• ই-পেপার

জীবন দিয়ে সন্তানের লোভের মূল্য চুকালেন বৃদ্ধ পিতা

সীমান্ত অপরাধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিতে একমত বিজিবি-বিএসএফ

অনলাইন ডেস্ক
সীমান্ত অপরাধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিতে একমত বিজিবি-বিএসএফ
সংগৃহীত ছবি

ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তে মাদক, অস্ত্র ও স্বর্ণ চোরাচালান, মানবপাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সহযোগিতা আরো জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। একই সঙ্গে সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে যৌথ টহল, নজরদারি এবং তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিএসএফের (বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স) এক প্রেস রিলিজে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়।

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ৮ থেকে ১১ জুন অনুষ্ঠিত ৫৭তম মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের সীমান্ত সমন্বয় সম্মেলনে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্মেলনটি ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিএসএফের মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।

সম্মেলনে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সীমান্ত পরিস্থিতি এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, জাল মুদ্রা, স্বর্ণ ও অন্যান্য অবৈধ পণ্যের চোরাচালান প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

এছাড়া মানবপাচার, অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম এবং সীমান্ত ব্যবহার করে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড মোকাবিলার উপায় নিয়েও আলোচনা হয়। সীমান্তে মৃত্যুর ঘটনা, অনিচ্ছাকৃত বা জোরপূর্বক সীমান্ত অতিক্রমের বিষয় এবং সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ সম্পর্কেও দুই পক্ষ মতবিনিময় করে।

বৈঠকে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (কো-অর্ডিনেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান) বাস্তবায়ন এবং সীমান্ত এলাকায় আস্থা বৃদ্ধিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়। সীমান্তে উদ্ভূত নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ব্যাপারেও উভয় পক্ষ একমত হয়।

সম্মেলনে ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। এ লক্ষ্যে যৌথ টহল কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা, নজরদারি বৃদ্ধি করা এবং তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা উন্নত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

সীমান্তবর্তী জনগণের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমান্তের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

বৈঠকে দুই বাহিনী সীমান্তবর্তী অপরাধ, বিদ্রোহী তৎপরতা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে, এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতি অনুসরণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। সম্মেলনের ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতেও পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা এবং পেশাগত সম্পর্ক আরো জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

১১ জুন যৌথ আলোচনার নথিতে স্বাক্ষরের মাধ্যমে চার দিনের এই সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে। দুই দেশের প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরো কার্যকর করবে এবং ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করবে।

সৌরজগতে ঘুরত মঙ্গল-আকারের অজানা গ্রহ, সাহারায় পাওয়া উল্কাপিণ্ডে মিলল প্রমাণ

অনলাইন ডেস্ক
সৌরজগতে ঘুরত মঙ্গল-আকারের অজানা গ্রহ, সাহারায় পাওয়া উল্কাপিণ্ডে মিলল প্রমাণ
সংগৃহীত ছবি

সাহারা মরুভূমি থেকে পাওয়া একটি বিরল উল্কাপিণ্ডের বিশ্লেষণে সৌরজগতের শুরুর দিকের ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এই উল্কাপিণ্ডে এমন একটি প্রাচীন জগতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা সৌরজগত গঠনের প্রাথমিক সময়ে ছিল, কিন্তু পরে তা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়।

গবেষকদের মতে, হারিয়ে যাওয়া এই গ্রহের আকার অন্তত পৃথিবীর চাঁদের সমান ছিল। এমনকি এটি মঙ্গলের কাছাকাছি আকারেরও হতে পারে। তবে সৌরজগত গঠনের কয়েক মিলিয়ন বছরের মধ্যেই ভয়াবহ সংঘর্ষে এর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো বোল্ডার বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ভূবিজ্ঞানী এই গবেষণা পরিচালনা করেছেন। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বৈজ্ঞানিক সাময়িকী 'আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সাইন্স লেটার্স'- এ।

