গেছে। এদিকে শিক্ষা খাতে আন্তর্জাতিক সহায়তা আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে। ইউনেস্কোর ‘গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং রিপোর্ট’ অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে শিক্ষা খাতে বৈশ্বিক সহায়তা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ইতিমধ্যেই ২০২৪ সালে শিক্ষা খাতে মোট উন্নয়ন সহায়তার অংশ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭.৫ শতাংশে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। অর্থায়নের এই ঘাটতির কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলো। তারা প্রতি বছর প্রায় ৯৭ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষ করে আফগানিস্তান, লাইবেরিয়া, মালি ও নাইজারে শিক্ষা সহায়তা ৪০ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে।

তবে এই সংকট কাটাতে ‘ঋণ-শিক্ষা বিনিময়’ মডেলটি দারুণ কার্যকর হতে পারে বলে জানায় ইউনেস্কো, যা সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকও সমর্থন করেছে। অতীতে ফ্রান্সের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে আইভরি কোস্ট ৩০টিরও বেশি স্কুল নির্মাণ করেছিল এবং স্পেন-পেরু যৌথ কর্মসূচির মাধ্যমে এক দশকে ৫০টি শিক্ষা প্রকল্পে অর্থায়ন করা সম্ভব হয়েছিল।

ইউনেস্কোর মহাপরিচালক খালেদ এল-এনানি বলেন, শিক্ষা হলো সবচেয়ে শক্তিশালী বিনিয়োগ, অথচ এতে পরিকল্পিতভাবে অপর্যাপ্ত অর্থায়ন করা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে তিনি বিশ্বনেতাদের দ্রুত রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত, বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা

অনলাইন ডেস্ক
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত, বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান থামেনি। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা, গুলিবর্ষণ, ড্রোন হামলা এবং ঘরবাড়ি ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে।

লেবাননের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, রাতভর দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী সামরিক অভিযান চালায়। এতে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। দক্ষিণ লেবাননের টাইর জেলার মানসুরি শহরের কাছে একটি ইসরায়েলি ড্রোন একটি স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। তবে এতে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একই রাতে টাইর জেলার বায়্যাদা এলাকা থেকে বিউত আল-সাইয়াদের দিকে ইসরায়েলি সেনারা ভারী মেশিনগান দিয়ে গুলিবর্ষণ করে। এতে ওই এলাকায় উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়।

লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থা জানায়, মারজায়ুন জেলার খিয়াম এলাকার বিরকাত আল-হাম্মামের দিকে ইসরায়েলি ট্যাংক ও সামরিক যান অগ্রসর হয়। একই সময়ে খিয়াম শহরের আশপাশে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা অব্যাহত ছিল। এদিকে মারজায়ুন জেলার কানতারা এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে একাধিক বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

অন্যদিকে বিন্ত জুবেইল জেলার ব্রাআশিত এলাকার আবাসিক পাড়াগুলো লক্ষ্য করে বেইত ইয়াহুন এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী গুলি চালায়। গুলিতে কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এসব হামলার মধ্যে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো হতাহতের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৩২১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ১২ হাজার ২০৪ জন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক অভিযান এবং সীমান্ত এলাকায় বাড়তে থাকা উত্তেজনায় নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
 

মোনাকো হামলার সন্দেহভাজন হত্যায় বয়ান বদল ইউক্রেনীয় কর্মকর্তার

অনলাইন ডেস্ক
মোনাকো হামলার সন্দেহভাজন হত্যায় বয়ান বদল ইউক্রেনীয় কর্মকর্তার
সংগৃহীত ছবি

মোনাকোতে এক ধনী ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলায় নতুন মোড় এসেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা আগে স্বীকার করা ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ভ্লাদিস্লাভ রেউত এখন আদালতে দাবি করেছেন, তিনি কোনো গুলি চালাননি এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই।

বৃহস্পতিবার কিয়েভের একটি আদালতে হেফাজত শুনানিতে ৩৪ বছর বয়সী রেউত বলেন, তিনি আনাস্তাসিয়া বেরেজোভস্কাকে হত্যার অভিযোগ ‘সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার’ করছেন। তার দাবি, হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন তার কথিত সহযোগী ভিতালি ঝিকোভিচ। তবে কয়েক দিন আগেই রেউত তদন্তকারীদের কিয়েভের পশ্চিমাঞ্চলের একটি বন এলাকায় নিয়ে গিয়ে বেরেজোভস্কার কবর দেখিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি হত্যার দায়ও স্বীকার করেছিলেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। আদালতে এসে তিনি সেই বক্তব্য থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। 

