• ই-পেপার

বাজেট

নতুন পে-স্কেলে আলাদা বরাদ্দ থাকছে না

কেন বৃহস্পতিবারই বাজেট পেশ করা হয়?

অনলাইন ডেস্ক
কেন বৃহস্পতিবারই বাজেট পেশ করা হয়?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট উত্থাপন করা হবে আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন)। বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

দেশে এর আগে শুধু একবারই ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাজেট সোমবার উত্থাপন করা হয়েছিল। তবে বরাবরের মতো এবারও বৃহস্পতিবারই বাজেট পেশ করা হচ্ছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ অর্থবছর থেকে দেশের প্রায় সব বাজেটই বৃহস্পতিবার উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে অনেকের মনেই প্রশ্ন ওঠে, বাজেট কেন সবসময় বৃহস্পতিবার পেশ করা হয়?

এ বিষয়ে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ বলেন, বাজেট প্রণয়ন ও উপস্থাপনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেক পরিশ্রম করতে হয়। তাই বৃহস্পতিবার বাজেট উপস্থাপন করলে পরের দুই দিন, অর্থাৎ শুক্রবার ও শনিবার ছুটি পাওয়া যায়। একই সঙ্গে এই দুই দিনে বাজেট বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনারও সুযোগ থাকে।
 
তিনি আরো বলেন, এর পেছনে আরও কিছু কারণ থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার বাজেট ঘোষণার পর যেহেতু পরের দুই দিন সরকারি ছুটি থাকে, তাই এ সময় কেউ সহজে আইনি কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে না। একই সঙ্গে কেউ চাইলে আগেভাগে পণ্য কিনে মজুত করা বা শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার মতো কাজও করতে পারে না।

ড. আব্দুল মজিদ জানান, বাজেট উপস্থাপনের পরের সপ্তাহে সম্পূরক বাজেট পাস করতে হয়। সংসদ সদস্যরা যাতে বাজেটের বিভিন্ন বিষয় ভালোভাবে পড়াশোনা ও বুঝতে পারেন, সে জন্যও কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়। বৃহস্পতিবার বাজেট ঘোষণা করলে তারা অতিরিক্ত দুই দিন সময় পান।

জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার হতে পারে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। আর বাজেটে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকতে পারে।

দেশের প্রথম বাজেটের আকার যত ছিল

অনলাইন ডেস্ক
দেশের প্রথম বাজেটের আকার যত ছিল

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ এ বাজেট পেশ করেন। একই অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ছিল ৫০১ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর থেকে দেশের বাজেটের আকার ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন
যেভাবে এসেছিল বিগত ৫৪ বাজেট

যেভাবে এসেছিল বিগত ৫৪ বাজেট

 

সবচেয়ে বেশি বাজেট পেশ করেছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং এম সাইফুর রহমান। দুই জনই সর্বোচ্চ ১২বার করে জাতীয় বাজেট পেশ করেছেন।

আরো পড়ুন
দেশে ফিরে বীরের সংবর্ধনা পেলেন নিষিদ্ধ সেই রেফারি

দেশে ফিরে বীরের সংবর্ধনা পেলেন নিষিদ্ধ সেই রেফারি

 

এবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ করবেন আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন)। এটি দেশের ৫৫তম, বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের ও অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেট।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার হতে পারে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। যা দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। আর বাজেটে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকতে পারে।

আরো পড়ুন
ব্যবসা শুরু-পরিচালনায় আসছে সংস্কার, ৭ দিনে মিলবে লাইসেন্স

ব্যবসা শুরু-পরিচালনায় আসছে সংস্কার, ৭ দিনে মিলবে লাইসেন্স

 

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে সাড়ে ৬ শতাংশ। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে সাড়ে ৭ শতাংশ।

এদিকে, বাজেটে আগামী (২০২৬-২৭) অর্থবছরের জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করেছে সরকার। এডিপিতে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। আর ঋণ সহায়তা বা বিদেশি অর্থায়ন ধরা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।

বাজেট

ব্যবসা শুরু-পরিচালনায় আসছে সংস্কার, ৭ দিনে মিলবে লাইসেন্স

অনলাইন ডেস্ক
ব্যবসা শুরু-পরিচালনায় আসছে সংস্কার, ৭ দিনে মিলবে লাইসেন্স

বাজেটে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনায় সময়, ব্যয় ও অনিশ্চয়তা কমাতে অনুমোদন ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংস্কারের ঘোষণা থাকছে। ফলে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আবেদন জমা থেকে লাইসেন্স প্রদান পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার ঘোষণা থাকছে।

এছাড়া প্রতিটি অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থা মতামত, ছাড়পত্র, অনাপত্তি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না দিলে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ডিমড অ্যাপ্রুভাল বা সম্মতি রয়েছে ধরে নিয়ে আবেদন নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা থাকতে পারে।

কোম্পানি নিবন্ধন সেবার ক্ষেত্রেও গতি আনার উদ্যোগ রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোম্পানি নিবন্ধন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন করার ঘোষণা থাকতে পারে বাজেট প্রস্তাবে। 

বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ জনবলের জন্য ওয়ার্ক পারমিট সাত দিনের মধ্যে এবং বিনিয়োগকারী ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিসা ১০ দিনের মধ্যে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হতে পারে। বিনিয়োগকারীদের আইনি সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক আস্থা বাড়াতে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি সম্প্রসারণ, পাশাপাশি দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি হালনাগাদ ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে

এ ছাড়া আগামী অর্থবছর নির্ধারিত শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্লাগ অ্যান্ড প্লে বা প্রস্তুত শিল্প-সুবিধা প্যাকেজ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দ্রুত কারখানা স্থাপন ও উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়

৩ কোটি টাকার বেশি আয়ে ৩৫ শতাংশ করের প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক
৩ কোটি টাকার বেশি আয়ে ৩৫ শতাংশ করের প্রস্তাব
সংগৃহীত ছবি

উচ্চ আয়ের করদাতাদের ওপর করের চাপ বাড়িয়ে দেশের ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, বার্ষিক ৩ কোটি টাকার বেশি আয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত আয়করের হার বর্তমান ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করা হতে পারে। এর ফলে উচ্চ আয়ের করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা পড়বে। আগামী ২০২৮-২৯ করবর্ষ থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি তথা পাঁচ বছরের করহার কাঠামো ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। এই রূপরেখায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই বছর এবং পরবর্তী বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের তিন বছরের সম্ভাব্য কর ব্যবস্থার একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রস্তাবিত বাজেট বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ২০২৮-২৯ করবর্ষ থেকে ২০৩০-৩১ করবর্ষ পর্যন্ত ৩ কোটি টাকার বেশি আয়ের ওপর অতিরিক্ত ৫ শতাংশ কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই বর্ধিত করহার সাধারণ বা মধ্যবিত্ত করদাতাদের স্পর্শ করবে না; এটি কেবল সীমিতসংখ্যক উচ্চবিত্ত ও অতি-ধনী করদাতাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৮-২৯ করবর্ষে এই করহার কার্যকর হওয়ার অর্থ হলো, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে অর্জিত আয়ের ওপর ভিত্তি করে এই কর পরিশোধ করতে হবে।

প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের করদাতাদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এবারের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বর্তমানের চেয়ে ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এরপর পরবর্তী ৩ লাখ টাকার আয়ের ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকার ওপর ২০ শতাংশ, পরবর্তী ২০ লাখ টাকার ওপর ২৫ শতাংশ এবং পরবর্তী ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকার ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হবে।

এ হিসেবে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশ থাকবে। তবে ৩ কোটি টাকার বেশি আয়ের অংশের ওপর ৩৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।

অবশ্য ২০৩০-৩১ করবর্ষে সর্বোচ্চ করহার অপরিবর্তিত থাকলেও নিম্ন আয়ের স্তরগুলোতে কিছু পরিবর্তন আনা হবে। ওই বছর করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে সাড়ে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

এদিকে, চলতি অর্থবছরের আয়ের বিপরীতে আগামী ২০২৬-২৭ করবর্ষের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

বাংলাদেশে এক সময় ব্যক্তিশ্রেণির সর্বোচ্চ আয়কর হার ছিল ৩০ শতাংশ। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তা কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হলেও মেয়াদের শেষ দিকে আবার ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হয়।

অর্থনীতিবিদরা দীর্ঘদিন ধরে আয়বৈষম্য কমাতে উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ওপর তুলনামূলক বেশি হারে কর আরোপের পরামর্শ দিয়ে আসছেন। তবে কিছু করবিশেষজ্ঞের মতে, যারা নিয়মিত কর পরিশোধ করেন এবং কর-অনুগত, তাদের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়।