• ই-পেপার

যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না পারা সোমালি রেফারির কাঁধে এবার গুরুদায়িত্ব

পেলের পরই মোরা, ৯৬ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন ১৭ বছরের কিশোর

ক্রীড়া ডেস্ক
পেলের পরই মোরা, ৯৬ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন ১৭ বছরের কিশোর
সংগৃহীত ছবি

বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে নিলেন মেক্সিকোর তরুণ মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নেমে মেক্সিকোর ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে অভিষেকের নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি। ভেঙে দিয়েছেন প্রায় এক শতাব্দী প্রাচীন এক কীর্তি। 

মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মুখোমুখি হয়েছিল মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে আলভারো ফিদালগোর বদলি হিসেবে যখন মোরা মাঠে নামেন, তখন তার বয়স মাত্র ১৭ বছর ২৪০ দিন। আর তাতেই ভেঙে যায় টানা ৯৬ বছর ধরে অক্ষুণ্ন থাকা মেক্সিকোর এক পুরোনো রেকর্ড।

এর আগে মেক্সিকোর হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে বিশ্বকাপে খেলার রেকর্ডটি ছিল মানুয়েল রোসাসের। ১৯৩০ সালে আয়োজিত ফুটবল ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপে ১৮ বছর ৮৭ দিন বয়সে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। প্রায় এক শতাব্দী পর রোসাসকে টপকে মেক্সিকোর নতুন ইতিহাস হলেন মোরা।

শুধু দেশের জার্সিতেই নয়, গোটা বিশ্বকাপ ইতিহাসেই অন্যতম কনিষ্ঠ ফুটবলারদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন এই মেক্সিকান বিস্ময়বালক। বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলারদের তালিকায় মোরা এখন ষষ্ঠ স্থানে। আর মাত্র ৫ দিনের ব্যবধানে তার ঠিক ওপরেই আছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার পেলে। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ১৭ বছর ২৩৫ দিন বয়সে অভিষেক হয়েছিল পেলের।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে মাঠে নামার বিশ্বরেকর্ডটি এখনো উত্তর আয়ারল্যান্ডের নরমান হোয়াইটসাইডের দখলে। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে মাত্র ১৭ বছর ৪১ দিন বয়সে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। এই তালিকার পরের তিনটি স্থানে আছেন ক্যামেরুনের সামুয়েল এতো (১৭ বছর ৯৯ দিন), নাইজেরিয়ার ফেমি ওপাবুনমি (১৭ বছর ১০১ দিন) এবং ক্যামেরুনের সালোমন ওলেম্বে (১৭ বছর ১৮৫ দিন)।

অবশ্য রেকর্ড গড়াটা মোরার জন্য নতুন কিছু নয়। গত বছর মাত্র ১৬ বছর ২৫৭ দিন বয়সে মেক্সিকোর ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল তার। এবার ঘরোয়া ফুটবলের সেই সাফল্যের পর বৈশ্বিক মঞ্চেও নিজের নাম ইতিহাসের পাতায় খোদাই করে নিলেন এই তরুণ তুর্কি। 

মার্তিনেসকে নিয়ে বিশাল সুখবর পেল আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
মার্তিনেসকে নিয়ে বিশাল সুখবর পেল আর্জেন্টিনা
আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস। ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ শুরুর আগে স্বস্তির খবর পেয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আঙুলের চোট কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠেছেন দলের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস।

কয়েক দিন ধরেই মার্তিনেসের চোট নিয়ে উদ্বেগ ছিল আর্জেন্টিনা শিবিরে। তবে সাম্প্রতিক মেডিক্যাল পরীক্ষার পর সেই শঙ্কা দূর হয়েছে। চিকিৎসকরা তাকে খেলার জন্য সম্পূর্ণ ফিট ঘোষণা করেছেন এবং দলীয় মেডিক্যাল স্টাফও মাঠে নামার অনুমতি দিয়েছেন।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আঙুলের চোট থেকে দ্রুত সেরে উঠেছেন ৩৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। পরীক্ষার ফল ইতিবাচক আসায় বিশ্বকাপের শুরু থেকেই তাকে পাওয়ার আশা করছে কোচিং স্টাফ।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন মার্তিনেস। নকআউট পর্বে তার অসাধারণ সেভ এবং টাইব্রেকারে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দলকে বিশ্বকাপ জিততে বড় ভূমিকা রেখেছিল। বিশেষ করে ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে তার অবদান এখনো আর্জেন্টাইন সমর্থকদের স্মৃতিতে অমলিন।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে তাই মার্তিনেসের সুস্থ হয়ে ওঠা আর্জেন্টিনার জন্য বড় স্বস্তির খবর। গোলপোস্টের নিচে দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নামকে ফিরে পেয়ে আরো আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে লিওনেল স্কালোনির দল।

