• ই-পেপার

প্রাক্তনকে কেন সহজে ভুলতে পারে না মানুষ?

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কেন রাখবেন ভিটামিন বি-৩?

জীবনযাপন ডেস্ক
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কেন রাখবেন ভিটামিন বি-৩?
সংগৃহীত ছবি

সুস্থ, সবল ও সতেজ শরীরের জন্য যেসব ভিটামিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তার মধ্যে ভিটামিন বি৩ (যা ‘নায়াসিন’ নামেও পরিচিত) অন্যতম। এটি একটি পানিতে-দ্রবণীয় ভিটামিন। অর্থাৎ, এই ভিটামিনটি আমাদের শরীর নিজে থেকে জমিয়ে রাখতে পারে না; অতিরিক্ত অংশ প্রস্রাবের সাথে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। তাই শরীরকে সচল রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন বি৩ সমৃদ্ধ খাবার রাখা অত্যন্ত জরুরি।

শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালনা করতে এই ভিটামিনটির প্রয়োজন হয়। যেমন : 
শক্তি উৎপাদন : আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাই, সেই খাবারকে ভেঙে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিতে রূপান্তর করতে প্রধান ভূমিকা নেয় ভিটামিন বি৩।
হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা : এটি রক্তে ‘ভালো’ কোলেস্টেরল বাড়াতে এবং ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা : স্নায়ুতন্ত্রকে সচল ও সুস্থ রাখতে এই ভিটামিন অপরিহার্য। এটি মানসিক অবসাদ দূর করে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও কাজ করে।
ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি : ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে বাঁচাতে এবং ত্বকের ডিএনএ মেরামতে নিয়াসিন দারুণ কাজ করে। শরীরে এর চরম ঘাটতি হলে ‘পেলাগ্রা’ নামক মারাত্মক চর্মরোগ হতে পারে।

ভিটামিন বি৩-এর উৎসগুলোকে প্রধানত দুইটি ভাগে ভাগ করা যায়— প্রাণিজ এবং উদ্ভিজ্জ।
প্রাণিজ উৎস : মুরগির মাংস ও কলিজা, রুই, কাতলা, ইলিশ, মাগুর ও ভেটকি মাছ, ডিম।
উদ্ভিজ্জ উৎস : চিনাবাদাম ও সূর্যমুখীর বীজ, মাশরুম ও সবুজ মটরশুঁটি, লাল চাল ও নারকেল।

যাদের নিয়মিত খাবারের তালিকায় প্রোটিন বা আমিষজাতীয় খাবার বেশি থাকে, তাদের শরীরে সাধারণত ভিটামিন বি৩-এর ঘাটতি হয় না। এর কারণ হলো, প্রোটিনের মধ্যে ‘ট্রিপটোফ্যান’ নামক একটি অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে, আমাদের লিভার বা যকৃৎ খুব সহজেই সেই অ্যামিনো অ্যাসিডকে ভিটামিন বি৩-তে রূপান্তর করে নিতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে আজ থেকেই আপনার দৈনন্দিন খাবারের মেন্যুতে এই খাবারগুলো রাখার চেষ্টা করুন।

সূত্র : আনন্দবাজার

কিডনি রোগীরা রাতে দুধ খেতে পারবে?

অনলাইন ডেস্ক
কিডনি রোগীরা রাতে দুধ খেতে পারবে?
সংগৃহীত ছবি

রাতে দুধ খাওয়া অনেকের জন্য উপকারী হলেও কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা অবস্থায় দুধ খাওয়া বিপজ্জনক বা বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। রাতে দুধ খেলে হজম হয়না অনেকের।

দেখে নিন যাদের জন্য রাতে দুধ খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে-
 
১. ল্যাকটোজ ইনটলারেন্ট : এই ব্যক্তিদের শরীরে ল্যাকটোজ নামক দুধের চিনি হজম করার জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম (ল্যাকটেজ) কম বা অনুপস্থিত থাকে। ফলে তারা দুধ খেলে হতে পারে- গ্যাস, পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া ও পেটব্যথা।

২. অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা গ্যাস্ট্রিকের রোগীরা : রাতে দুধ খেলে কারও কারও ক্ষেত্রে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা গ্যাস্ট্রিক বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ঘুমানোর আগে ভারী বা পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ খাওয়া সমস্যাজনক হতে পারে।
 
