• ই-পেপার

পূর্ব লাদাখে পাঁচটি ‘ভয়ঙ্কর’ অ্যাপাচে হেলিকপ্টার পাঠাচ্ছে ভারত

ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনে ইউক্রেনে রাশিয়ার বড় হামলা, আহত অন্তত ১০

অনলাইন ডেস্ক
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনে ইউক্রেনে রাশিয়ার বড় হামলা, আহত অন্তত ১০
ছবি: রয়টার্স

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে শনিবার ভোরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

এই হামলার সময় ইউক্রেন নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা গোলাবারুদের অপেক্ষায় রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি থাকায় কিয়েভ রুশ হামলার মুখে আরো বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিমান হামলার সতর্কতা জারি হওয়ার আগেই শনিবার ভোরে কিয়েভে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, এই হামলায় রাশিয়া মোট ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ছয়টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২১টি ড্রোন ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১১১টি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর কতগুলো প্রতিহত করা গেছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন, প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদের তীব্র সংকট রয়েছে। এ কারণে শব্দের গতির কয়েক গুণ বেশি গতিতে ছুটে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গত এক মাসে ইউক্রেন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিমান বাহিনী। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাজধানী কিয়েভে হামলার মাত্রা আরো বাড়িয়েছে রাশিয়া। চলতি মাসেই কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় হামলায় ৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। শনিবারের হামলায় রাজধানীর একটি জেলায় একটি বাণিজ্যিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্য একটি এলাকায় ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।

শহরের সামরিক প্রশাসন টেলিগ্রামে জানিয়েছে, হামলার কারণে একটি অফিস ভবনে আগুন লেগেছে। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রেও আগুন লাগে। এছাড়া বিস্ফোরণের আঘাতে কয়েকটি আবাসিক ভবনের জানালার কাচ ভেঙে গেছে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, শুধু কিয়েভ নয়, শনিবার সারা দেশে মোট ১১টি স্থানে রাশিয়ার হামলার ঘটনা ঘটেছে।
 

জীবনসঙ্গী খুঁজতে দক্ষিণ কোরিয়ায় বৌদ্ধ মন্দিরে ব্যতিক্রমী আয়োজন

অনলাইন ডেস্ক
জীবনসঙ্গী খুঁজতে দক্ষিণ কোরিয়ায় বৌদ্ধ মন্দিরে ব্যতিক্রমী আয়োজন
ছবি : রয়টার্স

দক্ষিণ কোরিয়ায় তরুণ-তরুণীদের জন্য একটি ব্যতিক্রমী ‘ডেটিং’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পালগংসান পর্বতের প্রাচীন দংহওয়াসা বৌদ্ধ মন্দিরে এই আয়োজন করা হয়। দেশটিতে কম জন্মহার নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

৩০ ঘণ্টাব্যাপী এই আয়োজনে পরিচয় পর্ব, আলোচনা এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের ব্যবস্থা রাখা হয়, যাতে অংশগ্রহণকারীরা একে অপরকে জানার সুযোগ পান এবং সম্ভাব্য সঙ্গী খুঁজে নিতে পারেন।

অনুষ্ঠানে এক ভিক্ষু অংশগ্রহণকারীদের বলেন, তারা শুধু জীবনসঙ্গী খুঁজতে আসেননি, বরং দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগেও অংশ নিচ্ছেন। কারণ দক্ষিণ কোরিয়ায় জন্মহার ক্রমাগত কমে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ইউ চিওল-জু বলেন, ‘কম জন্মহার এখন একটি জাতীয় সংকট। তাই এ বিষয়ে কিছু করা প্রয়োজন ছিল।’ তিনি জানান, অতীতে জাতীয় সংকটের সময় বৌদ্ধ সম্প্রদায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে আর এবার তারা জন্মহার সংকট মোকাবেলায় এগিয়ে এসেছে।

দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে বিশ্বের সর্বনিম্ন জন্মহারসম্পন্ন দেশগুলোর একটি। ২০২৩ সালে দেশটিতে একজন নারীর গড় সন্তান জন্মদানের হার ছিল মাত্র ০.৭২, যা জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় ২.১ হারের অনেক নিচে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ আবাসন ব্যয়, সন্তান লালন-পালনের খরচ, আর্থিক চাপ এবং কর্মজীবনের প্রতি বাড়তি গুরুত্ব জন্মহার কমার পেছনে ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি জরিপে দেখা গেছে, দেশটির তরুণ-তরুণীরা আগের তুলনায় কম প্রেম করছেন এবং কম সামাজিক মেলামেশা করছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধি, শিশুদের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং নবদম্পতিদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত আবাসনের মতো নানা উদ্যোগ নিয়েছে। 

পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ও সামাজিক সংগঠনগুলো তরুণদের পরিচয় করিয়ে দিতে বিশেষ এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের কঠিন বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার বিষয়ে তারা কতটা আন্তরিক, তা যাচাই করতে প্রশ্নপত্র পূরণ ও সেলফি ভিডিও জমা দিতে হয়। ধর্ম-নির্বিশেষে সবার জন্য উন্মুক্ত এই আয়োজনে অংশ নিতে ১ হাজার ৫৮০ জনের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল, তবে সুযোগ পেয়েছেন মাত্র কয়েকজন।

অংশগ্রহণকারীদের একজন ৩৮ বছর বয়সী কিম আহ-কিউং, যিনি সুনহেজি নামে পরিচিত। তিনি বলেন, ‘পুরুষদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ খুবই কম। আমার জীবন অফিস আর বাসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।’ সিউল ছেড়ে অন্য এলাকায় চাকরির জন্য যাওয়ার পর উপযুক্ত সঙ্গী খুঁজে পাওয়া তার জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরেক অংশগ্রহণকারী ৩০ বছর বয়সী কোওন সেউং-ও, তিনি ‘এনিও’ নামে পরিচিত। তিনি বলেন, বন্ধুদের আয়োজিত অনেক ব্লাইন্ড ডেটে গেলেও কোনো সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। কর্মস্থলেও তার অধিকাংশ সহকর্মী পুরুষ হওয়ায় নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ খুব কম।

আয়োজকদের আশা, এমন উদ্যোগ তরুণ-তরুণীদের সঙ্গী খুঁজে পেতে সহায়তা করবে এবং দীর্ঘ মেয়াদে দক্ষিণ কোরিয়ার জন্মহার সংকট মোকাবেলায় ভূমিকা রাখবে।

চাঁদ ঘুরে আসা ‘মুন ট্রি’: অ্যাপোলো ১৪ অভিযানের জীবন্ত স্মৃতি

অনলাইন ডেস্ক
চাঁদ ঘুরে আসা ‘মুন ট্রি’: অ্যাপোলো ১৪ অভিযানের জীবন্ত স্মৃতি
সংগৃহীত ছবি

১৯৭১ সালের ৩১ জানুয়ারি চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে নাসার 'অ্যাপোলো ১৪' মহাকাশযান। এতে ছিলেন তিন মহাকাশচারী- অ্যালান শেপার্ড, এডগার মিচেল ও স্টুয়ার্ট রুসা।

চাঁদে পৌঁছানোর পর শেপার্ড ও মিচেল চাঁদের পৃষ্ঠের 'ফ্রা মাউরো' এলাকায় নেমে হাঁটেন। অন্যদিকে কমান্ড মডিউলের পাইলট স্টুয়ার্ট রুসা চাঁদের কক্ষপথে থাকা মহাকাশযানের ভেতর থেকে পুরো অভিযান পরিচালনা করেন। তবে রুসার এই যাত্রায় আরেকটি বিশেষ দায়িত্ব ছিল, যা শুরুতে খুব বেশি আলোচনায় আসেনি। নিজের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র রাখার ব্যাগে তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন কয়েকশ গাছের বীজ। এটি ছিল নাসা ও যুক্তরাষ্ট্রের বন বিভাগের যৌথ একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্পের অংশ। চাঁদের কক্ষপথ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসার পর ওই বীজ থেকে জন্ম নেওয়া গাছগুলো পরে পরিচিত হয় ‘মুন ট্রি’ বা ‘চাঁদের গাছ’ নামে। পরবর্তী সময়ে এসব গাছ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি ভবন, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, নাসার কেন্দ্র ও পার্কে লাগানো হয়। কিন্তু গাছগুলোর পাশে থাকা ছোট ফলক না পড়লে সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝার উপায় ছিল না যে, এগুলোর বীজ একসময় চাঁদের চারদিকে ঘুরে এসেছিল।

স্টুয়ার্ট রুসাকে এই প্রকল্পের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল বিশেষ কারণে। মহাকাশচারী হওয়ার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বন বিভাগে 'স্মোকজাম্পার' হিসেবে কাজ করতেন। পঞ্চাশের দশকে তিনি প্যারাশুটের মাধ্যমে দাবানল এলাকায় নেমে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতেন। এই অভিজ্ঞতার কারণেই মহাকাশ গবেষণা ও বন গবেষণার মধ্যে রুসা হয়ে ওঠেন একটি স্বাভাবিক সংযোগ। নাসার তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপোলো ১৪ অভিযানে রুসার দায়িত্ব পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বন বিভাগের প্রধান এডওয়ার্ড পি. ক্লিফ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানতে চান, মহাকাশে গাছের বীজ নিয়ে যাওয়া সম্ভব কি না। বন বিভাগের উদ্ভিদ জিনতত্ত্ববিদ স্ট্যানলি এল. ক্রুগম্যান এই বীজ প্রকল্পের দায়িত্ব নেন।

