• ই-পেপার

খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে কিছুই জানতেন না সৌদি যুবরাজ, বললেন ট্রাম্প

নির্ঘুম রাতে অনলাইনে লটারি খেলে দেড় লাখ ডলার জিতলেন এক নারী

অনলাইন ডেস্ক
নির্ঘুম রাতে অনলাইনে লটারি খেলে দেড় লাখ ডলার জিতলেন এক নারী
সংগৃহীত ছবি

নির্ঘুম এক রাতই বদলে দিল যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলাইনার এক নারীর জীবন। ঘুম না আসায় সময় কাটানোর জন্য অনলাইনে লটারি খেলতে বসেছিলেন তিনি। আর সেই খেলাতেই জিতে নিয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বড় পুরস্কার।

মুরসভিল শহরের বাসিন্দা সু রাউলি লটারি কর্মকর্তাদের জানান, গত ৮ জুলাই রাতে তার ঘুম আসছিল না। সময় কাটানোর জন্য তিনি নিজের স্মার্টফোন হাতে নেন। এরপর শুরু করেন ডিজিটাল ইনস্ট্যান্ট লটারির একটি গেম খেলা। কিছুক্ষণ পরই সাধারণ বিনোদনের সেই মুহূর্ত বদলে যায় বড় এক চমকে। নতুন চালু হওয়া ‘টাম্বলিং ট্রেজারস’ নামের ডিজিটাল লটারিতে ৩০ ডলারের একটি টিকিট কিনে তিনি জিতে নেন ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পুরস্কার। লটারি কর্মকর্তারা জানান, এই গেমে এত বড় পুরস্কার জেতার সম্ভাবনা ছিল খুবই কম। তাদের হিসাব অনুযায়ী, রাউলির মতো বড় পুরস্কার জেতার সুযোগ ছিল ২০ লাখে মাত্র একটি। 

রাউলি বলেন, মোবাইলের পর্দায় ফলাফল দেখে প্রথমে তিনি বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। কারণ এত বড় অঙ্কের অর্থ জেতার কথা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। তিনি বলেন, ‘রাত অনেক হয়ে গিয়েছিল। আমি শুধু সময় কাটানোর জন্য খেলছিলাম। তখনই এই ঘটনা ঘটে।’ রাউলি আরো বলেন, ‘সেই মুহূর্তে আমি একেবারেই বিশ্বাস করতে পারিনি। কারণ এমন ঘটনা সাধারণত ঘটে না।’ গত সোমবার (১৩ জুলাই) র‍্যালি শহরের লটারি সদর দপ্তর থেকে নিজের পুরস্কারের অর্থ গ্রহণ করেন রাউলি। তবে কর কাটার পর পুরো অর্থ হাতে পাননি তিনি। ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের কর কেটে নেওয়ার পর তিনি পান ১ লাখ ৮ হাজার ২৩ ডলার। রাউলি বলেন, ‘আমরা খুবই আনন্দিত।’ তিনি জানান, লটারিতে পাওয়া অর্থের একটি অংশ দিয়ে নিজের বাড়ির কিছু সংস্কারের কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। একটি সাধারণ নির্ঘুম রাত এবং সময় কাটানোর জন্য খেলা একটি অনলাইন লটারি শেষ পর্যন্ত রাউলির জীবনে বড় আর্থিক পরিবর্তন এনে দিয়েছে।

এর আগে গত মাসে মালয়েশিয়ায় এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ব্যাংকের লাকি ড্রয়ে অংশ নিয়ে এক রাতেই কোটিপতি হয়ে যান। ৭৩ বছর বয়সী চান চাই সিয়াং আগে একটি কারখানায় কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি একটি নির্জন আশ্রমে বসবাস করছেন। তিনি ব্যাংক সিম্পানান ন্যাশনালের লাকি ড্র থেকে ১০ লাখ রিঙ্গিত পুরস্কার জেতেন। চান চাই সিয়াং বলেন, এই পুরস্কার কোনো অলৌকিক ঘটনার ফল নয়। এটি তার কর্মফলের অংশ। তার ভাষায়, এই অর্থ আগের জীবনের কাজের ফল, কোনো বিশেষ আশীর্বাদ নয়। তিনি আরো বলেন, টাকা পাওয়ার আশায় তিনি কখনো কোনো মানত করেননি বা বিশেষ কোনো প্রার্থনাও করেননি।

বায়ু দূষণের অভিযোগে কানাডার ওপর নতুন চাপ ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক
বায়ু দূষণের অভিযোগে কানাডার ওপর নতুন চাপ ট্রাম্পের
রয়টার্স

