• ই-পেপার

চোটের ধাক্কায় আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে বড় পরিবর্তন

প্রথম ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার অধিনায়ক

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রথম ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার অধিনায়ক
কানাডার অধিনায়ক ও তারকা ডিফেন্ডার আলফন্সো ডেভিস।

২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেল স্বাগতিক দেশ কানাডা। দলের অধিনায়ক ও তারকা ডিফেন্ডার আলফন্সো ডেভিস চোটের কারণে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন না।

শুক্রবার টরন্টোতে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে কানাডা। তবে সেই ম্যাচে মাঠে নামা হচ্ছে না বায়ার্ন মিউনিখ তারকার।

কানাডার প্রধান কোচ জেসে মার্স সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ডেভিসের সর্বশেষ এমআরআই রিপোর্টে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেলেও তিনি এখনো শতভাগ ফিট নন।

মার্শ বলেন, ‘আমরা গতকাল এমআরআই করিয়েছি। সে দারুণভাবে সেরে উঠছে, কিন্তু এখনো পুরোপুরি ফিট হয়নি।’

গত কয়েকদিন ধরে অনুশীলনে ফিরেছিলেন ডেভিস। এতে করে প্রথম ম্যাচে তার খেলার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন সমর্থকরা। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি দলীয় মেডিকেল বিভাগ।

চলতি মৌসুমে একাধিক চোটে ভুগেছেন ২৫ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার। প্রথমে হাঁটুর গুরুতর লিগামেন্ট ইনজুরিতে আক্রান্ত হন, পরে পেশির সমস্যাও দেখা দেয়। ফলে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে।

চোটে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে অবসরের ঘোষণা এক অধিনায়কের

ক্রীড়া ডেস্ক
চোটে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে অবসরের ঘোষণা এক অধিনায়কের
জাপানের অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো। ছবি: ফিফা

বিশ্বকাপে বড়সড় ধাক্কা খেল জাপান জাতীয় দল। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গ্রুপ ‘এফ’-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করার মাত্র তিন দিন আগে দল থেকে ছিটকে গেছেন অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো। চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পাশাপাশি ৩৩ বছর বয়সী লিভারপুলের এই মিডফিল্ডার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকেও তাৎক্ষণিক অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে লিভারপুলের হয়ে খেলার সময় পায়ে চোট পেয়েছিলেন এন্দো, যার জন্য তাকে অস্ত্রোপচারও করাতে হয়েছিল। প্রাথমিক ধকল কাটিয়ে বিশ্বকাপ দলের ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে জায়গা পেলেও শেষরক্ষা হলো না। চোটের কারণে কাওরু মিতোমা এবং তাকুমি মিনামিনোর মতো তারকাদের অনুপস্থিতি আগেই নিশ্চিত হয়েছিল, এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন অধিনায়ক নিজেই।

গত ৩১ মে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে প্রথমার্ধের পরেই অস্বস্তি বোধ করায় এন্দোকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। তখন থেকেই তার ফিটনেস নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। যদিও সেই সময় জাপানের কোচ হাজিমে মোরিয়াসু আশাবাদী হয়ে বলেছিলেন, ‘মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী সে খেলতে পারবে না—এমন কোনো কারণ নেই। আমরা শুধু বিশ্বাস রাখছি এবং অপেক্ষা করছি।’ কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই অপেক্ষা আর সুখকর হলো না।

আগামী রবিবার আর্লিংটনে ডাচদের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে কঠিন ম্যাচের মুখোমুখি হবে ‘সামুরাই ব্লু’রা। আর এই ম্যাচের আগেই মাঝমাঠের মূল ভরসা এন্দোকে বাদ দিয়ে দলে ডাকা হয়েছে বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখের স্ট্রাইকার শুতো মাচিনোকে। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের জায়গায় একজন স্ট্রাইকার দলে নেওয়াকে বেশ চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করে এন্দো লিখেছেন, “বিশ্বকাপের দল থেকে আমি নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি। এই বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারার হতাশা অবশ্যই আছে, তবে কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে অধিনায়ক হিসেবে এই দলটিকে যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছি, তা নিয়ে আমি গর্বিত। আমরা ‘বিশ্বকাপ জয়’-এর লক্ষ্যকে এখন স্বাভাবিক একটি স্বপ্ন হিসেবে দেখতে শিখেছি।”

