• ই-পেপার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল কক্সবাজার আসছেন

আমরা মিলেমিশে কাজ করব : ভারতের নতুন হাইকমিশনার

বেনাপোল প্রতিনিধি ও যশোর অফিস
আমরা মিলেমিশে কাজ করব : ভারতের নতুন হাইকমিশনার
ছবি: কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার এইচ.ই. শ্রী দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, একই আকাশ, একই বাতাস, একই জল তরঙ্গ। তাহলে আমরা মিলেমিশে কাজ করব।

শুক্রবার (১২ জুন) বাংলাদেশে প্রবেশের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন সকালে বেনাপোল-পেট্রাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে সড়কপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মৃণাল (মিনাল) ত্রিবেদী। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বেনাপোল স্থলবন্দরে পৌঁছালে বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারত দুটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশ। পারস্পরিক সহযোগিতা আরো বাড়ানো গেলে তা শুধু আঞ্চলিক উন্নয়নেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে’। যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথা জানান তিনি।

টুরিস্ট ভিসা চালুর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি তার বিবেচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে এমন উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে উভয় দেশের জনগণ সন্তুষ্ট হতে পারেন। তিনি দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন হাইকমিশনারের সফর উপলক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রাচার অনুবিভাগ থেকে আগেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে বেনাপোল কাস্টমস হাউস, ইমিগ্রেশন, বন্দর কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিল।

ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে নবনিযুক্ত হাইকমিশনারকে অভ্যর্থনা জানাতে ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবনকুমার তুলসীদাস বাধে এবং সেকেন্ড সেক্রেটারি গৌরব আগরওয়ালসহ একটি কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল আগে থেকেই যশোরে অবস্থান করছিলেন। পরে তারা বেনাপোল সীমান্তে উপস্থিত হয়ে দীনেশ ত্রিবেদী ও তার সফরসঙ্গীদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান।

সীমান্তের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দীনেশ ত্রিবেদী সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র (ক্রিডেনশিয়াল) পেশের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করবেন।

স্বাগত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি চিফ অব প্রোটোকল আরিফ মোহাম্মদ, সিনিয়র সহকারী সচিব সরোয়ার মোহাম্মদ শাহরিয়ার খান, বেনাপোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অতল গোস্বামী, ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

গত ৫ জুন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে পত্রাধিকার গ্রহণ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এর মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন লাভ করেন। সাবেক হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হওয়া দীনেশ ত্রিবেদী একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ।

শূন্যরেখায় ১২ জনের অবস্থান, পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ

মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার
শূন্যরেখায় ১২ জনের অবস্থান, পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনসাধারণের তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

বর্তমানে ওই ১২ জন সীমান্তের শূন্যরেখা সংলগ্ন ভারতীয় অংশে অবস্থান করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোররাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার হোগলবাড়িয়া থানার চরমেঘনা সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের চরবিলগাথুয়া সীমান্তে তাদের প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়।

এ সময় স্থানীয়রা তাদের আটক করে বিজিবিকে খবর দেন। পরে বিজিবির সহায়তায় ১৪৮ নম্বর সীমান্ত পিলারসংলগ্ন এলাকা দিয়ে তাদের পুনরায় ভারতীয় সীমান্তের দিকে ফেরত পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ অংশে বিজিবি ও স্থানীয় জনসাধারণ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিজিবির পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

কলমাকান্দায় ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত ৩

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
কলমাকান্দায় ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত ৩
সংগৃহীত ছবি

