• ই-পেপার

খেলোয়াড়দের নিয়ে ‘ঐতিহাসিক’ নিয়ম আনল ফিফা

৩৬ বছর পর উদ্বোধনী ম্যাচে এমন দৃশ্য দেখল বিশ্বকাপ

ক্রীড়া ডেস্ক
৩৬ বছর পর উদ্বোধনী ম্যাচে এমন দৃশ্য দেখল বিশ্বকাপ
সংগৃহীত ছবি

ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ডের জন্ম দিল দক্ষিণ আফ্রিকা। মেক্সিকোর বিপক্ষে আসরের প্রথম ম্যাচেই জোড়া লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই মিডফিল্ডারকে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে একই দলের দুজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখার এমন ঘটনা আর ঘটেনি।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই প্রথম ধাক্কাটি খায় দক্ষিণ আফ্রিকা। একটি মারাত্মক ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন প্রোটিয়া মিডফিল্ডার ইয়ায়া সিথোল। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর চাপ আরো বাড়ে ম্যাচের শেষভাগে এসে।

দ্বিতীয়ার্ধের শেষের দিকে মেক্সিকোর একটি আক্রমণের সময় প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের ওপর চড়াও হন দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক মিডফিল্ডার জোয়ানে। মাঠে বিষয়টি রেফারির চোখ এড়িয়ে গেলেও পার পেয়ে যাননি তিনি। ভিএআর প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনাটি নজরে আসে রেফারি উইলটন সাম্পাইওর। মনিটরে রিপ্লে দেখার পর রেফারি জোয়ানেকেও সরাসরি লাল কার্ড দেখান।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে উদ্বোধনী ম্যাচে একই দলের দুই খেলোয়াড়ের লাল কার্ড দেখার ঘটনা এটি দ্বিতীয়। এর আগে ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে উদ্বোধনী ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ঐতিহাসিক ১-০ গোলের জয়ের ম্যাচে ক্যামেরুনের ক্যানা-বিয়িক এবং ম্যাসিং লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন। 
 

যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না পারা সোমালি রেফারির কাঁধে এবার গুরুদায়িত্ব

ক্রীড়া ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না পারা সোমালি রেফারির কাঁধে এবার গুরুদায়িত্ব
ছবি : রয়টার্স

বৈরি ভিসা নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না পারায় ফুটবল বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার স্বপ্ন ভেঙেছে সোমালিয়ান রেফারি ওমার আরতানের। তবে সেই হতাশা ভুলে আফ্রিকার অন্যতম সেরা রেফারির সামনে এবার উন্মোচিত হলো এক নতুন দিগন্ত। 

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইউরোপের মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট ‘উয়েফা সুপার কাপ’-এর ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই সোমালি রেফারিকে। আগামী ১২ আগস্ট অস্ট্রিয়ার সালজবার্গে চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) এবং ইউরোপা লিগ চ্যাম্পিয়ন অ্যাস্টন ভিলার মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি পরিচালনা করবেন তিনি।

ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (উয়েফা) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (ক্যাফ) সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার পরই ওমার আরতানকে এই মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার সেফেরিন এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বলেন, ‘ওমার আরতান একজন চমৎকার তরুণ এবং ইতিমধ্যে বেশ অভিজ্ঞ রেফারি। আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের সর্বোচ্চ স্তরের প্রতিযোগিতায় তিনি নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। ফুটবল মূলত মানুষকে একত্রিত করার জন্য, আর উয়েফা ওমারের সেই অসামান্য রেফারিং দক্ষতার প্রতি সম্মান জানাতে চায়, যা তাকে এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ মনোনয়ন এনে দিয়েছে। আমি আমার বন্ধু এবং ক্যাফ সভাপতি প্যাট্রিস মোতসেপেকে ধন্যবাদ জানাই আমাদের এই উদ্যোগকে উৎসাহের সঙ্গে সমর্থন করার জন্য।’

২০১৮ সাল থেকে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারি প্যানেলে থাকা ওমার আরতান ২০১৫ সালের ‘ক্যাফ বর্ষসেরা পুরুষ রেফারি’ নির্বাচিত হন। প্রথম সোমালি রেফারি হিসেবে বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল পর্বে ম্যাচ পরিচালনা করার কথা ছিল তার। কিন্তু কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং সিঙ্গেল-এন্ট্রি মার্কিন ভিসা থাকা সত্ত্বেও মায়ামি বিমানবন্দরের সীমান্ত কর্মকর্তারা তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেননি।

মার্কিন সরকারের একজন কর্মকর্তা এই বিষয়ে জানিয়েছেন, সন্ত্রাসী সংগঠনের সন্দেহভাজন সদস্যদের সঙ্গে ‘সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে’ আরতানকে দেশে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। 

উল্লেখ্য, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তালিকায় থাকা দেশগুলোর অন্যতম সোমালিয়া। এই ঘটনার পর বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নিশ্চিত করে যে, আরতান এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারছেন না।

এ বিষয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওমার আরতান জানান, বিমানবন্দরের সীমান্ত কর্মকর্তারা সোমালিয়ার সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আল-শাবাব’-এর সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন এবং তিনি কর্মকর্তাদের স্পষ্ট জানিয়েছেন যে এই গোষ্ঠী সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।