কানাডায় ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ঢেকে গেছে। এই পরিস্থিতিতে কানাডার বিরুদ্ধে নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের অভিযোগ, কানাডার 'অবহেলার' কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে দূষিত ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বাতাসের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। তবে কানাডার কর্মকর্তারা বলছেন, দাবানল একটি সীমান্তহীন প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অভিযোগ না তুলে দুই দেশকে একসঙ্গে কাজ করা উচিত। ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে কথা বলবেন। কানাডার বন ও ঝোপঝাড় ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যাখ্যা চাইবেন বলেও জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র অপ্রয়োজনীয়ভাবে নোংরা, দূষিত এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বাতাসের আক্রমণের শিকার হচ্ছে।' তিনি অভিযোগ করেন, কানাডার 'ইচ্ছাকৃত অবহেলার' কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কানাডিয়ান ওয়াইল্ডল্যান্ড ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত দেশটিতে ৮৮৮টি দাবানল সক্রিয় ছিল। এর মধ্যে বেশিরভাগ আগুনই তখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। শুধু অন্টারিও প্রদেশেই ১৯০টির বেশি দাবানল জ্বলছিল। এর কয়েকটি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে।

ট্রাম্পের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা কানাডার দাবানল মোকাবিলার পদ্ধতি নিয়ে অভিযোগ করেন। তারা কানাডার কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, শুধু দুঃখ প্রকাশ নয়, বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তাদের দাবি, কানাডার নিষ্ক্রিয়তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। আইনপ্রণেতারা বন পরিষ্কার রাখা, দাহ্য উপাদান কমানো, নিয়ন্ত্রিতভাবে আগুন ব্যবহার এবং অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তবে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি এত সহজ নয়। দাবানলের ধোঁয়া সীমান্ত মানে না এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আগুনের ঝুঁকি বেড়েছে। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. প্যাট্রিক জেমস বলেন, আবহাওয়া কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত অনুসরণ করে না। বাতাস যেদিকে যায়, ধোঁয়াও সেদিকেই ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কানাডার বিশাল ও দুর্গম বনাঞ্চলে আগুন দ্রুত শনাক্ত করা এবং নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। ভালো বন ব্যবস্থাপনা কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকি কমাতে পারে, কিন্তু এত বড় এলাকাজুড়ে সব দাবানল পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। 

অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড ট্রাম্প ও মার্কিন আইনপ্রণেতাদের অভিযোগের জবাব দিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযোগ না করে আগুন নেভাতে সহায়তা পাঠানোর আহ্বান জানান। ফোর্ড বলেন,'অভিযোগ করার বদলে আপনারা সহায়তা পাঠান। কারণ আমরা আমাদের আমেরিকান বন্ধুদের জন্য ঠিক সেটিই করেছি।' তিনি জানান, অতীতে কানাডা ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানল এবং নর্থ ক্যারোলিনার ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেছে। ফোর্ড আরো বলেন, মিশিগান ও ম্যাসাচুসেটসসহ যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ইতোমধ্যে পানি ছোড়ার বিমান, দমকলকর্মী ও অন্যান্য সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি বলেন, অন্টারিওতে ১৫০টির বেশি অগ্নিনির্বাপণ দল কাজ করছে। তাদের সহায়তায় ৮০টির বেশি পানি ছোড়ার বিমান ও হেলিকপ্টার রয়েছে। ফোর্ড জানান, ২০১৮ সাল থেকে তার সরকার দাবানল মোকাবিলায় ১০০ কোটির বেশি কানাডীয় ডলার ব্যয় করেছে।
 
কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া, ওহাইও এবং নিউইয়র্কসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। এর কারণে অনেক এলাকায় বায়ুর মান নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। খোলা আকাশের নিচের বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ বায়ুমানের শহর ছিল ডেট্রয়েট। এরপর ছিল শিকাগো, ওয়াশিংটন ডিসি এবং নিউইয়র্ক। ঘন ধোঁয়ার কারণে নিউইয়র্কের এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং ও স্ট্যাচু অব লিবার্টির মতো পরিচিত স্থাপনাও অনেক সময় দেখা যাচ্ছিল না। ওয়াশিংটন ডিসির বিভিন্ন স্মৃতিস্তম্ভও ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। কর্মকর্তারা মানুষকে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। কোথাও কোথাও বিনা মূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। খারাপ বায়ুমানের কারণে শিকাগো, ডেট্রয়েট, পেনসিলভানিয়া এবং নিউ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানে গ্রীষ্মকালীন কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। কিছু কনসার্টের সময় পরিবর্তন করা হয়েছে এবং কয়েকটি সৈকত বন্ধ রাখা হয়েছে। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় কিছু বিমান চলাচলেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।

