• ই-পেপার

ফিলিপাইনে ভূমিধসে নিহত ৫

আমি মারা গেলে তোমরাও মরবে: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
আমি মারা গেলে তোমরাও মরবে: ট্রাম্প
ছবি: রয়টার্স

পারস্য উপসাগরকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান যদি তার বহনকারী বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ান-এ হামলা চালায়, তাহলে বিমানে থাকা সাংবাদিকরাও বাঁচবেন না।

তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিমান হামলার পর তার নিরাপত্তা এবং ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি এ কথা বলেন। জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি সব সময়ই বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে থাকেন এবং ইরানের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় তার নাম সবার ওপরে রয়েছে।

এরপর সাংবাদিকদের উদ্দেশে কৌতুকের সুরে তিনি বলেন, 'আমি মারা গেলে তোমরাও মরবে। তাই তোমাদের মধ্যে কয়েকজনের হয়তো পেশা বদলে ফেলা উচিত।' ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। এদিকে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে এবার ট্রাম্প তার নতুন প্রেসিডেন্সিয়াল বিমান ব্যবহার না করে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই তুরস্ক ত্যাগ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরো বেড়েছে। দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে গত মাসে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনার পর ট্রাম্প আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নেবে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের আগ্রাসনের জবাব দিতেই সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কঠোর জবাব দিয়েছে ইরানও। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় ইরানের সামনে কোনো 'রেড লাইন' নেই। তিনি আরো সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেওয়া উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস স্থাপনাও ঝুঁকির বাইরে নয়। এদিকে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতিকে কার্যত 'শেষ' বলে ঘোষণা করার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বিশ্ব অর্থনীতির ওপর এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
 

শিক্ষা সংকট কাটাতে ‘ঋণ-শিক্ষা বিনিময়’ সম্প্রসারণের আহ্বান ইউনেস্কোর

অনলাইন ডেস্ক
শিক্ষা সংকট কাটাতে ‘ঋণ-শিক্ষা বিনিময়’ সম্প্রসারণের আহ্বান ইউনেস্কোর
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বজুড়ে শিক্ষা খাতে অর্থায়নের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের ১১৩টি দেশ তাদের জনগণের শিক্ষার পেছনে যে পরিমাণ খরচ করে, তার চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করছে বিদেশি ঋণ পরিশোধে। এই ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবিলায় সরকার এবং আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের প্রতি ‘ঋণ-শিক্ষা বিনিময়’ কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ইউনেস্কো

প্যারিসে অনুষ্ঠিত এক বৈশ্বিক শিক্ষা সম্মেলনে জাতিসংঘের এই সংস্থাটি নতুন একটি নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। ইউনেস্কো জানায়, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুল ঋণে জর্জরিত দেশগুলো তাদের ব্যয়বহুল ঋণ পরিশোধের টাকা বাঁচিয়ে তা স্কুল নির্মাণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের সহায়তায় ব্যয় করতে পারবে।

নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের প্রায় ৬১০ কোটি মানুষের আবাসস্থল এমন ১১৩টি দেশে শিক্ষার চেয়ে ঋণ পরিশোধে বেশি অর্থ খরচ হচ্ছে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ শিক্ষা ব্যয়ের চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশি। এমনকি সবচেয়ে বেশি ঋণগ্রস্ত ১৮টি দেশে এই খরচ তাদের শিক্ষা বাজেটকে অন্তত পাঁচগুণ ছাড়িয়ে গেছে। এদিকে শিক্ষা খাতে আন্তর্জাতিক সহায়তা আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে। ইউনেস্কোর ‘গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং রিপোর্ট’ অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে শিক্ষা খাতে বৈশ্বিক সহায়তা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ইতিমধ্যেই ২০২৪ সালে শিক্ষা খাতে মোট উন্নয়ন সহায়তার অংশ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭.৫ শতাংশে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। অর্থায়নের এই ঘাটতির কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলো। তারা প্রতি বছর প্রায় ৯৭ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষ করে আফগানিস্তান, লাইবেরিয়া, মালি ও নাইজারে শিক্ষা সহায়তা ৪০ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে।

