kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ পরমাণু বোমা তুরস্ক ফেরত না-ও দিতে পারে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ১৮:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ পরমাণু বোমা তুরস্ক ফেরত না-ও দিতে পারে

সিরিয়ায় তুরস্কের কুর্দিবিরোধী অভিযান শুরুর পর তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হয়েছে। ন্যাটোভুক্ত এ দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে, তুরস্কের একটি বিমান ঘাঁটিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি বি-সিক্সটি ওয়ান পারমাণবিক বোমার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অস্ত্র বিশ্লেষকরা। মার্কিন-তুর্কি সম্পর্ক আরো খারাপ হলে, তুরস্ক ওই বোমাগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে ফেরত না-ও দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

গত ৯ অক্টোবর সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দিবিরোধী অভিযান শুরু করে তুরস্কের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সবুজ সংকেত নিয়েই এ-তৎপরতা শুরু করা হলেও আঙ্কারার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এরপরই সামরিক জোট ন্যাটোর দুই সদস্য যুক্তরাষ্ট্র এবং তুরস্কের সম্পর্কে ব্যাপক টানাপড়েন শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় সামনে উঠে আসে সিরীয় সীমান্তের ১৫০ মাইল দূরের শহর আডানার ইনসারলিক বিমান ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমার বিষয়টি। এখানে রয়েছে ৫০টি B-61 পারমাণবিক বোমা। ৬০ বছর আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সোভিয়েত রাশিয়ার সঙ্গে স্নায়ু যুদ্ধের কালে যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী এই বোমাগুলো সেখানে মোতায়েন করে বলে ধারণা করা হয়।

অনেক বিশ্লেষকের ধারণা পারমাণবিক বোমাগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে আর ফেরত দেবে না তুরস্ক। তাদের মতে সাম্প্রতিক সময়ে সৃষ্ট উত্তেজনার কারণে ওয়াশিংটন এবং আঙ্কারার মধ্যে যে শীতল যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তার প্রভাব পড়বে তুরস্কে থাকা মার্কিন সেনা এবং অস্ত্রের ওপর। এরই মধ্যে ওই ঘাঁটি থেকে পারমাণবিক অস্ত্র সরাতে গেলে, তুরস্ক তাতে বাধা দিয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিশ্লেষকদের মত, ইনসারলিক বিমান ঘাঁটিতে থাকা পারমাণবিক বোমাগুলো নিরাপদে রাখার সক্ষমতা নেই মার্কিন বাহিনীর।

অস্ত্র বিশেষজ্ঞ হেনস ক্রিসটেনসেন বলেন, ঘাঁটিটির সামরিক অবকাঠামো ও অস্ত্রবল যথেষ্ট হলেও অন্যের হামলা থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলের যথেষ্ট ঘাটতি আছে সেখানে। আমি মনে করি সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অনেক আগেই চিন্তা করা উচিত ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ওই পারমাণবিক বোমাগুলো বহনের মতো বিমান নেই তুরস্কের। কেবলমাত্র মার্কিন বিমান বাহিনীই, সেগুলো ব্যবহার কিংবা সরাতে সক্ষম। এ অবস্থায় তুরস্ক বোমাগুলো নিয়ে নিলেও, তা তাদের কোন কাজে আসবে না বলে মত অনেকের।

আবার অনেক বিশ্লেষক বলছেন, তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরী শুরু করেছেন। যত দিন পর্যন্ত নিজেদের অস্ত্র তৈরী শেষ হবে না ততদিন পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীর কাছে বোমাগুলো তুরস্ক হস্তান্তর করবে না বলেও ধারণা তাদের।

এর আগে এক বক্তব্যে পারমাণবিক কার্যক্রম শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা