• ই-পেপার

কলমাকান্দায় ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত ৩

বগুড়া শহরের ওপর দিয়ে যাবে ট্রেন, একনেকে যাচ্ছে রেল প্রকল্প

আতিক রহমান, বগুড়া
বগুড়া শহরের ওপর দিয়ে যাবে ট্রেন, একনেকে যাচ্ছে রেল প্রকল্প

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া পর্যন্ত সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প আগামী সপ্তাহে একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বগুড়ার কেন্দ্রীয় বাইতুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের পূর্ণাঙ্গ নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যে প্রায় ২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই মসজিদের কাজের দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করা হবে।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে বগুড়া প্রেস ক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময়সভায় এসব তথ্য জানান তিনি। সভায় তিনি বগুড়ার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে সরকারের একাধিক মহাপরিকল্পনা ও বিশেষ উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। 

প্রতিমন্ত্রী জানান, বগুড়ার মতো সারা দেশেও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে। এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে সাড় ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া ডুয়েলগেজ রেলপথ প্রকল্পটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। এই প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া জেলায় ২২০০ কোটি টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে এবং অধিগ্রহণের কাজ প্রায় শেষ। দাতা সংস্থার যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা মেনে আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে এই রেলপথের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।

তিনি আরো জানান, শহরের যানজট ও ভোগান্তি দূর করতে আমরা নতুন একটি সম্ভাব্যতা যাচাই করছি। পরিকল্পনা রয়েছে, রানীরহাট থেকে বগুড়া শহরে যে রেল সংযোগ আসবে, সেখান থেকে ঢাকা মেট্রোরেলের আদলে উড়াল রেললাইন বা পিলার তৈরি করে শহরের ওপর দিয়ে ট্রেনটিকে নিয়ে গিয়ে গাবতলীতে নামানো হবে। এতে রেল স্টেশনটি মেট্রো রেলের মতো দোতলায় হবে, শহরে কোনো রেলগেট থাকবে না এবং নিচের অংশটি রাস্তা হিসেবে সিটি কর্পোরেশন ব্যবহার করতে পারবে। আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

মীর শাহে আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বগুড়ার বাইতুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের উন্নয়ন ও পূর্ণাঙ্গ নির্মাণকাজের জন্য প্রায় ২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই ঠিকাদার নিয়োগ করে এর কাজ শুরু হবে। এছাড়া শহরের সৌন্দর্যবর্ধন এবং বিভিন্ন চত্বর সংস্কারের যাবতীয় কাজ নবগঠিত সিটি করপোরেশনের অধীনে সম্পন্ন করা হবে। এই মুহূর্তে রাস্তাঘাট ভাঙচুর না করে বিদ্যমান অবকাঠামো ঠিক রেখেই পানি নিষ্কাশন ও চলাচলের পথ সুন্দর করার কাজ চলছে।’

বগুড়ার তরুণ সমাজের মাদকাসক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত ১৯ বছর বগুড়ার ছেলে-মেয়েরা তেমন কোনো চাকরির সুযোগ পায়নি। দীর্ঘদিনের এই হতাশা থেকেই অনেকে মাদকের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে প্রায় ৫ লাখ শূন্যপদ রয়েছে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে থাকা বগুড়ার কৃতি সন্তানদের সঙ্গে সমন্বয় করার পরামর্শ দেন তিনি।

মাদক নির্মূলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। বগুড়ার পুলিশ সুপার এবং জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সেখানে বিশেষ অভিযান শুরু করা হবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করা হবে ইনশাআল্লাহ।’

বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইনটি সংশোধন করে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় করার কাজ চলছে। নতুন নামকরণে এটি ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে সংসদে পাস করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতে বগুড়ায় যাতে আলাদা কৃষি, প্রকৌশল বা চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় না লাগে সেজন্য এই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই জেনারেল অনুষদের পাশাপাশি প্রকৌশল, কৃষি ও চিকিৎসা অনুষদ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এখানে পিএইচডি ও দেশি-বিদেশি গবেষকদের জন্য বিশেষ গবেষণার সুযোগ থাকবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আইনটি চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে এটি মন্ত্রিপরিষদে উঠবে। বিশ্ববিদ্যালয়টি শহরের কোলাহলমুক্ত কোনো প্রাকৃতিক পরিবেশে স্থাপন করা হবে।’