হতাশ কণ্ঠে আরতান বলেন, ‘আমার কাছে সঠিক কাগজপত্র এবং ভিসাসহ সব কিছুই ছিল। আমি কেবল একজন রেফারি, যে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন—বিশ্বকাপে বাঁশি বাজানোর স্বপ্নটি সত্যি করতে চেয়েছিল।’ 

প্রথম ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার অধিনায়ক

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রথম ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার অধিনায়ক
কানাডার অধিনায়ক ও তারকা ডিফেন্ডার আলফন্সো ডেভিস।

২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেল স্বাগতিক দেশ কানাডা। দলের অধিনায়ক ও তারকা ডিফেন্ডার আলফন্সো ডেভিস চোটের কারণে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন না।

শুক্রবার টরন্টোতে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে কানাডা। তবে সেই ম্যাচে মাঠে নামা হচ্ছে না বায়ার্ন মিউনিখ তারকার।

কানাডার প্রধান কোচ জেসে মার্স সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ডেভিসের সর্বশেষ এমআরআই রিপোর্টে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেলেও তিনি এখনো শতভাগ ফিট নন।

মার্শ বলেন, ‘আমরা গতকাল এমআরআই করিয়েছি। সে দারুণভাবে সেরে উঠছে, কিন্তু এখনো পুরোপুরি ফিট হয়নি।’

গত কয়েকদিন ধরে অনুশীলনে ফিরেছিলেন ডেভিস। এতে করে প্রথম ম্যাচে তার খেলার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন সমর্থকরা। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি দলীয় মেডিকেল বিভাগ।

চলতি মৌসুমে একাধিক চোটে ভুগেছেন ২৫ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার। প্রথমে হাঁটুর গুরুতর লিগামেন্ট ইনজুরিতে আক্রান্ত হন, পরে পেশির সমস্যাও দেখা দেয়। ফলে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে।

চোটে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে অবসরের ঘোষণা এক অধিনায়কের

ক্রীড়া ডেস্ক
চোটে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে অবসরের ঘোষণা এক অধিনায়কের
জাপানের অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো। ছবি: ফিফা

বিশ্বকাপে বড়সড় ধাক্কা খেল জাপান জাতীয় দল। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গ্রুপ ‘এফ’-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করার মাত্র তিন দিন আগে দল থেকে ছিটকে গেছেন অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো। চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পাশাপাশি ৩৩ বছর বয়সী লিভারপুলের এই মিডফিল্ডার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকেও তাৎক্ষণিক অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে লিভারপুলের হয়ে খেলার সময় পায়ে চোট পেয়েছিলেন এন্দো, যার জন্য তাকে অস্ত্রোপচারও করাতে হয়েছিল। প্রাথমিক ধকল কাটিয়ে বিশ্বকাপ দলের ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে জায়গা পেলেও শেষরক্ষা হলো না। চোটের কারণে কাওরু মিতোমা এবং তাকুমি মিনামিনোর মতো তারকাদের অনুপস্থিতি আগেই নিশ্চিত হয়েছিল, এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন অধিনায়ক নিজেই।

গত ৩১ মে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে প্রথমার্ধের পরেই অস্বস্তি বোধ করায় এন্দোকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। তখন থেকেই তার ফিটনেস নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। যদিও সেই সময় জাপানের কোচ হাজিমে মোরিয়াসু আশাবাদী হয়ে বলেছিলেন, ‘মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী সে খেলতে পারবে না—এমন কোনো কারণ নেই। আমরা শুধু বিশ্বাস রাখছি এবং অপেক্ষা করছি।’ কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই অপেক্ষা আর সুখকর হলো না।

আগামী রবিবার আর্লিংটনে ডাচদের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে কঠিন ম্যাচের মুখোমুখি হবে ‘সামুরাই ব্লু’রা। আর এই ম্যাচের আগেই মাঝমাঠের মূল ভরসা এন্দোকে বাদ দিয়ে দলে ডাকা হয়েছে বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখের স্ট্রাইকার শুতো মাচিনোকে। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের জায়গায় একজন স্ট্রাইকার দলে নেওয়াকে বেশ চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করে এন্দো লিখেছেন, “বিশ্বকাপের দল থেকে আমি নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি। এই বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারার হতাশা অবশ্যই আছে, তবে কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে অধিনায়ক হিসেবে এই দলটিকে যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছি, তা নিয়ে আমি গর্বিত। আমরা ‘বিশ্বকাপ জয়’-এর লক্ষ্যকে এখন স্বাভাবিক একটি স্বপ্ন হিসেবে দেখতে শিখেছি।”

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান দলটি সত্যিই দুর্দান্ত। আমি বিশ্বাস করি তারা যেকোনো প্রতিকূলতা কাটিয়ে আমাদের এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে যা আগে কখনো দেখিনি। এই সফরের মাধ্যমেই আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি। এখন থেকে আমি একজন সাধারণ ভক্ত হিসেবে জাপানের জন্য গলা ফাটাব।’

২০১৫ সালে অভিষেকের পর জাপানের হয়ে ৭৩ ম্যাচে ৪টি গোল করেছেন এন্দো। কাতার বিশ্বকাপের পর মায়া ইয়োশিদার কাছ থেকে অধিনায়কের দায়িত্ব বুঝে পেয়েছিলেন তিনি।