৩৬ বছর পর উদ্বোধনী ম্যাচে এমন দৃশ্য দেখল বিশ্বকাপ

ক্রীড়া ডেস্ক
৩৬ বছর পর উদ্বোধনী ম্যাচে এমন দৃশ্য দেখল বিশ্বকাপ
সংগৃহীত ছবি

ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ডের জন্ম দিল দক্ষিণ আফ্রিকা। মেক্সিকোর বিপক্ষে আসরের প্রথম ম্যাচেই জোড়া লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই মিডফিল্ডারকে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে একই দলের দুজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখার এমন ঘটনা আর ঘটেনি।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই প্রথম ধাক্কাটি খায় দক্ষিণ আফ্রিকা। একটি মারাত্মক ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন প্রোটিয়া মিডফিল্ডার ইয়ায়া সিথোল। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর চাপ আরো বাড়ে ম্যাচের শেষভাগে এসে।

দ্বিতীয়ার্ধের শেষের দিকে মেক্সিকোর একটি আক্রমণের সময় প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের ওপর চড়াও হন দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক মিডফিল্ডার জোয়ানে। মাঠে বিষয়টি রেফারির চোখ এড়িয়ে গেলেও পার পেয়ে যাননি তিনি। ভিএআর প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনাটি নজরে আসে রেফারি উইলটন সাম্পাইওর। মনিটরে রিপ্লে দেখার পর রেফারি জোয়ানেকেও সরাসরি লাল কার্ড দেখান।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে উদ্বোধনী ম্যাচে একই দলের দুই খেলোয়াড়ের লাল কার্ড দেখার ঘটনা এটি দ্বিতীয়। এর আগে ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে উদ্বোধনী ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ঐতিহাসিক ১-০ গোলের জয়ের ম্যাচে ক্যামেরুনের ক্যানা-বিয়িক এবং ম্যাসিং লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন। 
 

খেলোয়াড়দের নিয়ে ‘ঐতিহাসিক’ নিয়ম আনল ফিফা

ক্রীড়া ডেস্ক
খেলোয়াড়দের নিয়ে ‘ঐতিহাসিক’ নিয়ম আনল ফিফা
ছবি : রয়টার্স

ফুটবলের দলবদলের বাজারে এবার ‘বড় ধামাকা’ দিয়েছে ফিফা! ২০২৭ সাল থেকে দলবদলের চেনা দুনিয়াটা পুরোপুরি বদলে ফেলার এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। 

ফিফার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আগামী বছরের জানুয়ারি থেকেই কার্যকর হতে পারে এই নতুন নিয়ম। আর তা যদি সত্যিই আলোর মুখ দেখে, তবে ফুটবল ইতিহাসে একে এক ‘ঐতিহাসিক বিপ্লব’ বললেও ভুল হবে না।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ক্লাবের জন্য তাদের খেলোয়াড়দের চুক্তিতে বাধ্যতামূলকভাবে একটি ‘রিলিজ ক্লজ’ বা চুক্তিভঙ্গের নির্দিষ্ট ফি উল্লেখ করতে হবে। এ ছাড়া, দলবদলের দর-কষাকষিতে এখন থেকে ফুটবলাররা আরও সরাসরি এবং জোরালো ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবেন। 

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দলবদলের পুরো প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হচ্ছে ট্রান্সফার ফির ভাগ পাবেন খেলোয়াড়রা! ট্রান্সফার ফির একটা নির্দিষ্ট শতাংশ এখন থেকে সরাসরি চলে যাবে স্বয়ং খেলোয়াড়ের পকেটে। 

ফিফার দাবি, ফুটবলারদের দলবদলে আরও বেশি স্বচ্ছতা আনা এবং পুরো প্রক্রিয়ায় খেলোয়াড়দের অধিকার ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এত দিন দলবদলের বাজারে ক্লাব এবং এজেন্টদের যে একচেটিয়া আধিপত্য ছিল, তা অনেকটাই কমে আসবে বলে ধারণা করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।