তবে এটি কোনো বড় ধরনের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ছিল না। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল, চাঁদের চারপাশে নয় দিনের ভ্রমণ বীজের অঙ্কুরোদগম বা বেড়ে ওঠায় কোনো প্রভাব ফেলে কি না, তা দেখা। তুলনার জন্য পৃথিবীতেই একই ধরনের কিছু বীজ রাখা হয়েছিল, যাতে মহাকাশ থেকে ফিরে আসা বীজগুলোর সঙ্গে পার্থক্য যাচাই করা যায়। এই পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিত কয়েকটি গাছের বীজ। এর মধ্যে ছিল লবললি পাইন, সিকামোর, সুইটগাম, রেডউড ও ডগলাস ফার। নাসার তথ্য অনুযায়ী, একটি ছোট নলাকার পাত্রে এসব বীজ রাখা হয়েছিল। তবে কতটি বীজ নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে বিভিন্ন নথিতে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। কোথাও ৪০০ থেকে ৫০০ বীজের কথা বলা হয়েছে, আবার কোথাও বলা হয়েছে সংখ্যাটি ২ হাজারের বেশি হতে পারে।

অ্যাপোলো ১৪ অভিযানের সময় শেপার্ড ও মিচেল যখন চাঁদের মাটিতে হাঁটছিলেন, তখন রুসা চাঁদের কক্ষপথে ঘুরছিলেন। সেই সময় তার সঙ্গে থাকা বীজগুলোও চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, রুসা কমান্ড মডিউল থেকে চাঁদের চারদিকে ৩৪ বার ঘুরেছিলেন। পৃথিবীতে ফেরার পর বীজগুলো নেওয়া হয় তখনকার লুনার রিসিভিং ল্যাবরেটরিতে, যা বর্তমানে নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের অংশ। কিন্তু সেখানেই তৈরি হয় বড় সমস্যা। জীবাণুমুক্ত করার সময় বীজ রাখার পাত্রটি ভেঙে যায়। এতে সব বীজ একসঙ্গে মিশে যায় এবং কিছু সময়ের জন্য সেগুলো বিশেষ পরিবেশের বাইরে চলে যায়। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানী স্ট্যানলি ক্রুগম্যান আশঙ্কা করেছিলেন, হয়তো এসব বীজ আর অঙ্কুরিত হবে না। তবে শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কা সত্য হয়নি। বন বিভাগ বীজগুলো মিসিসিপি ও ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষণা কেন্দ্রে পাঠায়। পরীক্ষায় দেখা যায়, মহাকাশ ঘুরে আসা বীজগুলো পৃথিবীতে থাকা একই ধরনের বীজের মতোই অঙ্কুরিত হয়েছে। এসব বীজ থেকে তৈরি হয় ৪০০টির বেশি চারা। গবেষকরা পরে দেখতে পান, চাঁদ ঘুরে আসার কারণে গাছগুলোর মধ্যে আলাদা কোনো বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়নি। 

৪০ বছরের বেশি সময় পরও মুন ট্রি ও পৃথিবীতে থাকা একই ধরনের গাছের মধ্যে চোখে পড়ার মতো কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি। তবে গাছগুলোর বিশেষত্ব ছিল তাদের বেড়ে ওঠায় নয়, বরং তাদের যাত্রার ইতিহাসে। ১৯৭৫ ও ১৯৭৬ সালে এসব চারা গাছ রোপণের জন্য প্রস্তুত হয়। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্বাধীনতার ২০০ বছর উদ্‌যাপন করছিল। এ উপলক্ষে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মাধ্যমে এসব গাছ বিতরণ করা হয়। গাছগুলোকে অ্যাপোলো কর্মসূচির জীবন্ত স্মারক হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় লাগানো হয়। নাসার তালিকায় মুন ট্রি হিসেবে চিহ্নিত গাছের অবস্থানের মধ্যে রয়েছে নাসার বিভিন্ন কেন্দ্র, বিশ্ববিদ্যালয়, পার্ক ও সরকারি স্থাপনা। এর মধ্যে রয়েছে মেরিল্যান্ডের গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে লাগানো একটি সিকামোর গাছ এবং ফিলাডেলফিয়ার  ওয়াশিংটন স্কয়ার পার্কে লাগানো একটি গাছ। তবে সব গাছের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়নি। অনেক গাছ সময়ের সঙ্গে হারিয়ে গেছে, আবার কিছু গাছ এখনো নীরবে দাঁড়িয়ে আছে। সমস্যা হলো, মুন ট্রি দেখতে সাধারণ গাছের মতোই। পাশে কোনো ফলক না থাকলে বোঝার উপায় নেই যে সেটি একসময় চাঁদের চারদিকে ঘুরে এসেছে।

