• ই-পেপার

নৌবাহিনীর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা তদারকি করলেন কিম

ভারত

‘ককরোচ’ আন্দোলনের পর এবার ইন্সটাগ্রামে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘ই২০ জনতা পার্টি’

অনলাইন ডেস্ক
‘ককরোচ’ আন্দোলনের পর এবার ইন্সটাগ্রামে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘ই২০ জনতা পার্টি’
ছবি : রয়টার্স

ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র পর এবার ইথানল-মিশ্রিত ই২০ জ্বালানির বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন একটি ডিজিটাল আন্দোলন শুরু হয়েছে। ‘ই২০ জনতা পার্টি’ নামে এই গোষ্ঠী দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় ইন্সটাগ্রামে ‘ই২০ জনতা পার্টি’র অনুসারীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১৮ হাজারের বেশি, যা দ্রুত বাড়ছে।

এই গোষ্ঠীর দাবি, সাধারণ মানুষকে ছাড়মূল্যে ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ (অমিশ্রিত) পেট্রোল বেছে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি তারা কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী নিতিন গড়করির পদত্যাগও দাবি করছে। তবে সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, ইথানলবিহীন পেট্রোলে ফিরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।

বর্তমানে ভারতে বিক্রি হওয়া পেট্রোলের নাম ই২০। এতে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো থাকে। সরকারের দাবি, এই জ্বালানি পরিবেশবান্ধব এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত। অন্যদিকে, সমালোচকদের অভিযোগ, ই২০ ব্যবহারে গাড়ির মাইলেজ কমে যায় এবং ইঞ্জিনের ক্ষতি হতে পারে।

তবে সরকার বলছে, পরীক্ষাগার ও বাস্তব ব্যবহারের তথ্য অনুযায়ী ই২০ জ্বালানি ইঞ্জিনের কোনো ক্ষতি করে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে সরকার স্বীকার করেছে, ই১০ উপযোগী পুরোনো গাড়িতে ই২০ ব্যবহার করলে মাইলেজ কিছুটা কমতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আলোচিত ডিজিটাল আন্দোলনের পর ‘ই২০ জনতা পার্টি’র উত্থান সোশ্যাল মিডিয়াভিত্তিক জনমতের নতুন প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আন্দোলনের পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপর গত সপ্তাহে সংগঠনটি তাদের প্রায় এক মাসের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়।
 

জাপানে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে বিতর্ক, বাড়ছে অভিবাসন ও ধর্মীয় বৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনা

অনলাইন ডেস্ক
জাপানে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে বিতর্ক, বাড়ছে অভিবাসন ও ধর্মীয় বৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনা
ছবি : রয়টার্স

জাপানের কানাগাওয়া প্রিফেকচারের উপকূলীয় শহর ফুজিসাওয়ায় প্রথম মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। টোকিও থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত এই শহরে কেউ মসজিদ নির্মাণকে স্বাগত জানাচ্ছেন, আবার কেউ সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

প্রস্তাবিত মসজিদটি একটি খোলা মাঠে নির্মাণ করা হবে। দীর্ঘদিনের বাসিন্দা নরিকা ইজুমিজাওয়া বলেন, নতুন এই পরিবর্তনের ফলে এলাকার সামাজিক পরিবেশ কীভাবে বদলাবে, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে অভিবাসন নিয়ে চলমান বিতর্কও তার উদ্বেগের একটি কারণ।

জাপানে জন্মহার কমে যাওয়া, জনসংখ্যার বার্ধক্য এবং শ্রমিক সংকটের কারণে বিভিন্ন খাতে বিদেশি কর্মীর সংখ্যা বাড়ছে। এর ফলে দেশটিতে বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মের মানুষের উপস্থিতিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ফুজিসাওয়ার মসজিদ বিতর্ক আসলে জাপানে অভিবাসন, ধর্মীয় বৈচিত্র্য ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে চলা বৃহত্তর আলোচনারই প্রতিফলন।

