• ই-পেপার

৩৯তম জন্মদিন পালন করা হলো না আফগান পেসার শাপুর জাদরানের

এবার এমবাপ্পেকে সিনেটরের হুমকি, ‘তোমার কোনো ধারণাই নেই আমি কে’

ক্রীড়া ডেস্ক
এবার এমবাপ্পেকে সিনেটরের হুমকি, ‘তোমার কোনো ধারণাই নেই আমি কে’
এমবাপ্পেকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন প্যারাগুয়ের সিনেটর। ছবি : রয়টার্স

মাঠের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে অনেক ‘হুমকিই’ পেয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে এবার মাঠের বাইরে ভিন্ন এক হুমকি পেলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। ক্ষমা না চাইলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন প্যারাগুয়ের সিনেটর চেলেস্টে আমারিলা।

অনেকটা চোরের মায়ের বড় গলার মতো। কেননা এই সিনেটরই এমবাপ্পেকে উদ্দেশ্যে করে বর্ণবাদী মন্তব্যে করেন। ফরোয়ার্ডকে ‘উপনিবেশিত ক্যামেরুনীয় ফরাসি’ ও ‘কুৎসিত’ বলে সংবোধন করেন আমারিলা। তার জবাব দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা। শুধু এমবাপ্পে নন, তীব্র প্রতিবাদ জানান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ প্যারাগুয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পেড্রো আলিয়ানাও। এমবাপ্পে তার জবাবে আমারিলাকে বলেন, ‘আপনি একজন ঘৃণ্য নারী এবং এই পদের অযোগ্য।’ 

সেটারই প্রতি উত্তরে এমাবাপ্পেকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন আমারিলা। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া তার পোস্টটি হুবহু নিচে তুলে ধরা হলো— 

‘সমস্যাটা তোমার সঙ্গে আমার। আমি কখনোই ফ্রান্সের বিরুদ্ধে কিছু বলিনি। আমি তোমাদের (ফ্রান্স) পাশেই আছি। দুই থেকে সতেরো বছর বয়স পর্যন্ত একটি ফরাসি স্কুলে পড়াশোনা করেছি এবং সেখানেই আমার স্কুলজীবন শেষ করেছি। আমি আজ যা হতে পেরেছি তা ‘কলেজ দে ল’ইনমাকুলে কনসেপসিওন’-এর কল্যাণে। আমি আজ যেখানে পৌঁছেছি তা এই প্রতিষ্ঠানের দেওয়া শিক্ষার কারণেই। আমরা লা মার্সেই (ফ্রান্সের জাতীয় সংগীত) গাইতাম এবং আমাদের নিজেদের পতাকার পাশাপাশি ফরাসি পতাকাকে সম্মান জানাতাম। আমি ফরাসি ভাষায় কথা বলি এবং ফ্রান্সে বেড়াতে যেতে পছন্দ করি। গত ক্রিসমাস আমি আমার পরিবারের সাথে কুরশেভেলে কাটিয়েছি এবং সেন্ট-ট্রোপেজে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছি। এর সাথে ফ্রান্সের কোনো সম্পর্ক নেই; সমস্যাটা তোমার সাথে।

ম্যাচের আগে থেকেই তোমার অহংকার এবং অবজ্ঞা আমার বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যখন তুমি বলেছিলে—আমাদের যদি হাত নোংরা করতে হয়, তবে হাত নোংরাই করব। আমরা বোকা নই; আমরা খুব ভালো করেই বুঝি তুমি প্যারাগুয়ে দলকেই নোংরা বা সস্তা বোঝাতে চেয়েছ, আর আমরা সবাই মিলেই তো প্যারাগুয়ে দল। এরপর তুমি বলেছিলে তারা মেকআপ তুলে ফেলবে। আমরা সেটাও বুঝি, মেকআপে আপনাকে কত মার্জিত দেখায়, আর আমরা এতটাই দরিদ্র ও রুক্ষ যে মেকআপ কী জিনিস তা-ই জানি না। আমারসহ পুরো প্যারাগুয়েবাসী তখন চুপ ছিল। আমরা তা মুখ বুজে সহ্য করেছি।

ম্যাচ চলাকালীন তোমার অহংকারী আচরণ স্পষ্ট ছিল, প্রতিটি খেলোয়াড়ের প্রতি তোমার অবজ্ঞা এমন ছিল যেন তারা অত্যন্ত ঘৃণ্য। এমনকি মুখ না ঢেকেই যখন লাতিন আমেরিকার অত্যন্ত আক্রমণাত্মক একটি গালি দিলে, তুমি নিজেও জানো সেটি কতটা আপত্তিকর।

