• ই-পেপার

গাজীপুরে মানচিত্র এঁকে মোমবাতি জ্বালিয়ে বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ

গোপালগঞ্জে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে সাহিত্য আড্ডা

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
গোপালগঞ্জে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে সাহিত্য আড্ডা
ছবি : কালের কণ্ঠ

সাহিত্য মানুষের মননকে সমৃদ্ধ করে, কল্পনাশক্তিকে বিকশিত করে এবং মানবিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে তরুণদের বইমুখী করে তোলা এবং মাদকসহ নানা সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে সাহিত্যচর্চার বিকল্প নেই। এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে গোপালগঞ্জে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রাণবন্ত ‘সাহিত্য আড্ডা’।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের জলসাঘর সংগীত একাডেমিতে বসুন্ধরা শুভসংঘ গোপালগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজনে এ সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্যের গুরুত্ব, সাহিত্যচর্চার প্রয়োজনীয়তা এবং সমাজ গঠনে সাহিত্যের ভূমিকা নিয়ে শিক্ষক, সাহিত্যপ্রেমী, সংস্কৃতিকর্মী ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত আলোচনা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যকর্ম ও বাংলা সাহিত্যে তার অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, সাহিত্য কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের চিন্তা, চেতনা, অনুভূতি ও মূল্যবোধকে সমৃদ্ধ করে একটি সুন্দর সমাজ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার কাজী মন্টু কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক বিষ্ণুপদ বালা। তিনি বলেন, সাহিত্য মানুষের মনের ভাব, কল্পনা ও অনুভূতি যখন সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও শিল্পসম্মত ভাষার মাধ্যমে লিখিত আকারে প্রকাশ পায়, তখন তাকে সাহিত্য বলা হয়। সাহিত্য মানবজীবনের দর্পণ। এর মাধ্যমে মানুষের আনন্দ, বেদনা, প্রেম, সংগ্রাম ও অভিজ্ঞতার প্রকাশ ঘটে। সাহিত্য মানুষে মানুষে হৃদয়ের বন্ধন তৈরি করে।

তিনি আরো বলেন, কবিতা আবেগের শিল্পিত প্রকাশ, গল্প ও উপন্যাস বাস্তব কিংবা কাল্পনিক জীবনের বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরে, নাটক সংলাপনির্ভর শিল্পরূপ এবং প্রবন্ধ নির্দিষ্ট বিষয়ে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ। এসব সাহিত্যধারা মানুষের চিন্তার পরিধি বিস্তৃত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সাহিত্য আড্ডায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রঘুনাথপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, রঘুনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও জলসাঘর সংগীত একাডেমির উপদেষ্টা সরোজ কান্তি বিশ্বাস (খোকন)। তিনি বলেন, ‘সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্য মানবজীবনকে সুন্দর ও অর্থপূর্ণ করে তোলা। সাহিত্য আমাদের আনন্দ দেয়, কল্পনাশক্তি বাড়ায় এবং অন্যের সুখ-দুঃখ উপলব্ধি করতে শেখায়। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরে মানুষকে সচেতন করাও সাহিত্যের অন্যতম দায়িত্ব।’

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন গোপালগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মহানামব্রত সরকার। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, সাহিত্যের কাজ হলো মানবাত্মার সঙ্গে মানবাত্মার মিলন ঘটানো। সাহিত্য মানুষের ভেতরের মানবিক সত্তাকে জাগ্রত করে এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি করে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে অহিদ সরদার বলেন, সাহিত্য কোনো নির্দিষ্ট দেশ, ভাষা বা জাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিটি মানুষের মধ্যেই বিশ্বমানবের সত্তা রয়েছে। সাহিত্য সেই বিশ্বমানবিক চেতনাকে জাগিয়ে তোলে।

অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা শুভসংঘ গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সুজন দাস বলেন, সাহিত্য মানুষকে আনন্দ দেয়, সাহিত্য মানুষের মনের কথা বলে। সাহিত্যের মধ্যেই মানুষ খুঁজে পায় তার নতুন জীবন। মনুষ্য জীবনের আনন্দ বেদনার এক মিলন স্থল সাহিত্য। যে বইকে ভালোবাসে না সে পশুর সমান।

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্মকে মাদক ও নানা সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে সাহিত্যচর্চা অত্যন্ত প্রয়োজন। বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগ তরুণদের বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলছে। আমরা নিয়মিত পাঠচক্র ও সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করব, যাতে যুবসমাজ সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে।’