চলতি বছরের শুরুতে প্রস্তাবিত মসজিদের বিরুদ্ধে স্থানীয় রেলস্টেশনের সামনে বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীদের একাংশের দাবি, কাছের একটি শিন্তো মন্দিরের তুলনায় বড় আকারের মসজিদ স্থানীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মসজিদকে কেন্দ্র করে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, কয়েকটি মসজিদে আপত্তিকর ফোনকল ও ই-মেইলও পাঠানো হয়েছে। এর প্রতিবাদে বিদ্বেষবিরোধী সংগঠনগুলো ‘বিদ্বেষ নয়’ স্লোগানে পাল্টা কর্মসূচি পালন করেছে। তবে সবাই মসজিদ নির্মাণের বিরোধিতা করছেন না। প্রস্তাবিত মসজিদের বিপরীতে একটি কফি শপের মালিক হিরোকি সুজুকা বলেন, সমর্থন বা বিরোধিতার আগে ইসলাম ও মুসলিমদের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা উচিত।

তার ভাষায়, ‘আমি মসজিদের কট্টর সমর্থক বা বিরোধী নই। তবে ইসলাম, মুসলিমদের জীবনধারা ও তাদের মূল্যবোধ সম্পর্কে জানলে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়বে। খোলা মন নিয়ে একে অপরকে বোঝার মধ্য দিয়েই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব।’

ওসাকায় প্রায় ৩৯ বছর ধরে বসবাস করছেন শ্রীলঙ্কা থেকে আসা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। ১৯৮৭ সালে তিনি অর্থনৈতিক সুযোগের খোঁজে জাপানে আসেন। প্রথমে রত্নপাথরের ব্যবসা এবং পরে ব্যবহৃত গাড়ি রপ্তানির ব্যবসায় যুক্ত হন।

মহিউদ্দিন বলেন, তিনি যখন জাপানে আসেন, তখন বিদেশি বাসিন্দা কম ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিমদের প্রতি কিছু মানুষের নেতিবাচক মনোভাব বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই ‘জাপান ছেড়ে চলে যাও’ বা ‘নিজের দেশে ফিরে যাও’ ধরনের মন্তব্য দেখা যায়। এমনকি কিছু মানুষ মসজিদে এসে মুসল্লিদের অপমানও করেন।

তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা অনুভব না করলেও মুসলিমদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন তিনি লক্ষ্য করেছেন। তার মতে, মুসলিমদের ‘সন্ত্রাসী’ বলা, বোমা তৈরির অভিযোগ তোলা কিংবা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার মতো মন্তব্য আগের তুলনায় বেড়েছে।

মহিউদ্দিন বলেন, এসব পরিস্থিতিতে তারা ধৈর্য ধরে শান্ত আচরণ করার চেষ্টা করেন। তার মতে, অনেক জাপানির ইসলাম সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ও স্থানীয় সমাজের সঙ্গে আরো বেশি যোগাযোগ ও নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে পারলে এই দূরত্ব কমবে।

অন্যদিকে সাইতামা প্রিফেকচারের ইয়াশিও মসজিদের প্রতিনিধি শাকিল মোহাম্মদ বলেন, জাপানে বসবাসকারী বিদেশিদের অবশ্যই দেশটির আইন ও সামাজিক নিয়ম মেনে চলা উচিত। তিনি বলেন, আবর্জনা নির্ধারিত নিয়মে আলাদা করা, পার্কিং আইন মানা, সাইকেল চালানোর সময় হেলমেট ব্যবহার এবং দৈনন্দিন সৌজন্যবোধের মতো বিষয়গুলো মুসলিম সম্প্রদায় গুরুত্ব দিয়ে অনুসরণ করে।

তিনি জানান, ইয়াশিও এলাকায় পাকিস্তানি সম্প্রদায়ের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেকে এলাকাটিকে রসিকতার ছলে ‘ইয়াশিও-স্তান’ বলে ডাকেন। তার মতে, কিছু মানুষের খারাপ আচরণের জন্য পুরো একটি সম্প্রদায়কে দোষারোপ করা উচিত নয়।