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান দলটি সত্যিই দুর্দান্ত। আমি বিশ্বাস করি তারা যেকোনো প্রতিকূলতা কাটিয়ে আমাদের এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে যা আগে কখনো দেখিনি। এই সফরের মাধ্যমেই আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি। এখন থেকে আমি একজন সাধারণ ভক্ত হিসেবে জাপানের জন্য গলা ফাটাব।’

২০১৫ সালে অভিষেকের পর জাপানের হয়ে ৭৩ ম্যাচে ৪টি গোল করেছেন এন্দো। কাতার বিশ্বকাপের পর মায়া ইয়োশিদার কাছ থেকে অধিনায়কের দায়িত্ব বুঝে পেয়েছিলেন তিনি। 

বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ব্রিতো আর নেই

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ব্রিতো আর নেই
১৯৭০ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের ডিফেন্ডার ব্রিতো মারা গেছেন। ছবি : সংগৃহীত

ব্রাজিল ফুটবলের সোনালি প্রজন্মের অন্যতম সদস্য ও ১৯৭০ বিশ্বকাপজয়ী দলের ডিফেন্ডার ব্রিতো আর নেই। ৮৬ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ব্রাজিলের এই কিংবদন্তি ফুটবলার।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) ব্রিতোর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি সামির সাউদ শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘ব্রিতো আমাদের ছেড়ে গেছেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে। ১৯৭০ বিশ্বকাপে আমাদের তৃতীয় শিরোপা জয়ে তার অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার লড়াকু মানসিকতা ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করবে।’

১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা ছিলেন ব্রিতো। সেই দলের আরেক ডিফেন্ডার উইলসন পিয়াজা ছিলেন কৌশলী ফুটবলের জন্য পরিচিত, আর ব্রিতো খ্যাতি পেয়েছিলেন তার শক্তিমত্তা, দৃঢ়তা ও কঠোর রক্ষণভাগের নেতৃত্বের জন্য।

মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে পেলে, জর্জিনহো, টোস্টাও, রিভেলিনোদের নিয়ে গড়া ব্রাজিল দলকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা বিশ্বকাপজয়ী দল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন ব্রিতো।

জাতীয় দলের জার্সিতে তিনি ৬১টি ম্যাচ খেলেছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নিজের কঠিন ও নির্ভরযোগ্য রক্ষণভাগের জন্য বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।

প্রত্যাবর্তনে বিশ্বকাপ শুরু দ. কোরিয়ার

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রত্যাবর্তনে বিশ্বকাপ শুরু দ. কোরিয়ার
ছবি : রয়টার্স

ম্যাচের প্রথমার্ধ জুড়ে কেবলই সুযোগ নষ্টের মহড়া। বিরতির পর উল্টো গোল হজম করে স্তব্ধ হয়ে পড়া। চরম নাটকীয়তায় মোড়ানো ম্যাচে এমন খাদের কিনারা থেকেই রূপকথার মতো ঘুরে দাঁড়াল দক্ষিণ কোরিয়া। হুয়াং ইন-বমের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স আর বদলি নামা ওহ হিয়ুন-গিউর শেষ মুহূর্তের ম্যাজিকে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত জয় দিয়ে খাতা খুলল এশিয়ান পরাশক্তিরা।

মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘এ’ গ্রুপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

