• ই-পেপার

ব্রাজিলের কাছ থেকে পয়েন্ট কেড়ে নিল ভেনিজুয়েলা

আসন্ন বৈশ্বিক টুর্নামেন্টকে ‌‘বিশৃঙ্খলার বিশ্বকাপ’ অ্যাখ্যা ইংলিশ তারকার

ক্রীড়া ডেস্ক
আসন্ন বৈশ্বিক টুর্নামেন্টকে ‌‘বিশৃঙ্খলার বিশ্বকাপ’ অ্যাখ্যা ইংলিশ তারকার
ছবি : গ্রেটিইমেজ

ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর এক দিন। এরই মধ্যে মাঠের ভেতরে ও বাইরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। দলগুলো যখন বিশ্বকাপ প্রস্তুতির শেষ মুহূর্তের কাজ সারছে। তখনই খেলোয়াড়, স্টাফ এবং রেফারিকে পড়তে হচ্ছে আয়োজক দেশের কঠোর ভিসানীতিতে। 

সব কিছুকে ছাপিয়ে যখন ফুটবল অঙ্গনে ভিসাসংক্রান্ত সমস্যা শিরোনামে উঠে এসেছে। ক্রমবর্ধমান ঘটনা এসব ঘটনা  তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ইতিমধ্যে ২০২৬ বিশ্বকাপকে আর্সেনাল  ও ইংল্যান্ডের সাবেক কিংবদন্তি খেলোয়াড় এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টকে ‌‘বিশৃঙ্খলার বিশ্বকাপ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

 বুধবার (১০ জুন) আসন্ন বিশ্বকাপ নিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন ‘দ্য বিউটিফুল গেম’ শিরোনামে ধারাবাহিক প্রতিবেদন পর্ব শুরু করেছে। সেখানেই বিশ্বকাপ উদ্বোধনী সপ্তাহের আগে আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বিতর্কে নিয়ে আলোকপাত করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির জোরালো বাস্তবায়ন সামনে এসেছে। এতে নির্দিষ্ট কিছু দেশের মানুষ কিভাবে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে, তা নিয়ে একটি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে এই নীতির কঠোর প্রয়োগ দেখা গেল সোমালি রেফারি ওমর আব্দুলকাদির আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। কী কারণে তাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে সে বিষয়ে মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা বিভাগের একজন মুখপাত্র সিএনএনকে জানান, ইস্তাম্বুল থেকে একটি ফ্লাইটে মায়ামিতে পৌঁছানোর পর তাকে তল্লাশির সম্মুখীন হতে হয়।  

কিন্তু আফ্রিকার সেরা পুরুষ রেফারি হিসেবে মনোনীত হয়েছিল আরতান। শুধু কঠোর অভিবাসন নীতির বলি হিসেবে তিনি বিশ্বকাপে রেফারি হিসেবে কাজ করতে পারবেন না।

এর পরই ফিফাও তার নাম বিশ্বকাপ রেফারি থেকে সরিয়ে নেয়। মার্কিন সরকার এর কারণ হিসেবে যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেছে।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় ৩৯টি দেশের মধ্যে সোমালিয়াও রয়েছে।

ফিফার একজন মুখপাত্র বলেছেন, কে ভিসা পাবে এবং কাকে আয়োজক দেশে প্রবেশ করবে, তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব সেই দেশের সরকারের।

আরতানের নিষেধাজ্ঞার খবরটি এমন সময় এসেছে যেখানে ইরান ফুটবল দলও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে গিয়ে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষত টুর্নামেন্টের জন্য আগত নির্দিষ্ট কিছু দলের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে, বিবিসি স্পোর্টসের খবর অনুযায়ী, বেশ কয়েকজন স্কটল্যান্ড সমর্থকের ভ্রমণ অনুমতি শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে। যার ফলে হোটেল ও ফ্লাইট বাবদ খরচকৃত অর্থ ক্ষতি হল।

এই ক্রমবর্ধমান ঘটনাটি স্বাভাবিকভাবেই তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, এবং আর্সেনালের সাবেক কিংবদন্তি ও ইংল্যান্ডের আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় ইয়ান রাইট এই টুর্নামেন্টকে ‘বিশৃঙ্খলার বিশ্বকাপ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার ইরানের ফুটবল ফেডারেশন (এফএফআইআরআই) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আসন্ন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের এক সপ্তাহ আগেই দেশটির সমর্থদের বরাদ্দকৃত টিকিট বাতিল করা হয়েছে।

তবে ফিফা কর্তৃক নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপের অংশগ্রহণকারী দেশের জন্য প্রতিটি ম্যাচের প্রায় ৮% টিকিট সংরক্ষিত রাখার নিয়ম রয়েছে। যাতে ফেডারেশনগুলো তাদের সমর্থকদের কাছে সেগুলো বিক্রি করতে পারে।