তিনি জানান, বগুড়া বিমানবন্দরটি সাধারণ অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হিসেবে চালু হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা আধুনিক ও বহুমুখী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। বগুড়া শহরের গুরুত্ব বাড়াতে গাবতলীতে একটি ফোর-লেন বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া শহরের চারমাথা থেকে নওগাঁ পর্যন্ত রাস্তাটি যার মধ্যে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থাকবে সেটিকে ৬ লেনে এবং মোকামতলা থেকে জয়পুরহাটের হিলি পর্যন্ত রাস্তাটি সার্ভিস লেনসহ ৪ লেনে উন্নীত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মতবিনিময়সভায় প্রতিমন্ত্রী বগুড়া প্রেস ক্লাবের অভ্যন্তরীণ ডেকোরেশন, রাস্তা ও এসিসহ সার্বিক সংস্কারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা অনুদান ঘোষণা করেন, যা সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।

বগুড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময়সভায় সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম. আর. ইসলাম স্বাধীন।

আমরা মিলেমিশে কাজ করব : ভারতের নতুন হাইকমিশনার

বেনাপোল প্রতিনিধি ও যশোর অফিস
আমরা মিলেমিশে কাজ করব : ভারতের নতুন হাইকমিশনার
ছবি: কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার এইচ ই শ্রী দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, একই আকাশ, একই বাতাস, একই জল তরঙ্গ। তাহলে আমরা মিলেমিশে কাজ করব।

শুক্রবার (১২ জুন) বাংলাদেশে প্রবেশের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন সকালে বেনাপোল-পেট্রাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে সড়কপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মৃণাল (মিনাল) ত্রিবেদী। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বেনাপোল স্থলবন্দরে পৌঁছালে বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারত দুটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশ। পারস্পরিক সহযোগিতা আরো বাড়ানো গেলে তা শুধু আঞ্চলিক উন্নয়নেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে’। যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথা জানান তিনি।

টুরিস্ট ভিসা চালুর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি তার বিবেচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে এমন উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে উভয় দেশের জনগণ সন্তুষ্ট হতে পারেন। তিনি দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরো জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন হাইকমিশনারের সফর উপলক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রাচার অনুবিভাগ থেকে আগেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে বেনাপোল কাস্টমস হাউস, ইমিগ্রেশন, বন্দর কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিল।

ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে নবনিযুক্ত হাইকমিশনারকে অভ্যর্থনা জানাতে ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবনকুমার তুলসীদাস বাধে এবং সেকেন্ড সেক্রেটারি গৌরব আগরওয়ালসহ একটি কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল আগে থেকেই যশোরে অবস্থান করছিলেন। পরে তারা বেনাপোল সীমান্তে উপস্থিত হয়ে দীনেশ ত্রিবেদী ও তার সফরসঙ্গীদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান।

সীমান্তের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দীনেশ ত্রিবেদী সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র (ক্রিডেনশিয়াল) পেশের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করবেন।

স্বাগত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি চিফ অব প্রোটোকল আরিফ মোহাম্মদ, সিনিয়র সহকারী সচিব সরোয়ার মোহাম্মদ শাহরিয়ার খান, বেনাপোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অতল গোস্বামী, ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

গত ৫ জুন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে পত্রাধিকার গ্রহণ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এর মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন লাভ করেন। সাবেক হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হওয়া দীনেশ ত্রিবেদী একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ।

শূন্যরেখায় ১২ জনের অবস্থান, পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ

মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার
শূন্যরেখায় ১২ জনের অবস্থান, পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনসাধারণের তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

