• ই-পেপার

ভারতের সিরিজ হারে বিজেপি ও গম্ভীরকে তীব্র আক্রমণ সমর্থকদের

বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েও দর্শকের ভূমিকায় ছিলেন যে তারকারা

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েও দর্শকের ভূমিকায় ছিলেন যে তারকারা

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে স্কোয়াডে জায়গা পেলেও বিভিন্ন কারণে এক মিনিটও খেলার সুযোগ পাননি বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার। 

অনুশীলনের সময় চোটে পড়া, কোচের কৌশলগত সিদ্ধান্ত কিংবা একাদশে জায়গা করে নেওয়ার ক্ষেত্রে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে তাদের পুরো টুর্নামেন্টে বেঞ্চ গরম করতে হয়েছে। 

এমনই কয়েকজন উল্লেখযোগ্য তারকা ফুটবলারদের নিয়ে এই আয়োজন— 

এন’গোলো কান্তে (ফ্রান্স) ফ্রান্সের ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন এন’গোলো কান্তে। ২০২৬ বিশ্বকাপেও কান্তেকে স্কোয়াডে রেখেছিলেন কোচ দিদিয়ের দেশম। কিন্তু টুর্নামেন্টে তাকে এক মিনিটও খেলানোর প্রয়োজন মনে করেননি দেশম। এমনকি তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও মাঠে নামাননি। সেই অভিমানেই কি না কান্তে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন।

দাভিদ রায়া (স্পেন) আর্সেনালের হয়ে গত মৌসুমে জিতেছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা, চ্যাম্পিয়নস লিগে হয়েছেন রানার্স আপ। দুর্দান্ত ছন্দে থেকেই বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন গোলকিপার দাভিদ রায়া। কিন্তু তাকে এক মিনিটও খেলাননি স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ী কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। স্পেনের প্রথম পছন্দের গোলকিপার উনাই সিমন বিশ্বকাপজুড়ে খেয়েছেন মাত্র একটি গোল। সিমনকে তাই বসিয়ে রাখার প্রয়োজন মনে করেননি ফুয়েন্তে। 

কোবি মাইনু (ইংল্যান্ড) ইংল্যান্ডের অন্যতম সম্ভাবনাময় তরুণ মিডফিল্ডার কোবি মাইনু পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে বেঞ্চে কাটান। অসুস্থতার কারণে তিনি তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ থেকেও ছিটকে যান। পুরো বিশ্বকাপে না খেলা ইংল্যান্ডের একমাত্র আউটফিল্ড খেলোয়াড় তিনি।  

গ্লেইসন ব্রেমের (ব্রাজিল)  জুভেন্টাসের এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকলে কোনো ম্যাচেই খেলার সুযোগ পাননি। কারণ, দলের সেন্টার ব্যাকে কোচ কার্লো আনচেলত্তির পছন্দের জুটি ছিলেন মার্কিনিওস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়ায়েস। তাই বলে এক মিনিটও খেলার সুযোগ পাবেন না, সেটা নিশ্চয় ভাবেননি ব্রেমের। 

রোনাল্ড আরাউহো (উরুগুয়ে) বার্সেলোনার একাদশে রোনাল্ড আরাউহোকে নিয়মিতই দেখা যায়নি। কিন্তু বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে সৌদি আরব ও কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে চোটের কারণে বিবেচনায় ছিলেন না আরাউহো। যদিও স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তিনি পুরোপুরি সেরে উঠেছিলেন। উরুগুয়ের কোচ মার্সেলো বিয়েলসা তবু তাকে খেলাননি। অনেকের মতে, আরাউহোর না খেলতে পারা উরুগুয়ের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের অন্যতম কারণ।

আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো (স্পেন)  ক্লাব ফুটবলে দারুণ ছন্দে থাকা সত্ত্বেও স্পেনের আলেহান্দ্রো গ্রিমালদোকে বিশ্বকাপজুড়ে দর্শকের ভূমিকায় থাকতে হয়েছে। আতলেতিকো মাদ্রিদের এই ডিফেন্ডার খেলেন বাঁ প্রান্তে। কিন্তু এই পজিশনে দুর্দান্ত খেলেছেন মার্ক কুকুরেয়া। ফলে গ্রিমালদোর মাঠে নামার সুযোগ হয়নি। অবশ্য বসে বসে বিশ্বকাপ জিততে পারলে ক্ষতি কী!