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সহসভাপতি মো. আল ইমরান সুমন, সাধারণ সম্পাদক তূর্য রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু বিশ্বাস ও সামিউল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক অয়ন সাহা, দপ্তর সম্পাদক সীমান্ত পাল, ক্রীড়া সম্পাদক তমাল বোস, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সাব্বিরসহ জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জলসাঘর সংগীত একাডেমির আহ্বায়ক কমলেশ বিশ্বাস, সদস্যসচিব বিপ্লব বিশ্বাস, কার্যকরী সদস্য শংকর মালাকার, কৃষ্ণানন্দ মনু, অমিতোষ বিশ্বাস, সৌরভ বালা, মৌসুমি বিশ্বাস, পার্থ বিশ্বাস, পূর্ণেন্দু বালা, মুক্তা বিশ্বাস, বিপ্রদেব বিশ্বাস, শংকর বালা, নিলীমা বিশ্বাস, নৃত্য প্রশিক্ষক শেখ সাদি, অভিভাবক দিপীকা মন্ডল, সমীর মালাকার, ফটিক মালাকারসহ  সংস্কৃতিকর্মী, শিল্পী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

উপস্থিত শিক্ষার্থীরা সাহিত্য, বইপড়া ও সৃজনশীল চর্চার গুরুত্ব নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন নিয়মিত করার আহ্বান জানান।

আয়োজকরা জানান, তরুণদের বইপড়ায় আগ্রহী করে তোলা, সাহিত্যচর্চার পরিবেশ সৃষ্টি, মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং মাদকমুক্ত, সংস্কৃতিমনস্ক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে বসুন্ধরা শুভসংঘ ভবিষ্যতেও নিয়মিত সাহিত্য আড্ডা, পাঠচক্র ও বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মসূচির আয়োজন করবে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারীরা সাহিত্যচর্চাকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জীবনসংগ্রামে ক্লান্ত প্রবীণ হাওয়া বেগমের পাশে বসুন্ধরা শুভসংঘ

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
জীবনসংগ্রামে ক্লান্ত প্রবীণ হাওয়া বেগমের পাশে বসুন্ধরা শুভসংঘ
ছবি : কালের কণ্ঠ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে জীবনসংগ্রামে ক্লান্ত প্রবীণ নারী মোছা. হাওয়া বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। খাদ্যসহায়তা পেয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে তার জীবনে।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে বসুন্ধরা শুভসংঘ কালিয়াকৈর উপজেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের হাজী মার্কেট এলাকার বাসিন্দা হাওয়া বেগমের বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়।

সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা তাঁর হাতে এক বস্তা চাল, আলু, পেঁয়াজ, মুরগির মাংস, মসুর ডাল, বুটের ডাল, আটা, লবণ, হলুদ, মরিচের গুঁড়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৬৮ বছর বয়সী হাওয়া বেগম দীর্ঘদিন ধরে অন্যের বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বয়সের ভার ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে আগের মতো কাজ করতে পারেন না। ফলে নিয়মিত খাদ্য ও ওষুধের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে।

খাদ্যসহায়তা পেয়ে হাওয়া বেগম বলেন, ‘আমি অনেক খুশি হইছি। এই খাবারগুলা আমার জন্য অনেক বড় সহায়তা। বসুন্ধরা শুভসংঘ আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। আল্লাহ যেন তাদের ভালো রাখে।’

বসুন্ধরা শুভসংঘ কালিয়াকৈর উপজেলা শাখার সভাপতি নীরঞ্জন চন্দ্র দাস বলেন, ‘সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বসুন্ধরা শুভসংঘের অন্যতম লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাসেল মাহমুদ বলেন, ‘মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো সামাজিক দায়িত্ব। সামান্য সহায়তাও একজন অসহায় মানুষের জীবনে বড় স্বস্তি এনে দিতে পারে।’

খাদ্যসহায়তা বিতরণকালে বসুন্ধরা শুভসংঘ কালিয়াকৈর উপজেলা শাখার সহসভাপতি সবুজ কুমার, অর্থ সম্পাদক রমজান ইসলাম স্বাধীন, কার্যনির্বাহী সদস্যসহ সংগঠনের অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবক উপস্থিত ছিলেন।

পলাশবাড়ীতে বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রমীলা প্রীতি ফুটবল ম্যাচ

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
পলাশবাড়ীতে বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রমীলা প্রীতি ফুটবল ম্যাচ
ছবি : কালের কণ্ঠ

বিকেলের নরম আলো তখন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে পলাশবাড়ীর সূতি মাহমুদ মডেল পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠজুড়ে। মাঠের চারপাশে নানা বয়সী দর্শকের ভিড় বাড়ছে। শিশু থেকে প্রবীণ—সবাই অপেক্ষায় দুই দলের নারী ফুটবলারের লড়াই দেখার। মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন খেলোয়াড়রা। বাঁশির প্রথম শব্দের সঙ্গে শুরু হয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আর প্রতিটি আক্রমণ–প্রতিআক্রমণে দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। মেয়েদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ, দারুণ নৈপুণ্য এবং দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনে প্রমীলা প্রীতি ফুটবল ম্যাচটি পরিণত হয় এক আনন্দঘন ক্রীড়া উৎসবে।

নারীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা, তরুণীদের মধ্যে ক্রীড়াচর্চার আগ্রহ বৃদ্ধি এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে বসুন্ধরা শুভসংঘ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা শাখার উদ্যোগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে এই প্রমীলা প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।

