একেই বলে রাজনীতি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরদিনই প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রী হরজোত সিং বেইন্সের পদত্যাগের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছে বিজেপি।
প্রশ্ন ফাঁস এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ইস্যুতে কেন্দ্রে বিজেপি আর কংগ্রেস মুখোমুখি হলেও পাঞ্জাবে আবার দুই দল অভিন্ন কণ্ঠে রাজ্য শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাইছে। তাদের অভিযোগের তীর পাঞ্জাবে ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টির দিকে। তবে পাঞ্জাবে শাসক দল আম আদমি পার্টি প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, কেন্দ্রের নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের বিতর্ক থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই বিজেপি ও কংগ্রেস পাঞ্জাবে একজোট হয়ে এই মিথ্যা অভিযোগগুলো তুলছে।
রবিবার (২৬ জুলাই) বিজেপির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারী পাঞ্জাবের বেশ কয়েকটি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ এনে প্রশ্ন করেছেন, ’পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রী কবে পদত্যাগ করছেন?’ দিল্লির যন্তর-মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির ধারাবাহিক আন্দোলনে সশরীরে গিয়ে নৈতিকতার প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছিলেন আম আদমী পার্টির শীর্ষ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাই প্রদীপ ভান্ডারীর মূল লক্ষ্যও তিনি, ‘অরবিন্দ কেজরিওয়াল কবে নৈতিকতার খাতিরে পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাইবেন?’
একই সুর পাঞ্জাব কংগ্রেস প্রধান অমরিন্দর সিং রাজার কণ্ঠেও, ‘পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রী হরজোত বেইন্স কবে পদত্যাগ করবেন? চার বছর। ৬টি বড় প্রশ্নপত্র ফাঁস। অসংখ্য স্বপ্ন চূর্ণ। তবুও কোনো জবাবদিহিতা নেই। পাঞ্জাবের শিক্ষার্থীরা উত্তর পাওয়ার যোগ্য। তারা জবাবদিহিতা পাওয়ার যোগ্য। তারা একটি ভালো ভবিষ্যৎ পাওয়ার যোগ্য।’
তবে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান জোরালোভাবে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দুটি পরীক্ষায় নকলের অভিযোগ স্বীকার করলেও গত সাড়ে চার বছরে তার শাসনামলে রাজ্যে কোনো প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।
ভগবন্ত বলেন, ‘আমি আপনাদের আশ্বাস দিচ্ছি যে পাঞ্জাবে কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি, হবেও না। এটি আমার গ্যারান্টি। আমরা দুটি জায়গা থেকে নকল করার খবর পেয়েছিলাম। আমরা মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে নকলের ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা নকল চক্রের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছি।’
পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রী হরজোত সিং বেইন্সও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি বলেন, ‘আমার পদত্যাগে যদি পাঞ্জাবের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত উন্নতি হয়, তবে আমি যেকোনো মুহূর্তে পদত্যাগ করতে প্রস্তুত।’




