• ই-পেপার

ভারতে কমানো হলো কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ

যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবার  সংঘর্ষ ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর

অনলাইন ডেস্ক
যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবার  সংঘর্ষ ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর
ছবি: রয়টার্স

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই আবারও উত্তেজনা বেড়েছে ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে। গত ২৪ ঘণ্টায় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দক্ষিণ লেবানন ও উত্তর ইসরায়েলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ হামলার সময় উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে। আকাশে একাধিক বিস্ফোরণও দেখা যায়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।

দক্ষিণ লেবাননের উপকূলীয় শহর টাইরে দিনভর উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দেখা গেছে। শহরের আকাশে নিচু দিয়ে ড্রোন উড়তে দেখা যায়। একই সঙ্গে যুদ্ধবিমানও উড়তে দেখা গেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিমানগুলো উত্তর ও পূর্ব দিকে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর কয়েকটি এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে।

টাইর ও দ্বেইর এলাকায় অন্তত চারটি হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি দূর থেকে গোলন্দাজ বাহিনীর গোলাবর্ষণের শব্দও শোনা গেছে। স্থানীয়দের মতে, রাতভর বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ চলেছে।

অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ জানিয়েছে তারা রাতভর ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইসরায়েলও বিভিন্ন স্থানে সামরিক অভিযান চালিয়েছে বলে জানা গেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, ৩ জুন যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর যত হামলার ঘটনা ঘটেছে, তার বেশির ভাগই লেবাননের ভেতরে অবস্থান করা ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা কমেনি।

দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক। ইসরায়েল আগে থেকেই ওই অঞ্চলের অনেক এলাকা খালি করার নির্দেশ দিয়েছিল। এর ফলে কয়েক দশ হাজার মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

বাসিন্দাদের চলে যাওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলের অনেক শহর ও গ্রাম প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে টাইর শহরের আশপাশের এলাকা অনেকটা পরিত্যক্ত নগরীর মতো দেখাচ্ছে। দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের চলাচলও অনেক কমে গেছে।

একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে নাবাতিয়েহ শহরেও। বর্তমানে এই এলাকাকে সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষ ও সামরিক তৎপরতা এই অঞ্চলে দেখা গেছে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকায় সীমান্ত এলাকায় নতুন করে পূর্ণমাত্রার সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
 

গাজার আশ্রয় শিবিরে শৌচাগার সংকটে ভুগছেন লাখো ফিলিস্তিনি

অনলাইন ডেস্ক
গাজার আশ্রয় শিবিরে শৌচাগার সংকটে ভুগছেন লাখো ফিলিস্তিনি
ছবি: রয়টার্স

গাজায় বাস্তুচ্যুত লাখো ফিলিস্তিনির জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন শৌচাগারের সংকট এখন বড় মানবিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা বিশাল অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরে বসবাসকারী মানুষ প্রতিদিনই এই দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছেন।

বর্তমানে গাজায় প্রায় ১৭ লাখ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি আশ্রয় শিবিরে বসবাস করছেন। যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে ঘরবাড়ি হারিয়ে তারা তাবুতে দিন কাটাচ্ছেন। তবে খাদ্য ও পানির সংকটের পাশাপাশি শৌচাগারের অভাবও তাদের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দক্ষিণ গাজার একটি তাবুশিবিরে বসবাসকারী ৩৮ বছর বয়সী মোস্তফা শাবান পরিবারের জন্য নিজেই একটি অস্থায়ী শৌচাগার তৈরি করেছেন। পরিবারের সদস্যদের গণশৌচাগার ব্যবহার থেকে রক্ষা করতেই তিনি এই উদ্যোগ নেন।

শাবান প্রথমে বালুমাটিতে একটি অগভীর গর্ত খনন করেন। পরে গর্তের চারপাশে কংক্রিটের আস্তরণ দেন, যাতে সেটি কিছুটা টেকসই হয়। এরপর গর্তের ওপর তলাবিহীন একটি প্লাস্টিকের বালতি বসান। সবশেষে পুরোনো একটি প্লাস্টিকের টয়লেট সিট লাগিয়ে শৌচাগারটি ব্যবহারের উপযোগী করেন।

তবে এই শৌচাগার ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও সুখকর নয়। গর্ত থেকে সব সময় তীব্র দুর্গন্ধ বের হয়। সেখানে মাছি ও মশার উপদ্রবও রয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, শৌচাগারটি পরিবারের ঘুমানোর জায়গা এবং খাবার রান্নার স্থানের খুব কাছেই অবস্থিত। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরো বেড়ে যায়।

শাবান জানান, প্রতি সপ্তাহে তাকে গর্তে জমে থাকা মলমিশ্রিত কাদা নিজ হাতে পরিষ্কার করতে হয়। অস্বাস্থ্যকর এই কাজ তার জন্য কষ্টকর হলেও পরিবারের সদস্যদের কিছুটা গোপনীয়তা ও স্বস্তি দিতে তিনি এটি করে যাচ্ছেন।

