• ই-পেপার

৬০ পণ্যে কর ছাড়ে স্বস্তির আশা ভোক্তাদের

ব্যাবসায়িক অ্যাকাউন্ট খুলতে বিআইএন বাধ্যতামূলক

অনলাইন ডেস্ক
ব্যাবসায়িক অ্যাকাউন্ট খুলতে বিআইএন বাধ্যতামূলক

ব্যাবসায়িক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন)।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ভ্যাটের আওতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাবসায়িক কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে মূসক নিবন্ধন গ্রহণ বাধ্যতামূলক করার জন্য আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনয়নের প্রস্তাব করছি।’

অর্থাৎ ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চলতি হিসাব খুলতে বা ঋণ নিতে হলে বিআইএন নিতে হবে।

ইলেকট্রিক গাড়ি ও ই-বাইক খাতে শুল্ক-কর ছাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইলেকট্রিক গাড়ি ও ই-বাইক খাতে শুল্ক-কর ছাড়
ছবি : কালের কণ্ঠ

পরিবেশ দূষণ কমানো, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং দেশে বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ইলেকট্রিক গাড়ি (ইভি), বাস, ট্রাক ও ই-বাইক খাতে ব্যাপক শুল্ক-কর ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে বিদ্যমান সব ধরনের শুল্ক-কর অব্যাহতি এবং অন্যান্য ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাকের ক্ষেত্রে ভ্যাট ছাড়া বাকি সব শুল্ক-কর ছাড়ের সুবিধা ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বহাল রাখা হবে।

এ ছাড়া ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানিতে করভার কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে ৯৩ শতাংশ করভার ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের ইভির ক্ষেত্রে ৬৪ শতাংশ এবং ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের গাড়ির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

দেশে ইভি উৎপাদন উৎসাহিত করতে স্থানীয়ভাবে উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যন্ত্রাংশ ও উপকরণ আমদানিতে ৩ শতাংশ আমদানি শুল্ক ছাড়া বাকি সব শুল্ক-কর মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে। তুলনামূলক কম মূল্য সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক রেখে অন্যান্য শুল্ক-কর অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
স্থানীয় ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক উৎপাদন শিল্পের কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানিতেও বিশেষ কর-সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব রেয়াতি সুবিধা ৩০ জুন ২০৩১ পর্যন্ত বহাল থাকবে।

এ ছাড়া দেশীয় ই-বাইক উত্পাদন ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানগুলোকেও উপকরণ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এদিকে ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে বিআরটিএতে নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ২ লাখ টাকার অগ্রিম আয়কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোরও প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইলেকট্রিক গাড়ির মোটর সক্ষমতা (কিলোওয়াট) অনুযায়ী অগ্রিম আয়কর ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা হবে। ২০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত গাড়ির জন্য ২৫ হাজার টাকা, ৩০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকা, ৪০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত ৭৫ হাজার টাকা এবং ৪০০ কিলোওয়াটের বেশি সক্ষমতার গাড়ির জন্য ১ লাখ টাকা অগ্রিম আয়কর প্রস্তাব করা হয়েছে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বাজেট বাড়ল ২৫৬ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বাজেট বাড়ল ২৫৬ কোটি টাকা
সংগৃহীত ছবি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে মোট ৫ হাজার ৭৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন খাতে ২ হাজার ১২৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ২ হাজার ৯৫২ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উত্থাপিত মঞ্জুরি ও বরাদ্দের দাবি সম্পর্কিত সরকারি নথি বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা গেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই মন্ত্রণালয়ের মোট বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৮২২ কোটি ১৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। সেই তুলনায় আগামী নতুন অর্থবছরে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বাড়ছে প্রায় ২৫৬ কোটি টাকা।

বাজেট নথিতে আগামী অর্থবছরে ঢাকার আবাসন সমস্যা সমাধান, পরিকল্পিত নগরায়ণ ও পরিবেশ রক্ষায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- গুলশান-বারিধারা এবং গুলশান-বনানী লেকসমূহের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রকল্প। এছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের মালিকানাধীন মতিঝিল এলাকায় জলাধার পার্ক ও শিশুদের খেলার মাঠসহ বিভিন্ন সেবামূলক স্থাপনা নির্মাণের একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসন সংকট নিরসনে ঢাকার আজিমপুর সরকারি কলোনির অভ্যন্তরে বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ (জোন-সি), তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় ১২৩টি ফ্ল্যাট নির্মাণ, মালিবাগ এলাকায় রাজউক কোয়ার্টারের পশ্চিম কম্পাউন্ডে কর্মচারীদের জন্য বহুতল কোয়ার্টার নির্মাণ এবং শেরে বাংলা নগর প্রশাসনিক এলাকায় বহুতল সরকারি অফিস ভবন নির্মাণ করা হবে।

ঢাকার বাইরে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের উন্নয়নকেও এই বাজেটে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প এবং কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু হতে চাকতাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। এছাড়া চট্টগ্রাম শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহের সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন (গুচ্ছ প্রকল্প-১) এবং চট্টগ্রামের ৩৬টি পরিত্যক্ত বাড়িতে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পিত গ্রামীণ ও নগর উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানের ২৩টি উপজেলার সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা ও ঢাকার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে দুটি পৃথক সমীক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। একই সাথে শহরের বহুতল ভবনগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘নগরাঞ্চলে ভবন সুরক্ষা প্রকল্প (২য় সংশোধিত)’ চালু রাখা হবে।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বরাদ্দের এই অর্থ দিয়ে দেশের আবাসন সমস্যা সমাধান, সরকারি স্থাপনার আধুনিক নকশা প্রণয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ, পরিকল্পিত ভূমির সুষ্ঠু ব্যবহার এবং আবাসন খাতে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করা হবে।

বাজেট

পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর আমদানীকৃত গাড়িতে কর বাড়ছে

অনলাইন ডেস্ক
পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর আমদানীকৃত গাড়িতে কর বাড়ছে

পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ডিজেল, অকটেন বা পেট্রলচালিত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা কমিয়ে আনতে মধ্যম সারির ১২০০ থেকে ১৬০০ সিসি ক্ষমতার ইন্টারনাল কম্বাশন (IC) ইঞ্জিনবিশিষ্ট আমদানীকৃত গাড়ির ওপর বিদ্যমান সামগ্রিক করভার ১৩২.৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫৫.৮৮ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করছি।

পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক যান (EV) ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

মন্ত্রী বলেন, ইলেকট্রিক গাড়ির নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সবচেয়ে জরুরি দেশব্যাপী বিস্তৃত চার্জিং নেটওয়ার্ক। এ লক্ষ্যে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক গাড়ির চার্জার এবং চার্জিং স্টেশনের জন্য আমদানি পর্যায়ে মোট করভার ৩৯.৭৫ শতাংশ হতে হ্রাস করে শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।

তবে অন্যান্য গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান করভার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করছি।