পরিশেষে, তুমি আমাদের গোলরক্ষকের প্রতি অবহেলা দেখিয়েছ। এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। ম্যাচের পর প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান অনেকটা পবিত্র বিষয়—যুদ্ধে যেমন, শান্তিতেও তেমন; পরাজয়ে যেমন, জয়েও তেমন। অথচ তুমি তার সাথে করমর্দন করনি এবং তার মুখের ওপর আপনার বিজয়ের উল্লাস প্রকাশ করেছ—এটি স্রেফ অগ্রহণযোগ্য। মাত্র এক সেকেন্ডের মধ্যে তোমার অবজ্ঞা, অহংকার এবং খারাপ আচরণ দেখিয়েছো। এটি আমাকে এবং আমার দেশকে গভীরভাবে আঘাত করেছে। ফ্রান্সের উচিত তোমার কাছ থেকে এর জবাবদিহিতা চাওয়া। কারণ ফ্রান্স বীর ও ভদ্রলোকদের দেশ, যার রয়েছে শত বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। এই আচরণের জন্য ফ্রান্সের অবশ্যই তোমাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত।

আমার পোস্টগুলো ছিল টগবগে রক্তে ভরা, সেই মিশ্র রক্ত—যা আমার শিরায় প্রবাহিত হওয়া স্প্যানিশ রক্তের সাথে আদিবাসী রক্তের এক সুন্দর মিশ্রণ। আজ তুমি যখন সেই মহান প্যারাগুয়েন খেলোয়াড়দের উপহাস করছিলে, যারা ম্যাচের শেষ পর্যন্ত সমানে সমানে লড়াই করেছে, তখন আমি সেই আবেগ থেকেই লিখেছিলাম। তবে, আমি যে ধরনের গালাগাল বা অপমানের শিকার হই, ঠিক একই রকম ভাষায় তোমাকে আক্রমণ করার জন্য আমার সাথে সাথেই অনুশোচনা হয়। কারণ মিশ্র জাতি এবং লাতিনা হওয়ার কারণে আমাকেও অবজ্ঞা করা হয়, ‘নোংরা’ বলে ডাকা হয়। আমি পরে অনুতপ্ত হয়ে পোস্টটি মুছে দিই। আমি বুঝতে পারি যে আমি নিজেই সেই আচরণগুলোর পুনরাবৃত্তি করছিলাম যা ঘৃণা করি, তাই আমি এটি সরিয়ে ফেলি। আমি বুঝি এটি তোমাকেও হয়তো বিব্রত করেছে, কারণ বিষয়টি সত্যিই অপমানজনক।

এখন, আমি দাবি করছি তুমি তোমার বক্তব্য প্রত্যাহার কর এবং আমার কাছে ক্ষমা চাও। তোমার এই মানসিক বা বাচনিক সহিংসতা আমিও সহ্য করব না। তুমি আমাকে চেনো না, আমি কে সে সম্পর্কে তোমার কোনো ধারণাই নেই। আর যে পদের দায়িত্বে আছি তার জন্য আমি একজন অযোগ্য বা ঘৃণ্য নারী—এ কথা বলার কোনো অধিকার তোমার নেই। আমি প্যারাগুয়ে প্রজাতন্ত্রের একজন নির্বাচিত সিনেটর, যাকে জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। এর আগে আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন জাতীয় ডেপুটি ছিলাম। হাজার হাজার প্যারাগুয়েন আমাকে ভোট দিয়েছেন এবং আমাকে তাদের কণ্ঠস্বর মনে করেন। প্যারাগুয়ের জনগণের পক্ষে কথা বলা, তাদের নীরবতার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা এবং নিজের জীবন দিয়ে দেশকে রক্ষা করাই আমার প্রধান দায়িত্ব। আমার কাছ থেকে এটাই প্রত্যাশিত।

 

আমি মুক্ত ও স্বাধীন নির্বাচনে জয়ী হয়ে আমার দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। আইন প্রণয়ন এবং দেশের কণ্ঠস্বর হওয়ার জন্য আমি নির্বাচিত হয়েছি। দেশকে রক্ষা করার জন্য বা জনগণের কণ্ঠস্বর হওয়ার জন্য নির্বাচিত হওয়ার গুরুত্ব কী, সে সম্পর্কে তোমার বিন্দুমাত্র ধারণা নেই। আমি একজন ন্যাশনাল সিনেটর নির্বাচিত হয়েছি; আমি জানি না আমার এই পদের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারছো কি না।