বর্তমানে ওই ১২ জন সীমান্তের শূন্যরেখা সংলগ্ন ভারতীয় অংশে অবস্থান করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোররাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার হোগলবাড়িয়া থানার চরমেঘনা সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের চরবিলগাথুয়া সীমান্তে তাদের প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়।

এ সময় স্থানীয়রা তাদের আটক করে বিজিবিকে খবর দেন। পরে বিজিবির সহায়তায় ১৪৮ নম্বর সীমান্ত পিলারসংলগ্ন এলাকা দিয়ে তাদের পুনরায় ভারতীয় সীমান্তের দিকে ফেরত পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ অংশে বিজিবি ও স্থানীয় জনসাধারণ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিজিবির পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

৭ লাখ টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা টানালেন মিন্টু

ফয়সল আহমেদ খান, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
৭ লাখ টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা টানালেন মিন্টু
৫ কি.মি দীর্ঘ কোরিয়ান পতাকা টানিয়ে সাড়া ফেলেছেন মিন্টু মিয়া। ছবি : কালের কণ্ঠ

 

ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে যখন সারাদেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উন্মাদনা দেখা যায়, তখন ব্যতিক্রমী নজির স্থাপন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বাসিন্দা আবু কাউছার মিন্টু মিয়া। প্রিয় দল দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি ভালোবাসা থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা টানিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি।

মিন্টু মিয়া উপজেলার খাল্লা গ্রামের বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে ১৯৯৮ সালে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় পাড়ি জমান। ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপ তিনি সরাসরি গ্যালারিতে বসে উপভোগ করেন। সে সময় দক্ষিণ কোরিয়ার তারকা ফুটবলার আহন জুং-হোয়ানের নৈপুণ্যে মুগ্ধ হয়ে দেশটির ফুটবল দলের সমর্থকে পরিণত হন।

দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে ২০১৩ সালে দেশে ফিরে এলেও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি তার ভালোবাসা এতটুকু কমেনি। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ওভারব্রিজ এলাকায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা টানিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। পরে ২০২২ বিশ্বকাপ উপলক্ষে নিজ এলাকা খাল্লা থেকে তেজখালি পশ্চিমপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা টানান।

এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে খাল্লা বিষ্ণুরামপুর থেকে বাহাদুর হয়ে খাল্লা পশ্চিমপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা টানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে দেশে ফেরার পর থেকেই দেশটির প্রতি মিন্টু ভাইয়ের আলাদা টান তৈরি হয়। ২০১৮ সালে তিনি এক কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা টানিয়ে সবার নজর কাড়েন। এরপর ২০২২ সালে ৪ কিলোমিটার এবং এবার প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা টানিয়েছেন। তার এমন উদ্যোগ আমাদেরও উৎসাহিত করে।

বব

ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের ঠিকাদার মো. আনোয়ার পারভেজ সেন্টু বলেন, দীর্ঘদিন দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকার কারণে দেশটির প্রতি মিন্টু ভাইয়ের গভীর আবেগ রয়েছে। সেই ভালোবাসা থেকেই তিনি প্রতিবছর ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিয়ে থাকেন। আমরা চাই তার প্রিয় দল ভালো ফল করুক।

মিন্টু মিয়া বলেন, ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় বসে বিশ্বকাপ খেলা দেখার সময় থেকেই আমি দেশটির ফুটবল দলের ভক্ত। দক্ষিণ কোরিয়া ও তাদের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবেই এই পতাকা টানানো। এলাকাবাসী ও স্বজনদের উৎসাহ আমাকে অনুপ্রাণিত করে।

দুই সন্তানের জনক মিন্টু মিয়া জানান, প্রিয় দলের সাম্প্রতিক জয়ে তিনি আনন্দিত। এ উপলক্ষে তার ‘পিস কোরিয়া ক্যাফে’-তে বিশ্বকাপ চলাকালীন ১০ শতাংশ মূল্যছাড় ঘোষণা করেছেন। তিনি আশা করেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া ভালো ফল করবে এবং সবার কাছে দলের সাফল্যের জন্য দোয়া কামনা করেন।