• ই-পেপার

বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার বড় পতন

জ্বালানি তেলের মজুদ সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করতে ডিপো নির্মাণ

বাসস
জ্বালানি তেলের মজুদ সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করতে ডিপো নির্মাণ

দেশের জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরো শক্তিশালী ও টেকসই করতে জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুদ সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারের যেকোনো ধরনের অস্থিরতার মধ্যেও দেশের শিল্প উৎপাদন ও অর্থনীতির গতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জ্বালানি খাতকে ঝুঁকিমুক্ত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে তেলের মজুদ সক্ষমতা ৬০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৭১ দিন এবং ২০২৭ সালের মধ্যে তা ৯০ দিনে উন্নীত করা হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জ্বালানি খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন ডিপো নির্মাণ, অব্যবহৃত ট্যাংক সংস্কার এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত ট্যাংক ভাড়াসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

বিপিসি’র চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে দেশে ৬০ দিনের বেশি জ্বালানি তেল মজুদের সক্ষমতা রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তা ৭১ দিনে উন্নীত করা সম্ভব হবে। লক্ষ্য অনুযায়ী ২০২৭ সালের মধ্যে ৯০ দিনের মজুদ নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে।’

জ্বালানি বিভাগ জানায়, জাতীয় জ্বালানি নীতি-১৯৯৬ অনুযায়ী, দেশে ৬০ দিনের কৌশলগত জ্বালানি তেল মজুদের বিধান রয়েছে। বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুদ থাকায় কোনো সংকট নেই।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জ্বালানি নীতিতে ৬০ দিনের কৌশলগত মজুদের কথা বলা হয়েছে। বর্তমান বাস্তবতায় আমরা পর্যায়ক্রমে এটি ৯০ দিনে উন্নীত করবো। এ বিষয়ে কাজ চলছে। তবে এখন দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই।’

বার্ষিক চাহিদা ও বর্তমান সক্ষমতা:
জ্বালানি বিভাগের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) জন্য দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৮৪ লাখ ২৬ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন।

এর মধ্যে ডিজেলের চাহিদা ৪৪ লাখ ৭৩ হাজার টন, যার মাসিক গড় চাহিদা ৩ লাখ ৭২ হাজার ৭৫০ টন। এছাড়া ফার্নেস অয়েলের চাহিদা ৭ লাখ ৩৫ হাজার টন, জেট ফুয়েলের ৬ লাখ ৬৩ হাজার টন, অকটেনের ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯০০ টন এবং পেট্রোলের ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টন।

বর্তমানে বিপিসি’র আওতাধীন পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ ছয়টি কোম্পানির মোট জ্বালানি তেল সংরক্ষণ সক্ষমতা ১৫ লাখ ৪৪ হাজার ৬৬ টন। এর মধ্যে ৬৭ হাজার ৬৩২ টন ধারণক্ষমতার অবকাঠামো সংস্কার ও মেরামতের কাজ চলছে।

বর্তমানে বিপিসি’র নিজস্ব সক্ষমতায় ডিজেল ৫৭ দিন, অকটেন ৪৬ দিন, পেট্রোল ২৯ দিন এবং ফার্নেস অয়েল ৭৮ দিনের মজুদ রয়েছে। এই সক্ষমতাই ৯০ দিনে উন্নীত করতে চায় সংস্থাটি।

ব্যবহার করা হবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ট্যাংক:
জ্বালানি বিভাগ জানায়, দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাংলাদেশ রেলওয়ে ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনসহ (বিআরটিসি) অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যবহারের জন্য ১ লাখ ৪২ হাজার ২৯৮ টন ডিজেল এবং ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪০০ টন ফার্নেস অয়েল মজুদের সক্ষমতা রয়েছে।

সরকার এসব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনের অতিরিক্ত ট্যাংক ভাড়ায় ব্যবহার করতে চায়। পাশাপাশি বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৮২ হাজার ২০০ টন ধারণক্ষমতার মজুদাগার সংস্কার করে চালু করা হবে।

এ বিষয়ে জ্বালানি সচিব বলেন, ‘সরকারি কিছু প্রতিষ্ঠানের ট্যাংক ভাড়ার বিষয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র, রেলওয়ে ও বিআরটিসি রয়েছে। এসব বিকল্প সুযোগ মাথায় রাখার পাশাপাশি নিজস্ব অবকাঠামো বাড়াতে সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে।’

