• ই-পেপার

খাল খনন শেষে ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও

বরিশালে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশালে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম

বরিশালের হিজলা উপজেলায় এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষরা। ওই বিএনপি নেতার নাম ফরিদ উদ্দিন বেপারী। তিনি উপজেলার হিজলা গৌরবদি ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক।

রবিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে হিজলা গৌরবদি ইউনিয়নের মান্দ্রা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

ফরিউদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে আমান উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, তার বাবা ফরিদ উদ্দিন বেপারী আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হিজলা গৌরবদি ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন। এ লক্ষ্যে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই প্রচারণা চালাচ্ছে।

রবিবার বিকালে বাসা থেকে বের হয়ে প্রচারণা চালাতে চালাতে মান্দ্রা বাজার এলাকায় আসলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খোকন দপ্তরির অনুসারী ইসমাইল মোল্লা, হুমায়ুন তালুকদার ও তানভীর তালুকদারসহ ১৫/২০ জন অতর্কিত হামলা চালায়।

এসময় তাকে কুপিয়ে মারাত্মক যখন করা হয়। আমরা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। 

হিজলা থানার ওসি মো. সোলায়মান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ফরিদ উদ্দিন বেপারীকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আসামিদের ধরতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

কেরানীগঞ্জে বাসার পাশেই মিলল নারীর মরদেহ, হত্যার অভিযোগ স্বজনদের

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
কেরানীগঞ্জে বাসার পাশেই মিলল নারীর মরদেহ, হত্যার অভিযোগ স্বজনদের

ঢাকার কেরানীগঞ্জের খোলামোড়া এলাকায় একটি খোলা জায়গা থেকে মমতাজ (৩০) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের স্বজনদের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার খোলামোড়া টাইলস মসজিদের গলি এলাকায় জালাল মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া মমতাজের মরদেহ একটি চাদর দিয়ে ঢাকা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের হাতে কামড়ের চিহ্ন, পাশে জুতা এবং ধস্তাধস্তির আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

একই বাড়ির ভাড়াটিয়া ইমরান জানান, মমতাজের স্বামীর সঙ্গে খোলামোড়া মডেল টাউন এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। সম্প্রতি স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তিনি বড় বোন খুশি ও ভগ্নিপতি ইউনুস মিয়ার সঙ্গে একই এলাকায় বসবাস করছিলেন। শনিবার দুপুরে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর ফিরে আসেননি। রবিবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মমতাজের সৎ মা সাহিদা খাতুন বলেন, তার বড় বোন খুশি ও ভগ্নিপতি ইউনুস মিয়া গ্রামের বাড়িতে যাওয়ায় মমতাজ বাসায় একাই ছিলেন। মমতাজ তার চেয়ে বয়সে ছোট এক ছেলের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করার কারণে তার সঙ্গে পরিবারের অনেকের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল না। তাদের ধারণা, মমতাজকে হত্যা করা হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুস বলেন, নিহত নারী সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায়  কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।

ফেনীতে জুলাই হত্যা মামলার আসামি যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীতে জুলাই হত্যা মামলার আসামি যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার
আলী আশ্রাফ ওরফে রুবেল হাজারী। সংগৃহীত ছবি

ফেনীর মহিপালে ৪ আগস্টের হত্যা মামলার অন্যতম আসামি জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আশ্রাফ ওরফে রুবেল হাজারীকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে ফেনী মডেল থানা পুলিশ।

রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকার মাস্টারপাড়ায় বোনের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ভারতীয় ভিসা লাগানো একটি পাসপোর্ট উদ্ধার করে পুলিশ।

রুবেল ফেনী পৌরসভার মাস্টারপাড়ার লমী হাজারী বাড়ির বাসিন্দা মৃত নুর নবীর ছেলে।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন ফেনী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বেলাল হোসেন।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাস কালের কণ্ঠকে জানান, রুবেল হাজারী বিরুদ্ধে মহিপালে ছাত্র হত্যার তিনটি মামলাসহ একাধিক হত্যা চেষ্টার মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক নাশকতার অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে আইনী প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোর্পদ করা হবে।

জানা গেছে, ৪ আগস্টের পর ফেনী আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশে বিদেশে পলাতক রয়েছেন। গ্রেপ্তার রুবেল হাজারীও পলাতক ছিলেন। তবে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ভারতীয় ভিসা লাগানো একটি পাসপোর্ট উদ্ধার করে পুলিশ।

কুড়িগ্রামে অবৈধ জাল ও বৈদ্যুতিক শকে চলছে মাছ নিধনের মহোৎসব

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামে অবৈধ জাল ও বৈদ্যুতিক শকে চলছে মাছ নিধনের মহোৎসব
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের নদ-নদীতে নিষিদ্ধ জাল ও বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকার বেড়েই চলেছে। অভিযানের পরও থামছে না এই অবৈধ কার্যক্রম। এতে ডিমওয়ালা মা মাছ, রেণু ও পোনা মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ প্রাণীও নির্বিচারে ধরা পড়ছে। ফলে দেশীয় মাছের উৎপাদন ও নদীর জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, দুধকুমার, গঙ্গাধর ও জিঞ্জিরামসহ ছোট বড় ১৬টি নদ-নদীতে চায়না দুয়ারি জাল, কারেন্ট জাল, ডারকি, খ্যাতা, ফাঁসি ও বেড়া জালসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও ব্যাটারি ও তারের সাহায্যে বৈদ্যুতিক শক দিয়েও মাছ ধরা হচ্ছে। এতে মাছের পাশাপাশি শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও মারা যাচ্ছে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার ও সংকোষ নদীতে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ ধরছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। শকের আঘাতে মাছ ভেসে উঠলে সেগুলো হাতজাল দিয়ে তুলে বাজারে বিক্রি করা হয়। সম্প্রতি পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ এবং কয়েকজনকে আটক করেছে।

স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, এক থেকে দেড় ফুট প্রস্থ ও ৪০ থেকে ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি চায়না দুয়ারি জালের দাম পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা। ছোট ছোট খোপ ও লোহার রিংযুক্ত এ জালে একবার মাছ বা অন্য জলজ প্রাণী আটকে গেলে আর বের হতে পারে না।

মৎস্য সং‌শ্লিষ্টরা বল‌ছেন, ক্ষুদ্র ছিদ্রযুক্ত জালে রেণু, পোনা ও ডিমওয়ালা মা মাছ ধরা পড়ায় প্রাকৃতিক প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব ইতিমধ্যে শিং, মাগুর, কৈ, টেংরা, পুঁটি, খলিসা, টাকি, বৈরালী ও গজারসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির ওপর পড়েছে।

মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত আফজাল হোসেন ও মন্টু মিয়া বলেন, কাজের সংকট থাকায় ঋণ নিয়ে এসব জাল কিনে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা।

চিলমারীর জোড়গাছ মাঝিপাড়ার বাসিন্দা ভোন্দল মাঝি বলেন, আগে যারা পেশাগতভাবে মাছ ধরতেন, এখন তাদের জালেও আগের মতো মাছ উঠছে না। কারণ প্রায় প্রতিটি গ্রামেই নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বেড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর অভিযান না থাকায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার কমছে না। তাদের দাবি, শুধু জাল জব্দ নয়, উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

কু‌ড়িগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম আকন্দ বলেন, নিয়মিত অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ জাল ও বৈদ্যুতিক শক তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হচ্ছে। তবে দুর্গম নদীপথ ও চরাঞ্চলে অভিযান পরিচালনা কঠিন। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।