• ই-পেপার

অবসরের আভাস দিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ

সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপ জিতেছেন কোন কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপ জিতেছেন কোন কোচ
বিশ্বকাপের কার্ডবোর্ড ট্রফিতে স্পেনের কোচ ফুয়েন্তের কাটআউট বানিয়ে উদযাপন করেছেন এক সমর্থক। ছবি: এএফপি

স্পেনকে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জেতানোর মধ্য দিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। ৬৫ বছর ২৬ দিন বয়সে বিশ্বকাপ জিতে তিনি এখন বিশ্বকাপজয়ী সবচেয়ে বয়স্ক কোচ।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে রবিবার রাতের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় স্পেন। এই জয়ের মাধ্যমে ফুয়েন্তে ভেঙে দেন স্পেনেরই সাবেক কোচ ও তার পূর্বসূরি ভিসেন্তে দেল বস্কের রেকর্ড। দেল বস্ক ২০১০ সালে ৫৯ বছর ১৯৭ দিন বয়সে স্পেনকে প্রথম বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন।

বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে ফুয়েন্তের সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হয়েছে আরেকটি পালক। এর আগে তার অধীনেই স্পেন ২০২৩ সালে উয়েফা নেশন্স লিগ এবং ২০২৪ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল। 

fuente
বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে লুইস দে লা ফুয়েন্তে। ছবি: সংগৃহীত

ফাইনালের পর আবেগাপ্লুত ফুয়েন্তে বলেন, ‘এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি ঐক্য। খেলোয়াড়রা নিজেদের স্বার্থের আগে সবসময় দলকে গুরুত্ব দিয়েছে। এই মানসিকতাই শেষ পর্যন্ত স্পেনকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করেছে।’

শুধু বিশ্বকাপ জয়ই নয়, ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন দুর্দান্ত ধারাবাহিকতাও বজায় রেখেছে। বিশ্বকাপ জয়ের পর দলটি টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলে কোনো দলের সর্বোচ্চ। স্পেন ভেঙে দিয়েছে ইতালির (৩৭ ম্যাচ অপরাজিত ছিল) রেকর্ড। 

‘বুড়ো বয়সে’ বিশ্বকাপ জিতে ফুয়েন্তে প্রমাণ করেছেন অভিজ্ঞতা, ধৈর্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকলে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চও জয় করা সম্ভব। 

সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপ জেতা কোচ 

লুইস দে লা ফুয়েন্তে  (স্পেন, ২০২৬) ➟ ৬৫ বছর ২৬ দিন
ভিসেন্তে দেল বস্ক (স্পেন, ২০১০) ➟ ৫৯ বছর ১৯৭ দিন
দিদিয়ের দেশম (ফ্রান্স, ২০১৮) ➟ ৪৯ বছর ৩৩৯ দিন
ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার (জার্মানি, ১৯৯০) ➟ ৪৪ বছর ৩১৯ দিন
লিওনেল স্কালোনি (আর্জেন্টিনা, ২০২২) ➟ ৪৪ বছর ২২৯ দিন    

রাজবাড়ীর টেপ টেনিস ক্রিকেট থেকে মিরপুরের মঞ্চে মশিউর

ক্রীড়া প্রতিবেদক
রাজবাড়ীর টেপ টেনিস ক্রিকেট থেকে মিরপুরের মঞ্চে মশিউর
বাংলাদেশ দলের পেসার শরীফুল ইসলামের সঙ্গে মশিউর রহমান। ছবি : সংগৃহীত

গল্পের শুরুটা খুব সাধারণ। বাড়ির আশপাশে টেপ টেনিস ক্রিকেটে হাতেখড়ি। সঙ্গী অনূর্ধ্ব-১৮ দলে খেলা বড় ভাই। সেই ছোট্ট উঠানের ক্রিকেটই বদলে দিল মশিউর রহমানের জীবনের গতিপথ।

বাড়ির আশপাশে ব্যাট-বল নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানো ছেলেটি বড় স্বপ্ন দেখতেন। বড় ভাইয়ের সঙ্গে টেপ টেনিস ক্রিকেট খেলতে খেলতে একসময় বুঝে যান, তার একটা আলাদা প্রতিভা আছে। শুধু ব্যাটিং নয়, বোলিংয়েও কম যান না মশিউর। জেলা পর্যায়ের ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণও করেছেন তিনি।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী যেকোনো কিশোরের কাছে বিশেষ এক স্থান। মশিউরও শের-ই-বাংলার গ্যালারিতে বসে খেলা দেখেছেন বহুবার। স্বপ্ন দেখেছেন একদিন এই মাঠেই খেলার। সেই স্বপ্ন পূরণ হলো নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের হাত ধরে। 

