• ই-পেপার

বেলজিয়ামের বিপক্ষে ইতিহাস ফেরানোর লড়াই যুক্তরাষ্ট্রের

ম্যাচের আগে তীব্র গরম নিয়ে স্বস্তির খবর আর্জেন্টিনা শিবিরে

ক্রীড়া ডেস্ক
ম্যাচের আগে তীব্র গরম নিয়ে স্বস্তির খবর আর্জেন্টিনা শিবিরে
এটি মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম, এই স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা মিশরের মুখোমুখি হবে। ছবি : টিওয়াইসি স্পোর্টস

আর কয়েক ঘণ্টা পর শেষ ষোলোর নকআউট ম্যাচে মিসরের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। জমজমাট লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে স্বস্তির খবর আর্জেন্টিনা শিবিরে। ম্যাচটিতে তীব্র গরম আর অদৃশ্য প্রতিপক্ষ হবে না আলবেসিলেস্তাদের। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, তাই আবহাওয়া কোনো সমস্যা হবে না।  

আর্জেন্টিনার ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ‘টিওয়াইসি স্পোর্টসে’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে গ্রুপ পর্বে ডালাসে অস্ট্রিয়া এবং জর্ডানের বিরুদ্ধে জয়ের সময়কার মতোই, এই ভেন্যু শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে। তাই তাপ (দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩° সেলসিয়াস পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে) নিয়ে কোনো উদ্বেগের কারণ হবে না।

রাউন্ড অব ৩২ এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়ের ম্যাচে আর্জেন্টিনা মিয়ামির আর্দ্রতা ও গরমে বেশ ভুগেছিল। যার ফলে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় পেশিতে টান অনুভব করেন। এতে দলের লেফট-ব্যাক ফাকুন্দো মেদিনা এবং মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। মিসরের বিপক্ষে এই সমস্যাটা ভুগতে হবে না দলটিকে। এতে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা ক্লান্তিহীনভাবে খেলতে পারবে। সেইসঙ্গে নিজেদের শতভাগ পারফরমেন্স করতে পারবে ম্যাচটিতে।

 যদিও নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচই কঠিন হবে বলে মনে হচ্ছে। এতে দলগুলোর নিশ্চিন্ত থাকার কোনো সুযোগ নেই, তবু আবহাওয়ার কারণে অতিরিক্ত ক্লান্তি আসবে না—এই বিষয়টিই লিওনেল স্কালোনির দলের জন্য ইতিমধ্যেই একটি সুখবর।

৩৯তম জন্মদিন পালন করা হলো না আফগান পেসার শাপুর জাদরানের

ক্রীড়া ডেস্ক
৩৯তম জন্মদিন পালন করা হলো না আফগান পেসার শাপুর জাদরানের
ছবি : রয়টার্স

বিরল এক রোগে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর দিল্লির এক হাসপাতালে মারা গেলেন আফগানিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম পথিকৃৎ এবং সাবেক পেস বোলার শাপুর জাদরান। একদিন পরেই ৩৯ বছরে পর্দাপন করতেন আফগানদের এই তারকা পেসার।  

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) স্যোশাল প্ল্যাটফর্মে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। এতে আফগান ক্রিকেটে নেমে আসে এক শোকের ছায়া।

জাদরান চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে নিবিড় চিকিৎসাধীন ছিলেন এই পেসার। গত বছরের অক্টোবরে নিজ দেশে প্রথম অসুস্থ বোধ করার পর তার ভাই গামাই জাদরান ও সাবেক অধিনায়ক আসগর আফগান তার সঙ্গে ভারতে এসেছিলেন।

বিবৃতিতে এসিবি জানায়, গভীর শোক ও দুঃখের সঙ্গে আমরা আফগানিস্তানের সাবেক পেসার শাপুর জাদরানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি।

আফগানিস্তান ক্রিকেটের শুরুর দিকের অন্যতম পথিকৃৎ পেসার ছিলেন জাদরান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলটির উত্থানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি আফগানিস্তানের হয়ে একদিনের আন্তর্জাতিক (ওয়ানডে) ও টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক—উভয় সংস্করণেই প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং গতিময় ও আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের জন্য পরিচিত ছিলেন।