জনসংখ্যা সংকট ও শ্রমিকের অভাব মোকাবিলায় জাপান ক্রমেই বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। এর ফলে দেশজুড়ে অভিবাসন, জাতীয় পরিচয় এবং সামাজিক সংহতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

জাপানে মুসলিম সম্প্রদায় নিয়ে গবেষণা করা ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক হিরোফুমি তানাদার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে বিদেশি বাসিন্দা ও ইসলাম গ্রহণকারী জাপানিসহ মুসলিমের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছেছে। ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। তাদের বেশিরভাগই চীন, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া ও ফিলিপাইন থেকে এসেছেন। একই সময়ে বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা রেকর্ড ২৫ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছায়। অন্যদিকে, ওই বছর জাপানের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ কমে যায়।

দীর্ঘদিন ধরে জাপান সরকার দেশটিকে অভিবাসীনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ না করে অস্থায়ী কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, এই নীতিই কার্যত একটি ‘গোপন অভিবাসন ব্যবস্থা’ তৈরি করেছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকার অভিবাসন নীতিতে আরো কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে বিদেশি নাগরিকদের ভিসা ফি প্রায় পাঁচ গুণ বাড়ানো হয়। পাশাপাশি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদারে ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সিতে অতিরিক্ত প্রায় ২৩০ জন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সীমা নির্ধারণের বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জাপান এখন এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে জাতীয় পরিচয় ও সামাজিক সংহতি বজায় রেখে কতটা বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করা সম্ভব, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

তবে ফুজিসাওয়ার বাসিন্দা নরিকা ইজুমিজাওয়া শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেছেন, তার কোনো মুসলিম প্রতিবেশীর সঙ্গে কখনও ব্যক্তিগতভাবে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা হয়নি। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, হয়তো আমি শুধু অজানাকেই ভয় পাই।’

কারগিল যুদ্ধ

২৭ বছর পর সামনে এলো ভারতকে ইসরায়েলের গোপন সহযোগিতার তথ্য

অনলাইন ডেস্ক
২৭ বছর পর সামনে এলো ভারতকে ইসরায়েলের গোপন সহযোগিতার তথ্য
সংগৃহীত ছবি

কারগিল যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা পুনর্দখল করতে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে বড় ধরনের সহায়তা দিয়েছিল ইসরায়েল। যুদ্ধের ২৭ বছর পর প্রথমবারের মতো সেই গোপন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার তথ্য প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর সাবেক দুই কর্মকর্তা।

তাদের দাবি, এই সহযোগিতা শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, বিমানঘাঁটির হ্যাঙ্গার, প্রযুক্তিগত কর্মশালা এবং তেল আবিব ও নয়াদিল্লির মধ্যে গভীর রাতে হওয়া জরুরি যোগাযোগের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল। সেই সহায়তা ভারতীয় বিমানবাহিনীর অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারগিল বিজয় দিবস উপলক্ষে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তারা এসব তথ্য জানান। সাক্ষাৎকারে অংশ নেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমসের সাবেক বেসামরিক কর্মসূচি ব্যবস্থাপক আমি এবং ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর সাবেক যুদ্ধবিমানচালক ও মিরাজ স্কোয়াড্রনের সাবেক কমান্ডার শ্লোমো। তারা জানান, প্রথমে এটি ছিল একটি সাধারণ প্রতিরক্ষা প্রকল্প। কিন্তু ১৯৯৯ সালে কারগিল যুদ্ধ শুরু হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি জরুরি সামরিক মিশনে পরিণত হয়। তাদের ভাষ্য, এই সহযোগিতা ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন বিজয়’ এবং বিমানবাহিনীর ‘অপারেশন সফেদ সাগর’-এ বড় ভূমিকা রাখে। এই দুই অভিযানের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে কারগিল এলাকা থেকে পিছু হটতে বাধ্য করা হয়।

