• ই-পেপার

মায়ের মৃত্যুশোকে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছেন রোনালদিনহো!

ফ্রান্স ও স্পেনের প্রথম সেমিফাইনালের প্রস্তুতি চলছে ডালাসে

ক্রীড়া ডেস্ক
ফ্রান্স ও স্পেনের প্রথম সেমিফাইনালের প্রস্তুতি চলছে ডালাসে
ছবি : রয়টার্স

আর দুই তিন ম্যাচ পর শেষ হচ্ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’খ্যাত ফিফা বিশ্বকাপ। শিরোপা লড়াইয়ে প্রথম সেমিতে মুখোমুখি ফ্রান্স ও স্পেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের আর্লিংটনে অবস্থিত ডালাস স্টেডিয়ামের ১৫ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। ম্যাচের আগে পুরোদমে প্রস্তুতি চলছে স্টেডিয়ামে। 

1

স্টেডিয়ামের মাঠের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে দুই দলের ড্রেসিং রুমের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মাঠকে খেলার দিনের জন্য উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। 

2

দর্শকের সারির আসনগুলো পরিপাটি করার কাজও শেষের দিকে। হাইভোল্টেজ ম্যাচটি নিয়ে দুই দেশের সমর্থকরা রয়েছে অধীর আগ্রহে।

3

 

২০৩০ সাল থেকেই কি ৬৪ দলের বিশ্বকাপ?

ক্রীড়া ডেস্ক
২০৩০ সাল থেকেই কি ৬৪ দলের বিশ্বকাপ?
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ছবি: সংগৃহীত

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর টুর্নামেন্টটি ৬৪ দলে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ও মূল্যায়ন করা হবে। ইনফান্তিনোর মতে, বিশ্বকাপ এমন একটি আসর হওয়া উচিত, যেখানে প্রতিটি দেশের অংশগ্রহণের স্বপ্ন দেখার সুযোগ থাকবে।

সুইজারল্যান্ডের সম্প্রচারমাধ্যম ব্লু স্পোর্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেন, ‘বিশ্বকাপ আয়োজনের সময় আমাদের শুধু ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকার কথা ভাবলে চলবে না। এটি পুরো বিশ্বের জন্য। প্রতিটি দেশেরই বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখার সুযোগ থাকা উচিত।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই বিষয়গুলো আমরা (২০২৬) বিশ্বকাপের পর খতিয়ে দেখব। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের দলের মান অনেক বেড়েছে এবং তারা আরো উন্নতি করছে। ছোট দেশগুলোকে যদি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে তাদের উন্নতির অনুপ্রেরণাও কমে যাবে।’

ইনফান্তিনো মনে করেন, প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত এবারের বিশ্বকাপ দারুণ সফল হয়েছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, এবার আফ্রিকার ১০টি দলের মধ্যে ৯টিই নকআউট পর্বে উঠেছে। অথচ আগের বিশ্বকাপে আফ্রিকা থেকে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল মাত্র ৫টি দল।

ফিফা ২০১৭ সালে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এরপর ২০২৫ সালের এপ্রিলে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা (কনমেবল) ২০৩০ সাল থেকে বিশ্বকাপ ৬৪ দল নিয়ে আয়োজনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

২০৩০ সালের বিশ্বকাপের মূল আয়োজক স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। তবে প্রতিযোগিতার শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে উদ্বোধনী তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতে। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল উরুগুয়ে।

যদিও সবাই ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের পক্ষে নন। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার (উয়েফা) সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন এই প্রস্তাবকে ‘বাজে ধারণা’ বলে মন্তব্য করেছেন। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফার মতে, আরো দল বাড়ানো হলে প্রতিযোগিতায় ‘বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টি হতে পারে।

এ ছাড়া উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থার (কনকাকাফ) সভাপতি ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানি মনে করেন, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ ফুটবলের সামগ্রিক কাঠামোর জন্য ‘ক্ষতিকর’ হতে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ২০৩৮ বিশ্বকাপের আয়োজক হতে বিড করতে পারে এবং টুর্নামেন্ট ৬৪ দলের হলেও তা সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব।’

ফিফার বর্তমান অবস্থান হলো, সদস্যদের যেকোনো প্রস্তাব তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে। তবে এখনই ৬৪ দলের বিশ্বকাপ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইঙ্গিত নেই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ফিফা কাউন্সিল।

বালোগানের শাস্তি বদলেছিল একক সিদ্ধান্তে

অনলাইন ডেস্ক
বালোগানের শাস্তি বদলেছিল একক সিদ্ধান্তে
ফোলারিন বালোগান। ছবি : সংগৃহীত

এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ তার শেষ প্রান্তে চলে এসেছে। যৌথ আয়োজক হিসেবে কানাডা ও মেক্সিকোর নাম থাকলেও এবারের বিশ্বকাপের মূল আয়োজক আসলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

