বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। রাজপথ ও জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের মতো একটি অঘটনপটীয়সী বড় দলের বিরোধিতার মুখোমুখি তাদের হতে হচ্ছে না। দ্বিতীয়ত সংসদে বিরোধীদলীয় সদস্যসংখ্যা ৭৭ হওয়া সত্ত্বেও পারফরম্যান্সের দিক থেকে বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্বল বিরোধী দলকে কাবু করতে বিএনপিকে তেমন বেগ পেতে হচ্ছে না। কিন্তু এ ধরনের একটি সুবিধাজনক পরিস্থিতিতে বিএনপি সরকার যদি অতি-আত্মপ্রসাদের মধ্যে থাকে, তাহলে এখন আওয়ামী লীগকে যে বেকায়দায় পড়তে হয়েছে, বিএনপিকেও সেই পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হতে পারে, এই উপলব্ধি মাথায় রেখে কাজ করলে বিএনপির পক্ষে সুষ্ঠুভাবে সরকার পরিচালনা করা তেমন জটিল হবে বলে মনে হয় না। সুবিধাজনক এবং অনুকূল অবস্থার কিছু অসুবিধা ও প্রতিকূল অবস্থা থাকে। বিএনপি সরকারে এসেছে, এখনো ছয় মাস পূর্ণ হয়নি। কিন্তু ‘সকাল দেখে বোঝা যায়, সারা দিন কেমন কাটবে’, বলে যে কথাটি প্রচলিত আছে, তা ভাবনায় রেখে কারও বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আদৌ ভালো নয়। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পর কোনো রাজনৈতিক দল যদি ততোধিক দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ক্ষমতার বাইরে থাকতে বাধ্য হয়ে অথবা শীতনিদ্রায় কাটিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় আসীন হয়, তাহলে সেই দলের সরকারকে যে সংকটগুলোর মুখে পড়তে হয়, বিএনপি সরকারকে ইতোমধ্যে অনুরূপ সংকটে পড়তে হয়েছে।
বিএনপি ২০০৬ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর ২০২৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় কেটে গেছে। সময়ের বিচারে প্রায় এক প্রজন্মের ব্যবধান। এ সময়ের মধ্যে বদলে গেছে মানুষের মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি এবং আচার-আচরণ। দ্রুততর গতিতে পরিবর্তিত সামাজিক, রাজনৈতিক মূল্যবোধ এবং নতুন নতুন প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও কৌশল মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে ভিন্ন এক রূপ দিয়েছে। দীর্ঘকাল জনগণের ওপর চেপে থাকা ফ্যাসিবাদী মনোভাব পোষণকারী একটি দলের পতনে জনগণের মাঝে যে নবতর প্রত্যাশা ও আকাক্সক্ষার সৃষ্টি হয়েছিল তা পূরণে ব্যর্থ হলে সমাজে অসন্তোষ বেড়ে রাজনীতিকে টালমাটাল করে তুলতে যে খুব বেশি সময় লাগে না, ২০২৪-এ ক্ষমতা ও রাজনীতি থেকে সমূলে উৎপাটিত হওয়া আওয়ামী লীগ সরকারই এর বড় প্রমাণ। ২০০৮ সালে ওই সময়ের কেয়ারটেকার সরকারের সঙ্গে যোগসাজশে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর যৌথ রাজনৈতিক শক্তির পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচনি অন্যায় ও জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানোর আন্দোলন শুরু করা তো সম্ভবই হয়নি, এমনকি দল দুটি তাদের রুটিন রাজনৈতিক কর্মসূচি পর্যন্ত পালন করতে পারেনি।
বিএনপি সরকারের নিজেদের দলীয় ও প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে দোদুল্যমানতার কারণে আওয়ামী লীগ অদূরভবিষ্যতে রাজনৈতিক ময়দানে অবতীর্ণ হলে সরকারে থাকাকালে তারা যে নিপীড়নমূলক কৌশল প্রয়োগ করে বিএনপি ও জামায়াতকে যেভাবে রাজনৈতিক মাঠ থেকে অপসারণ করেছিল, বিএনপি সরকারের পক্ষে আওয়ামী লীগের ওপর তা প্রয়োগ করা সম্ভব হবে কি না, সে ব্যাপারে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা সন্দিহান। তদুপরি বিএনপি-জামায়াতের মানসিক দূরত্ব দিনদিন যেভাবে বেড়ে চলেছে, তাতে বিপদের সময়ে বিএনপি জামায়াতকে কাছে পাবে, এমন আশা করা যায় না। অনুরূপ পরিস্থিতিতে সংসদে বিএনপির ২১২ সদস্যের বিপুল শক্তির পক্ষে ফলপ্রসূ কিছু করা সম্ভব হবে না। ২০২৪ সালে তো সংসদে আওয়ামী লীগের ২২৪ সদস্যের অপ্রতিরোধ্য শক্তি ছিল। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের ইতিহাসে অমিত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অধিকারী, সবচেয়ে দাম্ভিক ও বেপরোয়া শাসক শেখ হাসিনা এবং তাঁর সরকারকে মাত্র ২০ দিনের আন্দোলনে বিদায় নিতে হয়েছে। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বিষয়গুলো মাথায় রাখলে ভালো করবেন।
চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানে জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা পর্বতসম উঁচু ছিল না। অভ্যুত্থানের ফসল হিসেবে আগত ড. ইউনূসের অধীনে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বরং প্রত্যাশা বেশি ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এবং আশা পূরণের দায়িত্ব বর্তেছে বিএনপি সরকারের ওপর। খুবই সাধারণ এসব প্রত্যাশা বা জন-আকাক্সক্ষা- হত্যা-ধর্ষণ-চাঁদাবাজি-অবৈধ দখল কার্যকরভাবে বন্ধ করা, খাদ্যসামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা, মূল্যবৃদ্ধি না করে বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ জরুরি সেবাগুলোর মান বৃদ্ধি করা। কিন্তু সরকার এসবের কোনোটাই নিশ্চিত করতে পারেনি। বরং প্রতিটি ক্ষেত্রে নৈরাজ্য বিরাজ করছে। ধর্ষণ-হত্যা-চাঁদাবাজি নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের শুরু থেকেই লক্ষ্য করা গেছে যে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সঙ্গে সঙ্গে দেশের অপরাধ সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নতুন এক গোষ্ঠীর হাতে এসেছে। যেহেতু তারা আওয়ামী লীগের দীর্ঘ মেয়াদে অপরাধ জগতে ঠাঁই পায়নি, অতএব তারা শূন্যস্থান পূরণ করেছে অধিক উৎসাহে। অপরাধীদের চেহারার পরিবর্তন হয়েছে মাত্র, অপরাধের মাত্রা বেড়েছে। নতুন অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় আড়ালে ছিল না। বিএনপি অনেক ক্ষেত্রে এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে। কিন্তু সরকারে আসার পরও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুপস্থিতি অথবা ‘নিজেদের লোকদের’ বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণে ‘লজ্জাবোধ’ জনমনে চরম হতাশার দৃষ্টি হয়েছে। তারা পথেঘাটে, এমনকি নিজ বাড়িতে নিরাপদবোধ করতে পারছে না।
দীর্ঘকাল পর ক্ষমতায় আসীন বিএনপির মাঝে সরকার পরিচালনার অনভিজ্ঞতাজনিত জড়তা ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু বিএনপি যদি তার দলীয় নীতি ও আদর্শের ভিত্তির ওপর অটল থাকতে চায় তাহলে অপরাধী নিজ দলের হলেও তাদের দায়মুক্তভাবে অপরাধ সংঘটনের লাইসেন্স দিতে পারে না। শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের পতনের অনেক কারণের মধ্যে একটি ছিল দলীয় নেতা-কর্মীদের দায়মুক্ত অপরাধ পরিচালনার সুযোগ দেওয়া। শেখ হাসিনা আত্মতুষ্ট ছিলেন যে তাঁর অনুসারীরা তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে সারা দেশে শত শত প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। কিন্তু এসবের আড়ালে আওয়ামী নেতা-কর্মীদের চাঁদাবাজি ও দখলবাণিজ্য ছিল অপরাধের দায়মুক্ত কাণ্ডকারবার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে তাঁর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে কোনো প্রতিষ্ঠান, সংগঠন গড়ে না তোলার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন, যা প্রশংসিত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অপরাধের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলেছেন। বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না, অপরাধ বেড়েই চলেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত মে মাস পর্যন্ত তিন মাসে সারা দেশে ৯১৫টি হত্যাকাণ্ডের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে, অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন ১০টিরও বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে মার্চ মাসে ৩১৭টি, বিএনপি দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক পরপর, এপ্রিলে ২৮৮টি এবং মে মাসে ৩১০টি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ৬৪টি ঘটনায় ৫ জন নিহত এবং ২৮৯ জন আহত হন, যার মধ্যে ১১ জন গুলিবিদ্ধ। এপ্রিলে ৯৮টি ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ৫৩৩ জন আহত হন, যার মধ্যে ৩৭ জন গুলিবিদ্ধ। মার্চে ১১৩টি ঘটনায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৯১২ জন আহত হন, যার মধ্যে ১৫ জন গুলিবিদ্ধ। বাংলাদেশের অপরাধবিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ছড়াছড়ি, দুর্বল পুলিশিব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শীর্ষ অপরাধীরা পর্দার আড়াল থেকে প্রকাশ্যে ফিরে আসাই সহিংসতা বৃদ্ধির প্রধান কারণ। