• ই-পেপার

ম্যাচের আগে তীব্র গরম নিয়ে স্বস্তির খবর আর্জেন্টিনা শিবিরে

ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে মাঠেই নাচ বেলজিয়াম ফুটবলারদের

ক্রীড়া ডেস্ক
ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে মাঠেই নাচ বেলজিয়াম ফুটবলারদের

ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কাজ হলো না যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটির তারকা খেলোয়াড় ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড খরায় নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করতে স্বয়ং সুপারিশ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তাতে শেষরক্ষা হয়নি সহ-আয়োজক দেশটির। শেষ ষোলোর ম্যাচে ট্রাম্পের দেশকে বড় ব্যবধানে হারাল বেলজিয়াম। আর গোলের পর ট্রাম্পকে চরম কটাক্ষ করলেন বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকু। 

সিয়াটেল স্টেডিয়ামে আমেরিকাকে ৪-১ গোলে জেতে বেলজিয়াম। জোড়া গোল চার্লস ডে কেটেলারের। একটি করে গোল হান্স ভেনাকেন ও রোমেলু লুকাকুর। সবদিক বিবেচনায় শক্তিমত্তায় এগিয়ে ছিল বেলজিয়াম। তাদের জয় অনেকটা প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু ম্যাচের নাটক ছিল তার অনেক আগে। ট্রাম্পের জোরাজুরিতে ফিফা মার্কিন ফুটবলার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড প্রত্যাহার করে নেয়। এই ম্যাচেও খেলেন বালোগান। কিন্তু ফিফার সিদ্ধান্তে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ছিল ফুটবল বিশ্ব।

বড় জয়ের গোল উদযাপনে সেটাই উঠে এলো। যোগ করা সময়ে গোলের পর সতীর্থদের সঙ্গে নাচলেন লুকাকু। হাত ও কাঁধ ঘুরিয়ে সেই ম্যাচ দেখে যে কারো মনে পড়বে ট্রাম্পের কথা। কারণ, ট্রাম্পও ঠিক এই ভঙ্গিতেই নাচেন। সেই ভিডিও ফের ভাইরাল। এখানেই শেষ নয়। ম্যাচের পর বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশন জয়ের উদযাপনের ছবি পোস্ট করে। 

 

তাতে ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘এটা প্রত্যাহার করে দেখাও।’ বেলজিয়ামের মিডফিল্ডার ইউরি তিলেমানস বলেন, ‘সত্যি বলতে, ওই লাল কার্ড প্রত্যাহারের খবর শোনার পর আমরা মিটিং করেছিলাম। ঠিক করেছিলাম যে, মাঠেই জবাব দিতে হবে। আমরা সেই তাগিদটা নিয়েই খেলেছি।’

উল্লেখ্য, ফোলারিন বালোগান বসনিয়া এবং হারজেগোভিনার বিরুদ্ধে শেষ বত্রিশের ম্যাচে সরাসরি লাল কার্ড দেখেছিলেন তিনি। নিয়ম অনুযায়ী, প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে সাসপেন্ড থাকতেন বালোগান। কিন্তু তাঁর শাস্তি তুলে নেয় ফিফা। শুধু এই বিশ্বকাপই নয়, আগামী এক বছরের মধ্যে কার্যকর হবে না সেই শাস্তি। বালোগানের শাস্তি তুলতে আইনের এমন একটা ধারা আমদানি করা হয়, যার অস্তিত্ব সম্পর্কে সম্ভবত ওয়াকিবহালই ছিলেন না কোনো অতি বড় ফুটবল ভক্তও। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে ব্যবহার তো পরের কথা। ঘটনাটা একেবারেই ভালোভাবে নেয়নি ফুটবল দুনিয়া।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড ঘোষণায় চমক ভারতের

ক্রীড়া ডেস্ক
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড ঘোষণায় চমক ভারতের
বৈভব সূর্যবংশী (বাম) এবং সঞ্জু স্যামসন (ছবি : ক্রিমাস)

ভারতের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছে আইপিএলে দুর্দান্ত খেলা বৈভব সূর্যবংশী। আয়ারল্যান্ডের পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের স্কোয়াডে রয়েছেন। তবে  ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে সুযোগ হয়নি একাদশে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে সুযোগ পান খেলার। অভিষেকে নিজেকে রাঙাতে না পারলেও তার প্রতি ভরসা রাখছে ভারত দলের নির্বাচকরা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। সেই সিরিজের স্কোয়াডে রাখা হয়েছে সূর্যবংশীকে।
 
