বৈরি ভিসা নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না পারায় ফুটবল বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার স্বপ্ন ভেঙেছে সোমালিয়ান রেফারি ওমার আরতানের। তবে সেই হতাশা ভুলে আফ্রিকার অন্যতম সেরা রেফারির সামনে এবার উন্মোচিত হলো এক নতুন দিগন্ত।
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইউরোপের মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট ‘উয়েফা সুপার কাপ’-এর ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই সোমালি রেফারিকে। আগামী ১২ আগস্ট অস্ট্রিয়ার সালজবার্গে চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) এবং ইউরোপা লিগ চ্যাম্পিয়ন অ্যাস্টন ভিলার মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি পরিচালনা করবেন তিনি।
ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (উয়েফা) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (ক্যাফ) সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার পরই ওমার আরতানকে এই মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার সেফেরিন এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বলেন, ‘ওমার আরতান একজন চমৎকার তরুণ এবং ইতিমধ্যে বেশ অভিজ্ঞ রেফারি। আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের সর্বোচ্চ স্তরের প্রতিযোগিতায় তিনি নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। ফুটবল মূলত মানুষকে একত্রিত করার জন্য, আর উয়েফা ওমারের সেই অসামান্য রেফারিং দক্ষতার প্রতি সম্মান জানাতে চায়, যা তাকে এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ মনোনয়ন এনে দিয়েছে। আমি আমার বন্ধু এবং ক্যাফ সভাপতি প্যাট্রিস মোতসেপেকে ধন্যবাদ জানাই আমাদের এই উদ্যোগকে উৎসাহের সঙ্গে সমর্থন করার জন্য।’
২০১৮ সাল থেকে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারি প্যানেলে থাকা ওমার আরতান ২০১৫ সালের ‘ক্যাফ বর্ষসেরা পুরুষ রেফারি’ নির্বাচিত হন। প্রথম সোমালি রেফারি হিসেবে বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল পর্বে ম্যাচ পরিচালনা করার কথা ছিল তার। কিন্তু কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং সিঙ্গেল-এন্ট্রি মার্কিন ভিসা থাকা সত্ত্বেও মায়ামি বিমানবন্দরের সীমান্ত কর্মকর্তারা তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেননি।
মার্কিন সরকারের একজন কর্মকর্তা এই বিষয়ে জানিয়েছেন, সন্ত্রাসী সংগঠনের সন্দেহভাজন সদস্যদের সঙ্গে ‘সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে’ আরতানকে দেশে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তালিকায় থাকা দেশগুলোর অন্যতম সোমালিয়া। এই ঘটনার পর বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নিশ্চিত করে যে, আরতান এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারছেন না।
এ বিষয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওমার আরতান জানান, বিমানবন্দরের সীমান্ত কর্মকর্তারা সোমালিয়ার সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আল-শাবাব’-এর সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন এবং তিনি কর্মকর্তাদের স্পষ্ট জানিয়েছেন যে এই গোষ্ঠী সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।
হতাশ কণ্ঠে আরতান বলেন, ‘আমার কাছে সঠিক কাগজপত্র এবং ভিসাসহ সব কিছুই ছিল। আমি কেবল একজন রেফারি, যে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন—বিশ্বকাপে বাঁশি বাজানোর স্বপ্নটি সত্যি করতে চেয়েছিল।’




