• ই-পেপার

চাঁদ ঘুরে আসা ‘মুন ট্রি’: অ্যাপোলো ১৪ অভিযানের জীবন্ত স্মৃতি

জীবনসঙ্গী খুঁজতে দক্ষিণ কোরিয়ায় বৌদ্ধ মন্দিরে ব্যতিক্রমী আয়োজন

অনলাইন ডেস্ক
জীবনসঙ্গী খুঁজতে দক্ষিণ কোরিয়ায় বৌদ্ধ মন্দিরে ব্যতিক্রমী আয়োজন
ছবি : রয়টার্স

দক্ষিণ কোরিয়ায় তরুণ-তরুণীদের জন্য একটি ব্যতিক্রমী ‘ডেটিং’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পালগংসান পর্বতের প্রাচীন দংহওয়াসা বৌদ্ধ মন্দিরে এই আয়োজন করা হয়। দেশটিতে কম জন্মহার নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

৩০ ঘণ্টাব্যাপী এই আয়োজনে পরিচয় পর্ব, আলোচনা এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের ব্যবস্থা রাখা হয়, যাতে অংশগ্রহণকারীরা একে অপরকে জানার সুযোগ পান এবং সম্ভাব্য সঙ্গী খুঁজে নিতে পারেন।

অনুষ্ঠানে এক ভিক্ষু অংশগ্রহণকারীদের বলেন, তারা শুধু জীবনসঙ্গী খুঁজতে আসেননি, বরং দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগেও অংশ নিচ্ছেন। কারণ দক্ষিণ কোরিয়ায় জন্মহার ক্রমাগত কমে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ইউ চিওল-জু বলেন, ‘কম জন্মহার এখন একটি জাতীয় সংকট। তাই এ বিষয়ে কিছু করা প্রয়োজন ছিল।’ তিনি জানান, অতীতে জাতীয় সংকটের সময় বৌদ্ধ সম্প্রদায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে আর এবার তারা জন্মহার সংকট মোকাবেলায় এগিয়ে এসেছে।

দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে বিশ্বের সর্বনিম্ন জন্মহারসম্পন্ন দেশগুলোর একটি। ২০২৩ সালে দেশটিতে একজন নারীর গড় সন্তান জন্মদানের হার ছিল মাত্র ০.৭২, যা জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় ২.১ হারের অনেক নিচে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ আবাসন ব্যয়, সন্তান লালন-পালনের খরচ, আর্থিক চাপ এবং কর্মজীবনের প্রতি বাড়তি গুরুত্ব জন্মহার কমার পেছনে ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি জরিপে দেখা গেছে, দেশটির তরুণ-তরুণীরা আগের তুলনায় কম প্রেম করছেন এবং কম সামাজিক মেলামেশা করছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধি, শিশুদের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং নবদম্পতিদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত আবাসনের মতো নানা উদ্যোগ নিয়েছে। 

পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ও সামাজিক সংগঠনগুলো তরুণদের পরিচয় করিয়ে দিতে বিশেষ এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের কঠিন বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার বিষয়ে তারা কতটা আন্তরিক, তা যাচাই করতে প্রশ্নপত্র পূরণ ও সেলফি ভিডিও জমা দিতে হয়। ধর্ম-নির্বিশেষে সবার জন্য উন্মুক্ত এই আয়োজনে অংশ নিতে ১ হাজার ৫৮০ জনের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল, তবে সুযোগ পেয়েছেন মাত্র কয়েকজন।

অংশগ্রহণকারীদের একজন ৩৮ বছর বয়সী কিম আহ-কিউং, যিনি সুনহেজি নামে পরিচিত। তিনি বলেন, ‘পুরুষদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ খুবই কম। আমার জীবন অফিস আর বাসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।’ সিউল ছেড়ে অন্য এলাকায় চাকরির জন্য যাওয়ার পর উপযুক্ত সঙ্গী খুঁজে পাওয়া তার জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরেক অংশগ্রহণকারী ৩০ বছর বয়সী কোওন সেউং-ও, তিনি ‘এনিও’ নামে পরিচিত। তিনি বলেন, বন্ধুদের আয়োজিত অনেক ব্লাইন্ড ডেটে গেলেও কোনো সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। কর্মস্থলেও তার অধিকাংশ সহকর্মী পুরুষ হওয়ায় নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ খুব কম।

আয়োজকদের আশা, এমন উদ্যোগ তরুণ-তরুণীদের সঙ্গী খুঁজে পেতে সহায়তা করবে এবং দীর্ঘ মেয়াদে দক্ষিণ কোরিয়ার জন্মহার সংকট মোকাবেলায় ভূমিকা রাখবে।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজার হাসপাতালে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা

অনলাইন ডেস্ক
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজার হাসপাতালে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা
ছবি : রয়টার্স

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উত্তর গাজার একটি হাসপাতালে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) বেইত লাহিয়ার কামাল আদওয়ান হাসপাতালে এ হামলা হয়।

এতে হাসপাতাল চত্বরে তিনজন আহত হন। এ ছাড়া আশপাশের এলাকায় আরো তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার অংশ।

মন্ত্রণালয়ের মতে, এ ধরনের হামলা হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বাভাবিক এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এদিকে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার গাজায় নতুন ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে দুজন মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে ড্রোন হামলায় মারা যান। বাকি চারজন গাজার বিভিন্ন এলাকায় নিহত হন। গাজার হাসপাতালগুলো ছয়জনের মরদেহ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ইসরায়েলের আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের ফলে এই অঞ্চলে বুদ্ধিজীবী, বিজ্ঞানী এবং অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