মামলাটি ইউক্রেনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ রেউত দেশটির সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিইউআরের কর্মরত ও পদকপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। অন্যদিকে অভিযুক্ত ভিতালি ঝিকোভিচ কিছুদিন আগ পর্যন্ত ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউতে কর্মরত ছিলেন। এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ ঘটনা সম্পর্কে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হবে। তবে মোনাকোতে যে বিস্ফোরণে ধনী ব্যবসায়ী ভাদিম ইয়ারমোলায়েভকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, সেই হামলার উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। ইয়ারমোলায়েভ কনিয়াক ও আবাসন ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হন। কয়েক বছর আগে তিনি ইউক্রেনের নাগরিকত্ব ছেড়ে দেন। পরে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখলের পরও সেখানে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ায় কিয়েভ তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতে জানান, মোনাকোর বিস্ফোরণের দুই দিন পর আনাস্তাসিয়া বেরেজোভস্কা পোল্যান্ড হয়ে বাসে করে ইউক্রেনে প্রবেশ করেন। তখনো তিনি এই মামলার প্রধান সন্দেহভাজন ছিলেন না। পরে তার বিরুদ্ধে সন্দেহ তৈরি হলে তদন্তকারীরা মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্রুত রেউত ও ৫০ বছর বয়সী ঝিকোভিচের কাছে পৌঁছে যান। তদন্তে দেখা যায়, ওই দুই ব্যক্তি বেরেজোভস্কার হিসাবে নগদ অর্থ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি পাঠিয়েছিলেন। এরপর রেউত প্রথমে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং তদন্তকারীদের বনাঞ্চলে নিয়ে গিয়ে ডালপালা দিয়ে ঢেকে রাখা একটি কবর থেকে বেরেজোভস্কার মরদেহের অবস্থান দেখিয়ে দেন।

কয়েক দিনের মধ্যেই আদালতে এসে রেউত বলেন, তিনি এবার 'সত্য' বলতে চান। তার দাবি, তিনি কখনোই বেরেজোভস্কাকে গুলি করেননি। রেউত বলেন, 'আমি দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। শত্রুর বিরুদ্ধে লড়েছি। আমি ইচ্ছা করে কোনো নিরীহ নারীকে হত্যা করতে পারি না।' তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ও ঝিকোভিচ একটি বিএমডব্লিউ গাড়িতে করে কিয়েভের মহাসড়কে বেরেজোভস্কাকে আনতে যান। কারণ একটি অপরাধসংক্রান্ত ঘটনার পর তাকে লুকিয়ে রাখার প্রয়োজন ছিল। তবে সেই অপরাধ কী ছিল, সে বিষয়ে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দেননি। রেউতের দাবি, পথে ঝিকোভিচ তার ব্যাগ থেকে পরিবর্তিত একটি মাকারভ পিস্তল বের করে তাতে গুলি ভরেন। তিনি আপত্তি জানালে ঝিকোভিচ বলেন, বেরেজোভস্কা আতঙ্কিত হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য অস্ত্রটি রাখা হয়েছে। পরে তিনজন ইউরিভ গ্রামের কাছে একটি বনপথে যান। সেখানে গাড়ি থেকে নেমে ঝিকোভিচ তাকে গুলি করার নির্দেশ দেন। রেউতের দাবি, ঝিকোভিচ তখন বলেন, ‘হয় সে থাকবে, নয় আমরা।’ তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানালে ঝিকোভিচ নিজেই বেরেজোভস্কাকে চারটি গুলি করে হত্যা করেন। এরপর তারা দুজনে মিলে একটি কবর খুঁড়ে মরদেহটি সেখানে লুকিয়ে রাখেন। পরে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং বেরেজোভস্কার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র একটি হ্রদে ফেলে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

আদালতে রেউতকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি যদি গুলি না চালিয়ে থাকেন, তাহলে আগে হত্যার দায় স্বীকার করেছিলেন কেন? জবাবে তিনি বলেন, ঝিকোভিচ তাকে ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। রেউতের ভাষায়, ‘সে আমাকে বলেছিল, আমার কিছু হলে তোমার আত্মীয়দের ক্ষতি হবে।’ ঝিকোভিচের আইনজীবী আনাতোলি ইভানভ আদালতে রেউতের নতুন বক্তব্য পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, তার মক্কেল এসবিইউর সাবেক নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা। একজন সাধারণ নাগরিকের পক্ষে কর্মরত একজন সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি আরো বলেন, ঝিকোভিচ একজন দেশপ্রেমিক। ২০১৪ সালে তিনি পূর্ব ইউক্রেনে যুদ্ধ করেছেন। পরে ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের সময়ও কিয়েভ রক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। আইনজীবীর দাবি, রেউত শুধু কারাগার এড়ানোর জন্য নিজের বক্তব্য বদলেছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার মক্কেল কোনো হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, রেউত ও ঝিকোভিচ পরিকল্পিতভাবে একসঙ্গে কাজ করেছেন। তাই দুজনের বিরুদ্ধেই পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এ মামলায় এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। আদালতে ঝিকোভিচের আইনজীবী দাবি করেন, এর পেছনে রাশিয়ার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তার বক্তব্য, অতীতে ইউক্রেনের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের রাশিয়ার হয়ে কাজ করার ঘটনাও ঘটেছে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। অন্যদিকে তদন্তে দুর্নীতি, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রসিকিউটর দিমিত্রো তকাচুক বলেন, ‘সব সম্ভাবনাই তদন্ত করা হচ্ছে।’ তিনি জানান, সন্দেহভাজনদের একজন সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু তথ্য দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই তা প্রকাশ করা হচ্ছে না। বিচারক দুই সন্দেহভাজনের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের হেফাজতেই রাখা হবে।