প্রথমবারের মতো শের-ই-বাংলায় খেলার সুযোগ পান মশিউর। সেখানেই বাজিমাত করেন রাজবাড়ীর এই ‘নতুন কুঁড়ি’। ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিপক্ষে খেলতে নেমে ম্যাচ জেতানো এক ইনিংস উপহার দেন মশিউর। ৩৭ বলে খেলেন ৯০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস, যেখানে ছিল ৮টি করে চার ও ছক্কার মার। তার ব্যাটিং তাণ্ডবে ভর করে নির্ধারিত ১০ ওভারে ফরিদপুর অঞ্চল তোলে ১৩৬ রান। 

শুধু ব্যাটিংয়েই নয়, বোলিংয়েও দারুণ কার্যকর ছিলেন মশিউর। ২২ রান দিয়ে শিকার করেন ২ উইকেট। তার অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ৮৬ রানেই থেমে যায় ময়মনসিংহ অঞ্চল। 

দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমকে পছন্দ মশিউরের। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার প্রথম পছন্দ নিউজিল্যান্ডের কেইন উইলিয়ামসন। 

ম্যাচ শেষে মশিউর বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, দলকে জেতাতে পেরে ভালো লাগছে। আমার বাবা-মা গ্যালারি ছিলেন। আমি খুবই খুশি। আশা করি দলকে ফাইনালে তুলতে পারব।’

ফরিদপুর জেলা দলের কোচ তানভীর আহমেদ রাজিব বলেন, ‘দারুণ ইনিংস খেলেছে মশিউর। জেলা পর্যায়েও দারুণ করেছে। আশা করি নির্বাচকরা মশিউরকে বিবেচনায় রাখবেন।’

প্রতিভার নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা হয় না। রাজবাড়ী জেলা থেকে মিরপুরের মঞ্চ পর্যন্ত আসা মশিউর সেটার আরেকটি প্রমাণ। প্রয়োজন শুধু একটা সুযোগ। সেটি করে দিয়েছে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস। 

এ কার্যক্রম তৃণমূলের প্রতিভাদের নিয়ে আসছে জাতীয় মঞ্চে। এতে মশিউরের মতো আরো অনেক সম্ভাবনাময় তরুণের দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা জেগেছে। 

আন্তর্জাতিক কাবাডি

এক ম্যাচ বাকি রেখেই নেপালের বিপক্ষে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক
এক ম্যাচ বাকি রেখেই নেপালের বিপক্ষে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ
বাংলাদেশ-নেপাল ম্যাচের একটি মুহূর্ত। ছবি : মীর ফরিদ

রাজধানীর পল্টনে জাতীয় কাবাডি স্টেডিয়ামে চতুর্থ ম্যাচে নেপালকে ৩৪-২২ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই (৩-১) সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল।

সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে শুরু থেকেই মরিয়া হয়ে নামে নেপাল। ম্যাচের প্রথমার্ধে আক্রমণাত্মক খেলা উপহার দিয়ে তারা শুরুতে ৮-৪ পয়েন্টে এগিয়েও গিয়েছিল। তবে দমে যায়নি স্বাগতিক মেয়েরা। 

দারুণ কিছু বোনাস পয়েন্ট আদায় করে দ্রুত ব্যবধান কমিয়ে আনে বাংলাদেশ। এরপর ট্যাকল আর রেইডে মুন্সিয়ানা দেখিয়ে লিড নেয় এবং ১৩-১১ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধের খেলা শেষ করে।  

বিরতির পর নেপাল ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালালেও বাংলাদেশের কৌশলের সামনে টিকতে পারেনি। খেলার এক পর্যায়ে নেপালের এক খেলোয়াড়কে ‘সুপার ট্যাকল’ করে ২ পয়েন্ট তুলে নেয় বাংলাদেশ, যার ফলে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ২১-১৫ পয়েন্টে। এরপর মেবি চাকমার দুর্দান্ত এক ‘সুপার রেইড’ থেকে আসে আরো ৩ পয়েন্ট।

