বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে নিলেন মেক্সিকোর তরুণ মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নেমে মেক্সিকোর ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে অভিষেকের নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি। ভেঙে দিয়েছেন প্রায় এক শতাব্দী প্রাচীন এক কীর্তি।
মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মুখোমুখি হয়েছিল মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে আলভারো ফিদালগোর বদলি হিসেবে যখন মোরা মাঠে নামেন, তখন তার বয়স মাত্র ১৭ বছর ২৪০ দিন। আর তাতেই ভেঙে যায় টানা ৯৬ বছর ধরে অক্ষুণ্ন থাকা মেক্সিকোর এক পুরোনো রেকর্ড।
এর আগে মেক্সিকোর হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে বিশ্বকাপে খেলার রেকর্ডটি ছিল মানুয়েল রোসাসের। ১৯৩০ সালে আয়োজিত ফুটবল ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপে ১৮ বছর ৮৭ দিন বয়সে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। প্রায় এক শতাব্দী পর রোসাসকে টপকে মেক্সিকোর নতুন ইতিহাস হলেন মোরা।
শুধু দেশের জার্সিতেই নয়, গোটা বিশ্বকাপ ইতিহাসেই অন্যতম কনিষ্ঠ ফুটবলারদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন এই মেক্সিকান বিস্ময়বালক। বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলারদের তালিকায় মোরা এখন ষষ্ঠ স্থানে। আর মাত্র ৫ দিনের ব্যবধানে তার ঠিক ওপরেই আছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার পেলে। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ১৭ বছর ২৩৫ দিন বয়সে অভিষেক হয়েছিল পেলের।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে মাঠে নামার বিশ্বরেকর্ডটি এখনো উত্তর আয়ারল্যান্ডের নরমান হোয়াইটসাইডের দখলে। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে মাত্র ১৭ বছর ৪১ দিন বয়সে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। এই তালিকার পরের তিনটি স্থানে আছেন ক্যামেরুনের সামুয়েল এতো (১৭ বছর ৯৯ দিন), নাইজেরিয়ার ফেমি ওপাবুনমি (১৭ বছর ১০১ দিন) এবং ক্যামেরুনের সালোমন ওলেম্বে (১৭ বছর ১৮৫ দিন)।
অবশ্য রেকর্ড গড়াটা মোরার জন্য নতুন কিছু নয়। গত বছর মাত্র ১৬ বছর ২৫৭ দিন বয়সে মেক্সিকোর ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল তার। এবার ঘরোয়া ফুটবলের সেই সাফল্যের পর বৈশ্বিক মঞ্চেও নিজের নাম ইতিহাসের পাতায় খোদাই করে নিলেন এই তরুণ তুর্কি।