গত ৫ জুলাই তেহরানে পেজেশকিয়ান বলেন, মানবাধিকার রক্ষার দাবি করলেও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এসব ঘটনা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরো বলেন, মুসলিম দেশগুলো যদি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করত, তাহলে গাজা, লেবানন ও ফিলিস্তিনে চলমান সংঘাত এবং মানবিক সংকট এত দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারত না।

পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেন, মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন মতাদর্শিক ও জাতিগত বিভাজন বাইরের শক্তিগুলোকে আঞ্চলিক উত্তেজনা কাজে লাগানোর সুযোগ করে দেয়।

তেলের বাজারে অস্থিরতা, পাকিস্তানে বাড়তে পারে পেট্রল ও ডিজেলের দাম

অনলাইন ডেস্ক
তেলের বাজারে অস্থিরতা, পাকিস্তানে বাড়তে পারে পেট্রল ও ডিজেলের দাম
ছবি : রয়টার্স

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে থাকায় পাকিস্তানে পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজ জানিয়েছে, পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি ১৩ রুপি এবং হাই-স্পিড ডিজেলের দাম ১৪ রুপি পর্যন্ত বাড়তে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন জ্বালানি মূল্য নির্ধারণের পর প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে পারেন। এর আগে ২৮ জুন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও পাকিস্তান সরকার পেট্রল ও হাই-স্পিড ডিজেলের ওপর পেট্রলিয়াম শুল্ক বাড়িয়েছিল। তবে সে সময় খুচরা জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়।

পাকিস্তানের পেট্রলিয়াম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হাই-স্পিড ডিজেলের ওপর শুল্ক লিটারপ্রতি ৬.৫৭ রুপি বাড়িয়ে ৭৯.৫৪ রুপি করা হয়েছে। একই সঙ্গে পেট্রলের ওপর শুল্ক ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে ৬৬.৬৪ রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে থাকলে পাকিস্তানে জ্বালানির দাম আরো বৃদ্ধি পেতে পারে, যা পরিবহন ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে প্রভাব ফেলতে পারে। পাকিস্তানে কেরোসিন তেলের ওপর পেট্রোলিয়াম শুল্ক লিটারপ্রতি ২০.৩৬ রুপি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও সেই সুবিধা সাধারণ ভোক্তাদের কাছে পুরোপুরি পৌঁছায়নি।

সরকার আগামী সপ্তাহের জন্য পেট্রোল ও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর শুল্ক কাঠামোতে এই পরিবর্তন আনা হয়। তবে কেরোসিন তেলের দামে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে সরকার। দেশটির তেল ও গ্যাস নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (ওজিআরএ) কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৬.৮৫ রুপি কমিয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, কেরোসিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ২৩৩.৯০ রুপি থেকে কমে ২২৭.০৫ রুপিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। পাকিস্তানের পেট্রলিয়াম বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পেট্রলিয়াম শুল্ক বৃদ্ধি শুধু পেট্রোল ও হাই-স্পিড ডিজেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছে। কেরোসিন তেলের ওপর শুল্কে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

সর্বশেষ এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোক্তাদের পেট্রোল ও ডিজেলের জন্য আগের মতোই খুচরা মূল্য পরিশোধ করতে হবে। তবে পেট্রল ও ডিজেলের ওপর শুল্ক বাড়ানোয় এ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে।
 

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই : বাঘের গালিবাফ

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই : বাঘের গালিবাফ
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ছবি : রয়টার্স

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ভঙ্গ করলে তেহরান নিজেদের রক্ষায় পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে জবাব দেবে।

শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার গণপরামর্শক পরিষদের স্পিকার আহমদ মুজানির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে প্রকাশিত এক বার্তায় গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের কোনো আস্থা নেই। তিনি আরো দাবি করেন, সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনা চলাকালে তিনি এই অবস্থানের কথা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকেও জানিয়েছিলেন।

গালিবাফ বলেন, ‘আলোচনার সময় আমি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টকে স্পষ্টভাবে বলেছি, আমরা আপনাদের ওপর কোনো আস্থা রাখি না। আমার মতে, শুধু সেই দেশই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে, যে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকে। আমরা কখনোই আমাদের দেশের প্রতিরক্ষার প্রস্তুতি বন্ধ করিনি। যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো সমঝোতা ভঙ্গ করে, তাহলে আমরা পূর্ণমাত্রার প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত। আমরা দৃঢ়ভাবে তাদের মোকাবেলা করব এবং ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষায় পদক্ষেপ নেব।’

এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে রাজি হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের মতে, দুই দেশের মধ্যে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি এখন শেষ হয়ে গেছে।

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আমাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চেয়েছে। আমরা এতে সম্মত হয়েছি। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে যুদ্ধবিরতি শেষ।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের মধ্যেই কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানে পৌঁছেছেন। তাদের লক্ষ্য হলো, সাম্প্রতিক উত্তেজনা কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা আবার শুরু করার পথ তৈরি করা।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক কূটনীতিকের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এই সফরটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিনিধিদলের বৈঠকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং দুই দেশের সম্ভাব্য নতুন আলোচনা শুরুর উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।