এবারের বিশ্বকাপে দল বেশি, ম্যাচ বেশি, বিতর্কও বেশি। মাঠে হাইড্রেশন ব্রেক, রেফারিং আর ভিএআর নিয়ে বিতর্ক তো নিত্যদিনের। এ ছাড়া ফিফার প্যানেলে থাকার পরও সোমালিয়ার রেফারি ওমর আবদুল কাদির আরতানকে ঢুকতে না দেওয়া, ইরানকে খেলা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগে বাধ্য করার মতো ঘটনাও এবারের বিশ্বকাপকে বিতর্কিত করেছে। 

তবে সব বিতর্ককে ছাপিয়ে গেছে নজিরবিহীন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ফোনে বদলে গিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের শাস্তি। এখন জানা যাচ্ছে, ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভাপতি একাই নিয়েছিলেন বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত। এমনকি কমিটির কারো সঙ্গে তিনি পরামর্শও করেননি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের টেলিফোনের মতো শাস্তি স্থগিতের একক সিদ্ধান্তও অস্বাভাবিক।  

রাউন্ড অব ৩২-এর বসনিয়া হার্জেগোভিনার বিপক্ষের ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান। ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ ছিল না তার। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক টেলিফোনেই বদলে যায় সবকিছু। ট্রাম্প তার বন্ধু ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করে বালোগানের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। বন্ধুত্বের প্রতিদান দিতে দেরি করেননি ইনিফান্তিনো। ফিফার গভর্নিং বডি বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ১২ মাসের জন্য স্থগিত করে দেয়। 

প্রথমে বলা হয়েছিল, গভর্নিং বডি স্বাধীনভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন জানা যাচ্ছে, সেই স্বাধীনভাবে নেওয়া সিদ্ধান্তটা ছিল একজন ব্যক্তির একক সিদ্ধান্ত। আর তিনি হলেন ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আল-কামালি। ১৮ সদস্যের ডিসিপ্লিনারি কমিটির অন্য কোনো সদস্যের সঙ্গে এ ব্যাপারে তিনি পরামর্শও করেননি।

এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণত ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান কামালি, ডেপুটি চেয়ারম্যান হোর্হে প্যালাসিও এবং কমিটির অন্য একজন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের একটি কমিটি নিয়ে থাকে। আর ডিসিপ্লিনারি কোনো বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত নিতে হলে, তা সাধারণত প্যালাসিও নিয়ে থাকেন। কিন্তু বালোগানের ক্ষেত্রে সব কিছুই ছিল ব্যতিক্রমী। 

এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১৩ জন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। তার মধ্যে ১২ জনই তাদের ম্যাচ না খেলার শাস্তি ভোগ করেছেন বা করবেন। বালোগানই একমাত্র সৌভাগ্যবান, যিনি লাল কার্ড দেখার পরের ম্যাচেও খেলতে পেরেছিলেন। অবশ্য তাতে লাভ হয়নি। বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে রাউন্ড অব ১৬-তেই থেমে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের পথচলা।

যে ইতিহাস আগে দেখেনি বিশ্বকাপ

ক্রীড়া ডেস্ক
যে ইতিহাস আগে দেখেনি বিশ্বকাপ
প্রতীকী ছবি

এবারের বিশ্বকাপ অনেক প্রথমের সাক্ষী হয়েছে। শুরুটা হয় ৪৮ দলের প্রথম বিশ্বকাপ দিয়ে। এ ছাড়া দল ও খেলোয়াড় মিলিয়ে আরো অনেক প্রথমের দেখা মিলেছে। সেমিফাইনালিস্ট চূড়ান্ত হওয়ার পর এবার আরেকটি প্রথমের দেখা পাওয়া গেছে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ ৪ দল সেমিফাইনালে সুযোগ পেয়েছে। ১৯৯২ সালে র‌্যাংকিং চালু হওয়ার পর এমন ইতিহাস কখনো দেখা যায়নি। ইতিহাস গড়া চার দল হচ্ছে—আর্জেন্টিনা, স্পেন, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড।

রেকর্ডের সাক্ষী হওয়া চার দলেরই আবার নামের পাশে রয়েছে বিশ্বকাপ ট্রফি। বিশ্বকাপ জিতেছে এমন ৪ দল তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে। এর আগে ১৯৭০ ও ১৯৯০ বিশ্বকাপে ঘটেছিল।

১৯৭০ বিশ্বকাপের সেমিতে সুযোগ পাওয়া ৪ বিশ্বকাপজয়ী দল হচ্ছে ব্রাজিল, ইতালি, উরুগুয়ে ও পশ্চিম জার্মানি। বিপরীতে ১৯৯০ বিশ্বকাপের ৪ দল ছিল পশ্চিম জার্মানি, আর্জেন্টিনা, ইতালি ও ইংল্যান্ড।

মায়ের মৃত্যুশোকে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছেন রোনালদিনহো! | কালের কণ্ঠ