জাদরান ছিলেন সেই প্রজন্মের সদস্য, যাদের হাত ধরে আফগানিস্তান প্রথমবারের মতো ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জায়গা পায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আফগানিস্তানকে প্রতিযোগিতামূলক দলে পরিণত করার পথচলায় তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

জানা যায়, এই বাঁহাতি পেসার দীর্ঘ দিন ধরে ‘হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস’ নামক একটি বিরল রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন। 

কিছুটা সুস্থ হলে হাসপাতাল থেকে হোটেলে স্থানান্তর করা হয় এই ক্রিকেটারকে। তিন সপ্তাহ সুস্থ থাকার পর শাপুর জাদরানের শরীরে পুনরায় মারাত্মক ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পুনরায় আইসিইউতে নেওয়া হলে, ৩৯তম জন্মদিনের এক দিন আগে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন শাপুর জাদরান। এতে দীর্ঘ ২২ বছরের ক্রিকেপ ক্যারিয়ারের সমাপ্তি হয় এই পেসারের। ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া এই পেসার দেশের হয়ে ৪৪টি ওডিআই এবং ৩৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। ২০২০ সালে তিনি নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেললেও ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যান। ২০২২ সালে ক্যারিয়ারের শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচটি খেলেন তিনি। আফগান ক্রীড়াঙ্গনের এক নির্ভীক অগ্রদূত হিসেবে তিনি যে গৌরবময় অবদান রেখে গেছেন, তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এবার এমবাপ্পেকে সিনেটরের হুমকি, ‘তোমার কোনো ধারণাই নেই আমি কে’

ক্রীড়া ডেস্ক
এবার এমবাপ্পেকে সিনেটরের হুমকি, ‘তোমার কোনো ধারণাই নেই আমি কে’
এমবাপ্পেকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন প্যারাগুয়ের সিনেটর। ছবি : রয়টার্স

মাঠের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে অনেক ‘হুমকিই’ পেয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে এবার মাঠের বাইরে ভিন্ন এক হুমকি পেলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। ক্ষমা না চাইলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন প্যারাগুয়ের সিনেটর চেলেস্টে আমারিলা।

অনেকটা চোরের মায়ের বড় গলার মতো। কেননা এই সিনেটরই এমবাপ্পেকে উদ্দেশ্যে করে বর্ণবাদী মন্তব্যে করেন। ফরোয়ার্ডকে ‘উপনিবেশিত ক্যামেরুনীয় ফরাসি’ ও ‘কুৎসিত’ বলে সংবোধন করেন আমারিলা। তার জবাব দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা। শুধু এমবাপ্পে নন, তীব্র প্রতিবাদ জানান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ প্যারাগুয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পেড্রো আলিয়ানাও। এমবাপ্পে তার জবাবে আমারিলাকে বলেন, ‘আপনি একজন ঘৃণ্য নারী এবং এই পদের অযোগ্য।’ 

সেটারই প্রতি উত্তরে এমাবাপ্পেকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন আমারিলা। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া তার পোস্টটি হুবহু নিচে তুলে ধরা হলো— 

‘সমস্যাটা তোমার সঙ্গে আমার। আমি কখনোই ফ্রান্সের বিরুদ্ধে কিছু বলিনি। আমি তোমাদের (ফ্রান্স) পাশেই আছি। দুই থেকে সতেরো বছর বয়স পর্যন্ত একটি ফরাসি স্কুলে পড়াশোনা করেছি এবং সেখানেই আমার স্কুলজীবন শেষ করেছি। আমি আজ যা হতে পেরেছি তা ‘কলেজ দে ল’ইনমাকুলে কনসেপসিওন’-এর কল্যাণে। আমি আজ যেখানে পৌঁছেছি তা এই প্রতিষ্ঠানের দেওয়া শিক্ষার কারণেই। আমরা লা মার্সেই (ফ্রান্সের জাতীয় সংগীত) গাইতাম এবং আমাদের নিজেদের পতাকার পাশাপাশি ফরাসি পতাকাকে সম্মান জানাতাম। আমি ফরাসি ভাষায় কথা বলি এবং ফ্রান্সে বেড়াতে যেতে পছন্দ করি। গত ক্রিসমাস আমি আমার পরিবারের সাথে কুরশেভেলে কাটিয়েছি এবং সেন্ট-ট্রোপেজে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছি। এর সাথে ফ্রান্সের কোনো সম্পর্ক নেই; সমস্যাটা তোমার সাথে।