আমাকে না চিনেও অযোগ্য বা ঘৃণ্য বলার তুমি কে? এটি পুরোপুরি একটি লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা! জনগণের ভোটে এই অবস্থানে আসা একজন নারীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সহিংসতা। তুমি মূলত আমার লিঙ্গের কারণেই আমাকে অবজ্ঞা করছো; আমি একজন নারী বলেই অপমান করেছ। তুমি শুধু আমার গায়ের রঙ, পছন্দ, নারী হিসেবে আমার মর্যাদা বা রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর আঘাত করছ না। তোমার বক্তব্য প্রত্যাহার করে ফরাসি নাগরিকত্বের মর্যাদা রক্ষা কর এবং ক্ষমা চাও। অন্যথায় লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার জন্য আমি তোমার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারি।’

হলুদ সমুদ্রে নিশীথের সূর্য হালান্ড

নাজমুস সায়াদাত
হলুদ সমুদ্রে নিশীথের সূর্য হালান্ড
ম্যাচ জয়ের হাসিই কি ফ্রেমবন্দি করছেন হালান্ড। ছবি : রয়টার্স

ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হতে তখন কয়েক সেকেন্ড বাকি। ডি বক্সের ঠিক বাইরে আন্দ্রেস শেলডেরাপের বাড়ানো বল ডান পায়ে রিসিভ করেন এক নরওয়েজিয়ান।

বাঁ পায়ে টোকা দিয়ে এগিয়ে নিয়েই জোরালো শট; ফিনিশিংয়ে বল খুঁজে পায় আপন ঠিকানা। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযানের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে সোনালি চুলের বাঁধন খুলে দুই হাত ছড়িয়ে দেন আর্লিং হালান্ড। নেই পাগলাটে উদযাপন, যেন শুধু নিজের কাজটুকু শেষ করে জানিয়ে দেওয়া—আজকের দিনটা শুধুই আমার। গ্যালারির হলুদ সমুদ্রের পাথর নীরবতা ভেদ করে ‘ভাইকিং’ হালান্ড যেন তখন বিজয়ের নরওয়েজিয়ান পতাকাই গেঁথে ফেলেন মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।

হালান্ড প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের সঙ্গে লড়াই করেন, দৌড়ান আবার হারিয়েও যান। অনেক সময় মনে হয়, তিনি নেই। কিন্তু হালান্ড কখনো ম্যাচ থেকে হারিয়ে যান না, শুধু সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। ব্রাজিলের বিপক্ষেও প্রথমার্ধে মাত্র ১০ বার বলের ছোঁয়া পেয়েছেন তিনি; শুরুর একাদশে থাকা দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে যা সবচেয়ে কম।

ফলে প্রথম ৪৫ মিনিটে সাফল্যেরও মুখ দেখেনি নরওয়ে। ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা হয়তো ভেবেছিলেন, হালান্ড বল না পেলেই কোনো বিপদ আর ডানা মেলবে না। অথচ বল নয়, হালান্ডের সবচেয়ে বড় অস্ত্র তো অপেক্ষা। যখনই সুযোগ পেয়েছেন, তখনই আঘাত হেনেছেন। হালান্ডের জোড়া আঘাতেই ভেঙে চুরমার ফুটবলের লাতিন দুর্গ।

সেটি ভাঙল কখন? ম্যাচের অন্তিমে। এমনিতেই নরওয়েকে বলা হয় নিশীথ সূর্যের দেশ। হালান্ড যেন সেই দেশের সার্থক প্রতিনিধি হয়ে ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে গোলের ঝলকে স্তব্ধ করে দেন গোটা বিশ্বকে।

এমন একটি কথা প্রচলিত আছে যে স্ট্রাইকাররা ৮০ মিনিট নিজেকে হারিয়ে খুঁজলেও শেষ ১০ মিনিটের জাদুতে পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে জানেন। ব্রাজিল ম্যাচের হালান্ড এর জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। মাঠের ঘড়িতে তখন ৭৮ মিনিট। গ্যালারিতে তখনো ঢাক বাজাচ্ছে ব্রাজিল সমর্থকরা। হলুদ জার্সির ঢেউয়ে মনে হচ্ছে, ম্যাচটা যেন ধীরে ধীরে তাদের দিকেই হেলে পড়ছে। নরওয়ে শুধু লড়াই করে যাচ্ছে, বলের দখলে ঢের এগিয়ে থাকলেও আক্রমণ হাতে গোনা। অথচ হালান্ড তখনো নিশ্চুপ। অবশেষে সুযোগ আসে, মাত্র ১১ মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে কেড়ে নেন সব আলো, যার প্রথমটি ছিল সময়জ্ঞান, শক্তি আর হেডিং দক্ষতার এক অসাধারণ প্রদর্শনী। আর দ্বিতীয়টি ছিল নিখাদ নিষ্ঠুরতা, ডি বক্সের বাইরে থেকে তাঁর বজ্রগতির শট ভেঙে দিয়েছে সাম্বা সাম্রাজ্যের মূল ফটক। তাতেই অস্তমিত হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ‘হেক্সা’ জয়ের স্বপ্ন।