কানাডিয়ান ওয়াইল্ডল্যান্ড ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেম জানিয়েছে, চলমান দাবানলে দেশটিতে প্রায় ৩০ লাখ হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। উত্তর অন্টারিওর কয়েকটি এলাকায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ফার্স্ট নেশনস সম্প্রদায়ের মানুষদের অনেকেই নৌকা ও অন্যান্য উপায়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। নামাইগুসিসাগাগুন ফার্স্ট নেশনসের কর্মকর্তারা জানান, খুব অল্প সময়ের মধ্যে আগুন তাদের জনপদে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পুরো এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রদায়টির ঘটনাপ্রধান ম্যাথিউ হপ বলেন, আগুনের কারণে মানুষকে দ্রুত ছোট নৌকায় করে এলাকা ছাড়তে হয়েছে। কেউ নিহত বা গুরুতর আহত না হলেও জনপদটি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রধান হেলেন পাওভোলা বলেন, আকাশ থেকে দেখলে মনে হয়েছে তাদের পুরো এলাকা ছাই হয়ে গেছে। অন্টারিও সরকার জানিয়েছে, মোট ১০টি জনপদ খালি করা হয়েছে। অনেক বাসিন্দা এখন দক্ষিণ অন্টারিওর বিভিন্ন শহরে আশ্রয় নিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কানাডার বর্তমান দাবানলের পেছনে দীর্ঘদিনের গরম আবহাওয়া, কম বৃষ্টিপাত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রয়েছে। তাদের মতে, জুনের শেষ দিকে উত্তর অন্টারিওতে দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া ছিল। এর ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিছু দাবানল বজ্রপাত থেকেও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. আনাবেলা বোনাদা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। তাই শুধু কানাডাকে দায়ী করা সঠিক নয়।

২ সপ্তাহে ১৪ বার চুরি, এশীয় এক কালো ভালুকের খোঁজে জাপানের পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক
২ সপ্তাহে ১৪ বার চুরি, এশীয় এক কালো ভালুকের খোঁজে জাপানের পুলিশ
ছবি : রয়টার্স

জাপানের পুলিশ এশীয় এক কালো ভালুকের খোঁজ করছে। দেশটির একটি শহরে এক বৃদ্ধ দম্পতির বাড়িতে ঢুকে ফ্রিজের খাবার খেয়ে ফেলেছে সেই ভালুক। কর্তৃপক্ষের ধারণা, গত দুই সপ্তাহে শহরের ১৪টি চুরির ঘটনাগুলোর পেছনে এই একই ভালুক থাকতে পারে।

সোমবার সন্ধ্যায় ৮৭ বছর বয়সী মিৎসুও মাতসুবারা রান্নাঘর থেকে শব্দ শুনে দেখতে গেলে সেখানে একটি বড় এশীয় কালো ভালুক দেখতে পান। ভালুকটি তার বাড়িতে ঢুকে ফ্রিজ খুলে ফেলেছিল এবং খাবারদাবার মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। পরে তার স্ত্রী পুলিশকে খবর দেন। উত্তর-পূর্ব জাপানের শিজুকুইশি শহরে এ পর্যন্ত পাঁচটি বাড়িতে ভালুকের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, একই ভালুক বারবার এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। 

ভালুকটিকে ধরতে কর্তৃপক্ষ ফাঁদ বসিয়েছে, বারবার লক্ষ্যবস্তু হওয়া বাড়িগুলোর চারপাশে বৈদ্যুতিক বেড়া দেওয়া হয়েছে এবং এলাকাবাসীকে সতর্ক করতে টহল জোরদার করেছে। এসব ঘটনার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। 