এই সহযোগিতার শুরু ১৯৯৬ সালে। সেই বছর নভেম্বর মাসে ভারত ও রাফায়েলের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ভারতের মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমানে ইসরায়েলের তৈরি ‘লাইটেনিং’ লক্ষ্যনির্ধারণ ব্যবস্থা বসানোর কাজ শুরু হয়। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবিমান থেকে আরো নিখুঁতভাবে লক্ষ্য শনাক্ত করা এবং বোমা নিক্ষেপ করা সম্ভব হয়। আমি জানান, আনুষ্ঠানিক চুক্তি হওয়ার আগেই এই প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন তার তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক ডেভিড জেইট। ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৯৯ সালের মার্চ পর্যন্ত ইসরায়েলি প্রকৌশলী ও ভারতীয় কর্মকর্তারা ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এবং হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেডের (এইচএএল) সঙ্গে একাধিক পরীক্ষা চালান। মার্চ মাসে প্রথম ধাপের পরীক্ষা শেষ হলেও তখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি ছিল।

আমি জানান, ঠিক সেই সময় একটি জরুরি ফোনকল আসে। ফোনটি আসে ভারতের নয়াদিল্লি থেকে নয়, ইসরায়েলের তেল আবিবে অবস্থানরত ভারতের তৎকালীন প্রতিরক্ষা প্রতিনিধি গ্রুপ ক্যাপ্টেন এন এ কে ব্রাউনের কাছ থেকে। পরে তিনি ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান হন। ফোনটি আসে শুক্রবার রাতে। ওই সময় ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের সাপ্তাহিক বিশ্রামের দিন ‘শাবাত’ শুরু হয়। সাধারণত এ সময় ইসরায়েলে সব ধরনের কাজ প্রায় বন্ধ থাকে। তবুও জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়। রবিবার সকালে আমি, শ্লোমো এবং আরো কয়েকজন প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিয়ে ভারতের উদ্দেশে রওনা দেন। তারা তখনো জানতেন না, ভারতে পৌঁছে কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। ভারতে পৌঁছানোর পর একটি বিমানঘাঁটির কমান্ডিং কর্মকর্তা তাদের জানান, পরিস্থিতি ধারণার চেয়েও অনেক বেশি কঠিন। এরপর তারা কয়েক দিন ধরে দিন-রাত কাজ করেন। কখন দেশে ফিরতে পারবেন, সেটিও তাদের জানা ছিল না।

শ্লোমো বলেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল তিনটি ভিন্ন দেশের প্রযুক্তিকে একসঙ্গে কার্যকর করা। ইসরায়েলের তৈরি লক্ষ্য নির্ধারণব্যবস্থা বসানো হয়েছিল ফ্রান্সে তৈরি মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমানে। আর সেই ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হতো যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি লেজারনির্দেশিত বোমার সঙ্গে। অর্থাৎ তিনটি ভিন্ন দেশের প্রযুক্তিকে এমনভাবে সমন্বয় করতে হয়েছে, যাতে সব কিছু একসঙ্গে নির্ভুলভাবে কাজ করে। তিনি বলেন, এই কাজ করতে তাকে বহুবার ভারতে আসতে হয়েছে। অনেক সময় বিমানের ইঞ্জিন বা বিদ্যুৎব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দিত। তখন মাটিতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রযুক্তিগত ত্রুটি ঠিক করতে হতো। সমস্যা সমাধান না হলে পাইলটরা আকাশে পরীক্ষামূলক উড্ডয়নও করতে পারতেন না।

ইসরায়েলি দুই কর্মকর্তা ভারতীয় বিমানবাহিনীর সদস্যদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বিশেষভাবে স্কোয়াড্রন লিডার গেরশন অরোরা এবং তৎকালীন তরুণ কর্মকর্তা রাজীব কুমার দাশের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। পরে রাজীব কুমার দাশ গ্রুপ ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন। এ ছাড়া এয়ার মার্শাল রঘুনাথ নাম্বিয়ার এবং এয়ার মার্শাল নর্মদেশ্বর তিওয়ারির ভূমিকাও তারা তুলে ধরেন। শ্লোমোর মতে, টাইগার হিলে ভারতীয় বিমানবাহিনীর নিখুঁত হামলা ইসরায়েলি পরিকল্পনাকারীদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তার ভাষায়, ওই হামলাই যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার অন্যতম ঘটনা ছিল।