তার মতে, এই অস্থায়ী শৌচাগার আশ্রয় শিবিরের গণশৌচাগারগুলোর তুলনায় ভালো। কারণ সেই সাধারণ শৌচাগারগুলো শত শত মানুষ ভাগাভাগি করে ব্যবহার করেন। অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে সেগুলো খুবই নোংরা হয়ে থাকে এবং সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায়।

মোস্তফা শাবান বলেন, 'আমি চাইনি আমার স্ত্রী ও সন্তানরা গণশৌচাগার ব্যবহার করুক। সেখানে গোপনীয়তা নেই, আর পরিস্থিতিও খুব খারাপ। এটি তাদের জন্য অপমানজনক।'

দুই বছর আগে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কারণে তাকে নিজের বাড়ি ছেড়ে যেতে হয়। দক্ষিণ গাজার রাফাহ থেকে সরে গিয়ে তিনি বর্তমানে খান ইউনিস এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে একটি তাবু শিবিরে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন।

নিজের তৈরি শৌচাগার সম্পর্কে শাবান বলেন, পরিস্থিতি খুবই খারাপ এবং অস্বাস্থ্যকর। কিন্তু অন্তত সেখানে তার পরিবারের মর্যাদা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কিছুটা হলেও বজায় থাকে। 

 

যুদ্ধের ১০০ দিন : কতবার সমঝোতার পথে ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান?

অনলাইন ডেস্ক
যুদ্ধের ১০০ দিন : কতবার সমঝোতার পথে ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে প্রথম হামলা চালানোর ১০০ দিন পার হলেও এখনো কোনো শান্তিচুক্তি হয়নি। তবে এই সময়ের মধ্যে কয়েক দফায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যখন দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে হয়েছিল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। এই অভিযানের মাধ্যমে সংঘাতের সূচনা হয়। হামলার পরপরই ইরান পাল্টা জবাব দেয়। দেশটি ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। এতে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

যুদ্ধ শুরুর পর কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলতে থাকে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরো অস্থির হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক মহলও সংঘাত বন্ধে উদ্যোগ নিতে শুরু করে।

এর মধ্যে গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর বড় ধরনের সামরিক সংঘর্ষ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। এতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার আশা দেখা দেয়।

তবে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা খুব বেশিদূর এগোয়নি। ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সেই আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই ভেঙে যায়।

আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরও কূটনৈতিক যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। এর পর থেকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ একের পর এক শান্তি প্রস্তাব আদান-প্রদান করে আসছে। বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।

এদিকে শান্তি প্রচেষ্টার পাশাপাশি নতুন করে কয়েকটি উত্তেজনাকর ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার কারণে আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও অঞ্চলটির পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

ফুসফুস প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় নরওয়ের রাজকুমারী

অনলাইন ডেস্ক
ফুসফুস প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় নরওয়ের রাজকুমারী
ছবি : রয়টার্স

নরওয়ের রাজকুমারী মেটে-মারিট (৫২) ফুসফুসের একটি মারাত্মক রোগে ভুগছেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের (লাং ট্রান্সপ্লান্ট) তালিকায় তার নাম রাখা হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে তার চিকিৎসক এই তথ্য জানান।

রাজপ্রাসাদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অসুস্থতার কারণে রাজকুমারী তার সব কাজ থেকে বিরতি নিয়েছেন। এ কারণে আগামী আগস্টে তার বিয়ের ২৫ বছর পূর্তি (রজত জয়ন্তী) উৎসবও স্থগিত করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রাজকুমারী ২০১৮ সাল থেকে ‘পালমোনারি ফাইব্রোসিস’ নামের ফুসফুসের একটি বিরল রোগে ভুগছেন। এই রোগে ফুসফুস শক্ত হয়ে যায় এবং রক্তে অক্সিজেন চলাচল কমে গিয়ে তীব্র শ্বাসকষ্ট হয়। গত তিন মাসে তার ফুসফুসের কার্যক্ষমতা অনেক কমে গেছে। চিকিৎসকদের মতে, এই তালিকায় এমন রোগীদেরই রাখা হয়, যারা অস্ত্রোপচার ছাড়া আর মাত্র এক বছর বাঁচবেন বলে ধারণা করা হয়। তবে সঠিক দাতা (ডোনার) পাওয়ার ওপরই তার চিকিৎসা নির্ভর করছে। কিছুদিন আগে তাকে অক্সিজেন পাইপসহ জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল।

রাজকুমারীর এই কঠিন সময়ে তার পাশে দাঁড়াতে পুরো পরিবার কাজ স্থগিত করেছে। তার স্বামী যুবরাজ হাকন জাপান সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে এসেছেন। এমনকি তার মেয়ে রাজকুমারী ইনগ্রিড আলেকজান্দ্রাও মায়ের দেখাশোনার জন্য অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা স্থগিত করে দেশে ফিরে এসেছেন।

অসুস্থতার পাশাপাশি রাজকুমারী গত কয়েক মাস ধরে বেশ মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। তার আগের পক্ষের ছেলে মারিয়াস বোরগ হোইবি বর্তমানে ধর্ষণের অভিযোগে বিচারের সম্মুখীন। আগামী ১৫ জুন এই মামলার রায় হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র : এনডিটিভি