ইরান গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে হবে। তবে কেনো ইরানের জন্য বরাদ্দকৃত টিকিট বাতিল করা হলো ফিফা কোন কিছুই জানায়নি।

১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবার কোনো আয়োজক দেশ এমন একটি দেশকে আতিথ্য দেবে। যার সঙ্গে তারা সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত।

এসব বিতর্কে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টটিকে কিছুটা ম্রিয়মাণ হয়ে পড়ল।

বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বল ‘ট্রাইওন্ডা’

পুরো চার্জে ৬ ঘণ্টা মাঠে গড়াবে ফুটবল

ভানু গোপাল রায়
পুরো চার্জে ৬ ঘণ্টা মাঠে গড়াবে ফুটবল
বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বল ‘ট্রাইওন্ডা’। ছবি : ফিফা

ছোটবেলায় দোকানে গিয়ে চামড়ার বলে হাওয়া দেওয়ার স্মৃতি নিশ্চয়ই অনেকের আছে। তবে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় পৃথিবী এখন যেখানে পৌঁছে গেছে, তাতে চাইলে এখন চার্জ দেওয়া বলেও ফুটবল খেলা সম্ভব!

কী, শুনতে একটু অবাক লাগছে? অবাক লাগলেও এটিই এখন বাস্তবতা। হাওয়ার বদলে চার্জযুক্ত বলেই এবারের বিশ্বকাপ হবে। সেই বলে লাথি দিয়েই জাদুকরী সব মুহূর্তের জন্ম দেবেন লিওনেল মেসি-ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো-কিলিয়ান এমবাপ্পেরা।

২০২৬ বিশ্বকাপের বল ‘ট্রাইওন্ডা’ও তাই আলোচনার দখল নিয়ে ফেলেছে। স্প্যানিশ এই শব্দের বাংলা অর্থ ‘তিন ঢেউ’। ‘ট্রাই’ অর্থ তিন আর ‘ওন্ডা’র মানে ঢেউ বা তরঙ্গ। বিশ্বকাপের তিন আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাকেই ধারণ করা হয়েছে এই নামের মধ্যে। বলের নকশায়ও ছাপ আছে এই তিন দেশের। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতীকী রং নীল, কানাডার লাল এবং মেক্সিকোর জন্য নেওয়া হয়েছে সবুজ।

 

বলের গায়ে ছোঁয়া রয়েছে কানাডার ম্যাপলপাতা, মেক্সিকোর ইগল এবং যুক্তরাষ্ট্রের তারকা প্রতীকেরও। পুরো নকশায় ব্যবহৃত সোনালি রং আবার মনে করায় প্রতিটি দলের পরম আরাধ্য বিশ্বকাপ ট্রফিকেও।

চামড়া আর সুতো দিয়ে বানানো গোলাকৃতির বলের ভেতরটায় যেন আস্ত এক কম্পিউটারই ভরে দিয়েছে ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। কেননা বলের পেটে যে লুকিয়ে অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তি। যন্ত্রগুলো গুপ্ত থাকলেও এগুলোর কাজ দেখা যাবে প্রকাশ্যেই। খেলাটায় স্বচ্ছতা আনতেই এই সবকিছুর শরণাপন্ন হয়েছে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি।

অ্যাডিডাস বলের ভেতরে ১৪ গ্রামের এক বিশেষ মোশনের সেন্সর চিপ বসানো হয়েছে। কেন্দ্রে বসানো ৫০০ হার্টজের এই সেন্সরটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার তথ্য বা ডেটা রেকর্ড করতে পারে। ফুটবলারদের আলতো স্পর্শও তাই রিয়েল টাইমে পাওয়া যাবে। অফসাইড, হ্যান্ডবলের মতো বিতর্কিত ঘটনাগুলো তাই সহজেই ধরা পড়বে। একবার পুরো চার্জ দিলে ছয় ঘণ্টা খেলা যাবে। এক ম্যাচের জন্য সময়টা তাই যথেষ্টই। অ্যাডিডাসের মহাব্যবস্থাপক স্যাম হ্যান্ডি ‘ট্রাইওন্ডা’র বিশেষত্ব তুলে ধরতে গিয়ে বলছিলেন, ‘প্রতিটি ছোট জিনিসেরই বড় প্রভাব আছে। খোদাই করা নকশা, স্তরযুক্ত গ্রাফিকস এবং উজ্জ্বল রং এই বলকে অন্যগুলোর চেয়ে আলাদা করেছে। এখন পর্যন্ত এটাই আমাদের তৈরি করা সবচেয়ে সুন্দর ও আকর্ষণীয় ফিফা বিশ্বকাপের বল।’

