যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে প্রথম হামলা চালানোর ১০০ দিন পার হলেও এখনো কোনো শান্তিচুক্তি হয়নি। তবে এই সময়ের মধ্যে কয়েক দফায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যখন দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে হয়েছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। এই অভিযানের মাধ্যমে সংঘাতের সূচনা হয়। হামলার পরপরই ইরান পাল্টা জবাব দেয়। দেশটি ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। এতে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
যুদ্ধ শুরুর পর কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলতে থাকে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরো অস্থির হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক মহলও সংঘাত বন্ধে উদ্যোগ নিতে শুরু করে।
এর মধ্যে গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর বড় ধরনের সামরিক সংঘর্ষ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। এতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার আশা দেখা দেয়।
তবে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা খুব বেশিদূর এগোয়নি। ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সেই আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই ভেঙে যায়।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরও কূটনৈতিক যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। এর পর থেকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ একের পর এক শান্তি প্রস্তাব আদান-প্রদান করে আসছে। বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।
এদিকে শান্তি প্রচেষ্টার পাশাপাশি নতুন করে কয়েকটি উত্তেজনাকর ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার কারণে আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও অঞ্চলটির পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।






