• ই-পেপার

গাজার আশ্রয় শিবিরে শৌচাগার সংকটে ভুগছেন লাখো ফিলিস্তিনি

ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধে কঠিন অবস্থায় লেবাননের সেনারা

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধে কঠিন অবস্থায় লেবাননের সেনারা
ছবি: রয়টার্স

দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে অঞ্চলটির ভৌগোলিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিজেদের কৌশল অনুযায়ী পরিবর্তনের চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছেন বিশ্লেষকরা। এর ফলে লেবানন সরকার ও দেশটির সেনাবাহিনী ক্রমেই কঠিন অবস্থার মুখে পড়ছে।

লেভান্ট ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক সামি নাদের বলেছেন, ইসরায়েল শুধু সামরিক অভিযানই চালাচ্ছে না, বরং দক্ষিণ লেবাননের বাস্তবতাকেও নতুনভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এই প্রক্রিয়ায় তারা স্থল অভিযান ও বিভিন্ন এলাকা দখলের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাদের বলেন, চলমান পরিস্থিতি লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং সরকারের অবস্থানকে দুর্বল করে দিচ্ছে। কারণ সরকার শুরু থেকেই চেষ্টা করে আসছে, যাতে লেবাননের সংকটকে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সঙ্গে এক করে না দেখা হয়।

তার মতে, লেবানন সরকার বারবার বলছে যে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে আঞ্চলিক সংঘাত থেকে আলাদা রাখা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি দিন দিন আরো জটিল হয়ে উঠছে।

নাদের বলেন, বিশেষ করে লেবাননের সেনাবাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক ও প্রচারণামূলক অবস্থান আরো শক্তিশালী হয়ে যায়। এতে সরকার ও সেনাবাহিনীর জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি আরো বলেন, লেবানন শুরু থেকেই এই সংঘাতে জড়াতে চায়নি। কিন্তু আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং বিভিন্ন পক্ষের পদক্ষেপের কারণে দেশটি ক্রমেই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুর দিকে চলে যাচ্ছে।

নাদেরের দাবি, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে হিজবুল্লাহ লেবাননকে এই যুদ্ধে টেনে এনেছে। তবে এ পরিস্থিতিতে লেবাননের সেনাবাহিনীর জন্য কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করা সহজ নয়।

তার ভাষায়, হিজবুল্লাহ এখনো লেবানন সরকারের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি মেনে নিতে রাজি নয়। সংগঠনটি তাদের অস্ত্রও জমা দিচ্ছে না। ফলে সরকারের নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে তাদের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। নাদেরের মতে, এর মাধ্যমে ইসরায়েল ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক বাস্তবতা নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে কঠিন অবস্থায় রয়েছে লেবাননের সেনাবাহিনী। একদিকে হিজবুল্লাহর উপস্থিতি ও কার্যক্রম, অন্যদিকে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান- দুই পক্ষের চাপের মধ্যে সেনাবাহিনী কার্যত মাঝখানে আটকে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দক্ষিণ লেবাননে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে লেবানন সরকারের জন্যও দেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
 

ইসরায়েলের দাবি

গাজায় হামাস কমান্ডার নিহত

অনলাইন ডেস্ক
গাজায় হামাস কমান্ডার নিহত
সংগৃহীত ছবি

দক্ষিণ গাজা উপত্যকায় পরিচালিত এক বিমান হামলায় হামাসের এক কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

নিহত সাকর আবু করিম হামাসের নুখবা ইউনিটের একটি সেলের কমান্ডার ছিলেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আলজাজিরা

রবিবার টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, গত মঙ্গলবার দক্ষিণ গাজায় চালানো এক হামলায় সাকর আবু করিম নিহত হন।

তাদের অভিযোগ, তিনি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের কিসুফিম এলাকায় সংঘটিত হামলায় অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের মধ্যে ছিলেন।

একই হামলায় হামাসের আরেক সদস্যও নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। দেশটির সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সংগঠনটির ‘যোগাযোগ অপারেটিভ’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হামাসের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। অপরদিকে হামাস বলছে, এসব হামলায় বিপুলসংখ্যক বেসামরিক ফিলিস্তিনিও নিহত হচ্ছেন।

উত্তর কোরিয়া সফরে কেন যাচ্ছেন শি চিনপিং?

অনলাইন ডেস্ক
উত্তর কোরিয়া সফরে কেন যাচ্ছেন শি চিনপিং?
ছবি: রয়টার্স

উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে রবিবার দেশটির সর্বোচ্চ  নেতা কিম জং উনের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের বৈঠক হতে যাচ্ছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শি চিনপিং নিজেই উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন।

শি চিনপিংয়ের এই সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ তিনি গত কয়েক বছরে বিদেশ সফর অনেক কমিয়ে দিয়েছেন। সাধারণত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারাই এখন তার সঙ্গে দেখা করতে বেইজিংয়ে যান। এমন পরিস্থিতিতে শির পিয়ংইয়ং সফর চীনের বিশেষ কৌশলগত বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এর আগে ২০১৯ সালে সর্বশেষ উত্তর কোরিয়া সফর করেছিলেন শি। এরপর আর তিনি পিয়ংইয়ং যাননি। যদিও এক বছর আগে বেইজিংয়ে কিম জং উনের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছিল। তখন জাপানের আত্মসমর্পণের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে চীন একটি বড় সামরিক কুচকাওয়াজ আয়োজন করেছিল।