সব মিলিয়ে ১৫ বার ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বল তৈরি করেছে অ্যাডিডাস। ফিফার সঙ্গে তাদের পথচলা ১৯৭০ বিশ্বকাপের বল টেলস্টার দিয়ে। এর পর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপেই নতুনত্বের ছোঁয়া দিয়ে আসছে জার্মান কম্পানিটি।

আর্জেন্টিনার ৬৮ বছরের পুরনো রেকর্ড ভাঙলেন মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনার ৬৮ বছরের পুরনো রেকর্ড ভাঙলেন মেসি
ছবি : রয়টার্স

বয়সটা ৩৯ ছুঁইছুঁই, অথচ মাঠে নামলেই এখনো রেকর্ড বইয়ের পাতা ওলটপালট করে দিচ্ছেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফুটবল মাঠে একের পর এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েই চলেছেন তিনি। এবার আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের প্রায় সাত দশকের পুরনো এক রেকর্ড ভেঙে নিজের করে নিলেন এই মহাতারকা। ৩৮ বছর ১১ মাস ১৮ দিন বয়সে গোল করে আলবিসেলেস্তেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতার অনন্য রেকর্ডটি এখন তার দখলে। 

আজ বুধবার (১০ জুন) সকালে এক প্রীতি ম্যাচে আইসল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচটিতে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় পেয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দলের হয়ে স্পট কিক থেকে দ্বিতীয় গোলটি করার মাধ্যমেই এই ঐতিহাসিক রেকর্ডের পাতায় নাম লেখান মেসি।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১৯৯তম ম্যাচ খেলতে এদিন শুরুর একাদশে ছিলেন না লিওনেল মেসি। ম্যাচের ৬৯তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে যখন তিনি মাঠে নামেন, গ্যালারিতে তখন করতালির রোল। মাঠে নামার ঠিক ৫৩ সেকেন্ডের মাথায় নিজের জাদুকরী ফুটবল শৈলী দেখান এলএমটেন। 

তার বাড়িয়ে দেওয়া এক চমৎকার থ্রু বল ধরে বক্সে শট নিতে গিয়েছিলেন লাউতারো মার্টিনেজ। কিন্তু প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার তাকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। ৭২তম মিনিটে সেই পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান মেসি, দলকে নিয়ে যান ২-০ ব্যবধানে।

আইসল্যান্ডের বিপক্ষে করা এই গোলটি ছিল আর্জেন্টিনার আকাশী-নীল জার্সিতে মেসির ১১৭তম আন্তর্জাতিক গোল। আর এই গোলের মুহূর্তেই তিনি ভেঙে দেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার অ্যাঞ্জেল লাব্রুনার রেকর্ড।

এর আগে আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার রেকর্ডটি ছিল লাব্রুনার। ১৯৫৭ সালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিপক্ষে যখন তিনি গোল করেছিলেন, তখন তার বয়স ছিল ৩৮ বছর ৯ মাস ১০ দিন। দীর্ঘ ৬৮ বছর ধরে অক্ষুণ্ন থাকা সেই রেকর্ডটি আজ নিজের করে নিলেন মেসি। 

বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ডের সামনে মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ডের সামনে মেসি
লিওনেল মেসি। ছবি : রয়টার্স

ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের মালিক ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে। চারটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তিনি করেছেন ১০টি অ্যাসিস্ট, যা এখনো টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

তার ঠিক পেছনেই যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন আর্জেন্টিনার দুই কিংবদন্তি লিওনেল মেসি ও দিয়েগো ম্যারাডোনা। দুজনেরই অ্যাসিস্ট সংখ্যা ৮।

২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছেন মেসি। ফলে পেলের দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভাঙার সুযোগ তার সামনে রয়েছে। রেকর্ড স্পর্শ করতে প্রয়োজন আরো দুটি অ্যাসিস্ট, আর এককভাবে শীর্ষে উঠতে দরকার তিনটি।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মেসি ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২—এই পাঁচ আসরে খেলেছেন। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন সমান কার্যকর। বিশেষ করে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তার নৈপূণ্য আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।

অন্যদিকে, ১৯৫৮ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে চারটি বিশ্বকাপে খেলা পেলে গোল ও অ্যাসিস্ট দুই ক্ষেত্রেই ছিলেন অসাধারণ। তার ১০ অ্যাসিস্টের রেকর্ড অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে অক্ষত রয়েছে।

ব্রাজিলের কাছ থেকে পয়েন্ট কেড়ে নিল ভেনিজুয়েলা | কালের কণ্ঠ