• ই-পেপার

ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুসের চিকিৎসায় আশার আলো দেখাচ্ছেন বিজ্ঞানী সুভাষ সাহা

স্বাস্থ্যখাতে দ্বিগুণ বরাদ্দ দেওয়ায় ধন্যবাদ জানালো ড্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বাস্থ্যখাতে দ্বিগুণ বরাদ্দ দেওয়ায় ধন্যবাদ জানালো ড্যাব

জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে প্রায় দ্বিগুণ বরাদ্দ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেনকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. আবুল কেনান ও মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল এক যৌথ বিবৃতিতে এই ধন্যবাদ জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা (জিডিপির ১ দশমিক ১ শতাংশ) বরাদ্দের ঘোষণা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন, মানবসম্পদ বিকাশ এবং জনগণের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা, যা জিডিপির ০ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

তারা বলেন, এবারের বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে পূর্ববর্তী বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বরাদ্দ প্রদান প্রমাণ করে যে, বর্তমান সরকার জনগণের জীবনমান উন্নয়ন তথা স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নকে রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান দিয়েছে।

ড্যাব নেতারা আরো বলেন, উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা, রাষ্ট্র সংস্কার, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং কল্যাণমুখী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার যে অঙ্গীকার বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে জনগণের সামনে তুলে ধরেছিল, স্বাস্থ্যখাতে এই অভূতপূর্ব বিনিয়োগ সেই জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক দর্শনেরই বাস্তব প্রতিফলন। একটি মানবিক ও উন্নত রাষ্ট্র বিনির্মাণে স্বাস্থ্যসেবা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার যে দৃষ্টান্ত বর্তমান সরকার প্রদর্শন করেছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

তারা বলেন, স্বাস্থ্যখাতের এই বরাদ্দ ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজকে শক্তিশালী করবে এবং সরকারি হাসপাতালগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত, পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক-নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়ন এবং সর্বোপরি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্তির মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৮ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৮ জনের মৃত্যু
ছবি : কালের কণ্ঠ

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হাম উপসর্গে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে নিশ্চিত হাম ও হাম উপসর্গে এখন পর্যন্ত ৬৩৯ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৩৯ জন।

হার্টের রিংয়ের নতুন দাম বাস্তবায়নে হাসপাতালগুলোকে চিঠি

অনলাইন ডেস্ক
হার্টের রিংয়ের নতুন দাম বাস্তবায়নে হাসপাতালগুলোকে চিঠি

হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হার্টের রিং বা করোনারি স্টেন্টের (স্টেন্ট) পুনঃনির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়নে দেশের হাসপাতালগুলোকে চিঠি দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ)। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) অধিদপ্তর থেকে জারি করা এক চিঠিতে হাসপাতালগুলোকে স্টেন্টের নতুন নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নির্দেশনা এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আমদানিকৃত বিভিন্ন ধরনের করোনারি স্টেন্টের মূল্য পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের স্মারক অনুযায়ী, ট্যাক্স, ভ্যাট, বিভিন্ন চার্জ-কমিশন এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের যৌক্তিক মুনাফা বিবেচনায় নিয়ে স্টেন্টগুলোর নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য এর আগে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পরে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মূল্য পুনর্বিবেচনার আবেদন বিশেষজ্ঞ কমিটির সপ্তম সভায় পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের গঠিত বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির পঞ্চম ও ষষ্ঠ সভার সুপারিশের আলোকে স্টেন্টের দাম পুনর্র্নিধারণ করা হয়। এরপর গত ১৩ মে অনুষ্ঠিত কমিটির সপ্তম সভায় মূল্য সংক্রান্ত আপত্তি ও আবেদনগুলো পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। 

চিঠিতে হাসপাতালগুলোর জন্য ৪টি জরুরি নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়, হার্টের রিংয়ের নতুন মূল্য তালিকা সংশ্লিষ্ট সকল হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে সর্বসাধারণের অবগতির জন্য প্রদর্শন করতে হবে। রিংয়ের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য বা এমআরপি অনুসরণ করে ক্রয়-বিক্রয় নিশ্চিত করতে হবে এবং এটিকে কোনোভাবেই চিকিৎসা প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না।

বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস

খাদ্য প্যাকেটের সম্মুখভাগে সতর্কবার্তা বাড়াবে ভোক্তা সচেতনতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
খাদ্য প্যাকেটের সম্মুখভাগে সতর্কবার্তা বাড়াবে ভোক্তা সচেতনতা
সংগৃহীত ছবি

অতিরিক্ত  চিনি, লবণ, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স-ফ্যাটযুক্ত অতি-প্রক্রিয়াজাত প্যাকেট খাবার বাংলাদেশে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা ও ক্যান্সারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। প্যাকেটের সম্মুখভাগে সহজ, স্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক সতর্কীকরণভিত্তিক ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) এসব রোগের ঝুঁকি কমানোর একটি কার্যকর উপায়। 

রবিবার (৭ জুন) বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহযোগিতায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজিত “অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং করণীয়: বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত” শীর্ষক ওয়েবিনারে এসব তথ্য ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এবছর দিবসটির প্রতিপাদ্য “ফ্রম বারডেন টু সলিউশন: সেফ ফুড এভরিহোয়্যার”।

ওয়েবিনারে জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী প্রতিবছর দেশে প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার ২৬৩ জন মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ।  অতি-প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে থাকা অতিরিক্ত চিনি, লবণ, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স-ফ্যাট অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ওয়েবিনারে আরো জানানো হয়, বর্তমানে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্যাকেটের পেছনে থাকা জটিল পুষ্টিতথ্য অধিকাংশ ভোক্তা সহজে বুঝতে পারেন না। ফলে খাদ্যের প্রকৃত পুষ্টিমান ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা ছাড়াই খাদ্য নির্বাচন করেন তারা। বাধ্যতামূলক এফওপিএল চালু হলে পণ্যের সম্মুখভাগে সতর্কবার্তার মাধ্যমে ভোক্তারা সহজেই বুঝতে পারবেন কোন খাদ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বি রয়েছে। এর ফলে তারা আরো সচেতনভাবে স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ খাদ্য নির্বাচন করতে পারবেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এফওপিএলকে একটি কার্যকর ও সাশ্রয়ী জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে সুপারিশ করেছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, “বিশ্বে ৪৪টি দেশ ইতোমধ্যে এফওপিএল চালু করেছে এবং এসব দেশে ভোক্তাদের খাদ্য নির্বাচনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশও এ বিষয়ে কাজ করছে এবং আমরা আশা করি দ্রুতই এটি চালু করতে পারব।’

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, “বাংলাদেশে এফওপিএল বাস্তবায়িত হলে এটি এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ৩.৪ (অসংক্রামক রোগ হ্রাস) অর্জনের পথকে আরো সুগম করবে।”

বারডেম জেনারেল হাসপাতালের খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের চিফ নিউট্রিশনিস্ট শামসুন্নাহার নাহিদ বলেন, “প্যাকেটজাত খাবারে থাকা স্বাস্থ্যহানিকর উপাদানের পরিমাণ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির জন্য এফওপিএল ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।”

ওয়েবিনারে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহ. ইফতিখার এবং ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস-এর কনসালটেন্ট আমিনুল ইসলাম সুজন। প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরের সভাপতিত্বে এবং কো-অর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিনের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রোগ্রাম অফিসার শবনম মোস্তফা। নাগরিক সমাজ, এনজিও এবং যুব সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ওয়েবিনারে অংশ নেন।