ম্যাচে মুখোমুখি হয় গাইবান্ধা নারী ফুটবল একাডেমি ও পলাশবাড়ী ফুটবল কোচিং একাডেমি। খেলার শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। দ্রুতগতির পাসিং, সমন্বিত আক্রমণ এবং দারুণ রক্ষণভাগের লড়াইয়ে ম্যাচটি শুরু থেকেই জমে ওঠে। একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত সুযোগগুলো কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে ৩–১ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় পলাশবাড়ী ফুটবল কোচিং একাডেমি।

ম্যাচটি দেখতে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ মাঠে উপস্থিত ছিলেন। দর্শকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও উৎসাহ নারী ফুটবলের প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান আগ্রহেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, খেলাধুলা শুধু শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করে না, বরং শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস ও দলগত চেতনা গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে মেয়েদের নিয়মিত খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা হলে তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে এবং সমাজে সমঅধিকার ও নারীর সক্ষমতার ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে মাদক, অপরাধ ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।

ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন পলাশবাড়ী ফুটবল কোচিং একাডেমির সভাপতি আলহাজ আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক সুরুজ হক লিটন, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও মেয়রপ্রার্থী ফরিদুল হক রুবেল, গাইবান্ধা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সাবেক সদস্য মাসুদ রানা শেখ, গাইবান্ধা ফুটবল একাডেমির সহসভাপতি নুরুন্নবী সরকার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস সরকার, সহসাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম হিরু, প্রচার সম্পাদক নাছির হোসেন, সাবেক খেলোয়াড় মোনতাসির মামুন লিমন, শিফাত আহম্মেদ সঞ্জুসহ স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নারী ক্রীড়াবান্ধব সমাজ গড়ে তুলতে এবং মেয়েদের খেলাধুলায় আরো বেশি সম্পৃক্ত করতে বসুন্ধরা শুভসংঘ ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখবে। তাদের বিশ্বাস, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণীরা শুধু শারীরিকভাবে নয়, মানসিক ও সামাজিকভাবেও আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে সমাজে নারী নেতৃত্ব বিকাশ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি জোরদার করতেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বেতাগীতে বসুন্ধরা শুভসংঘের বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি
বেতাগীতে বসুন্ধরা শুভসংঘের বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ
সংগৃহীত ছবি

‘সবুজে সুন্দর আগামী’ গড়ার প্রত্যয়ে বরগুনার বেতাগী উপজেলায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বৃক্ষরোপণ ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নের পুটিয়াখালী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে বিদ্যালয় চত্বরে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা এবং দেশব্যাপী সবুজায়ন সম্প্রসারণে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, একটি গাছ শুধু অক্সিজেনের উৎস নয়; এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর উচিত অন্তত একটি করে গাছ রোপণ এবং তার নিয়মিত পরিচর্যা করা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেতাগী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নূরুল ইসলাম পান্না। তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। রাষ্ট্রীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরেই বৃক্ষরোপণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বসুন্ধরা শুভসংঘের মতো সংগঠনের এমন উদ্যোগ দেশব্যাপী সবুজায়ন কার্যক্রমকে আরো বেগবান করবে।

বিশেষ অতিথি বিবিচিনি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং পুটিয়াখালী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. জাকির হোসাইন বলেন, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বসুন্ধরা শুভসংঘের এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, চারা গ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়, সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে। তাহলেই ভবিষ্যতে প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে।

এ সময় আরো বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নেছার উদ্দিন খান, মো. জলিলুর রহমান খন্দকার, বিবিচিনি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. রিয়াজ সিকদার, বিবিচিনি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যাপক মো. সেকান্দার আলী মৃধা এবং মো. ওয়াদুদ মিয়া।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেতাগী প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও বসুন্ধরা শুভসংঘ বেতাগী উপজেলা শাখার সভাপতি আলহাজ কামাল হোসেন খান। সঞ্চালনা করেন বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি স্বপন কুমার ঢালী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুটিয়াখালী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রদীপ কুমার বিশ্বাস, জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক মনোয়ারা বেগম, সহকারী শিক্ষক মো. আল আমিন, বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা মো. ওমর ফারুক, মো. আল মামুন, সাবিনা ইয়াসমিন, আয়শা সিদ্দিকা, কমলেশ চন্দ্র শীল, মিতা রানী সরকার, মৃণাল কান্তি শীল, বশির আহমেদ, কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর আব্দুর রহমানসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শুভসংঘের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকরা জানান, পরিবেশবান্ধব সমাজ গড়ে তোলা এবং নতুন প্রজন্মকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করতেই বসুন্ধরা শুভসংঘ নিয়মিতভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে।

গাজীপুরে মানচিত্র এঁকে মোমবাতি জ্বালিয়ে বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ | কালের কণ্ঠ