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ধানবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মো. নুর আলম (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো তিনজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার গুতুরা কবরস্থান সড়ক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নুর আলম উপজেলার ছোট শৌলজান গ্রামের নওয়াব আলীর ছেলে। আহতরা হলেন কলমাকান্দা মধ্যবাজার এলাকার মৃত লাল মিয়ার ছেলে হাজী রফিকুল ইসলাম (৬০), চানপুর গ্রামের রাকেশ তালুকদারের ছেলে শান্ত শংকর (৩৮) এবং বাসাউড়া গ্রামের গোপাল সাহার ছেলে অন্তর সাহা (২৭)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নেত্রকোনার রাজুর বাজার এলাকা থেকে চার যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা কলমাকান্দা বাজারের দিকে যাচ্ছিল। পথে গুতুরা কবরস্থান সড়ক এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ধানবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশাটির সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি সড়কের পাশে উল্টে যায় এবং এতে থাকা চার যাত্রী গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুর আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কলমাকান্দা থানার এসআই ফেরদৌস আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি জব্দ করেছে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই চালক পালিয়ে যান। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

৭ লাখ টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা টানালেন মিন্টু

ফয়সল আহমেদ খান, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
৭ লাখ টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা টানালেন মিন্টু
৫ কি.মি দীর্ঘ কোরিয়ান পতাকা টানিয়ে সাড়া ফেলেছেন মিন্টু মিয়া। ছবি : কালের কণ্ঠ

 

ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে যখন সারাদেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উন্মাদনা দেখা যায়, তখন ব্যতিক্রমী নজির স্থাপন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বাসিন্দা আবু কাউছার মিন্টু মিয়া। প্রিয় দল দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি ভালোবাসা থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা টানিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি।

মিন্টু মিয়া উপজেলার খাল্লা গ্রামের বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে ১৯৯৮ সালে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় পাড়ি জমান। ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপ তিনি সরাসরি গ্যালারিতে বসে উপভোগ করেন। সে সময় দক্ষিণ কোরিয়ার তারকা ফুটবলার আহন জুং-হোয়ানের নৈপুণ্যে মুগ্ধ হয়ে দেশটির ফুটবল দলের সমর্থকে পরিণত হন।

দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে ২০১৩ সালে দেশে ফিরে এলেও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি তার ভালোবাসা এতটুকু কমেনি। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ওভারব্রিজ এলাকায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা টানিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। পরে ২০২২ বিশ্বকাপ উপলক্ষে নিজ এলাকা খাল্লা থেকে তেজখালি পশ্চিমপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা টানান।

এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে খাল্লা বিষ্ণুরামপুর থেকে বাহাদুর হয়ে খাল্লা পশ্চিমপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা টানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে দেশে ফেরার পর থেকেই দেশটির প্রতি মিন্টু ভাইয়ের আলাদা টান তৈরি হয়। ২০১৮ সালে তিনি এক কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা টানিয়ে সবার নজর কাড়েন। এরপর ২০২২ সালে ৪ কিলোমিটার এবং এবার প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা টানিয়েছেন। তার এমন উদ্যোগ আমাদেরও উৎসাহিত করে।

বব

ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের ঠিকাদার মো. আনোয়ার পারভেজ সেন্টু বলেন, দীর্ঘদিন দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকার কারণে দেশটির প্রতি মিন্টু ভাইয়ের গভীর আবেগ রয়েছে। সেই ভালোবাসা থেকেই তিনি প্রতিবছর ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিয়ে থাকেন। আমরা চাই তার প্রিয় দল ভালো ফল করুক।

মিন্টু মিয়া বলেন, ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় বসে বিশ্বকাপ খেলা দেখার সময় থেকেই আমি দেশটির ফুটবল দলের ভক্ত। দক্ষিণ কোরিয়া ও তাদের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবেই এই পতাকা টানানো। এলাকাবাসী ও স্বজনদের উৎসাহ আমাকে অনুপ্রাণিত করে।

দুই সন্তানের জনক মিন্টু মিয়া জানান, প্রিয় দলের সাম্প্রতিক জয়ে তিনি আনন্দিত। এ উপলক্ষে তার ‘পিস কোরিয়া ক্যাফে’-তে বিশ্বকাপ চলাকালীন ১০ শতাংশ মূল্যছাড় ঘোষণা করেছেন। তিনি আশা করেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া ভালো ফল করবে এবং সবার কাছে দলের সাফল্যের জন্য দোয়া কামনা করেন।