এ বিষয়ে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ডিজেলের ক্ষেত্রে বিপিসি’র বর্তমান কৌশলগত মজুদ সক্ষমতা ৫৭ দিনের। তবে বিদ্যুৎ ও রেলওয়ের মতো বড় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ৩ মাসের তেল কিনে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মজুদ রাখে, সেক্ষেত্রে কোনো নতুন প্রকল্প ছাড়াই দেশের সামগ্রিক জ্বালানি মজুদ আরো ১২ থেকে ১৩ দিন বেড়ে যাবে।’

মজুদ বৃদ্ধিতে আসছে যেসব কর্মসূচি:
বিপিসি জানায়, ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের আওতায় গত জুনে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোর কমিশনিং সম্পন্ন হয়েছে। নতুন ট্যাংক চালু হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের মজুদ সক্ষমতা ২৮ হাজার ৪৩৭ টন বেড়েছে। এতে বিপিসি’র মোট মজুদ সক্ষমতা বেড়ে হয়েছে ১৫ লাখ ৭২ হাজার ৫০৩ টন। ২০২৭ সালের মধ্যে পার্বতীপুরে আরো চারটি নতুন ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া কুমিল্লায় বিদ্যমান অটোমেটেড ডিপো এলাকায় নিজস্ব অর্থায়নে আরো ছয়টি ডিপো নির্মাণ করা হবে।

নারায়ণগঞ্জের মেঘনা পেট্রোলিয়ামের গোদনাইল ডিপোতে ১১ হাজার টন ধারণক্ষমতার দু’টি নতুন ট্যাংক এবং ফতুল্লার আলীগঞ্জ ডিপোতে ১৩ হাজার টন ধারণক্ষমতার আরো দুটি ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি গোদনাইলে ১ হাজার ৪৫০ টন ধারণক্ষমতার একটি এইচওবিসি ট্যাংক নির্মাণাধীন রয়েছে।

বিপিসি জানায়, এছাড়া পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল কোম্পানির প্রধান স্থাপনাগুলোর খালি জায়গায় নতুন ডিপো ও ট্যাংক নির্মাণ প্রকল্প বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে বাস্তবায়নাধীন। এর মধ্যে রয়েছে পদ্মা অয়েলের ৯ হাজার ৫০০ টনের দু’টি ট্যাংক, মেঘনা অয়েলের ১০ হাজার টনের তিনটি ট্যাংক এবং যমুনা অয়েলের সাড়ে ৫৮ হাজার টন ধারণক্ষমতার নতুন ট্যাংক।

সিলেটের পদ্মা অয়েল ডিপোর ১ হাজার ৩৭ টন ধারণক্ষমতার তিনটি জেট ফুয়েল ট্যাংক ডিজেল সংরক্ষণের উপযোগী করা হচ্ছে। ভৈরব বাজার ডিপোতে ২ হাজার ১৬৫ টনের পাঁচটি ট্যাংক নির্মাণকাজ চলছে। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওমেরা’র ৪০ হাজার টন ধারণক্ষমতার ট্যাংকের মধ্যে ৩০ হাজার টন ভাড়ায় নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বিপিসি।

বিপিসি’র চেয়ারম্যান বলেন,‘গত জুনে পার্বতীপুর ডিপোর কমিশনিং সম্পন্ন হওয়ায় মজুদ সক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার টন বেড়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে পার্বতীপুরে আরো চারটি এবং কুমিল্লায় ছয়টি ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল কোম্পানির খালি জায়গায় নতুন ডিপো ও ট্যাংক নির্মাণ চলছে। পাশাপাশি কেরোসিন ও জেট ফুয়েলের চাহিদা কমে যাওয়ায় উদ্বৃত্ত ট্যাংকগুলো ডিজেল সংরক্ষণের উপযোগী করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ট্যাংক ভাড়ায় নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপুল অর্থ ব্যয়ে নতুন জমি অধিগ্রহণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প গ্রহণের পরিবর্তে অচল ট্যাংক সচল করা, কেরোসিনের ট্যাংক ডিজেলে রূপান্তর এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ও রেলওয়ের অব্যবহৃত ট্যাংক ব্যবহার করলে দ্রুত মজুদ সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে। তাদের মতে, এটি সরকারের একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