আগামী ২৩, ২৫ ও ২৬ জুলাই হারারেতে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তিনটি ম্যাচ। স্কোয়াডে বড় চমক হল স্যামসনের বাদ পড়া। তবে বিসিসিআই জানিয়েছে বাদ পড়া নয় তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে ব্যাকআপ উইকেটকিপার হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন প্রভসিমরন সিং। ২০২৩ এশিয়ান গেমসে ভারতীয় দলে থাকলেও এখনো আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়নি তার। এ ছাড়া আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরে না থাকা রিঙ্কু সিং আবারো জাতীয় দলে ফিরেছেন।

ব্যাটিং বিভাগে বড় পরিবর্তন না এলেও ১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশীকে রাখা হয়েছে স্কোয়াডে। অন্যদিকে, বোলিং ইউনিটে এসেছে বড় রদবদল। প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি দলে ডাক পেয়েছেন আশোক শর্মা, যশ ঠাকুর ও হর্ষ দুবে। দীর্ঘদিন ইনজুরিতে থাকার পর দলে ফিরেছেন পেসার মায়াঙ্ক যাদব।

তবে এই সিরিজে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে অক্ষর প্যাটেল, ওয়াশিংটন সুন্দর, রবি বিষ্ণোই, হর্ষিত রানা, প্রসিধ কৃষ্ণ ও আর্শদীপ সিংকে।

৩৯তম জন্মদিন পালন করা হলো না আফগান পেসার শাপুর জাদরানের

ক্রীড়া ডেস্ক
৩৯তম জন্মদিন পালন করা হলো না আফগান পেসার শাপুর জাদরানের
ছবি : রয়টার্স

বিরল এক রোগে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর দিল্লির এক হাসপাতালে মারা গেলেন আফগানিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম পথিকৃৎ এবং সাবেক পেস বোলার শাপুর জাদরান। একদিন পরেই ৩৯ বছরে পর্দাপন করতেন আফগানদের এই তারকা পেসার।  

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) স্যোশাল প্ল্যাটফর্মে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। এতে আফগান ক্রিকেটে নেমে আসে এক শোকের ছায়া।

জাদরান চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে নিবিড় চিকিৎসাধীন ছিলেন এই পেসার। গত বছরের অক্টোবরে নিজ দেশে প্রথম অসুস্থ বোধ করার পর তার ভাই গামাই জাদরান ও সাবেক অধিনায়ক আসগর আফগান তার সঙ্গে ভারতে এসেছিলেন।

বিবৃতিতে এসিবি জানায়, গভীর শোক ও দুঃখের সঙ্গে আমরা আফগানিস্তানের সাবেক পেসার শাপুর জাদরানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি।

আফগানিস্তান ক্রিকেটের শুরুর দিকের অন্যতম পথিকৃৎ পেসার ছিলেন জাদরান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলটির উত্থানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি আফগানিস্তানের হয়ে একদিনের আন্তর্জাতিক (ওয়ানডে) ও টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক—উভয় সংস্করণেই প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং গতিময় ও আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের জন্য পরিচিত ছিলেন।

জাদরান ছিলেন সেই প্রজন্মের সদস্য, যাদের হাত ধরে আফগানিস্তান প্রথমবারের মতো ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জায়গা পায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আফগানিস্তানকে প্রতিযোগিতামূলক দলে পরিণত করার পথচলায় তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

জানা যায়, এই বাঁহাতি পেসার দীর্ঘ দিন ধরে ‘হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস’ নামক একটি বিরল রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন। 

কিছুটা সুস্থ হলে হাসপাতাল থেকে হোটেলে স্থানান্তর করা হয় এই ক্রিকেটারকে। তিন সপ্তাহ সুস্থ থাকার পর শাপুর জাদরানের শরীরে পুনরায় মারাত্মক ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পুনরায় আইসিইউতে নেওয়া হলে, ৩৯তম জন্মদিনের এক দিন আগে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন শাপুর জাদরান। এতে দীর্ঘ ২২ বছরের ক্রিকেপ ক্যারিয়ারের সমাপ্তি হয় এই পেসারের। ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া এই পেসার দেশের হয়ে ৪৪টি ওডিআই এবং ৩৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। ২০২০ সালে তিনি নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেললেও ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যান। ২০২২ সালে ক্যারিয়ারের শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচটি খেলেন তিনি। আফগান ক্রীড়াঙ্গনের এক নির্ভীক অগ্রদূত হিসেবে তিনি যে গৌরবময় অবদান রেখে গেছেন, তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এবার এমবাপ্পেকে সিনেটরের হুমকি, ‘তোমার কোনো ধারণাই নেই আমি কে’

ক্রীড়া ডেস্ক
এবার এমবাপ্পেকে সিনেটরের হুমকি, ‘তোমার কোনো ধারণাই নেই আমি কে’
এমবাপ্পেকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন প্যারাগুয়ের সিনেটর। ছবি : রয়টার্স