ম্যাচের আগে থেকেই তোমার অহংকার এবং অবজ্ঞা আমার বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যখন তুমি বলেছিলে—আমাদের যদি হাত নোংরা করতে হয়, তবে হাত নোংরাই করব। আমরা বোকা নই; আমরা খুব ভালো করেই বুঝি তুমি প্যারাগুয়ে দলকেই নোংরা বা সস্তা বোঝাতে চেয়েছ, আর আমরা সবাই মিলেই তো প্যারাগুয়ে দল। এরপর তুমি বলেছিলে তারা মেকআপ তুলে ফেলবে। আমরা সেটাও বুঝি, মেকআপে আপনাকে কত মার্জিত দেখায়, আর আমরা এতটাই দরিদ্র ও রুক্ষ যে মেকআপ কী জিনিস তা-ই জানি না। আমারসহ পুরো প্যারাগুয়েবাসী তখন চুপ ছিল। আমরা তা মুখ বুজে সহ্য করেছি।

ম্যাচ চলাকালীন তোমার অহংকারী আচরণ স্পষ্ট ছিল, প্রতিটি খেলোয়াড়ের প্রতি তোমার অবজ্ঞা এমন ছিল যেন তারা অত্যন্ত ঘৃণ্য। এমনকি মুখ না ঢেকেই যখন লাতিন আমেরিকার অত্যন্ত আক্রমণাত্মক একটি গালি দিলে, তুমি নিজেও জানো সেটি কতটা আপত্তিকর।

পরিশেষে, তুমি আমাদের গোলরক্ষকের প্রতি অবহেলা দেখিয়েছ। এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। ম্যাচের পর প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান অনেকটা পবিত্র বিষয়—যুদ্ধে যেমন, শান্তিতেও তেমন; পরাজয়ে যেমন, জয়েও তেমন। অথচ তুমি তার সাথে করমর্দন করনি এবং তার মুখের ওপর আপনার বিজয়ের উল্লাস প্রকাশ করেছ—এটি স্রেফ অগ্রহণযোগ্য। মাত্র এক সেকেন্ডের মধ্যে তোমার অবজ্ঞা, অহংকার এবং খারাপ আচরণ দেখিয়েছো। এটি আমাকে এবং আমার দেশকে গভীরভাবে আঘাত করেছে। ফ্রান্সের উচিত তোমার কাছ থেকে এর জবাবদিহিতা চাওয়া। কারণ ফ্রান্স বীর ও ভদ্রলোকদের দেশ, যার রয়েছে শত বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। এই আচরণের জন্য ফ্রান্সের অবশ্যই তোমাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত।

আমার পোস্টগুলো ছিল টগবগে রক্তে ভরা, সেই মিশ্র রক্ত—যা আমার শিরায় প্রবাহিত হওয়া স্প্যানিশ রক্তের সাথে আদিবাসী রক্তের এক সুন্দর মিশ্রণ। আজ তুমি যখন সেই মহান প্যারাগুয়েন খেলোয়াড়দের উপহাস করছিলে, যারা ম্যাচের শেষ পর্যন্ত সমানে সমানে লড়াই করেছে, তখন আমি সেই আবেগ থেকেই লিখেছিলাম। তবে, আমি যে ধরনের গালাগাল বা অপমানের শিকার হই, ঠিক একই রকম ভাষায় তোমাকে আক্রমণ করার জন্য আমার সাথে সাথেই অনুশোচনা হয়। কারণ মিশ্র জাতি এবং লাতিনা হওয়ার কারণে আমাকেও অবজ্ঞা করা হয়, ‘নোংরা’ বলে ডাকা হয়। আমি পরে অনুতপ্ত হয়ে পোস্টটি মুছে দিই। আমি বুঝতে পারি যে আমি নিজেই সেই আচরণগুলোর পুনরাবৃত্তি করছিলাম যা ঘৃণা করি, তাই আমি এটি সরিয়ে ফেলি। আমি বুঝি এটি তোমাকেও হয়তো বিব্রত করেছে, কারণ বিষয়টি সত্যিই অপমানজনক।

