গল্পের শুরুটা খুব সাধারণ। বাড়ির আশপাশে টেপ টেনিস ক্রিকেটে হাতেখড়ি। সঙ্গী অনূর্ধ্ব-১৮ দলে খেলা বড় ভাই। সেই ছোট্ট উঠানের ক্রিকেটই বদলে দিল মশিউর রহমানের জীবনের গতিপথ।
বাড়ির আশপাশে ব্যাট-বল নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানো ছেলেটি বড় স্বপ্ন দেখতেন। বড় ভাইয়ের সঙ্গে টেপ টেনিস ক্রিকেট খেলতে খেলতে একসময় বুঝে যান, তার একটা আলাদা প্রতিভা আছে। শুধু ব্যাটিং নয়, বোলিংয়েও কম যান না মশিউর। জেলা পর্যায়ের ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণও করেছেন তিনি।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী যেকোনো কিশোরের কাছে বিশেষ এক স্থান। মশিউরও শের-ই-বাংলার গ্যালারিতে বসে খেলা দেখেছেন বহুবার। স্বপ্ন দেখেছেন একদিন এই মাঠেই খেলার। সেই স্বপ্ন পূরণ হলো নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের হাত ধরে।
প্রথমবারের মতো শের-ই-বাংলায় খেলার সুযোগ পান মশিউর। সেখানেই বাজিমাত করেন রাজবাড়ীর এই ‘নতুন কুঁড়ি’। ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিপক্ষে খেলতে নেমে ম্যাচ জেতানো এক ইনিংস উপহার দেন মশিউর। ৩৭ বলে খেলেন ৯০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস, যেখানে ছিল ৮টি করে চার ও ছক্কার মার। তার ব্যাটিং তাণ্ডবে ভর করে নির্ধারিত ১০ ওভারে ফরিদপুর অঞ্চল তোলে ১৩৬ রান।
শুধু ব্যাটিংয়েই নয়, বোলিংয়েও দারুণ কার্যকর ছিলেন মশিউর। ২২ রান দিয়ে শিকার করেন ২ উইকেট। তার অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ৮৬ রানেই থেমে যায় ময়মনসিংহ অঞ্চল।
দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমকে পছন্দ মশিউরের। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার প্রথম পছন্দ নিউজিল্যান্ডের কেইন উইলিয়ামসন।
ম্যাচ শেষে মশিউর বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, দলকে জেতাতে পেরে ভালো লাগছে। আমার বাবা-মা গ্যালারি ছিলেন। আমি খুবই খুশি। আশা করি দলকে ফাইনালে তুলতে পারব।’
ফরিদপুর জেলা দলের কোচ তানভীর আহমেদ রাজিব বলেন, ‘দারুণ ইনিংস খেলেছে মশিউর। জেলা পর্যায়েও দারুণ করেছে। আশা করি নির্বাচকরা মশিউরকে বিবেচনায় রাখবেন।’
প্রতিভার নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা হয় না। রাজবাড়ী জেলা থেকে মিরপুরের মঞ্চ পর্যন্ত আসা মশিউর সেটার আরেকটি প্রমাণ। প্রয়োজন শুধু একটা সুযোগ। সেটি করে দিয়েছে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস।
এ কার্যক্রম তৃণমূলের প্রতিভাদের নিয়ে আসছে জাতীয় মঞ্চে। এতে মশিউরের মতো আরো অনেক সম্ভাবনাময় তরুণের দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা জেগেছে।