মাঠের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে অনেক ‘হুমকিই’ পেয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে এবার মাঠের বাইরে ভিন্ন এক হুমকি পেলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। ক্ষমা না চাইলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন প্যারাগুয়ের সিনেটর চেলেস্টে আমারিলা।

অনেকটা চোরের মায়ের বড় গলার মতো। কেননা এই সিনেটরই এমবাপ্পেকে উদ্দেশ্যে করে বর্ণবাদী মন্তব্যে করেন। ফরোয়ার্ডকে ‘উপনিবেশিত ক্যামেরুনীয় ফরাসি’ ও ‘কুৎসিত’ বলে সংবোধন করেন আমারিলা। তার জবাব দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা। শুধু এমবাপ্পে নন, তীব্র প্রতিবাদ জানান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ প্যারাগুয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পেড্রো আলিয়ানাও। এমবাপ্পে তার জবাবে আমারিলাকে বলেন, ‘আপনি একজন ঘৃণ্য নারী এবং এই পদের অযোগ্য।’ 

সেটারই প্রতি উত্তরে এমাবাপ্পেকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন আমারিলা। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া তার পোস্টটি হুবহু নিচে তুলে ধরা হলো— 

‘সমস্যাটা তোমার সঙ্গে আমার। আমি কখনোই ফ্রান্সের বিরুদ্ধে কিছু বলিনি। আমি তোমাদের (ফ্রান্স) পাশেই আছি। দুই থেকে সতেরো বছর বয়স পর্যন্ত একটি ফরাসি স্কুলে পড়াশোনা করেছি এবং সেখানেই আমার স্কুলজীবন শেষ করেছি। আমি আজ যা হতে পেরেছি তা ‘কলেজ দে ল’ইনমাকুলে কনসেপসিওন’-এর কল্যাণে। আমি আজ যেখানে পৌঁছেছি তা এই প্রতিষ্ঠানের দেওয়া শিক্ষার কারণেই। আমরা লা মার্সেই (ফ্রান্সের জাতীয় সংগীত) গাইতাম এবং আমাদের নিজেদের পতাকার পাশাপাশি ফরাসি পতাকাকে সম্মান জানাতাম। আমি ফরাসি ভাষায় কথা বলি এবং ফ্রান্সে বেড়াতে যেতে পছন্দ করি। গত ক্রিসমাস আমি আমার পরিবারের সাথে কুরশেভেলে কাটিয়েছি এবং সেন্ট-ট্রোপেজে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছি। এর সাথে ফ্রান্সের কোনো সম্পর্ক নেই; সমস্যাটা তোমার সাথে।

ম্যাচের আগে থেকেই তোমার অহংকার এবং অবজ্ঞা আমার বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যখন তুমি বলেছিলে—আমাদের যদি হাত নোংরা করতে হয়, তবে হাত নোংরাই করব। আমরা বোকা নই; আমরা খুব ভালো করেই বুঝি তুমি প্যারাগুয়ে দলকেই নোংরা বা সস্তা বোঝাতে চেয়েছ, আর আমরা সবাই মিলেই তো প্যারাগুয়ে দল। এরপর তুমি বলেছিলে তারা মেকআপ তুলে ফেলবে। আমরা সেটাও বুঝি, মেকআপে আপনাকে কত মার্জিত দেখায়, আর আমরা এতটাই দরিদ্র ও রুক্ষ যে মেকআপ কী জিনিস তা-ই জানি না। আমারসহ পুরো প্যারাগুয়েবাসী তখন চুপ ছিল। আমরা তা মুখ বুজে সহ্য করেছি।

ম্যাচ চলাকালীন তোমার অহংকারী আচরণ স্পষ্ট ছিল, প্রতিটি খেলোয়াড়ের প্রতি তোমার অবজ্ঞা এমন ছিল যেন তারা অত্যন্ত ঘৃণ্য। এমনকি মুখ না ঢেকেই যখন লাতিন আমেরিকার অত্যন্ত আক্রমণাত্মক একটি গালি দিলে, তুমি নিজেও জানো সেটি কতটা আপত্তিকর।