উত্তর-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শি চিনপিং খুব কম বিদেশ সফর করেছেন। তাই তার এই সফর দেখাচ্ছে যে চীন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে শি গড়ে বছরে প্রায় ১৪টি বিদেশ সফর করতেন। কিন্তু ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সেই সংখ্যা কমে বছরে প্রায় ছয়ে নেমে আসে। করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালে তিনি মাত্র একবার বিদেশ সফর করেন এবং ২০২১ সালে কোনো বিদেশ সফরই করেননি।

বিশ্লেষকদের ধারণা, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ থেকেই শি চিনপিং এই সফরে যাচ্ছেন।

রাশিয়ার দিকে ঝুঁকছে উত্তর কোরিয়া

দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার ছিল চীন। দেশটির বেশির ভাগ বৈদেশিক বাণিজ্যও চীনের ওপর নির্ভরশীল ছিল।

তবে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। এরপর থেকে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদার করে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং জনবল সরবরাহ করেছে। এর বিনিময়ে মস্কো পিয়ংইয়ংকে বিপুল অর্থ ও বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের পর থেকে রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ সহায়তা দিয়েছে। এর মধ্যে অর্থের পাশাপাশি সামরিক প্রযুক্তি ও বিভিন্ন সংবেদনশীল যন্ত্রাংশও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া যদি রাশিয়ার সহায়তায় আরও উন্নত সামরিক প্রযুক্তি পেয়ে যায়, তাহলে তা কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে। এ বিষয়টি চীনের জন্যও উদ্বেগের কারণ।

উইলিয়াম ইয়াং বলেন, চীন সব সময় উত্তর কোরিয়াকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থেকেছে। কারণ বেইজিং মনে করে, অতিরিক্ত শক্তিশালী উত্তর কোরিয়া সব সময় তাদের স্বার্থের পক্ষে নাও যেতে পারে।

বাড়ছে সামরিক সক্ষমতা

চলতি বছরের শুরু থেকে উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে আটবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারকারী নতুন একটি কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও উন্মোচন করেছে।

এ ছাড়া সম্প্রতি কিম জং উন একটি নতুন পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন কারখানা পরিদর্শন করেছেন। উত্তর কোরিয়ার গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই কারখানার মাধ্যমে দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা আরো দ্রুত বাড়ানো হবে।

এসব পদক্ষেপের কারণে উত্তর কোরিয়ার সামরিক শক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কোরীয় উপদ্বীপে নতুন হিসাব-নিকাশ

উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া প্রযুক্তিগতভাবে এখনো যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। ১৯৫৩ সালে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি হয়নি। দুই দেশের মাঝে ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ নিরস্ত্রীকৃত সীমান্ত অঞ্চল রয়েছে।

বছরের পর বছর দুই কোরিয়ার সম্পর্ক কখনো উন্নত হয়েছে, আবার কখনো উত্তেজনা বেড়েছে। তবে ২০২৪ সালে একটি বড় পরিবর্তন আসে। তখন কিম জং উন কোরিয়া পুনরেকত্রীকরণের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য থেকে সরে আসেন। এরপর দুই কোরিয়ার মধ্যে যোগাযোগও অনেক কমে যায়।

দক্ষিণ কোরিয়া আশা করছে, শি চিনপিংয়ের এই সফর কোরীয় উপদ্বীপের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বিশ্লেষকদের ধারণা, এই সফরে ভবিষ্যতে কিম জং উন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।

এদিকে পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিও চীনের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সহযোগিতা এবং জাপানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বেইজিং।

সব মিলিয়ে শি চিনপিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফর শুধু দুই দেশের সম্পর্কের জন্য নয়, বরং পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তর নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
 

যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবার  সংঘর্ষ ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর

অনলাইন ডেস্ক
যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবার  সংঘর্ষ ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর
ছবি: রয়টার্স

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই আবারও উত্তেজনা বেড়েছে ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে। গত ২৪ ঘণ্টায় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দক্ষিণ লেবানন ও উত্তর ইসরায়েলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ হামলার সময় উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে। আকাশে একাধিক বিস্ফোরণও দেখা যায়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।

দক্ষিণ লেবাননের উপকূলীয় শহর টাইরে দিনভর উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দেখা গেছে। শহরের আকাশে নিচু দিয়ে ড্রোন উড়তে দেখা যায়। একই সঙ্গে যুদ্ধবিমানও উড়তে দেখা গেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিমানগুলো উত্তর ও পূর্ব দিকে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর কয়েকটি এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে।

টাইর ও দ্বেইর এলাকায় অন্তত চারটি হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি দূর থেকে গোলন্দাজ বাহিনীর গোলাবর্ষণের শব্দও শোনা গেছে। স্থানীয়দের মতে, রাতভর বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ চলেছে।

অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ জানিয়েছে তারা রাতভর ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইসরায়েলও বিভিন্ন স্থানে সামরিক অভিযান চালিয়েছে বলে জানা গেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, ৩ জুন যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর যত হামলার ঘটনা ঘটেছে, তার বেশির ভাগই লেবাননের ভেতরে অবস্থান করা ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা কমেনি।

দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক। ইসরায়েল আগে থেকেই ওই অঞ্চলের অনেক এলাকা খালি করার নির্দেশ দিয়েছিল। এর ফলে কয়েক দশ হাজার মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

বাসিন্দাদের চলে যাওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলের অনেক শহর ও গ্রাম প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে টাইর শহরের আশপাশের এলাকা অনেকটা পরিত্যক্ত নগরীর মতো দেখাচ্ছে। দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের চলাচলও অনেক কমে গেছে।

একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে নাবাতিয়েহ শহরেও। বর্তমানে এই এলাকাকে সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষ ও সামরিক তৎপরতা এই অঞ্চলে দেখা গেছে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকায় সীমান্ত এলাকায় নতুন করে পূর্ণমাত্রার সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।