kalerkantho

বুধবার । ২৯ জানুয়ারি ২০২০। ১৫ মাঘ ১৪২৬। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

মুসলিম-বিরোধী দাঙ্গায় শ্রীলঙ্কায় নিহত ১, ফের কারফিউ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ মে, ২০১৯ ১৪:২২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মুসলিম-বিরোধী দাঙ্গায় শ্রীলঙ্কায় নিহত ১, ফের কারফিউ

শ্রীলঙ্কায় মুসলিম-বিরোধী দাঙ্গায় মসজিদের দরজা, জানালা ভেঙে ফেলা হয়

শ্রীলঙ্কায় মুসলিম-বিরোধী দাঙ্গায় একজন নিহত হয়েছেন। এদিকে, দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশে মসজিদ ও মুসলিমদের মালিকানাধীন দোকানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি বা কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত উত্তর-পশ্চিম প্রদেশে কারফিউ বহাল থাকবে।

শ্রীলঙ্কার সরকার দেশব্যাপী রাতভর চলা কারফিউ আংশিকভাবে প্রত্যাহার করলেও উত্তর-পশ্চিম প্রদেশে কারফিউ বহাল রেখেছে। 

জানা গেছে, ৪৫ বছর বয়সী এক মুসলিম ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরে তিনি মারা যান। 

বার্তা সংস্থা এএফপিকে পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তিকে তার কাঠের মিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে জনতা। এটা দেশটিতে দাঙ্গায় মৃত্যুর প্রথম ঘটনা। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রাজধানী কলম্বোর উত্তরের জেলায় বিশৃঙ্খলা চলছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কিনিয়ামার একটি মসজিদের দরজা, জানালা ভেঙে ফেলা হয়েছে। হেত্তিপোলা শহরেও নানা রকম বিশৃঙ্খলার ঘটছে। শহরটির অন্তত তিনটি দোকানে অগ্নিসংযোগ হয়েছে। 

নিহত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আমির মোহাম্মদ সালি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

এদিকে, টেলিভিশনে প্রচারিত এক বার্তায় পুলিশপ্রধান চন্দনা বিক্রমারত্নে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন। 

তিনি জানান, দাঙ্গাবাজদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করা হবে। 

প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহে গতকাল সোমবার সকালে জনগণকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, চলমান অস্থিতিশীলতার কারণে গত মাসের হামলার তদন্ত কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা শিরাল লাকথিলাকা বিবিসিকে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ'।

সরকারপক্ষ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা জনগণকে শান্ত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। অস্থিতিশীলতাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের গুজব যাতে না ছড়ায়, সে জন্য কর্মকর্তারা ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ বেশ কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মেসেজিং অ্যাপ বন্ধ করে দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২১ এপ্রিল খ্রিষ্টানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বোমা হামলা হয়। এরপর থেকে দেশটিতে মুসলিমদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা