• ই-পেপার

ফারাক্কার গেট খুলে দেওয়ার বিষয়ে যা বলল ভারত

ইউরোপে অবৈধ অভিবাসীদের আগমন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক
ইউরোপে অবৈধ অভিবাসীদের আগমন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষোভ
ছবি : রয়টার্স

ফ্রান্সে ঐতিহাসিক ডি-ডে বা নরম্যান্ডি অবতরণের ৮২তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক ভাষণে ইউরোপের অভিবাসন নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের উপকূলে এক ধরনের আক্রমণ বা অনুপ্রবেশ ঘটতে দিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

১৯৪৪ সালে নাৎসি বাহিনীর হাত থেকে ইউরোপকে মুক্ত করতে মিত্রবাহিনীর ঐতিহাসিক অভিযানের স্মৃতিচারণ করে নরম্যান্ডিতে দাঁড়িয়ে হেগসেথ বলেন, আজ দুঃখজনকভাবে স্পেন, ইতালি, গ্রিস ও বুলগেরিয়ার সৈকতগুলো বিপজ্জনক মতাদর্শ, নৌকা ও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে। ইউরোপের রাজধানীগুলো এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কবে পদক্ষেপ নেবে, সেই প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেন, বহু কষ্টে অর্জিত স্বাধীনতা নিয়ে ইউরোপ অতিরিক্ত আরামদায়ক অবস্থানে চলে গেছে।

হেগসেথের এই বক্তব্য মূলত ইউরোপীয় অভিবাসন নীতি নিয়ে মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসনের ধারাবাহিক কঠোর অবস্থানেরই একটি বড় অংশ। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জাতিসংঘে সতর্ক করেছিলেন যে, ‘অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের’ কারণে ইউরোপীয় দেশগুলো ‘নরকের দিকে যাচ্ছে’। এমনকি ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান ধারা চলতে থাকলে আগামী ২০ বছরের মধ্যে ইউরোপ পুরোপুরি বদলে যাবে এবং সভ্যতা বিলুপ্তির মুখে পড়বে।

গত শুক্রবার (২৯ মে) মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যুক্তরাজ্যে এক ব্রিটিশ ছাত্রের মৃত্যুর জন্য অভিবাসীদের ব্যাপক অনুপ্রবেশকে দায়ী করে বক্তব্য দেন। যদিও যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস নিশ্চিত করেছে যে, ওই ঘটনার হামলাকারী জন্মসূত্রে একজন ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন। 

বর্তমানে ইউরোপ জুড়ে অভিবাসন একটি প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং কঠোর অভিবাসন নীতি সমর্থনকারী দলগুলোর জনসমর্থনও দ্রুত বাড়ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে সমুদ্রপথে ইউরোপে রেকর্ড ১০ লক্ষাধিক মানুষের আগমন ঘটেছিল। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩ জুনের মধ্যে ৯,১৪২ জন ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে গেছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৮% কম।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মার্কিন প্রশাসনের এই ঢালাও সমালোচনাকে ঠিক নয় বলে প্রত্যাখ্যান করলেও, ছোট নৌকায় অবৈধভাবে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার বিষয়টিকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন অভ্যন্তরীণভাবেও অভিবাসন-বিরোধী নীতিকে তাদের প্রধান স্তম্ভ বানিয়েছে, যার অংশ হিসেবে গত ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে।

সূত্র : বিবিসি

নিউজিল্যান্ডের রাজধানীতে ট্রেন লাইনচ্যুত, আহত ৬

অনলাইন ডেস্ক
নিউজিল্যান্ডের রাজধানীতে ট্রেন লাইনচ্যুত, আহত ৬
সংগৃহীত ছবি

নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় শহরের উপকণ্ঠে খান্দাল্লাহ স্টেশনের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর দ্য স্ট্রেইটস টাইমসের

পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ২০ মিনিটে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধারকারী দল, অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশ সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

ওয়েলিংটন ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা জানিয়েছে, ট্রেনের সব যাত্রীকে নিরাপদে নামানো হয়েছে। আহত ৬ জনের মধ্যে কারো আঘাত হালকা, আবার কারো আঘাত গুরুতর। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ওয়েলিংটন সিটি কাউন্সিলের সদস্য ডায়ান ক্যালভার্ট বলেন, দুর্ঘটনার সময় তিনি একটি ‘হঠাৎ জোরালো বিস্ফোরণের মতো শব্দ’ শুনতে পান।

ঘটনাস্থলে থাকা এক সংবাদকর্মী জানান, দুর্ঘটনার ফলে ট্রেনটির বগিগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু বগি বেঁকে গেছে এবং লাইন থেকে ছিটকে পড়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণ করতে কাজ করছেন।

দুর্ঘটনার পরপরই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। সেখানে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশের গাড়ি মোতায়েন করা হয়, যাতে উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্নে চালানো যায়।

ট্রেন লাইনচ্যুতের কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তেহরানের গবেষক আলি আকবর দারেইনি

ইরান না পারলে এই অঞ্চলের কেউ তেল রপ্তানি করতে পারবে না

অনলাইন ডেস্ক
ইরান না পারলে এই অঞ্চলের কেউ তেল রপ্তানি করতে পারবে না
সংগৃহীত ছবি

তেহরানের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক ও লেখক আলি আকবর দারেইনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং অঞ্চলটি একটি বৃহত্তর সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, ইরান যদি তেল রপ্তানি করতে না পারে তাহলে এই অঞ্চলের কেউ তা পারবে না।

আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এমনটি জানান তিনি। শনিবার (৬ মে) সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সাক্ষাৎকারে আলি আকবর দারেইনি বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ক্রমবর্ধমান কার্যকলাপ আমাদের একটি বৃহত্তর যুদ্ধের আরও কাছে নিয়ে যাচ্ছে। এই মুহূর্তেও আমরা একটি স্বল্প মাত্রার যুদ্ধের মধ্যে আছি, ফলে এখন কোনো যুদ্ধবিরতি নেই।’

ইরান তিনটি জিনিস চাইছে বলে জানান দারেইনি। বলেন, ‘প্রথমত, জাহাজগুলোকে পারস্য উপসাগরে লারাক দ্বীপের উত্তর দিক থেকে প্রবেশ এবং দক্ষিণ দিক থেকে বের হওয়ার জন্য ইরানের নির্ধারিত করিডোর দিয়ে যেতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইরান যে পরিষেবা দিচ্ছে তার জন্য ট্যাক্স দিতে হবে এবং তৃতীয়ত, জাহাজগুলো এমন কোনো পণ্য বহন করতে পারবে না, যা ইরানের জাতীয় নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে অথবা দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইরান এই শর্তে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০টি জাহাজকে প্রণালি দিয়ে যেতে দিচ্ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র চায় না যে ইরান এটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিক, আর একারণেই বাড়ছে উত্তেজনা।’

ইরানের সক্ষমতার বিষয়েও মন্তব্য করেন এই গবেষক। বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের লঙ্ঘনকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেয়ার চেয়ে ইরান তার প্রতিশোধের পরিধি বাড়াতেই বেশি পছন্দ করছে, এমনকি তা বড় আকারের যুদ্ধের দিকে গড়ালেও ইরান তা করবে। ইরানের রেড লাইন স্পষ্ট, আর তা হলো- ইরান যদি তেল রপ্তানি করতে না পারে, তবে এই অঞ্চলের কেউই তা পারবে না।’

বিদ্রোহ ও ভাঙনের মুখে দলে পরিবর্তন আনলেন মমতা

অনলাইন ডেস্ক
বিদ্রোহ ও ভাঙনের মুখে দলে পরিবর্তন আনলেন মমতা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় হারের পর নানা সংকটে টানা তিনবার রাজ্য শাসন করা তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। অভ্যন্তরে বিদ্রোহ ও ভাঙনের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র ক্ষমতা কমিয়ে দিলেন টিএমসির সর্বভারতীয় সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নজিরবিহীন সংকট সামাল দিতে প্রবীণ ও অনুগত নেতাদের গুরুত্ব বাড়িয়ে দলে বড় ধরনের রদবদল এনেছেন তিনি।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইপো টিএমসির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল রাখা হয়েছে। পদ বহাল রাখা হলেও একক ক্ষমতা লাগাম টেনে ধরা হয়েছে এই টিএমসি নেতার। অভিষেকের ক্ষমতা নির্দিষ্ট করতে রাজ্যসভার সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেনকে  জাতীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এর ফলে অভিষেক আর এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না।

এদিকে দলের বর্তমান বিদ্রোহকে সরাসরি সভানেত্রীর বিরুদ্ধে নয়, বরং অভিষেক বিরুদ্ধে উঠেছে। আর এই সংকট তৈরি হয় বিধানসভায় হারের পরও টিএমসির এক দলীয় সভায় ভাইপোর ভূমিকার প্রশংসা করতে বলেছিলেন বলে জানা গেছে। 

জানা যায়, এই পদক্ষেপে অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন, কারণ তাঁরা দলের অজনপ্রিয়তার মূল কারণ হিসেবে অভিষেকের কার্যপদ্ধতিকেই দেখছিলেন। সেটাই ছিল প্রথম সূত্রপাত। সেই মুহূর্ত থেকেই তৃণমূল বিধায়ক দলে ফাটল ধরতে শুরু করে।

এই মতবিরোধ একটি বিদ্রোহে রূপ নিয়েছে। তাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের মাধ্যমে নীতি সংশোধনের পথে যেতে বাধ্য করেছে।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের মধ্যে, প্রবীণ নেতা চন্দ্রমা ভট্টাচার্য নতুন রাজ্য সভাপতি হিসেবে উন্নীত হয়েছেন। যা একটি প্রজন্মগত ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দেয়। সুব্রত বক্সীকে জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে সহসভাপতি পদে বহাল রাখা হয়েছে।

দলের সব শাখাতেই নতুন মুখ আনা হয়েছে। সাজদা আহমেদ, মমতা ঠাকুর, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং স্বাতী খান্ডেকর পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের সহসভাপতি নিযুক্ত হয়েছেন। সাংসদ সায়োনী ঘোষ তৃণমূলের যুব শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

দলে তীব্র বিদ্রোহের মাঝেও যারা এখনো ‘দিদি’-র পাশে আছেন, সেইসব অনুগত ও পুরনো কর্মীদের মধ্যে মমতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দায়িত্ব বণ্টন করেছেন।

ফারাক্কার গেট খুলে দেওয়ার বিষয়ে যা বলল ভারত | কালের কণ্ঠ