• ই-পেপার

নিখোঁজের ৮ মাসেও ফেরেনি তৃপ্তি

এমপি মানিক

জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে

চাঁদপুর প্রতিনিধি
জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে
ছবি : কালের কণ্ঠ

চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও আপামর জনসাধারণের অংশগ্রহণ ছাড়া সেই আন্দোলনের সফলতা এবং পরবর্তী পরিবর্তন সম্ভব হতো না।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সংসদ সদস্য মানিক বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের বেদনা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ সম্মান জানাতে প্রতিবছর জুলাই শহীদদের স্মরণে আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম এন জামিউল হিকমা।

সভায় জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণা করেন জুলাইযোদ্ধা সাজ্জাদের বাবা জসিম রেজা। এ ছাড়া এতে বক্তব্য দেন জিয়াউর রহমান সোহাগ, জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মামুন খান, সদস্য ফজলুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জিহাদ হোসেন, গাজী বাহার, জুলাইযোদ্ধা নাজমুত সালাত সাকিব এবং সাগর হোসেন।

এ সময় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন সরদার, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী নাসিম আহমেদ টিটো, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল্লাহ, জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান, জেলা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট কোহিনুর আক্তার, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনাসভা শেষে জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কালেক্টরেট মসজিদের খতিব মাওলানা মোশাররফ হোসাইন।

এর আগে সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসংলগ্ন জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

সৌদি আরবে কারখানার মেশিনে কাটা পড়ে বুড়িচংয়ের যুবক নিহত

বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
সৌদি আরবে কারখানার মেশিনে কাটা পড়ে বুড়িচংয়ের যুবক নিহত
সংগৃহীত ছবি

সৌদি আরবের একটি খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কাজ করার সময় মেশিনে কাটা পড়ে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার এক প্রবাসী যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ৮টার দিকে সৌদি আরবের আল-কাসিম অঞ্চলের বুকারিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. নাদিম হোসেন (২৭) কুমিল্লার বুড়িচং পৌরসভার যদুপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সামাদ মিয়ার ছেলে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে প্রায় ১০ মাস আগে সৌদি আরবে যান নাদিম। সেখানে আল-কাসিমের বুকারিয়া এলাকার একটি খেজুর প্যাকেজিং ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কর্মরত ছিলেন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য হিসেবে বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে সংসারের হাল ধরেছিলেন।

নিহতের স্বজনরা জানান, ঘটনার সময় একটি খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ মেশিন পরিষ্কার করার জন্য নাদিম মেশিনের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় বাইরে থাকা কয়েকজন সহকর্মী অসাবধানতাবশত মেশিনটি চালু করে দিলে তিনি মেশিনের ভেতরে আটকা পড়ে গুরুতরভাবে আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঘটনার পর সৌদি আরবের পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় কারখানার তিন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে নিহতের পরিবার জানিয়েছে।

নাদিমের মৃত্যুর সংবাদ দেশে পৌঁছালে যদুপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের বাবা সামাদ মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমার সন্দেহ। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার চাই। একই সঙ্গে দ্রুত আমার ছেলের মরদেহ দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানভীর হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী বাংলাদেশিদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনার সুযোগ রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।’

বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন

বিশ্ব সাপ দিবসে অজগর উদ্ধার করে বনাঞ্চলে অবমুক্ত

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
বিশ্ব সাপ দিবসে অজগর উদ্ধার করে বনাঞ্চলে অবমুক্ত
সংগৃহীত ছবি

বিশ্ব সাপ দিবসে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি বড় আকারের অজগর উদ্ধার করে অবমুক্ত করেছে বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন।

বৃহস্পতিবার উপজেলার উত্তর ভাড়াউড়া এলাকার ৫ নম্বর পুলসংলগ্ন যোবায়ের আহমেদের বাড়ি থেকে সাপটি উদ্ধার করে সংগঠনটির সদস্যরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন ধরে যোবায়ের আহমেদের বাড়ির হাস ও মুরগির বাচ্চা রহস্যজনকভাবে পাওয়া যাচ্ছিল না। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার একটি অজগর সাপ দেখতে পান। এরপর বিষয়টি বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানানো হলে সংগঠনটির পরিচালক স্বপন দেব সজল, রাজদীপ দেব দীপ ও রিদন গৌড় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে সাপটিকে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের মাধ্যমে বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়। 

প্রসঙ্গত, প্রতিবছর ১৬ জুলাই বিশ্বব্যাপী সাপ দিবস পালিত হয়। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাপের গুরুত্ব অপরিসীম। শ্রীমঙ্গলের এই অজগরটি লোকালয়ে চলে আসলেও স্থানীয়রা সাপটিকে মেরে না ফেলে উদ্ধারকারী দলকে খবর দিয়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, যা বন্য প্রাণী সংরক্ষণে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

টাঙ্গাইল

পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল মোটরসাইকেলচালকের

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল মোটরসাইকেলচালকের
প্রতীকী ছবি

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সড়ক দুর্ঘটনায় আল-আমিন (১৮) নামের এক মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো দুজন আহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে কালিহাতী পৌর এলাকার কামার্থী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

নিহত আল আমিন উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের বেহালাবাড়ী গ্রামের মোহাম্মদ আরিফের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, বল্লা থেকে কালিহাতীগামী একটি মোটরসাইকেল কামার্থী বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছলে পথচারী সাদেক আলীকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে মোটরসাইকেলচালক আল-আমিন, আরোহী সোহাগ (১৬) ও পথচারী সাদেক আলী আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আল-আমিনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সোহাগ ও সাদেক আলী চিকিৎসাধীন।

কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আব্দুস ছালম বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।