আচরণবিধি ভাঙায় লিটন ও মেহেদীকে শাস্তি দিল বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক
আচরণবিধি ভাঙায় লিটন ও মেহেদীকে শাস্তি দিল বিসিবি
লিটন দাস (বাঁয়ে) ও শেখ মেহেদী। ছবি: আইসিসি

আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে লিটন দাস ও শেখ মেহেদীকে জরিমানা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শৃঙ্খলা কমিটি। 

লিটনের বিরুদ্ধে বিসিবিকে না জানিয়ে চীনে যাওয়ায় এবং মেহেদীর বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে টিম ম্যানেজমেন্টের প্রতি ক্ষোভ জানানোয় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

দুই ক্রিকেটারের বক্তব্য শোনার পর এই শাস্তির প্রস্তাব করে বিসিবি। বিষয়টি একাধিক সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বোর্ড পরিচালক ও শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য সিরাজউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর।

সিরাজউদ্দীন বলেছেন, ‘ওদের (লিটন ও মেহেদী) শাস্তি এখন ডিসক্লোজ না করলে ভালো হবে। যেহেতু এটা একেবারেই অভ্যন্তরীণ বিষয়। লিটনকে কিছু আর্থিক জরিমানা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। শেখ মেহেদীর ক্ষেত্রেও তাই। তবে লিটনের চেয়ে শেখ মেহেদীর জরিমানার পরিমাণ বেশি।’

জিম্বাবুয়ে থেকে ফিরে গতকাল (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় বিসিবির শৃঙ্খলা কমিটির কাছে মেহেদী তার বিরুদ্ধে ওঠা আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগের জবাব দেন। আর চিকিৎসার উদ্দেশে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার আগে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন লিটন।

চোটের কারণে জিম্বাবুয়ে সফরের মাঝপথে দেশে ফেরেন লিটন এবং বিসিবিকে না জানিয়ে চীনে ঘুরতে যান তিনি। ক্রিকেটারদের আচরণবিধি অনুযায়ী, সিরিজ বা খেলা না থাকলে, বিসিবির অনুমতি নিয়ে দেশের বাইরে যেতে হয়। তিনি সেই নিয়ম মানেননি।

অন্যদিকে, সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চট্টগ্রামে টি-টোয়েন্টি সিরিজে একাদশে জায়গা না পাওয়া নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন শেখ মেহেদী। হতাশাও প্রকাশ করেন তিনি। দলে জায়গা না পেয়ে আগেও নানা সময়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন এই অফ স্পিন অলরাউন্ডার।

পর্তুগালের জার্সিতে বিদায়ের দিনক্ষণ কি ঠিক করে ফেলেছেন রোনালদো

ক্রীড়া ডেস্ক
পর্তুগালের জার্সিতে বিদায়ের দিনক্ষণ কি ঠিক করে ফেলেছেন রোনালদো
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ছবি: ফিফা

অনেক তো হলো। আর কত? অবশেষে পর্তুগালের জার্সিতে বিদায়ের দিনক্ষণ নাকি ঠিক করে ফেলেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। 

জর্ডানের ক্রীড়া সাংবাদিক মোহাম্মদ আওয়াদের দাবি, এক পর্তুগিজ ফুটবল এজেন্ট তাকে জানিয়েছেন যে, ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ায় আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের পরিকল্পনা করছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগালের হয়ে নিজের শেষ ম্যাচের সম্ভাব্য তারিখও তিনি নির্ধারণ করেছেন।