ঠিক পরপরই সফরকারী নেপালকে ‘অলআউট’ করে ম্যাচে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৩৪-২২ পয়েন্টের দাপুটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদে ম্যাচসেরা হয়েছেন বাংলাদেশের বৃষ্টি বিশ্বাস। খেলা শেষে পুরস্কার তুলে দেন কাবাডি ফেডারেশনের নতুন সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার। এ সময় আররো উপস্থিত ছিলেন কাবাডি ফেডারেশনের দুই যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু ও নাসির আহমেদ সাজু এবং ভলিবল ফেডারেশনের সহসভাপতি বিমল ঘোষ ভুলু।

আগামী বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) একই ভেন্যুতে সিরিজের পঞ্চম ও নিয়মরক্ষার শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-নেপাল।

অতীত ভুলে বাংলাদেশে খেলতে আসবে ভারত, বিশ্বাস ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

ক্রীড়া প্রতিবেদক
অতীত ভুলে বাংলাদেশে খেলতে আসবে ভারত, বিশ্বাস ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর
আগস্টে বাংলাদেশে আসার কথা ভারতীয় দলের। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল চেষ্টার ত্রুটি রাখছেন না। একই কাজ করে যাচ্ছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। নিজেদের জায়গা থেকে তারা প্রত্যেকেই ভারতকে বাংলাদেশ সফরে রাজি করানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। 

তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলতে আগস্টের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশে আসার কথা ভারতীয় ক্রিকেট দলের। ম্যাচগুলো হওয়ার কথা সেপ্টেম্বরে। গত বছর এই সিরিজ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং দুই দেশের সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ায় ভারত এক বছরের জন্য সিরিজ পিছিয়ে দেয়। 

তাই এবারের সিরিজ বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসার বড় সুযোগ হতে পারে এটি। এ কারণে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকেই চলছে চেষ্টা। 

State Minister Aminul
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ছবি: সংগৃহীত

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের আশা, অতীতের তিক্ততা ভুলে ভারত বাংলাদেশে এসে খেলবে। আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মিরপুরের সুইমিং কমপ্লেক্সে সাংবাদিকদের আমিনুল হক বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্রীড়া কূটনীতিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ক্রিকেট আমাদের একটি মর্যাদার জায়গা। ক্রিকেট যেহেতু আমাদের বিশ্ব ক্রিকেটে অত্যন্ত সুদৃঢ় একটি অবস্থান আছে, সে ক্ষেত্রে বিগত সময়ের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে, বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে একটি টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ভারত বাংলাদেশে আসবে। ইতিমধ্যে আমি ভারতের দূতাবাসে কথা বলেছি, তারাও আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়। মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর থেকে দুই ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যকার দূরত্ব আরো বেড়ে যায়। এর প্রতিবাদে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

আমিনুল আরো বলেন, পেছনের কথা ভুলে সামনে এগোতে হবে, ‘বিগত সময়ের ছোট্ট একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে একটা টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছিল, আমি মনে করি সেটিকে কাটিয়ে উঠে আমরা সুন্দরভাবে পার্শ্ববর্তী সব দেশের সঙ্গেই আমাদের যে ক্রীড়া কূটনীতি, আমাদের যে যোগাযোগ, সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলমান থাকবে।’

বিসিবির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৮ আগস্ট বাংলাদেশে আসার কথা রোহিত-কোহলি-বুমরাদের। সব ঠিক থাকলে মিরপুরে তিনটি ওয়ানডে হবে ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর। চট্টগ্রামে তিটি টি-টোয়েন্টি হবে ৯, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর। 

বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে বিসিসিআই সভাপতি মিঠুন মানহাসের সম্পর্ক বেশ দারুণ। তবে বাংলাদেশে দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত মিঠুনের বোর্ড একা নিতে পারবে না। নরেন্দ্র মোদি সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় থাকতে হবে তাদের। 

ভারতের একটি সফর যেকোনো দেশের ক্রিকেট অর্থনীতির জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মনে করেন, বোর্ডের এক বছরের সিরিজে যতটা না আয় হয়, ভারতের বিপক্ষে এক সিরিজেই এর চেয়ে দ্বিগুণ আয় করা যায়। 

ভারতের বিশাল বাজারের সঙ্গে সিরিজের পৃষ্ঠপোষক, টিকিট, স্টেডিয়ামের বাণিজ্যিক স্বত্ব এবং অন্য অনেক কিছু বিক্রি করে প্রচুর আয় করতে পারে আয়োজকরা।