৩. নিদ্রাহীনতা : চিনি বা মিষ্টি দুধ রাতে খেলে কার্বোহাইড্রেট বেড়ে যায়, যা রক্তে ইনসুলিন বাড়ায় এবং এতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

৪. দুধে অ্যালার্জি রয়েছে যাদের : দুধের প্রোটিন (বিশেষ করে কেসিন ও ওয়েহ) যাদের শরীর সহ্য করতে পারে না, তাদের ক্ষেত্রে দুধ খাওয়া মারাত্মক অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে- চুলকানি, ত্বকে ফুসকুড়ি, শ্বাসকষ্ট, অ্যানাফাইল্যাক্সিস (জরুরি অবস্থা)।
 
৫. কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা : দুধে উচ্চমাত্রার ফসফরাস, ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন থাকে—যা কিডনি রোগীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

৬. ডায়রিয়া বা পাচনতন্ত্রের দুর্বলতার সময় : এই সময় দুধ খেলে পাচনতন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে, এবং ডায়রিয়ার লক্ষণ বাড়তে পারে।

ত্বকের যত্নে গরম ভাপ কতটা উপকারী?

জীবনযাপন ডেস্ক
ত্বকের যত্নে গরম ভাপ কতটা উপকারী?
ছবি: কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা

বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ত্বকে অতিরিক্ত তেল জমে, রোমকূপ বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্রণ, ব্ল্যাকহেডসসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। শুধু ফেসওয়াশ ব্যবহার করলেই সব সময় ত্বক পুরোপুরি পরিষ্কার হয় না। তাই অনেকেই এই সময়ে মুখে গরম ভাপ বা ফেস স্টিমিং নেওয়ার পরামর্শ দেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়মে এবং সীমিত সময় ভাপ নিলে ত্বক গভীরভাবে পরিষ্কার হয়, রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং মুখে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরতে পারে।

মুখে গরম ভাপ নেওয়ার উপকারিতা:

১. রোমকূপ পরিষ্কার করে
গরম ভাপের কারণে বন্ধ হয়ে থাকা রোমকূপ খুলে যায়। এতে জমে থাকা তেল, ধুলো ও ময়লা সহজে বের হয়ে আসে এবং ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার হয়।

২. ব্রণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে
রোমকূপে তেল ও ময়লা জমে ব্যাকটেরিয়া জন্মালে ব্রণ হতে পারে। ভাপ নেওয়ার ফলে অতিরিক্ত তেল ও ময়লা কমে, ফলে ব্রণের ঝুঁকিও কিছুটা কমতে পারে।

৩. ব্ল্যাকহেডস নরম করে
নাক ও মুখের বিভিন্ন স্থানে থাকা ব্ল্যাকহেডস ভাপের কারণে নরম হয়ে যায়। এতে ত্বকের ক্ষতি না করেই তুলনামূলক সহজে পরিষ্কার করা যায়।

৪. অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব কমায়
বর্ষায় ত্বকে জমে থাকা অতিরিক্ত তেল দূর করতে ভাপ কার্যকর হতে পারে। এতে মুখ দীর্ঘ সময় সতেজ দেখায়।

৫. রক্তসঞ্চালন বাড়ায়
ভাপ নেওয়ার সময় ত্বকের রক্তনালি কিছুটা প্রসারিত হয়। এতে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং ত্বকে বেশি অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছে, ফলে ত্বক উজ্জ্বল দেখায়।

৬. ত্বকের যত্নের পণ্য ভালোভাবে কাজ করে
ভাপ নেওয়ার পর ত্বক নরম থাকে এবং রোমকূপ কিছুটা খুলে যায়। এ সময় সিরাম, ময়েশ্চারাইজার বা ফেস মাস্ক ব্যবহার করলে সেগুলো তুলনামূলক ভালোভাবে ত্বকে শোষিত হতে পারে।

ভাপ নেওয়ার সময় যেসব বিষয় মাথায় রাখবেন:

  • সপ্তাহে ১ থেকে ২ বারের বেশি ভাপ না নেওয়াই ভালো।
  • একটানা ৫ থেকে ১০ মিনিটের বেশি ভাপ নেবেন না।
  • ফুটন্ত পানির খুব কাছে মুখ রাখবেন না, এতে ত্বক পুড়ে যেতে পারে।
  • ভাপ নেওয়ার পর অবশ্যই ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
  • যাদের ত্বক খুব সংবেদনশীল বা এগজিমা, রোসেশিয়ার মতো সমস্যা রয়েছে, তারা আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভাপ নিন।

