• ই-পেপার

ফুটবলকে বিদায় বলছেন ২১ শতকের জনপ্রিয় ও ক্যারিশম্যাটিক তারকা

শৈল্পিক কলম্বিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোয় মুখোমুখি সুইসরা

ক্রীড়া ডেস্ক
শৈল্পিক কলম্বিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোয় মুখোমুখি সুইসরা
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপে রাউন্ড ১৬ এর লড়াইয়ের শেষ ম্যাচে সুইজাল্যান্ডের মুখোমুখি হবে কলম্বিয়া। ম্যাচটি শুধু কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার লড়াই নয়, বরং এটি লাতিন আমেরিকার শৈল্পিক ছন্দ বনাম  ইউরোপীয় গতি ও পাওয়ার ফুটবলের এক জমজমাট লড়াই দেখকে ফুটবল বিশ্ব।

ম্যাচটি কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় অনুষ্ঠিত হবে। ম্যাচটি শ্বাসরুদ্ধকর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হবে বলে আশা করা যায়। কারণ উভয় দলেরই অপরাজিত থাকার রেকর্ড রয়েছে। যেখানে দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিনিধি কলম্বিয়া তাদের চতুর খেলার ধরন এবং মাত্র একটি গোল হজম করা শক্তিশালী রক্ষণভাগ নিয়ে মাঠে নামবে। সেখানে সুইজারল্যান্ড তাদের বৈচিত্র্যময় ও ধারালো আক্রমণভাগের প্রদর্শন করবে।

এই নান্দনিক দৈরথ্য নিঃসন্দেহে মাঝমাঠকে এক অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হবে। সুইস প্লেমেকার গ্রানিত জাকার স্থিরতা ও তীক্ষ্ণ দৃষ্টিকে কলম্বিয়ার মাঝমাঠের শারীরিক শক্তির সরাসরি মোকাবেলা করতে হবে। একই সাথে বিপজ্জনক লুইস দিয়াজকে নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টাও করতে হবে সুইসদের।

ফ্রান্সের বিপক্ষে অনিশ্চিত ইসমাইল সাইবারি

ক্রীড়া ডেস্ক
ফ্রান্সের বিপক্ষে অনিশ্চিত ইসমাইল সাইবারি
ছবি : ফেসবুক

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের আগে দুঃসংবাদ পেয়েছে আফ্রিকান জায়ান্ট মরক্কো। দলের অন্যতম প্রধান তারকা ইসমাইল সাইবারি মারাত্মক হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালের হাইভোল্টেজ ম্যাচে তার খেলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে ম্যাচের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান সাইবারি। তীব্র ব্যথার কারণে ম্যাচের চলাকালে মাঠ ছাড়তে হয় এই মরক্কোর তারকাকে। প্রাথমিকভাবে এটিকে হ্যামস্ট্রিং স্ট্রেন বা পেশির টান হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।

মরক্কো ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এখনো এই উইঙ্গারের ইনজুরির গভীরতা বা তীব্রতা নিশ্চিত করতে পারেনি। ম্যাচের আগে সম্পূর্ণ ফিট হয়ে ওঠার জন্য নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। 

ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে দলের সেরা তারকাকে ফিরে পেতে মরিয়া কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি।

রোনালদোর বিদায়ের মধ্যেই মেসির স্ত্রীকে জর্জিনার উপহার

ক্রীড়া ডেস্ক
রোনালদোর বিদায়ের মধ্যেই মেসির স্ত্রীকে জর্জিনার উপহার
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের উত্তেজনার মধ্যেও মাঠের বাইরের একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ মুহূর্ত ভক্তদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পর্তুগালের ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গিনী জর্জিনা রদ্রিগেজ আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জোকে নিজের নতুন ব্র্যান্ডের উপহার পাঠিয়েছেন। সেই উপহার পেয়ে আন্তোনেলা নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে প্রকাশ্যে জর্জিনাকে ধন্যবাদ জানান। 

পর্তুগিজ মহাতারকা রোনালদোর বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গিয়েছে। স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। শেষবার রোনালদোকে বিশ্বকাপ খেলতে দেখল ফুটবলবিশ্ব। পরেরবারের বিশ্বকাপ হবে রোনালদোহীন। রোনালদো ছিটকে গেলেও এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে টিকে রয়েছেন লিওনেল মেসি। রাতে আটলান্টায় মিসরের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচের আগে খবর ছড়িয়ে পড়েছে রোনালদোর সঙ্গিনী মেসির স্ত্রীকে উপহার দিয়েছেন। খবর আজকাল

ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, জর্জিনার নতুন লাউঞ্জওয়্যার ব্র্যান্ড মিমোয়ার লোগোযুক্ত একটি গোলাপি রঙের বক্স। ছবির সঙ্গে আন্তোনেলা লেখেন, ‘অনেক ধন্যবাদ জর্জিনা। সব কিছুই দারুণ সুন্দর। তোমার জন্য অনেক শুভ কামনা ও সাফল্য কামনা করছি।’ 

পোস্টটি প্রকাশের পরপরই ভাইরাল হয়ে যায় নেটদুনিয়ায়। তাতে নানা মন্তব্য করেন নেটিজেনরা।

আন্তোনেলা যে উপহারটি পেয়েছেন, তাতে ছিল একটি কালো রঙের পোশাক, একটি গোলাপি জলের বোতল, একটি ব্যাগ এবং একটি যোগা ম্যাট। নতুন ব্র্যান্ডের পক্ষ থেকে এটিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা উপহার হিসেবেই দেখা হচ্ছে। 

গত ৩০ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে মিমোয়া ব্র্যান্ডের যাত্রা শুরু করেন জর্জিনা রদ্রিগেজ। 

বিশ্বকাপের প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহে এই সৌহার্দ্যপূর্ণ ঘটনা বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে। একদিকে জর্জিনা পর্তুগালকে সমর্থন করছেন, অন্যদিকে আন্তোনেলা প্রতিটি ম্যাচে আর্জেন্টিনার পাশে রয়েছেন। মাঠে দুই দেশের লড়াই থাকলেও মাঠের বাইরে দুই পরিবারের সম্পর্ক যে বন্ধুত্বপূর্ণ, সেটিই আবারও স্পষ্ট হয়েছে।

তবে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ২০২০ সালের নভেম্বরে মেসির বড় ছেলে থিয়াগোর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন জর্জিনা। আন্তোনেলা ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে হৃদয়ের ইমোজি পাঠিয়েছিলেন জর্জিনাকে। 

চলতি বছরের জুন মাসেও জর্জিনার মেয়ে আলানা মার্টিনার একটি ভিডিওতে হৃদয়ের ইমোজি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান আন্তোনেলা। 

বিশ্বকাপের টেনশনের মাঝে দুই মহাতারকার স্ত্রী কিন্তু অন্য মুহূর্তের জন্ম দিলেন।

সালাহ ফ্যাক্টর ভাবাচ্ছে মেসিদের

ক্রীড়া ডেস্ক
সালাহ ফ্যাক্টর ভাবাচ্ছে মেসিদের
ছবি : রয়টার্স

হোয়াটসঅ্যাপে ভেসে এলো আর্জেন্টিনার সাংবাদিক আন্তোনিওর বার্তা, ‘মোটেই আমরা ফেভারিট নই। স্কালোনি জানেই না, ডিফেন্সটা নিয়ে কী করবে। সালাহ্‌ আর ওমর মারমুশ, এই দু’জনই তছনছ করে দিতে পারে।’

আন্তোনিও তো বটেই, বুয়েনস আইরেসের যে কোনো মহল্লার একটা শিশুও জানে, কেপ ভার্দে ম্যাচের পরে নীল-সাদা জার্সির আতঙ্ক বলতে নড়বড়ে ডিফেন্স। রোমেরো আর লিসান্দ্রো মার্তিনেস বিশ্বসেরা সেন্টার ব্যাকদের অন্যতম হলে কী হবে, বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে ৬৭ নম্বরে থাকা কেপ ভের্দে যেভাবে দুজনকে আগের ম্যাচে নাকানি-চোবানি খাইয়েছিল। তাতে স্কালোনির শান্তিতে ঘুমোনোর কথা নয়। মায়ামিতেই মেসির আস্তানা, অসংখ্য আর্জেন্টাইন এখানে থাকেন। তিনি এখানে ঈশ্বর। আর্জেন্টিনার পাশাপাশি সব জায়গায় চোখে পড়বে ইন্টার মায়ামির বেবি পিঙ্ক জার্সিও। খবর এই সময়

বিখ্যাত সমু্দ্রসৈকতে ফিফার ফ্যান পার্কে বসেছে জায়ান্ট স্ক্রিন, বিচে বসেই ম্যাচ দেখবেন হাজার হাজার আর্জেন্টিনীয়। ফ্যান পার্কে প্রায় সর্বত্র নীল-সাদা পতাকা, মিউজিক সিস্টেমে বাজছে টিমের থিমসং, ‘মুচাচোস।’ ব্রাজিলের বিদায় নিয়ে গড়পড়তা আর্জেন্টিনীয় খুব বেশি আলোড়িত বলে মনে হচ্ছে না। সে জন্যই আন্তোনিও বলছেন, ‘ব্রাজিল এখন বিশ্বকাপে পাস্ট টেন্স। ওদের নিয়ে আমরা ভাবব কেন? ইজিপ্টকে কী করে সামলানো যায়, সেটাই ভাবছে সবাই।’