ব্রাজিলকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছেন নিশীথ সূর্যের দেশের প্রতিনিধিরা। তাই তো ম্যাচ শেষে নরওয়ের কোচ স্টালে সোলবাকেন এটিকে দেশের ফুটবল ইতিহাসের ‘সর্বশ্রেষ্ঠ দিন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। আর হালান্ড বলেছেন, ‘এটি নরওয়ের ইতিহাসের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য দিনগুলোর একটি।’ ব্রাজিলকে হারানো শুধু একটি স্কোরলাইন নয়, এটি একটি নতুন ফুটবল শক্তির জন্মের রাতও, যে রাতে অসলোর রাস্তায় নেমে এসেছিল হাজারো মানুষ, রাজপ্রাসাদের চত্বরে লেগেছিল উৎসবের রং। যে রং ছুঁয়ে গেছে স্বয়ং ক্রাউন প্রিন্সকেও। তাই তো গলায় লাল স্কার্ফ জড়িয়ে মধ্যরাতে হাত নেড়েছেন রাজপ্রাসাদের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে, যেন দুটি গোল, স্বপ্নের জয় এবং একটি জাতির উল্লাস মিলেমিশে তৈরি হয়েছে নতুন এক ফুটবল উপাখ্যান। আর সেই উপাখ্যানের প্রথম পাতায় বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে একটি নাম—আর্লিং হালান্ড।

সামনে আরো বড় চ্যালেঞ্জ, কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের অপেক্ষায় শক্তিশালী ইংল্যান্ড। তবে ব্রাজিলকে হারানোর পর প্রিয় শিষ্যের কাঁধে চড়ে নিশ্চয়ই ইংলিশ বাধাও পেরোতে চাইবেন স্টালে সোলবাকেন।

সালাহদের বিপক্ষে মেসিদের একাদশ কেমন হতে পারে

ক্রীড়া ডেস্ক
সালাহদের বিপক্ষে মেসিদের একাদশ কেমন হতে পারে
মিশরের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে অনুশীলনে মেসিরা। ছবি : রয়টার্স

জয়রথ ছুটছে আর্জেন্টিনার। তাতে বিশ্বকাপ ধরে রাখার স্বপ্ন জিইয়ে রয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের। তবে পা হড়কালেই স্বপ্ন গুঁড়িয়ে যেতে পারে।

নকআউটের ম্যাচ হওয়ায় আশা বাঁচিয়ে রাখার একটাই সুযোগ। আজ তেমনি এক বাঁচা-মরার ম্যাচে আলবিসেলেস্তাদের প্রতিপক্ষ মিসর। ফিফা র‌্যাংকিংয়ের ২৯ নম্বর দলটিও বেশ ছন্দে আছে।

দীর্ঘ ১৮ বছর পর আজ আটলান্টায় দুইদল মুখোমুখি হবে। সর্বশেষ ও নিজেদের দেখা হওয়া একমাত্র ম্যাচটি ২০০৮ সালে খেলেছে তারা। প্রীতি ম্যাচটিতে ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল বর্তমানে র‌্যাংকিংয়ের চূড়ায় থাকা আর্জেন্টিনা।

 

তাই স্বাভাবিকভাবে বিশ্বকাপে প্রথমবার দেখা হচ্ছে আর্জেন্টিনা-মিসরের। বিপরীতে দুই দলের দুই তারকা লিওনেল মেসি ও মোহাম্মদ সালাহও প্রথমবার মুখোমুখি হচ্ছেন। ক্লাব পর্যায়ে একে-অপরের দেখা অনেকবার হলেও জাতীয় দলের হয়ে কখনো হয়নি। 

শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে আজ আর্জেন্টিনার একাদশে তিন পরিবর্তন আসতে পারে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে খেলা ফাকুন্দো মেদিনা, থিয়াগো আলমাদা ও লাউতারো মার্তিনেজ আজ বেঞ্চ গরম করতে পারেন। তাদের পরিবর্তে নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, নিয়ান্দ্রো পারেদেস ও হুলিয়ান আলভারেজকে একাদশে নামাতে পারেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। আর্জেন্টিনার দুই ক্রীড়া সংবাদ মাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস ও দিয়ারিও ওলে এমনটিই জানিয়েছে।

ইতিমধ্যে নাকি মিশরের বিপক্ষে একাদশ ঠিকও করেছেন স্কালোনি। তবে কারা নামছেন তা জানাননি তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বকাপজয়ী কোচ বলেছেন, ‘আমার একাদশ ঠিক করা আছে। তবে এখনো খেলোয়াড়দের জানাইনি, তাই আপনাদেরও বলছি না। তবে আপনারা যা আলোচনা করছেন, মোটামুটি সঠিক পথেই আছেন।’

আর্জেন্টিনার সম্ভাবন্য একাদশ—

এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (গোলরক্ষক), নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো দি পল, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ।

লড়াইটা মেসি-সালাহরও

ক্রীড়া প্রতিবেদক
লড়াইটা মেসি-সালাহরও
দলের বাইরে লড়াইটা মেসি-সালাহরও। ছবি : রয়টার্স

লিওনেল মেসি ও মোহামেদ সালাহ। একজন বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা, আরেকজন মিসরের ‘কিং’ হিসেবে পরিচিত। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকাদের একজনও তিনি। আজ আটলান্টায় আর্জেন্টিনা-মিসরের শেষ ষোলোর লড়াই, তাই মেসি বনাম সালাহর দ্বৈরথও।

শেষ ষোলোর বৈতরণী পার হতে দুই দলই তাকিয়ে থাকবে নিজেদের সবচেয়ে বড় তারকার দিকে। দুজনেরই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় চলছে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।

৩৯ বছর বয়সী মেসি সম্ভবত নিজের শেষ বিশ্বকাপ খেলছেন। অন্যদিকে ৩৪ বছর বয়সী সালাহরও এটি শেষ বিশ্বকাপ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েও আলোচনা চলছে। ফলে দুজনের জন্যই এই লড়াইয়ের আবেগ অন্যরকম।

তবে দুজন দাঁড়িয়ে আছেন দুই ভিন্ন বাস্তবতায়। মেসির আর্জেন্টিনার লক্ষ্য বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখা। আর সালাহর মিসরের স্বপ্ন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য অর্জন। এই মুহূর্তে দলকে সেই পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিতে পারাটাই হবে তার সবচেয়ে বড় অর্জন। জাতীয় দলের জার্সিতে অর্জনের বিচারে অবশ্য মেসি যোজন-যোজন এগিয়ে।

বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমাসহ সব বড় ট্রফিই আছে তার ঝুলিতে। অন্যদিকে সালাহর ক্যারিয়ারে জাতীয় দলের হয়ে বড় কোনো শিরোপা নেই। দুইবার আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে উঠেও রানার্সআপ হতে হয়েছে তার দলকে। তবে দেশের ফুটবলের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা তিনিই। মিসরের প্রতিটি আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু সালাহ। তাকে ঘিরেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের পরিকল্পনা।

দুই তারকার খেলার ধরনও ভিন্ন। মেসি খেলেন যেন সময়কে থামিয়ে দিয়ে। নিখুঁত পাস, হঠাৎ গতি বদল আর এক মুহূর্তের জাদুতে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন তিনি। অন্যদিকে সালাহর শক্তি গতি, ধারালো কাট-ইন আর গোলের ক্ষুধা। ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে ফেলার ক্ষমতা তাকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর ফরোয়ার্ডে পরিণত করেছে। এই ম্যাচে কাগজে-কলমে এগিয়ে অবশ্যই আর্জেন্টিনা। অভিজ্ঞতা, স্কোয়াডের গভীরতা এবং বড় ম্যাচে খেলার অভ্যাস—সব দিক থেকেই বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এগিয়ে। কিন্তু নক আউটে এক মুহূর্তেই সব কিছু বদলে যেতে পারে। সেই মুহূর্তের অপেক্ষায় থাকবেন সালাহ। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসি ও সালাহর এমন দ্বৈরথ হয়তো আর কখনো দেখা যাবে না। তাই শেষ ষোলোর এই ম্যাচটি শুধু দুই দলের টিকে থাকার লড়াই নয়, সমসাময়িক ফুটবলের দুই তারকার আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়ের অপেক্ষাও।