লিথিয়াম ব্যাটারি শিল্প বাজেটে সুবিধা পেলেও বাস্তবায়নে ধীরগতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
লিথিয়াম ব্যাটারি শিল্প বাজেটে সুবিধা পেলেও বাস্তবায়নে ধীরগতি

দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে চাঙা করতে বাজেটে নানা ধরনের সুবিধা দিয়েছে সরকার। করহার না বাড়িয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে করজাল বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন খাতের মতো সৌরবিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) ও উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পের বিকাশে স্থানীয়ভাবে লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদনকে উৎসাহ দিতে শুল্কছাড় দিলেও এর সুফল পাচ্ছে না ব্যবসায়ীরা। কাস্টমস প্রসিডিউর কোড (সিপিসি) কার্যকর হতে দেরি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন উদ্যোক্তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শিল্পোদ্যোক্তাদের অভিযোগ, এসআরও’র মাধ্যমে দেওয়া সুবিধা বাস্তবে পেতে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়ছেন তারা। আবেদন করার পরও সিপিসি পেতে দীর্ঘ সময় লাগছে। ফলে বন্দরে কাঁচামাল আটকে থাকায় ডেমারেজ, গুদাম ভাড়া ও ব্যাংক সুদের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এতে নতুন শিল্পে বিনিয়োগ ও উৎপাদন শুরু অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। এই সুবিধা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

চলতি বছরের ৮ জুন কার্যকর হওয়া এসআরও অনুযায়ী, লিথিয়াম-আয়ন, সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ও লিথিয়াম ব্যাটারি প্যাক উৎপাদনে ব্যবহৃত নির্ধারিত কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও উপকরণ কম শুল্কে আমদানির সুযোগ রয়েছে। এ সুবিধা পেতে প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের নিবন্ধিত ও অনুমোদিত উৎপাদনকারী হতে হবে। এরপর এনবিআর সিপিসি বরাদ্দ দিলে শুল্ক সুবিধা কার্যকর হবে।

লিও আইসিটি কেবল পিএলসির বিপণন বিভাগের কর্মকর্তা রেজাউল হক বলেন, ‘সরকারের উদ্যোগ শিল্পের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। কিন্তু এসআরও জারি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন থাকার পরও এ সুবিধা পেতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হলে বিনিয়োগের ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সিপিসি বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তাদের মতে, এসআরও বাস্তবায়নে প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে সম্ভাবনাময় এ খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত আবেদন নিষ্পত্তি না হলে সরকারের নীতিগত প্রণোদনার সুফলও পাওয়া যাবে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘এসআরও অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ধরনের নথিপত্র দাখিল করতে অনেক সময় আমদানিকারকদের কিছুটা বিলম্ব হয়। সে কারণেই সিপিসি ইস্যু করতেও কিছুটা সময় লাগতে পারে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করার পরই সিপিসি দেয়।’

দুই দফা কমার পর আজ যত টাকায় বিক্রি হচ্ছে সোনা

অনলাইন ডেস্ক
দুই দফা কমার পর আজ যত টাকায় বিক্রি হচ্ছে সোনা
সংগৃহীত ছবি

সব শেষ দেশের বাজারে দুই দফা সোনার দাম কমানো হয়েছে। এখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনা ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন (বাজুস)। আজ বৃহস্পতিবার ওই দামেই বিক্রি হচ্ছে সোনা। 

নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনা ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনা ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এর আগে গত ১৩ জুলাই সকাল ১০টা থেকে ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ হাজার ১০০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা।

এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গয়নার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা।

 

দেশের রপ্তানির ১৭.৫১ শতাংশ এসেছে বেপজা থেকে

অনলাইন ডেস্ক
দেশের রপ্তানির ১৭.৫১ শতাংশ এসেছে বেপজা থেকে

এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৭১৭ দশমিক ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা)। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৭৫ হাজার ৭৪৪ জনের কর্মসংস্থান হবে।

দেশের সামগ্রিক রপ্তানি সামান্য কমলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেপজা’র আওতাধীন শিল্পাঞ্চলগুলোর রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ২ শতাংশ। একই সময়ে দেশের মোট রপ্তানির ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ এসেছে বেপজা থেকে। 