১৯৯৬ সালে ইন্ডিয়ানার এক শিক্ষিকা জোয়ান গোবল তার শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি মুন ট্রির ফলক দেখতে পান। এরপর তিনি নাসার কর্মকর্তা ডেভিড আর. উইলিয়ামসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শুরুতে উইলিয়ামসও এই প্রকল্পের বিষয়ে জানতেন না। পরে তিনি নাসা, বন বিভাগ ও বিভিন্ন নথি ঘেঁটে মুন ট্রির হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস আবার সামনে নিয়ে আসেন। এর ফলে মুন ট্রি আবারও মানুষের আগ্রহের বিষয় হয়ে ওঠে। মুন ট্রির সবচেয়ে বড় গুরুত্ব ছিল পাশে থাকা ছোট ফলকগুলোতে। কারণ গাছ নিজে তার ইতিহাস জানান দিতে পারে না। অন্য মহাকাশ নিদর্শনের মতো মুন ট্রিকে জাদুঘরে রেখে সংরক্ষণ করা যায় না। এসব গাছকে প্রকৃতির মধ্যেই বেড়ে উঠতে হয়েছে। তাদের মোকাবিলা করতে হয়েছে ঝড়, রোগ, নির্মাণকাজ ও অবহেলার মতো নানা চ্যালেঞ্জ। তাই মুন ট্রির মূল্য শুধু বিজ্ঞানে নয়, মানুষের স্মৃতিতেও।

অ্যাপোলো অভিযানের কয়েক দশক পর আবারও একই ধরনের উদ্যোগ নেয় নাসা। ২০২২ সালে 'আর্টেমিস-১' অভিযানে গাছের বীজ চাঁদের চারদিকে পাঠানো হয়। নাসা ও যুক্তরাষ্ট্রের বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে প্রায় দুই হাজার বীজ মহাকাশ ভ্রমণ করে। অ্যাপোলোর মুন ট্রি যেখানে পরে ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠে, আর্টেমিসের গাছগুলো শুরু থেকেই শিক্ষা, সংরক্ষণ ও জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে পুরোনো মুন ট্রিগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়- একটি সাধারণ দেখতে গাছও অসাধারণ হয়ে উঠতে পারে, যদি তার সঙ্গে একটি বড় গল্প জড়িয়ে থাকে।
 

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজার হাসপাতালে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা

অনলাইন ডেস্ক
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজার হাসপাতালে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা
ছবি : রয়টার্স

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উত্তর গাজার একটি হাসপাতালে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) বেইত লাহিয়ার কামাল আদওয়ান হাসপাতালে এ হামলা হয়।

এতে হাসপাতাল চত্বরে তিনজন আহত হন। এ ছাড়া আশপাশের এলাকায় আরো তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার অংশ।

মন্ত্রণালয়ের মতে, এ ধরনের হামলা হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বাভাবিক এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এদিকে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার গাজায় নতুন ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে দুজন মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে ড্রোন হামলায় মারা যান। বাকি চারজন গাজার বিভিন্ন এলাকায় নিহত হন। গাজার হাসপাতালগুলো ছয়জনের মরদেহ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ইসরায়েলের আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের ফলে এই অঞ্চলে বুদ্ধিজীবী, বিজ্ঞানী এবং অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

গত ৫ জুলাই তেহরানে পেজেশকিয়ান বলেন, মানবাধিকার রক্ষার দাবি করলেও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এসব ঘটনা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরো বলেন, মুসলিম দেশগুলো যদি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করত, তাহলে গাজা, লেবানন ও ফিলিস্তিনে চলমান সংঘাত এবং মানবিক সংকট এত দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারত না।

পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেন, মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন মতাদর্শিক ও জাতিগত বিভাজন বাইরের শক্তিগুলোকে আঞ্চলিক উত্তেজনা কাজে লাগানোর সুযোগ করে দেয়।

পূর্ব লাদাখে পাঁচটি ‘ভয়ঙ্কর’ অ্যাপাচে হেলিকপ্টার পাঠাচ্ছে ভারত | কালের কণ্ঠ