দুয়ারে কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ। ফুটবল বা ক্রিকেটের মেগা আসর মানেই বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের উম্মাদনা। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে বাড়ির ছাদ, বারান্দা কিংবা জানালায় প্রিয় দেশের জাতীয় পতাকা ওড়ানো এখন খুবই পরিচিত দৃশ্য। তবে অতি-উৎসাহী হয়ে আবেগের বশে নিয়ম না মেনে পতাকা ওড়ালে কিন্তু কপালে জুটতে পারে বড় অঙ্কের জরিমানা! আইনের মারপ্যাঁচে এই খেসারতের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় সর্বোচ্চ প্রায় ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ইংল্যান্ডে যারা বসবাস করছেন, তাদের জন্য আইনসংগতভাবে পতাকা ওড়ানোর ক্ষেত্রে রয়েছে বেশ কিছু কড়া নিয়ম। তবে সাধারণ কিছু নিয়ম জানলেই এই বিশাল অঙ্কের জরিমানা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব।
ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, পতাকাটি যদি বাড়ির ছাদে লাগানো থাকে, তবে যেকোনো আকারের পতাকাই ওড়ানো যাবে। এতে জরিমানার কোনো ঝুঁকি নেই। তবে শর্ত একটাই—পতাকাটি যেন নিরাপদভাবে এবং ভালো অবস্থায় টানানো থাকে, যাতে পথচারী বা প্রতিবেশীদের কোনো ক্ষতি না হয়।
আসল ঝামেলাটা বাধে অন্য জায়গায়। যুক্তরাজ্যের ‘টাউন অ্যান্ড কান্ট্রি প্ল্যানিং রেগুলেশনস (২০০৭)’-এর নিয়ম অনুযায়ী, পতাকাটি যদি ছাদ ছাড়া বাড়ির অন্য কোনো অংশে—যেমন জানালা বা দেওয়ালে ঝুলানো হয়, তবে তার সর্বোচ্চ আকারের ওপর কিছু আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে। আইনের এই সূক্ষ্ম পার্থক্যের বিষয়টি না জানার কারণেই মূলত সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা বড় বিপদে পড়েন।
এমনকি পতাকাটি যদি কোনো নির্দিষ্ট পতাকাদণ্ডে ওড়ানো হয়, তবুও সেটি যে দেশের পতাকাই হোক না কেন, তার আকার কোনোভাবেই দুই মিটারের বেশি হতে পারবে না। নিয়ম অনুযায়ী, স্থানীয় কাউন্সিল যদি নিয়মবহির্ভূত কোনো পতাকা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং বাড়ির মালিক যদি তা অমান্য করেন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ পাউন্ড জরিমানা করা হতে পারে।
ঝামেলা এখানেই শেষ নয়; নির্দেশ অমান্য করে পতাকাটি ঝুলিয়ে রাখলে, যতদিন না সেটি সরানো হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত প্রতিদিনের জন্য গুনতে হবে আলাদা জরিমানা। এই দৈনিক জরিমানার পরিমাণ মূল ২,৫০০ পাউন্ডের ওপর প্রতিদিন আরো অতিরিক্ত ২৫০ পাউন্ড করে যোগ হতে পারে। সাধারণ একজন সমর্থকের জন্য এটি বিশাল এক আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।
তবে, বিশ্বকাপ চলাকালীন হুট করেই যুক্তরাজ্যের স্থানীয় কাউন্সিল আপনার দরজায় কড়া নেড়ে ২,৫০০ পাউন্ডের জরিমানার রসিদ ধরিয়ে দেবে না। এই প্রক্রিয়াটি আদালত পর্যন্ত পৌঁছাতে বেশ কিছুটা সময় লাগে। আর এর যেকোনো ধাপে যদি পতাকাটি নামিয়ে ফেলা হয় বা নিয়মের মধ্যে এনে ছোট কোনো পতাকা লাগানো হয়, তবে কোনো ঝামেলাই পোহাতে হবে না।
সাধারণত প্রতিবেশীদের কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়ার পর স্থানীয় কাউন্সিল একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ বা ‘এনফোর্সমেন্ট নোটিশ’ পাঠায়। যেখানে অবৈধ পতাকাটি সরিয়ে ফেলতে বা তার আকার ছোট করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আপনি যদি সেই নির্দেশ মেনে নেন, তবে কোনো জরিমানা ছাড়াই বিষয়টি সেখানেই মিটে যাবে।