এখন, আমি দাবি করছি তুমি তোমার বক্তব্য প্রত্যাহার কর এবং আমার কাছে ক্ষমা চাও। তোমার এই মানসিক বা বাচনিক সহিংসতা আমিও সহ্য করব না। তুমি আমাকে চেনো না, আমি কে সে সম্পর্কে তোমার কোনো ধারণাই নেই। আর যে পদের দায়িত্বে আছি তার জন্য আমি একজন অযোগ্য বা ঘৃণ্য নারী—এ কথা বলার কোনো অধিকার তোমার নেই। আমি প্যারাগুয়ে প্রজাতন্ত্রের একজন নির্বাচিত সিনেটর, যাকে জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। এর আগে আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন জাতীয় ডেপুটি ছিলাম। হাজার হাজার প্যারাগুয়েন আমাকে ভোট দিয়েছেন এবং আমাকে তাদের কণ্ঠস্বর মনে করেন। প্যারাগুয়ের জনগণের পক্ষে কথা বলা, তাদের নীরবতার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা এবং নিজের জীবন দিয়ে দেশকে রক্ষা করাই আমার প্রধান দায়িত্ব। আমার কাছ থেকে এটাই প্রত্যাশিত।

 

আমি মুক্ত ও স্বাধীন নির্বাচনে জয়ী হয়ে আমার দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। আইন প্রণয়ন এবং দেশের কণ্ঠস্বর হওয়ার জন্য আমি নির্বাচিত হয়েছি। দেশকে রক্ষা করার জন্য বা জনগণের কণ্ঠস্বর হওয়ার জন্য নির্বাচিত হওয়ার গুরুত্ব কী, সে সম্পর্কে তোমার বিন্দুমাত্র ধারণা নেই। আমি একজন ন্যাশনাল সিনেটর নির্বাচিত হয়েছি; আমি জানি না আমার এই পদের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারছো কি না।

আমাকে না চিনেও অযোগ্য বা ঘৃণ্য বলার তুমি কে? এটি পুরোপুরি একটি লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা! জনগণের ভোটে এই অবস্থানে আসা একজন নারীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সহিংসতা। তুমি মূলত আমার লিঙ্গের কারণেই আমাকে অবজ্ঞা করছো; আমি একজন নারী বলেই অপমান করেছ। তুমি শুধু আমার গায়ের রঙ, পছন্দ, নারী হিসেবে আমার মর্যাদা বা রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর আঘাত করছ না। তোমার বক্তব্য প্রত্যাহার করে ফরাসি নাগরিকত্বের মর্যাদা রক্ষা কর এবং ক্ষমা চাও। অন্যথায় লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার জন্য আমি তোমার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারি।’

হলুদ সমুদ্রে নিশীথের সূর্য হালান্ড

নাজমুস সায়াদাত
হলুদ সমুদ্রে নিশীথের সূর্য হালান্ড
ম্যাচ জয়ের হাসিই কি ফ্রেমবন্দি করছেন হালান্ড। ছবি : রয়টার্স

ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হতে তখন কয়েক সেকেন্ড বাকি। ডি বক্সের ঠিক বাইরে আন্দ্রেস শেলডেরাপের বাড়ানো বল ডান পায়ে রিসিভ করেন এক নরওয়েজিয়ান।

বাঁ পায়ে টোকা দিয়ে এগিয়ে নিয়েই জোরালো শট; ফিনিশিংয়ে বল খুঁজে পায় আপন ঠিকানা। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযানের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে সোনালি চুলের বাঁধন খুলে দুই হাত ছড়িয়ে দেন আর্লিং হালান্ড। নেই পাগলাটে উদযাপন, যেন শুধু নিজের কাজটুকু শেষ করে জানিয়ে দেওয়া—আজকের দিনটা শুধুই আমার। গ্যালারির হলুদ সমুদ্রের পাথর নীরবতা ভেদ করে ‘ভাইকিং’ হালান্ড যেন তখন বিজয়ের নরওয়েজিয়ান পতাকাই গেঁথে ফেলেন মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।

হালান্ড প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের সঙ্গে লড়াই করেন, দৌড়ান আবার হারিয়েও যান। অনেক সময় মনে হয়, তিনি নেই। কিন্তু হালান্ড কখনো ম্যাচ থেকে হারিয়ে যান না, শুধু সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। ব্রাজিলের বিপক্ষেও প্রথমার্ধে মাত্র ১০ বার বলের ছোঁয়া পেয়েছেন তিনি; শুরুর একাদশে থাকা দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে যা সবচেয়ে কম।