আমি জানান, ১৯৯৬ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে তিনি শতাধিকবার ভারত সফর করেছেন। তার মতে, এই সহযোগিতা শুধু একটি পেশাগত সম্পর্ক ছিল না। সময়ের সঙ্গে এটি ব্যক্তিগত বন্ধুত্বে পরিণত হয়। তিনি বলেন, এই অভিজ্ঞতার পর তিনি ভারতের প্রেমে পড়ে যান। ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সম্পর্ককে তিনি ব্যাবসায়িক নয়, বরং ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক বলে মনে করেন। অন্যদিকে শ্লোমো জানান, তার ছেলে বর্তমানে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসে কাজ করেন। কাজের সূত্রে তিনি প্রায় প্রতি মাসেই ভারতে আসেন। তার মতে, তিন দশকের বেশি সময় ধরে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

সাক্ষাৎকারের শেষদিকে শ্লোমো ব্যক্তিগত একটি তথ্যও জানান। তিনি বলেন, আগামী মাসে জীবনে প্রথমবারের মতো তিনি কারগিল সফরে যাবেন। সেখানে তিনি কারগিল যুদ্ধস্মৃতিস্তম্ভ এবং সেই দুর্গম পাহাড়ি এলাকা দেখতে চান, যেখানে বহু বছর আগে পরিচালিত একটি গোপন প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ভারতের যুদ্ধজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সহযোগিতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত

অনলাইন ডেস্ক
প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সহযোগিতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে প্রতিরক্ষা, বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি এবং আধুনিক প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা আরো বাড়ছে। দুই দেশ এখন নির্ভরযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারেও একসঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী সচিব এস পল কাপুর এ তথ্য জানিয়েছেন। 

হুভার ইনস্টিটিউটে ভারত নিয়ে আয়োজিত একটি গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কনডোলিজা রাইস এবং ভারতে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড সি মুলফোর্ডও অংশ নেন। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এস পল কাপুর বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা আরো বেড়েছে। তার ভাষায়, এই সহযোগিতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন আরো শক্তিশালী হচ্ছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত এখন প্রতিরক্ষা এবং বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা আরো বাড়ানোর কাজ করছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে নির্ভরযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হবে।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একটি বড় প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের কাঠামোতে সই করে। এই চুক্তির লক্ষ্য হলো স্থল, সমুদ্র, আকাশ, মহাকাশ এবং সাইবার—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের যৌথভাবে কাজ করার সক্ষমতা আরো শক্তিশালী করা। দুই দেশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিনিময়, যৌথ উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ করছে। গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে ভারত। ২০০২ সাল থেকে দেশটি অ্যাপাচি ও চিনুক যুদ্ধ হেলিকপ্টার, সি-১৭ ও সি-১৩০জে সামরিক পরিবহন বিমান, পি-৮আই সামুদ্রিক টহল বিমান এবং এম৭৭৭ হাউইটজার কামানসহ বিভিন্ন আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে। এর মাধ্যমে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠেছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি ভারতের বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতেও আগ্রহ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের। মার্কিন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো ভারতে বিনিয়োগ এবং প্রকল্পে অংশ নেওয়ার সুযোগ খুঁজছে। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের একটি প্রতিনিধিদল ভারত সফর করে। ভারত সরকার ‘শান্তি’ আইন পাস করে পারমাণবিক প্রকল্পে দায়বদ্ধতা-সংক্রান্ত কিছু নিয়ম শিথিল করার পর নতুন বিনিয়োগ ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা যাচাই করতেই এই সফর করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক শক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উচ্চপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত তাদের কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরো শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
 

নৌবাহিনীর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা তদারকি করলেন কিম | কালের কণ্ঠ