বুধবার (১৫ জুলাই) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেপজা জানায়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং দেশের সামগ্রিক রপ্তানি কিছুটা কমে যাওয়ার মধ্যেও রপ্তানি, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি হয়েছে ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বেপজার আওতাধীন শিল্পাঞ্চলগুলো থেকে রপ্তানি হয়েছে ৮ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, যা দেশের মোট রপ্তানির ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ। আগের অর্থবছরে বেপজা অঞ্চলের রপ্তানি ছিল ৮ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার। ফলে দেশের মোট রপ্তানি যেখানে শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কমেছে, সেখানে বেপজার রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ২ শতাংশ।

সংস্থাটি জানায়, দক্ষ ও বিনিয়োগবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার ফলে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণেও রেকর্ড গড়েছে বেপজা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সামোয়া ও বাংলাদেশের ৩৬টি প্রতিষ্ঠান বেপজার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কারখানা স্থাপনের জন্য লিজ চুক্তি করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ৭১৭ দশমিক ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা এক অর্থবছরে বেপজার ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে গেলে প্রায় ৭৫ হাজার ৭৪৪ জন বাংলাদেশির কর্মসংস্থান হবে। নতুন শিল্পগুলোর বেশির ভাগই প্রচলিত তৈরি পোশাক খাতের বাইরে বহুমুখী পণ্য উৎপাদন করবে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাগ ও লাগেজ, ফ্যাশন অ্যাকসেসরিজ, টেক্সটাইল, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য, ব্লুটুথ হেডফোন, বিমানে ব্যবহৃত অ্যামেনিটি ব্যাগ ও কিট, খেলনা ও মাছ ধরার ড্রোন, হালকা কার্গো ড্রোন, জুতা ও জুতার উপকরণ, তাঁবু, চামড়াজাত পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, ক্যাম্পিং ফার্নিচার, গ্রিনহাউস হাইড্রোপনিক তাঁবু, কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং গৃহস্থালি পণ্য।

বেপজার মতে, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং দ্রুত বিনিয়োগসেবা নিশ্চিত করার ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। অনেক বিদ্যমান বিনিয়োগকারীও ব্যবসা সম্প্রসারণে এগিয়ে আসছেন। উদাহরণ হিসেবে চীনের কাইশি গ্রুপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রথম কোম্পানি কাইশি লিঞ্জারি বাংলাদেশে ৬০ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান কাইশি গার্মেন্টস বাংলাদেশের মাধ্যমে আরও ৪০ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের জন্য নতুন লিজ চুক্তি করেছে।

সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বেপজা। কার্যকর মূলধন বাদ দিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেপজা অঞ্চলে মূলধনী যন্ত্রপাতি, নির্মাণসামগ্রী ও অন্যান্য সম্পদে ২৮৬ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ডলারের প্রকৃত বিনিয়োগ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) বেপজার এফডিআই নেট ইনফ্লো ছিল ২২১ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ডলার, যা একই সময়ে দেশের মোট এফডিআই নেট ইনফ্লোর ১৯ দশমিক ৬১ শতাংশ।

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও নতুন রেকর্ড গড়েছে বেপজা। অর্থবছরে সংস্থাটির আওতাধীন শিল্পাঞ্চলগুলোতে ২৫ হাজার ১৬৪ জন বাংলাদেশির নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে। এর ফলে ২০২৫ সালের জুন শেষে মোট কর্মসংস্থান ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫২৭ জন থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের জুন শেষে ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৬৯১ জনে পৌঁছেছে, যা বেপজার ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বেপজা আরও জানায়, বর্তমানে তাদের আওতায় বাণিজ্যিক উৎপাদনে থাকা ৪৫১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৩ শতাংশ তৈরি পোশাক, ১৮ শতাংশ পোশাকের আনুষঙ্গিক পণ্য এবং ৮ শতাংশ টেক্সটাইল খাতে কাজ করছে। 

বাকি ৪১ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বহুমুখী পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করছে। এসব পণ্য বর্তমানে বিশ্বের ১২৯টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে, যা বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের বৈচিত্র্য ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বর্তমানে বেপজার আওতায় আটটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) এবং একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এসব অঞ্চলে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং মোট রপ্তানি হয়েছে ১২৭ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার। বেপজার আওতায় বর্তমানে ৫৬৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫১টি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে এবং ১১৫টি বাস্তবায়নাধীন।