দক্ষিণ আমেরিকার টিম ব্রাজিল ও মধ্য আমেরিকার মেক্সিকোর ছুটি করে দিয়েছে ইউরোপের নরওয়ে আর ইংল্যান্ড। আপাতত লাতিন আমেরিকার টিম বলতে বিশ্বকাপে আছে মেসির আর্জেন্টিনা আর হামেস রদ্রিগেস–লুইস দিয়াসদের কলম্বিয়া।

আটলান্টায় আজ মেসিদের প্রতিপক্ষ মোহাম্মদ সালাহর মিশর। মেসি বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা ঠিকই, কিন্তু আফ্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে একক কৃতিত্বে যদি কেউ ইউরোপ জয় করে থাকেন, তিনি মোহাম্মদ সালাহ। দু’জনের খেলার স্টাইল আলাদা। লো সেন্টার অফ গ্র্যাভিটি, ক্ষুদ্রতম জায়গাতেও অত্যাশ্চর্য কন্ট্রোল, অপ্রত্যাশিত টার্ন বা স্কিল যদি মেসির চিরকালীন অস্ত্র হয়, সালাহর স্টাইলের বিশেষত্ব চকিতে চমক, যখন-তখন অবিশ্বাস্য গতিতে দিক পরিবর্তন, যা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এক দশকের উপরে বিশ্বের তাবড় তাবড় ডিফেন্ডারদের ভুগিয়ে এসেছে।

লিভারপুল গত মে মাসে ছেড়েছেন, কিন্তু তিনিই প্রিমিয়ার লিগে বিদেশিদের মধ্যে সর্বকালের টপ স্কোরার। মিশরীয়রা সালাহকে ডাকেন ‘আল-ফিরন’ নামে, মানে ফারাও। 

কেউ কেউ আবার বলেন ‘ফোর্থ পিরামিড’, যা একটা সৌধ বা স্তম্ভ, যাকে নড়ানো যায় না, যা চিরকালীন। আটলান্টার স্টেডিয়ামে আফ্রিকার সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার হিসেবেই আজ ১০ নম্বর জার্সিতে নামবেন সালাহ, তাঁর কাঁধে থাকবে বিশ্বকাপ নক আউটে বিশ্বসেরাদের সামনে কিছু করে দেখানোর দায়িত্ব। 

কোচ হোসাম হাসান টিম সাজাবেন ৪-২-৩-১ ছকে। ডাবল পিভট হিসেবে মেসিকে সামলানোর দায়িত্ব থাকবে দুই মিডফিল্ডার লাসিন আর আতেয়ার উপরে। কিন্তু তাঁর আসল অস্ত্র সালাহ আর ওমর মারমুশ জুটি। দু’জনেই আপফ্রন্টে সৃষ্টিশীল, সামান্যতম জায়গা পেলে কাউন্টার অ্যাটাকে বিধ্বংসী। ওই জায়গা যে আর্জেন্টিনা ডিফেন্সে পাওয়া যায়, দেখিয়েছিল কেপ ভের্দে।

এখানেই আর্জেন্টিনার ডিফেন্সের বড় পরীক্ষা আটলান্টায়। ৪-৪-২ ছকেই খেলার কথা স্কালোনির। মোলিনা আর তাগলিয়াফিকো দুই সাইড ব্যাক, সেন্টার ব্যাক রোমেরো আর লিসান্দ্রো মাতির্নেস। মিডফিল্ডে ম্যাকঅ্যালিস্টার, দে পল, লিসান্দ্রো পারেদেস আর এনজো ফের্নান্দেস। উপরে মেসির সঙ্গে হচ্ছেন আলভারেস। সম্ভাব্য প্রকাশিত একাদশে সেই আভাসই দেয়।

মিডফিল্ড যদি এনজো ফের্নান্দেস–দে পলরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন, মেসির দিকে বল যাবে। 

ঘুরে-ফিরে এই ম্যাচের ফোকাসে অবশ্যই মেসি আর সালাহ্‌। দুই দশ নম্বর, দুই কিংবদন্তি। কে হাসিমুখে মাঠ ছাড়বেন, সবুজ মাঠ আর সময়ই বলে দেবে।