পরবর্তীতে এ নিয়ে প্রতিবেদন করেছে গোল ডট কম, ইয়াহু স্পোর্টসসহ কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ও গৌরবময় ক্যারিয়ারের ইতি টানতে রোনালদো নিজের ক্যারিয়ারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি বিশেষ ভেন্যুকেই বেছে নিতে চান। 

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর লিসবনের এস্তাদিও জোসে আলভালাদেতে ওয়েলসের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচের পর রোনালদো আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেবেন। এস্তাদিও জোসে আলভালাদেতে তার শৈশবের ক্লাব স্পোর্তিং সিপির মাঠ। তবে এখনো পর্যন্ত পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন বা রোনালদো নিজে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। 

৪১ বছর বয়সী রোনালদো প্রায় দুই যুগ ধরে পর্তুগাল জাতীয় দলের অন্যতম ভরসার নাম। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও তার দখলে। জাতীয় দলের হয়ে ইউরো ও নেশনস লিগের শিরোপা জয় এবং অসংখ্য ব্যক্তিগত কীর্তি গড়েছেন তিনি।

সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি রোনালদো। পাঁচ ম্যাচে ৩ গোল করতে পারেন তিনি। পর্তুগাল বিদায় নেয় শেষ ষোলো পর্ব থেকে। 

২০০৩ সালে পর্তুগালের জার্সিতে অভিষেক হওয়া রোনালদো ২২৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১৪৩টি গোল করেছেন। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা এবং সর্বোচ্চ গোলদাতা—দুটি রেকর্ডই তার দখলে।

সৌদি ক্লাব আল নাসরের সঙ্গে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তি আছে রোনালদোর। ক্যারিয়ারে তার গোলসংখ্যা এখন ৯৭৬। সব ধরনের ফুটবল থেকে অবসরের আগে তিনি নিশ্চয় ১০০০ গোলের মাইলফলকে পৌঁছাতে চাইবেন।

বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশে স্পেনের তিন, আর্জেন্টিনার দুই, ব্রাজিলের কেউ নেই

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশে স্পেনের তিন, আর্জেন্টিনার দুই, ব্রাজিলের কেউ নেই

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল শেষে ভক্তদের ভোটের ভিত্তিতে টুর্নামেন্টের সেরা একাদশ প্রকাশ করেছে ফিফা। এর নাম দেওয়া হয়েছে ড্রিম ইলেভেন বা স্বপ্নের একাদশ।

৪-৩-৩ ফরমেশনের একাদশে প্রত্যাশিতভাবেই সবচেয়ে খেলোয়াড় আছেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দল স্পেন থেকে। সেমিফাইনালে স্পেনের কাছেই হেরে স্বপ্নভঙ্গ হওয়া ফ্রান্সেরও আছেন তিনজন। 

এ ছাড়া রানার্স আপ আর্জেন্টিনার দুইজন, তৃতীয় হওয়া ইংল্যান্ডের একজন, এমনকি নরওয়ে ও কেপ ভার্দের একজন করে থাকলেও শেষ ষোলো থেকে বাদ পড়া ব্রাজিলের কেউ নেই। 

স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতলেও স্বপ্নের একাদশে জায়গা পাননি। এ নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশ

গোলরক্ষক: ভোজিনিয়া (কেপ ভার্দে)।

রক্ষণভাগ: পেদ্রো পোরো (স্পেন), দায়োত উপামেকানো (ফ্রান্স), লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (আর্জেন্টিনা), মার্ক কুকুরেয়া (স্পেন)।

মাঝমাঠ: জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড), রদ্রি (স্পেন), মাইকেল ওলিসে (ফ্রান্স)। 

আক্রমণভাগ: লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা), আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে), কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স)।

ভারতের সিরিজ হারে বিজেপি ও গম্ভীরকে তীব্র আক্রমণ সমর্থকদের | কালের কণ্ঠ