ফলে প্রথম ৪৫ মিনিটে সাফল্যেরও মুখ দেখেনি নরওয়ে। ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা হয়তো ভেবেছিলেন, হালান্ড বল না পেলেই কোনো বিপদ আর ডানা মেলবে না। অথচ বল নয়, হালান্ডের সবচেয়ে বড় অস্ত্র তো অপেক্ষা। যখনই সুযোগ পেয়েছেন, তখনই আঘাত হেনেছেন। হালান্ডের জোড়া আঘাতেই ভেঙে চুরমার ফুটবলের লাতিন দুর্গ।

সেটি ভাঙল কখন? ম্যাচের অন্তিমে। এমনিতেই নরওয়েকে বলা হয় নিশীথ সূর্যের দেশ। হালান্ড যেন সেই দেশের সার্থক প্রতিনিধি হয়ে ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে গোলের ঝলকে স্তব্ধ করে দেন গোটা বিশ্বকে।

এমন একটি কথা প্রচলিত আছে যে স্ট্রাইকাররা ৮০ মিনিট নিজেকে হারিয়ে খুঁজলেও শেষ ১০ মিনিটের জাদুতে পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে জানেন। ব্রাজিল ম্যাচের হালান্ড এর জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। মাঠের ঘড়িতে তখন ৭৮ মিনিট। গ্যালারিতে তখনো ঢাক বাজাচ্ছে ব্রাজিল সমর্থকরা। হলুদ জার্সির ঢেউয়ে মনে হচ্ছে, ম্যাচটা যেন ধীরে ধীরে তাদের দিকেই হেলে পড়ছে। নরওয়ে শুধু লড়াই করে যাচ্ছে, বলের দখলে ঢের এগিয়ে থাকলেও আক্রমণ হাতে গোনা। অথচ হালান্ড তখনো নিশ্চুপ। অবশেষে সুযোগ আসে, মাত্র ১১ মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে কেড়ে নেন সব আলো, যার প্রথমটি ছিল সময়জ্ঞান, শক্তি আর হেডিং দক্ষতার এক অসাধারণ প্রদর্শনী। আর দ্বিতীয়টি ছিল নিখাদ নিষ্ঠুরতা, ডি বক্সের বাইরে থেকে তাঁর বজ্রগতির শট ভেঙে দিয়েছে সাম্বা সাম্রাজ্যের মূল ফটক। তাতেই অস্তমিত হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ‘হেক্সা’ জয়ের স্বপ্ন।

ব্রাজিলকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছেন নিশীথ সূর্যের দেশের প্রতিনিধিরা। তাই তো ম্যাচ শেষে নরওয়ের কোচ স্টালে সোলবাকেন এটিকে দেশের ফুটবল ইতিহাসের ‘সর্বশ্রেষ্ঠ দিন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। আর হালান্ড বলেছেন, ‘এটি নরওয়ের ইতিহাসের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য দিনগুলোর একটি।’ ব্রাজিলকে হারানো শুধু একটি স্কোরলাইন নয়, এটি একটি নতুন ফুটবল শক্তির জন্মের রাতও, যে রাতে অসলোর রাস্তায় নেমে এসেছিল হাজারো মানুষ, রাজপ্রাসাদের চত্বরে লেগেছিল উৎসবের রং। যে রং ছুঁয়ে গেছে স্বয়ং ক্রাউন প্রিন্সকেও। তাই তো গলায় লাল স্কার্ফ জড়িয়ে মধ্যরাতে হাত নেড়েছেন রাজপ্রাসাদের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে, যেন দুটি গোল, স্বপ্নের জয় এবং একটি জাতির উল্লাস মিলেমিশে তৈরি হয়েছে নতুন এক ফুটবল উপাখ্যান। আর সেই উপাখ্যানের প্রথম পাতায় বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে একটি নাম—আর্লিং হালান্ড।

সামনে আরো বড় চ্যালেঞ্জ, কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের অপেক্ষায় শক্তিশালী ইংল্যান্ড। তবে ব্রাজিলকে হারানোর পর প্রিয় শিষ্যের কাঁধে চড়ে নিশ্চয়ই ইংলিশ বাধাও পেরোতে চাইবেন স্টালে সোলবাকেন।