বর্ষায় ত্বকের যত্নে গরম ভাপ উপকারী হতে পারে। তবে অতিরিক্ত ভাপ নেওয়া বা ভুল নিয়মে ব্যবহার করলে উপকারের বদলে ক্ষতিও হতে পারে। তাই পরিমিতভাবে এবং সঠিক নিয়ম মেনে ভাপ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

ক্যান্সার মানেই কি সব শেষ, যেসব লক্ষণে চিকিৎসকের কাছে যাবেন

অনলাইন ডেস্ক
ক্যান্সার মানেই কি সব শেষ, যেসব লক্ষণে চিকিৎসকের কাছে যাবেন
সংগৃহীত ছবি

ক্যান্সার মানেই অনেকের কাছে মৃত্যুর আর এক নাম। ক্যান্সার আতঙ্কে অনেকে ধরেই নেন এখানেই সব শেষ। তবে সব ক্যান্সার কিন্তু এক নয়। কিছু ক্যান্সার নিরাময় করা যায় তবে অবশ্যই শুরুতে শনাক্ত হতে হবে। চিকিৎসকরা বলেন প্রথম পর্যায়ে। তবে সব ধরনের ক্যান্সার সমান জটিল নয়। কিছু ক্যান্সার রয়েছে, যেগুলো শুরুতেই শনাক্ত করা গেলে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। চিকিৎসকদের মতে, থাইরয়েড ক্যান্সার তেমনই একটি রোগ।

হিন্দুস্তান টাইমসে ভারতের নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ ডা. কার্তিক কৃষ্ণন ব্লেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিৎসা তুলনামূলক সহজ এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগী সুস্থ জীবনে ফিরতে পারেন।

কেন থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিৎসা সহজ?

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় থাইরয়েড ক্যান্সার চিকিৎসা নিলে নিরাময় হয়। এ নিয়ে ডা. কার্তিক কৃষ্ণন বলেন, থাইরয়েড ক্যান্সারের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে না। ফলে রোগটি শুরুতেই শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা সহজ হয় এবং শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও অনেক কমে যায়।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, থাইরয়েড ক্যান্সারের সব ধরন এক রকম নয়। কিছু ধরনের ক্যান্সারের চিকিৎসায় খুব ভালো সাফল্য মিললেও, কিছু ধরন তুলনামূলক জটিল হতে পারে। তাই সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যেসব লক্ষণ কখনোই অবহেলা করবেন না

থাইরয়েড ক্যান্সারের একটি বড় সুবিধা হলো, এটি অনেক সময় শুরুতেই কিছু দৃশ্যমান লক্ষণ দেখা দেয়। তাই এসব পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিলে রোগটি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত—

  • গলায় দীর্ঘদিন ধরে থাকা ফোলা বা গিঁট
  • কণ্ঠস্বর হঠাৎ কর্কশ হয়ে যাওয়া বা স্বরের পরিবর্তন
  • খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া

ডা. কার্তিক কৃষ্ণন বলেন, দীর্ঘদিন গলায় ফোলা থাকলে বা কণ্ঠে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে সেটিকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো পরীক্ষা করালে রোগের জটিলতা কমানো সম্ভব এবং চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিৎসা রোগীর অবস্থা, ক্যান্সারের ধরন এবং এটি কতটা ছড়িয়েছে এসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। বিশেষজ্ঞের মতে, অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারই প্রধান চিকিৎসা। তবে প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি অন্যান্য চিকিৎসাও দেয়া হতে পারে। বর্তমানে উন্নত রোগনির্ণয় পদ্ধতি ও আধুনিক চিকিৎসার কারণে রোগীভেদে আলাদা চিকিৎসা দেওয়া হয়।

চিকিৎসকদের মতে, থাইরয়েড ক্যান্সার ধরা পড়া মানেই আশা শেষ নয়। বরং সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত হলে এবং চিকিৎসা শুরু করলে অধিকাংশ রোগী স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তাই গলায় অস্বাভাবিক ফোলা, কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন বা খাবার গিলতে সমস্যা হলে সেটিকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে না গিয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।