পরিশেষে, তুমি আমাদের গোলরক্ষকের প্রতি অবহেলা দেখিয়েছ। এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। ম্যাচের পর প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান অনেকটা পবিত্র বিষয়—যুদ্ধে যেমন, শান্তিতেও তেমন; পরাজয়ে যেমন, জয়েও তেমন। অথচ তুমি তার সাথে করমর্দন করনি এবং তার মুখের ওপর আপনার বিজয়ের উল্লাস প্রকাশ করেছ—এটি স্রেফ অগ্রহণযোগ্য। মাত্র এক সেকেন্ডের মধ্যে তোমার অবজ্ঞা, অহংকার এবং খারাপ আচরণ দেখিয়েছো। এটি আমাকে এবং আমার দেশকে গভীরভাবে আঘাত করেছে। ফ্রান্সের উচিত তোমার কাছ থেকে এর জবাবদিহিতা চাওয়া। কারণ ফ্রান্স বীর ও ভদ্রলোকদের দেশ, যার রয়েছে শত বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। এই আচরণের জন্য ফ্রান্সের অবশ্যই তোমাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত।

আমার পোস্টগুলো ছিল টগবগে রক্তে ভরা, সেই মিশ্র রক্ত—যা আমার শিরায় প্রবাহিত হওয়া স্প্যানিশ রক্তের সাথে আদিবাসী রক্তের এক সুন্দর মিশ্রণ। আজ তুমি যখন সেই মহান প্যারাগুয়েন খেলোয়াড়দের উপহাস করছিলে, যারা ম্যাচের শেষ পর্যন্ত সমানে সমানে লড়াই করেছে, তখন আমি সেই আবেগ থেকেই লিখেছিলাম। তবে, আমি যে ধরনের গালাগাল বা অপমানের শিকার হই, ঠিক একই রকম ভাষায় তোমাকে আক্রমণ করার জন্য আমার সাথে সাথেই অনুশোচনা হয়। কারণ মিশ্র জাতি এবং লাতিনা হওয়ার কারণে আমাকেও অবজ্ঞা করা হয়, ‘নোংরা’ বলে ডাকা হয়। আমি পরে অনুতপ্ত হয়ে পোস্টটি মুছে দিই। আমি বুঝতে পারি যে আমি নিজেই সেই আচরণগুলোর পুনরাবৃত্তি করছিলাম যা ঘৃণা করি, তাই আমি এটি সরিয়ে ফেলি। আমি বুঝি এটি তোমাকেও হয়তো বিব্রত করেছে, কারণ বিষয়টি সত্যিই অপমানজনক।

এখন, আমি দাবি করছি তুমি তোমার বক্তব্য প্রত্যাহার কর এবং আমার কাছে ক্ষমা চাও। তোমার এই মানসিক বা বাচনিক সহিংসতা আমিও সহ্য করব না। তুমি আমাকে চেনো না, আমি কে সে সম্পর্কে তোমার কোনো ধারণাই নেই। আর যে পদের দায়িত্বে আছি তার জন্য আমি একজন অযোগ্য বা ঘৃণ্য নারী—এ কথা বলার কোনো অধিকার তোমার নেই। আমি প্যারাগুয়ে প্রজাতন্ত্রের একজন নির্বাচিত সিনেটর, যাকে জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। এর আগে আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন জাতীয় ডেপুটি ছিলাম। হাজার হাজার প্যারাগুয়েন আমাকে ভোট দিয়েছেন এবং আমাকে তাদের কণ্ঠস্বর মনে করেন। প্যারাগুয়ের জনগণের পক্ষে কথা বলা, তাদের নীরবতার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা এবং নিজের জীবন দিয়ে দেশকে রক্ষা করাই আমার প্রধান দায়িত্ব। আমার কাছ থেকে এটাই প্রত্যাশিত।

 

আমি মুক্ত ও স্বাধীন নির্বাচনে জয়ী হয়ে আমার দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। আইন প্রণয়ন এবং দেশের কণ্ঠস্বর হওয়ার জন্য আমি নির্বাচিত হয়েছি। দেশকে রক্ষা করার জন্য বা জনগণের কণ্ঠস্বর হওয়ার জন্য নির্বাচিত হওয়ার গুরুত্ব কী, সে সম্পর্কে তোমার বিন্দুমাত্র ধারণা নেই। আমি একজন ন্যাশনাল সিনেটর নির্বাচিত হয়েছি; আমি জানি না আমার এই পদের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারছো কি না।

আমাকে না চিনেও অযোগ্য বা ঘৃণ্য বলার তুমি কে? এটি পুরোপুরি একটি লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা! জনগণের ভোটে এই অবস্থানে আসা একজন নারীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সহিংসতা। তুমি মূলত আমার লিঙ্গের কারণেই আমাকে অবজ্ঞা করছো; আমি একজন নারী বলেই অপমান করেছ। তুমি শুধু আমার গায়ের রঙ, পছন্দ, নারী হিসেবে আমার মর্যাদা বা রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর আঘাত করছ না। তোমার বক্তব্য প্রত্যাহার করে ফরাসি নাগরিকত্বের মর্যাদা রক্ষা কর এবং ক্ষমা চাও। অন্যথায় লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার জন্য আমি তোমার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারি।’