দক্ষিণ কোরিয়ায় তরুণ-তরুণীদের জন্য একটি ব্যতিক্রমী ‘ডেটিং’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পালগংসান পর্বতের প্রাচীন দংহওয়াসা বৌদ্ধ মন্দিরে এই আয়োজন করা হয়। দেশটিতে কম জন্মহার নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
৩০ ঘণ্টাব্যাপী এই আয়োজনে পরিচয় পর্ব, আলোচনা এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের ব্যবস্থা রাখা হয়, যাতে অংশগ্রহণকারীরা একে অপরকে জানার সুযোগ পান এবং সম্ভাব্য সঙ্গী খুঁজে নিতে পারেন।
অনুষ্ঠানে এক ভিক্ষু অংশগ্রহণকারীদের বলেন, তারা শুধু জীবনসঙ্গী খুঁজতে আসেননি, বরং দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগেও অংশ নিচ্ছেন। কারণ দক্ষিণ কোরিয়ায় জন্মহার ক্রমাগত কমে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ইউ চিওল-জু বলেন, ‘কম জন্মহার এখন একটি জাতীয় সংকট। তাই এ বিষয়ে কিছু করা প্রয়োজন ছিল।’ তিনি জানান, অতীতে জাতীয় সংকটের সময় বৌদ্ধ সম্প্রদায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে আর এবার তারা জন্মহার সংকট মোকাবেলায় এগিয়ে এসেছে।
দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে বিশ্বের সর্বনিম্ন জন্মহারসম্পন্ন দেশগুলোর একটি। ২০২৩ সালে দেশটিতে একজন নারীর গড় সন্তান জন্মদানের হার ছিল মাত্র ০.৭২, যা জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় ২.১ হারের অনেক নিচে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ আবাসন ব্যয়, সন্তান লালন-পালনের খরচ, আর্থিক চাপ এবং কর্মজীবনের প্রতি বাড়তি গুরুত্ব জন্মহার কমার পেছনে ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি জরিপে দেখা গেছে, দেশটির তরুণ-তরুণীরা আগের তুলনায় কম প্রেম করছেন এবং কম সামাজিক মেলামেশা করছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধি, শিশুদের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং নবদম্পতিদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত আবাসনের মতো নানা উদ্যোগ নিয়েছে।
পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ও সামাজিক সংগঠনগুলো তরুণদের পরিচয় করিয়ে দিতে বিশেষ এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের কঠিন বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার বিষয়ে তারা কতটা আন্তরিক, তা যাচাই করতে প্রশ্নপত্র পূরণ ও সেলফি ভিডিও জমা দিতে হয়। ধর্ম-নির্বিশেষে সবার জন্য উন্মুক্ত এই আয়োজনে অংশ নিতে ১ হাজার ৫৮০ জনের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল, তবে সুযোগ পেয়েছেন মাত্র কয়েকজন।
অংশগ্রহণকারীদের একজন ৩৮ বছর বয়সী কিম আহ-কিউং, যিনি সুনহেজি নামে পরিচিত। তিনি বলেন, ‘পুরুষদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ খুবই কম। আমার জীবন অফিস আর বাসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।’ সিউল ছেড়ে অন্য এলাকায় চাকরির জন্য যাওয়ার পর উপযুক্ত সঙ্গী খুঁজে পাওয়া তার জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
আরেক অংশগ্রহণকারী ৩০ বছর বয়সী কোওন সেউং-ও, তিনি ‘এনিও’ নামে পরিচিত। তিনি বলেন, বন্ধুদের আয়োজিত অনেক ব্লাইন্ড ডেটে গেলেও কোনো সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। কর্মস্থলেও তার অধিকাংশ সহকর্মী পুরুষ হওয়ায় নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ খুব কম।
আয়োজকদের আশা, এমন উদ্যোগ তরুণ-তরুণীদের সঙ্গী খুঁজে পেতে সহায়তা করবে এবং দীর্ঘ মেয়াদে দক্ষিণ কোরিয়ার জন্মহার সংকট মোকাবেলায় ভূমিকা রাখবে।