গত শুক্রবার আরেক বাসিন্দা বাজার থেকে বাড়ি ফিরে দেখেন, তার বৃদ্ধ বাবা যে ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন তার কাছেই একটি ভালুক বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়েছে। তিনি পাশের একটি দরজায় জোরে ধাক্কা দিলে ভালুককটি বাইরে বেরিয়ে যায়। তবে কিছুক্ষণ আবার ঘরে ঢোকার চেষ্টা করে। তখন ভালুকটি পেছনের দুই পায়ে দাঁড়িয়ে দরজা দিয়ে ঢুকতে চাইলে ওই ব্যক্তি প্রায় ৩০ সেকেন্ড ধরে স্লাইডিং দরজাটি বন্ধ করে রাখার জন্য লড়াই করেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী, ভাল্লুকটির উচ্চতা ছিল প্রায় ১.৬৫ মিটার (৫ ফুট ৫ ইঞ্চি)।

পরের সন্ধ্যায় এক নারী তার রান্নাঘরে একটি ভালুককে খাবার খুঁজতে দেখেন। এরপর একটি জাপানি মিষ্টির দোকানে ঢুকে ফ্রিজ থেকে ডোনাট নিয়ে যায়। মিষ্টি খাবারের প্রতি ভালুকটির বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। কারণ, একটি বাড়িতে পাঁচবার ঢুকে কুকিজ, চিনি এবং কারিন্তো নামের জাপানি মিষ্টি খেয়েছে ভালুকটি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানে ভাল্লুকের হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাপানে সাম্প্রতিক সময়ে ভালুকের আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এ ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

দেশটির পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ভালুকের হামলায় রেকর্ড ১৩ জন নিহত হয়েছিলেন। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে, অর্থাৎ ১ এপ্রিলের পর থেকে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত সবাই উত্তর-পূর্ব জাপানের তোহোকু অঞ্চলের বাসিন্দা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামাঞ্চলে জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় ভালুকগুলো মানুষের বসতিতে ঢুকতে আগের তুলনায় কম ভয় পাচ্ছে। অনেক ভালুক মানুষের প্রতি তাদের স্বাভাবিক ভয়ও হারিয়ে ফেলেছে, ফলে শহর ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় তাদের উপস্থিতি বাড়ছে।
 

এফবিআইয়ের জালে ভারতীয় গ্যাংস্টার কৌশল

অনলাইন ডেস্ক
এফবিআইয়ের জালে ভারতীয় গ্যাংস্টার কৌশল

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ভারতীয় বংশোদ্ভূত আন্তর্জাতিক গ্যাংস্টার নীতিশ কৌশলকে গ্রেপ্তার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে জমা পড়া নথি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) কানাডা সীমান্তের ভার্মন্ট এলাকা থেকে এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা কৌশলকে গ্রেপ্তার করা হয়। বেশ কয়েকদিন ধরে নীতিশ নানা কৌশলে এফবিআইয়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল।

লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংসহ ভারতের বেশ কয়েকটি অপরাধী চক্র যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের নানা দেশে খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক, অর্থ, অস্ত্র, মানবপাচারসহ নানান অপকর্ম করে বেড়াচ্ছিল। আন্তর্জাতিক চক্রটিকে নিশ্চিহ্ন করতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ ‍মিলে ‘অপারেশন হার্ড বল’ নামে বিরল যৌথ অভিযান শুরু করে। দীর্ঘদিন গোপনে এসব গ্যাংয়ের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গত ৭ জুলাই মার্কিন বিচার বিভাগ লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালত থেকে তিনটি বিশাল চার্জশিট প্রকাশ করে, যেখানে মোট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগনামা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একযোগে ৫০টিরও বেশি স্থানে এক বিশাল ক্র্যাকডাউন চালানো হয়। অভিযানে ভারত-ভিত্তিক গ্যাংগুলোর ২৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়. জব্দ করা বিপুল নগদ অর্থ, অস্ত্র ও মাদক।

অভিযুক্ত ৩৭ জনের অন্যতম বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার হওয়া নীতিশ কৌশল। তিনি 'জগ্গু ভগবানপুরিয়া অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ'-এর সদস্য। কৌশল সমাজের জন্য বিপজ্জনক এবং যে কোনো সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারে, এ যুক্তিতে ফেডারেল প্রসিকিউটররা তাকে বিচার শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত কারাগারে আটকে রাখার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

আটকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, লস অ্যাঞ্জেলেস আদালতের অভিযোগনামাটি প্রকাশ্যে আসার পর কৌশল তার মোবাইল ফোনটি ফেলে দিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়, যা তদন্তকারীরা আদালতের অনুমতি নিয়ে ট্র্যাক করছিলেন। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে শুধু মোবাইল ফেলে দেয়াই নয়, কৌশল অন্য একজনের ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করছিলেন। নাম পাল্টে নিজেকে তিনি ’লালা’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিলেন।