তবে এই সংকট কাটাতে ‘ঋণ-শিক্ষা বিনিময়’ মডেলটি দারুণ কার্যকর হতে পারে বলে জানায় ইউনেস্কো, যা সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকও সমর্থন করেছে। অতীতে ফ্রান্সের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে আইভরি কোস্ট ৩০টিরও বেশি স্কুল নির্মাণ করেছিল এবং স্পেন-পেরু যৌথ কর্মসূচির মাধ্যমে এক দশকে ৫০টি শিক্ষা প্রকল্পে অর্থায়ন করা সম্ভব হয়েছিল।

ইউনেস্কোর মহাপরিচালক খালেদ এল-এনানি বলেন, শিক্ষা হলো সবচেয়ে শক্তিশালী বিনিয়োগ, অথচ এতে পরিকল্পিতভাবে অপর্যাপ্ত অর্থায়ন করা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে তিনি বিশ্বনেতাদের দ্রুত রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত, বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা

অনলাইন ডেস্ক
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত, বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান থামেনি। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা, গুলিবর্ষণ, ড্রোন হামলা এবং ঘরবাড়ি ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে।

লেবাননের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, রাতভর দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী সামরিক অভিযান চালায়। এতে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। দক্ষিণ লেবাননের টাইর জেলার মানসুরি শহরের কাছে একটি ইসরায়েলি ড্রোন একটি স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। তবে এতে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একই রাতে টাইর জেলার বায়্যাদা এলাকা থেকে বিউত আল-সাইয়াদের দিকে ইসরায়েলি সেনারা ভারী মেশিনগান দিয়ে গুলিবর্ষণ করে। এতে ওই এলাকায় উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়।

লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থা জানায়, মারজায়ুন জেলার খিয়াম এলাকার বিরকাত আল-হাম্মামের দিকে ইসরায়েলি ট্যাংক ও সামরিক যান অগ্রসর হয়। একই সময়ে খিয়াম শহরের আশপাশে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা অব্যাহত ছিল। এদিকে মারজায়ুন জেলার কানতারা এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে একাধিক বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

অন্যদিকে বিন্ত জুবেইল জেলার ব্রাআশিত এলাকার আবাসিক পাড়াগুলো লক্ষ্য করে বেইত ইয়াহুন এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী গুলি চালায়। গুলিতে কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এসব হামলার মধ্যে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো হতাহতের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৩২১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ১২ হাজার ২০৪ জন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক অভিযান এবং সীমান্ত এলাকায় বাড়তে থাকা উত্তেজনায় নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
 

১১০০০ শূকর নিধন করবে সার্বিয়া

অনলাইন ডেস্ক
১১০০০ শূকর নিধন করবে সার্বিয়া
ছবি : রয়টার্স

আফ্রিকান সোয়াইন ফিভার (এএসএফ) ছড়িয়ে পড়ায় সার্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের একটি খামারে ১১ হাজার শূকর নিধন শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বুধবার কৃষিমন্ত্রী দ্রাগান গ্ল্যামোচিচের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে তানজুগ সংবাদ সংস্থা।

হ্রতকোভচি গ্রামের ওই খামারে কয়েক দিন ধরে এই নিধন কার্যক্রম চলবে। সরকার খামারের মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী। গ্ল্যামোচিচ বলেন, শূকরগুলোকে যন্ত্রণাহীনভাবে মেরে নিরাপদভাবে অপসারণ করা হচ্ছে।

বর্তমানে সার্বিয়ার বিভিন্ন এলাকায় আফ্রিকান সোয়াইন ফিভারের একাধিক প্রাদুর্ভাব রয়েছে। বসনিয়া ও ক্রোয়েশিয়া সীমান্তবর্তী মাচভা অঞ্চলে গত দুই মাসে ইতোমধ্যে হাজার হাজার শূকর নিধন করা হয়েছে। আফ্রিকান সোয়াইন ফিভার মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে এটি গৃহপালিত ও বন্য শূকরের মধ্যে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।