এই গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি বিশেষ উল্কাপিণ্ড। এর নাম 'নর্থওয়েস্ট আফ্রিকা ১২৭৭৪' বা সংক্ষেপে 'এনডব্লিউএ ১২৭৭৪'। ২০১৯ সালে সাহারা মরুভূমিতে এই কালো রঙের ছোট পাথরটি পাওয়া যায়। বাইরে থেকে এটি সাধারণ পাথরের মতো দেখালেও পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণের পর বিজ্ঞানীরা এর ভেতরে অসাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য খুঁজে পান। উল্কাপিণ্ডটি ‘অ্যাঙ্গ্রাইট’ নামে পরিচিত এক বিরল ধরনের আগ্নেয় মহাকাশ পাথরের শ্রেণিতে পড়ে। পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রায় ৮০ হাজার উল্কাপিণ্ডের মধ্যে মাত্র ০.০৯ শতাংশ অ্যাঙ্গ্রাইট। বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, এই ধরনের উল্কাপিণ্ড কোনো ছোট গ্রহাণু থেকে এসেছে। কারণ এতে সিলিকা বা সিলিকন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ খুবই কম। সিলিকা হলো বালি, কোয়ার্টজ এবং পৃথিবী ও মঙ্গলের মতো পাথুরে গ্রহের বাইরের স্তরের প্রধান উপাদান। এই কারণে ধারণা করা হয়েছিল অ্যাঙ্গ্রাইট প্যারেন্ট বডি বা এই পাথরগুলোর মূল জগতটি ছিল ছোট ও সাধারণ কোনো গ্রহাণু, যার  ব্যাসার্ধ ২০০ কিলোমিটারের বেশি ছিল না।

কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা উল্কাপিণ্ডের ভেতরে থাকা ক্লিনোপাইরোক্সিন নামের একটি খনিজ বিশ্লেষণ করেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, এই খনিজে অস্বাভাবিক মাত্রায় অ্যালুমিনিয়াম রয়েছে। বিজ্ঞানীরা এরপর বিশেষ কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে হিসাব করেন, এমন খনিজ তৈরি হতে কত চাপ প্রয়োজন। ফলাফল তাদের বিস্মিত করে। তারা দেখেন, এই খনিজ তৈরির জন্য অন্তত ১৭.৫ কিলোবার চাপ প্রয়োজন। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর সমুদ্রখাত মারিয়ানা ট্রেঞ্চের তলদেশের চাপের চেয়েও ১৭ গুণ বেশি। গবেষকদের মতে, এত বেশি চাপ কোনো ছোট গ্রহাণুর ভেতরে তৈরি হওয়া সম্ভব নয়।

এরপর বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখেন, এমন চাপ তৈরি করতে হলে মূল গ্রহটির আকার কত বড় হতে হবে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, উল্কাপিণ্ডটি গ্রহের গভীরে নয়, বরং পৃষ্ঠের কাছাকাছি অংশে তৈরি হয়েছিল। কারণ এর খনিজ কণাগুলো খুব দ্রুত ঠান্ডা হওয়ার চিহ্ন বহন করছে। এই তথ্য থেকে গবেষকেরা সিদ্ধান্তে পৌঁছান, উল্কাপিণ্ডটির উৎস কোনো ছোট গ্রহাণু নয়। তাদের হিসাবে, হারিয়ে যাওয়া সেই জগতের ব্যাসার্ধ অন্তত ১ হাজার ৮০০ কিলোমিটার ছিল। অর্থাৎ এটি পৃথিবীর চাঁদের চেয়েও কিছুটা বড়। গবেষণার সর্বোচ্চ হিসাব অনুযায়ী, এর ব্যাসার্ধ ৩ হাজার ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে, যা প্রায় মঙ্গলের সমান।

গবেষণাটি সৌরজগতের প্রাথমিক ইতিহাস সম্পর্কেও নতুন ধারণা দিচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যের জন্মের কয়েক মিলিয়ন বছরের মধ্যেই চাঁদ বা মঙ্গলের আকারের অনেক গ্রহ-ভ্রূণ তৈরি হয়েছিল। তখনকার সৌরজগত আজকের মতো শান্ত ছিল না। বরং সেখানে অসংখ্য বড় বস্তু একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল। গবেষকদের ধারণা, এনডব্লিউএ ১২৭৭৪ যে জগত থেকে এসেছে, সেটিও এমন কোনো ভয়াবহ সংঘর্ষে ধ্বংস হয়ে যায়। এর অধিকাংশ অংশ পরে অন্য গ্রহের সঙ্গে মিশে যায়। এমনকি সেই হারিয়ে যাওয়া জগতের কিছু উপাদান আজকের পৃথিবীর ভেতরেও থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

যে গ্রহটি ধ্বংস হয়ে গেছে, তার একটি ছোট অংশ হিসেবে এনডব্লিউএ ১২৭৭৪ টিকে ছিল কোটি কোটি বছর। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি যেন অতীতের একটি ‘টাইম ক্যাপসুল’। এর ভেতরে সৌরজগতের শুরুর সময়ের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবেষকেরা এই পাথরের রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করেছেন। ইলেকট্রন মাইক্রোপ্রোব এবং বিশেষ ধরনের অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে তারা কোটি কোটি বছর আগের পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। 

গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার হয়তো কেবল শুরু। বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘর ও গবেষণাগারে সংরক্ষিত হাজার হাজার উল্কাপিণ্ডের মধ্যে এমন আরো অনেক হারিয়ে যাওয়া জগতের চিহ্ন লুকিয়ে থাকতে পারে। তাদের বিশ্বাস, ভবিষ্যতে এসব নমুনা বিশ্লেষণ করে সৌরজগতের জন্ম ও বিকাশ সম্পর্কে আরো নতুন তথ্য জানা যাবে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধকেও ছাড়িয়ে গেছে ইউক্রেনে পুতিনের যুদ্ধ

অনলাইন ডেস্ক
প্রথম বিশ্বযুদ্ধকেও ছাড়িয়ে গেছে ইউক্রেনে পুতিনের যুদ্ধ
ছবি : সংগৃহীত

বড় মাইলফলক অতিক্রম করেছে ইউক্রেন যুদ্ধ। এই যুদ্ধ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের পর শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন এক হাজার ৫৬৯ দিন ধরে চলছে। যে সময় ১৯১৪-১৯১৮ সালের যুদ্ধের সময়কালকেও ছাড়িয়ে গেছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনমত জরিপ অনুযায়ী, প্রায় অর্ধেক ইউক্রেনীয় মনে করেন, এই যুদ্ধ আরো দীর্ঘকাল চলবে এবং আগামী বছরের আগে শেষ হবে না। এর ফলে যুদ্ধের সময়কাল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কাছাকাছি চলে আসবে। দ্বীতিয় বিশ্বযুদ্ধ ৬ বছরের লড়াইয়ের পর শেষ হয়েছিল। যদিও দুটি সংঘাতের মাত্রা এবং বৈশ্বিক বিস্তৃতি ভিন্ন।

ইতিহাসবিদ ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ইউক্রেন যুদ্ধ এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে। বিশেষ করে, উভয় যুদ্ধই দীর্ঘস্থায়ী হয়ে পড়েছে এবং নতুন প্রযুক্তি যুদ্ধের ধরন ও কৌশলে বড় পরিবর্তন এনেছে।

২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করলে মস্কো দ্রুত বিজয়ের আশা করেছিল। রুশবাহিনী রাজধানী কিয়েভের দিকে দ্রুত অগ্রসর হয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই শহরটি দখল করতে চেয়েছিল। কিন্তু ইউক্রেনের শক্ত প্রতিরোধের মুখে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।

ইউক্রেনীয় বাহিনীর পাল্টা প্রতিরোধের কারণে রুশ সেনাদের কিয়েভের আশপাশের এলাকা থেকে পিছু হটতে হয়। এরপর যুদ্ধ দ্রুত বিজয়ের লড়াই থেকে দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর সংঘাতে রূপ নেয়, যেখানে উভয়পক্ষই দীর্ঘ সময় ধরে প্রায় একই অবস্থানে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

পরে যুদ্ধটি ধীরে ধীরে একটি ক্ষয়ক্ষতির যুদ্ধে পরিণত হয়, যেখানে উভয়পক্ষই দীর্ঘ সময় ধরে একই রণাঙ্গনে অবস্থান ধরে রেখে লড়াই চালিয়ে যায়।

নিজেকে শুধু ‘ফ্রান্স’ নামে পরিচয় দেওয়া এক ইউক্রেনীয় সেনা বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম যুদ্ধ হয়তো দুই বা তিন বছর চলবে, তারপর রাজনীতিবিদরা কোনো না কোনো সমঝোতায় পৌঁছাবেন।’ এরপরের পরিস্থিতির সঙ্গে প্রায়ই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের তুলনা করা হয়।

সে সময় ইউরোপজুড়ে সৈন্যরা পরিখায় অবস্থান নিয়ে দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করেছিল। ইউক্রেন যুদ্ধেও রুশ ও ইউক্রেনীয় সেনারা বাংকার ও সুরক্ষিত অবস্থান থেকে মাসের পর মাস লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে গোলন্দাজ বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সাবেক ফরাসি কর্নেল ও সামরিক ইতিহাসবিদ মিশেল গোয়া বলেন, ‘যখন কোনো যুদ্ধক্ষেত্র দীর্ঘ সময় স্থবির হয়ে যায়, তখন তা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দেয়।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, দুটি যুদ্ধের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো প্রযুক্তির ব্যবহার। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ট্যাংক ও যুদ্ধবিমান যুদ্ধের ধরন বদলে দিয়েছিল। 

ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন প্রধান অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। এগুলো যুদ্ধক্ষেত্র নজরদারি করছে, শত্রুর অবস্থান শনাক্ত করছে এবং আগের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। ফলে আধুনিক যুদ্ধের চেহারা দ্রুত বদলে যাচ্ছে, যেখানে অনেক ক্ষেত্রে ড্রোন ট্যাংকারের মতো প্রচলিত অস্ত্রের গুরুত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার প্রচলিত পরিখার নেটওয়ার্ককে বিপজ্জনক করে তুলেছে, যা সেনাদের আরো গভীরে মাটির নিচে ছোট ছোট আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য করছে। এগুলোকে সহজে শনাক্ত করা যায় না।

ফ্রান্স বলে, ‘এই পরিস্থিতিতে, যারা পরিখা খনন করে তারা বেশি দিন বাঁচে এবং বেশি নিরাপদ থাকে।’

বড় আকারের সেনা চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে, কারণ ড্রোন দ্রুত সৈন্যদের শনাক্ত করে আক্রমণ করতে পারে। এমনকি ট্যাংক, যা এক সময় শক্তিশালী রণক্ষেত্রের অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হতো, সেগুলোও এখন আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর কারণ আকাশ থেকে সেগুলোকে সহজেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা যায়।

ইউক্রেনের বিভিন্ন অংশে দেখা ধ্বংসযজ্ঞ অনেক পর্যবেক্ষককে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দৃশ্যের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। তা সে ক্ষতিগ্রস্ত শহরই হোক, বিধ্বস্ত ভূদৃশ্যই হোক বা অবিরাম গোলাবর্ষণে ক্ষতবিক্ষত মাঠই হোক।

তবে ঐতিহাসিকরা সতর্ক করেছেন, সরাসরি তুলনার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বিভিন্ন মহাদেশের একাধিক দেশ জড়িত ছিল। সেখানে ইউক্রেনের যুদ্ধ একটি প্রধান যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবুও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংঘাত আধুনিক ইতিহাসে ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে পরিণত হতে পারে।

ইউক্রেনীয় ঐতিহাসিক ইয়ারোস্লাভ বলেন, ‘এটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, তবে ড্রোন দিয়ে।’ শান্তি আলোচনা থমকে যাওয়ায়, এই যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

রাশিয়ার অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য তেল সম্পদের ওপর ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মস্কোর সক্ষমতা দুর্বল করার কৌশলের একটি প্রধান অংশ হয়ে উঠেছে।

মেক্সিকান সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক
মেক্সিকান সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা
ছবি : আনাদোলু এজেন্সি।

মেক্সিকোর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ভেরাক্রুজে বন্দুকধারীরা এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এই ঘটনা ঘটে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এ বছর দেশটিতে গণমাধ্যমকর্মী হত্যার এটি দ্বিতীয় ঘটনা।  দুটি ঘটনাই ঘটেছে ভেরাক্রুজে। এলাকাটি সাংবাদিকদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে পরিচিত।

ভেরাক্রুজের প্রসিকিউটরের কার্যালয় এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নিহত সাংবাদিকেতর নাম লুইস অ্যাঞ্জেল লোপেজ ভালদেজ। তিনি একটি স্থানীয় গণমাধ্যমের পরিচালক এবং ‘ভ্যানগার্ডিয়া দে ভেরাক্রুজ’ পত্রিকার একজন ক্রাইম রিপোর্টার ছিলেন।

ভ্যানগার্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, লোপেজ ভালদেজ পোজা রিকা শহরের একটি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় বন্দুকধারীরা তাকে পথরোধ করে এবং খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তিনি পুলিশ ও নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিবেদন তৈরিতে বিশেষজ্ঞ ছিলেন।

নিহত সাংবাদিক লোপেজ ভালদেজের সঙ্গে কাজ করা এক প্রতিবেদক জানান, লোপেজ ভালদেজ সরকারি সাংবাদিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় ছিলেন। তবে এ তথ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট রাজ্য কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত হামলার ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

হত্যার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, সে সম্পর্কেও কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে প্রসিকিউটরদের কার্যালয় ইঙ্গিত দিয়েছে, তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সাংবাদিকের পেশাগত কাজের সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য সম্পর্ক খতিয়ে দেখছে।

এর আগে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে মেক্সিকোর ভেরাক্রুজ রাজ্যে অপরাধবিষয়ক সংবাদ সংগ্রহকারী আরেক সাংবাদিককে একই শহরে হত্যা করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তাকে কার্লোস কাস্ত্রো হিসেবে শনাক্ত করে। তিনি অনলাইন সংবাদমাধ্যম কোডিগো নর্তে ভেরাক্রুজের পরিচালক ছিলেন এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গেও কাজ করতেন।