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ১৬ জুলাই কানাডা সীমান্ত থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরে একটি গাড়ি ফেলে যাওয়ার পর, সীমান্ত থেকে এক মাইলেরও কম দূরত্বের মধ্যে কৌশলকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, ভার্মন্টের এক বাসিন্দা তার বাড়ির সিকিউরিটি ক্যামেরায় এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে একটি গাড়ির ভেতর উঁকি দিতে এবং একটি খামারে প্রবেশ করতে দেখেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, পরবর্তীতে মার্কিন সীমান্ত টহল এজেন্টরা যখন কৌশলের মুখোমুখি হয়, তখন সে অন্য এক ব্যক্তির নাম সংবলিত নিউ জার্সির একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখায়। কিন্তু আঙুলের ছাপ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার আসল পরিচয় নিশ্চিত করা হয় এবং কৌশল নিজেও স্বীকার করে যে লাইসেন্সটি তার নয়। এর পাশাপাশি প্রসিকিউটররা কিছু ছবিও জমা দিয়েছেন, যেখানে তদন্ত চলাকালীন নথিবদ্ধ করা একটি বিশেষ সিংহ ট্যাটুর সঙ্গে তার গ্রেফতারের পর দৃশ্যমান ট্যাটুর মিল ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

ভারতের পাঞ্জাবে জগ্গু ভগবানপুরিয়ার নেতৃত্বে 'জগ্গু ভগবানপুরিয়া অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ'এর জন্ম। জগ্গু একসময় কারাবন্দি গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সহযোগী ছিলেন, পরে তিনি নিজে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী অপরাধ চক্র গড়ে তোলেন। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, এ সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাদের অপরাধের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করে। বিশ্বজুড়ে এর সদস্য ও সহযোগীর সংখ্যা হাজারেরও বেশি, যার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই সক্রিয় আছেন অন্তত একশ জন। কৌশলের বিরুদ্ধে নির্দিষ্টভাবে এই সংগঠনের পক্ষে সহিংস কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

কৌশলের বিরুদ্ধে আনা প্রধান অভিযোগগুলোর একটি ২০২৪ সালের ১০ জুলাইয়ের একটি ঘটনা। অভিযোগনামা অনুযায়ী, সংগঠনের সদস্যরা বিশ্বাস করত যে এক ব্যক্তি তাদের গ্যাংয়ের একটি মাদকের চালান চুরি করেছে। চক্রের এক সহযোগী ওই ভুক্তভোগীকে ক্যালিফোর্নিয়ার ম্যানটেকার একটি বাড়িতে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে আসে, যেখানে নীতিশ কৌশল, অমৃতপাল সিং বাল, হর্ষপ্রীত সিং এবং অমরবীর সিং তাকে আটকে রাখে। অভিযোগনামায় আরও বলা হয়েছে যে, কৌশল এবং হর্ষপ্রীত সিং ভুক্তভোগীকে মারধর করে। এরপর কৌশল, বাল এবং অমরবীর সিং তাকে ফ্রেস্নোর একটি অ্যাপার্টমেন্টে নিয়ে যায়। প্রসিকিউটররা জানান, চুরি হওয়া মাদকের চালানের ক্ষতিপূরণ হিসেবে গ্যাং সদস্যরা তার কাছে ৫০ হাজার ডলার দাবি করে এবং টাকা না দেওয়া পর্যন্ত তাকে আটকে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, পরে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে জগ্গু ভগবানপুরিয়া নিজে ওই ভুক্তভোগীকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আদালতের নথিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই সংগঠনটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে বড় আকারে কোকেন এবং মেথামফেটামিন পাচারের রুট পরিচালনা করত। তারা দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া থেকে পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মার্কিন-কানাডা সীমান্তে একশ কেজি বা তার বেশি ওজনের মাদকের চালান পাঠাত।

নতুন জমা দেওয়া এই আটকের আবেদনে কৌশলের অতীত জীবন সম্পর্কে বলা হয়, ২০২২ সালে অ্যারিজোনার ইউমা হয়ে অবৈধভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিল কৌশল। ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, ষড়যন্ত্র এবং অস্ত্র আইনের অপরাধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সে একটি অস্ত্র মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয় এবং তাকে ৬০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। নথিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, ২০২৬ সালে তার বিরুদ্ধে মাদকের একটি মামলাও ছিল।

খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে কিছুই জানতেন না সৌদি যুবরাজ, বললেন ট্রাম্প | কালের কণ্ঠ