ম্যাচের শুরু থেকেই চেকেদের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে দক্ষিণ কোরিয়া। ম্যাচের ১২ মিনিটেই লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পান অধিনায়ক সন হিউং-মিন। তবে জে-সুংয়ের বাড়ানো নিখুঁত পাসটি ডি-বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন টটেনহামের এই তারকা। এর ঠিক দুই মিনিট পর বক্সের বাইরে থেকে জে-সুংয়ের নেওয়া বুলেট গতির শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন চেক গোলরক্ষক মাতেই কোভার।

৩৮ মিনিটে আবারও একক নৈপুণ্যে চেকেদের রক্ষণভাগে কাঁপুনি ধরান সন। দুই ডিফেন্ডারকে ছিটকে ফেলে বাম পায়ের কোণাকুণি শট নিলেও তা পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি হাতছাড়া করে কোরিয়া। সতীর্থ লি কাং-ইনের সঙ্গে দারুণ ওয়ান-টু-ওয়ান পাসিংয়ে গোলপোস্টের একদম সামনে বল পেয়েও শেষ মুহূর্তে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান সন। ফলে নিশ্চিত গোলবঞ্চিত হয়ে হতাশায় প্রথমার্ধ শেষ করে কোরিয়া।

বিরতির পর ফিরে আবারও আক্রমণে ধার বাড়ায় কোরিয়া। চেক রক্ষণভাগে বল পেয়ে ভেতরে ঢুকে এক দারুণ নিচু শট নেন হুয়াং। প্রথম দফায় ঝাঁপিয়ে পড়ে শটটি রুখে দেন চেকেদের দেয়াল হয়ে ওঠা কোভার। ফিরতি বলে লি কাং-ইন শট নিলেও দ্বিতীয় দফায় তা আটকে দেন এই চেক গোলকিপার। ৫৬ মিনিটে আবারও সনের বিপজ্জনক শট নিজের শরীর দিয়ে ব্লক করে কোরিয়াকে গোলবঞ্চিত করেন কোভার।

ম্যাচের ৫৯ মিনিটে আকস্মিক গোলে স্তব্ধ হয়ে যায় কোরিয়ান শিবির। ডান প্রান্ত থেকে ভ্লাদিমির সুফালের লং থ্রো-ইনে শূন্যে লাফিয়ে হেডে কোরিয়ার জাল কাঁপান চেক অধিনায়ক লাদিস্লাভ ক্রেইচি।

পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি এশিয়ান পরাশক্তিরা। মাত্র ৮ মিনিটের মাথায়, খেলার ৬৭ মিনিটে ম্যাচে সমতা ফেরায় কোরিয়া। চেকেদের ডি-বক্সে বল পান ফেইনুর্দ মিডফিল্ডার হুয়াং ইন-বম। তাকে রুখতে প্রতিপক্ষের গোলকিপার মাতেই কোভার দ্রুত পজিশন ছেড়ে সামনে ছুটে এলে ঠান্ডা মাথায় তার মাথার ওপর দিয়ে আলতো চিপে বল জালে জড়িয়ে দেন এই কোরিয়ান তারকা।

৭৭ মিনিটে অল্পের জন্য রক্ষা পায় দক্ষিণ কোরিয়া। ফ্রি-কিক থেকে তমাস সৌচেক কোরিয়ার জালে বল পাঠালেও লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তোলায় উল্লাস মাটি হয় চেকেদের।

এর ঠিক তিন মিনিট পর, ৮০ মিনিটে আসে কোরিয়ার সেই কাঙ্ক্ষিত জয়সূচক গোল। মাঝমাঠ থেকে বাতাসে ভাসানো এক নিখুঁত পাস খুঁজে নেয় ডান প্রান্তে থাকা হুয়াং ইন-বমকে। বক্সে তার চমৎকার কাট-ব্যাক থেকে আলতো ছোঁয়ায় বল জালে জড়ান বদলি নামা ওহ হিয়ুন-গিউ।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সমতায় ফেরার সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে চেক প্রজাতন্ত্র। সাদিলেকের দুর্বল শট কোরিয়ান গোলরক্ষক সহজেই লুফে নিলে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে দক্ষিণ কোরিয়া।