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও দলীয় কোন্দল এখন রাস্তায় ছড়িয়ে পড়েছে। দিনদুপুরে একের পর এক হত্যা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সামগ্রিকভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
বিএনপি সরকার সম্ভবত এখনো নিরুদ্বিগ্ন যে আওয়ামী লীগপ্রধান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ও তাঁর দলের নেতাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ মানবতাবিরোধী মামলাগুলো দায়ের করেছে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে একটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ও ঘোষণা করা হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে। চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৪৫৩টি হত্যা মামলাসহ মোট ৬৬৩টি মামলাও দায়ের হয়েছে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে। দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রণীত সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে এবং স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে জাতীয় পর্যায়ের কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। এক অর্থে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপি সরকারের রাজনৈতিক পথের প্রধান কাঁটা অপসারণ করে দেওয়ায় তারা গা-ঝাড়া দিয়ে বলছে, ‘আমরা তো কিছু করিনি’ এবং তারা অসত্য কিছু বলছে না।
গণ অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আওয়ামী লীগ সম্পর্কে বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পতন হয়েছে, নিপাত হয়েছে, নির্মূল হয়েছে, দাফন হয়ে গেছে দিল্লিতে। তারা আর বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না। শিগগিরই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার হবে।’ সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং আইসিটি অ্যাক্টের আওতায় রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করার আইনি সুযোগ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন যে, খুব শিগগির তাদের বিচারের কাঠগড়ায় তোলা হবে। অর্থাৎ অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপিকে আওয়ামী লীগের বিরোধিতা-মুক্ত করার কাজ যেখানে শেষ করেছে, বিএনপি সরকার সেখান থেকে আওয়ামী লীগকে অকার্যকর রাজনৈতিক দলে পরিণত করার জন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে রয়টার্সের সঙ্গে এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে আগামী ডিসেম্বরে তাঁর নেতা-কর্মীদের নিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক উপদেষ্টা বলেছেন, শেখ হাসিনা এবং ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের নেতারা দেশে ফিরবেন কী ফিরবেন না, বা তাঁরা কী করবেন সেটি তাঁদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে তিনি তাঁদের অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার পক্ষে বিএনপি সরকারের অবস্থানের কথাও জানান।
আওয়ামী লীগপ্রধান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর নিজ দেশে ফিরে আসবেন, এটাই স্বাভাবিক। যেহেতু তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে। অনেকগুলো মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। অতএব আইনের শাসন নিশ্চিত করার স্বার্থে বিএনপি সরকার শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের অন্যান্য সাজাপ্রাপ্ত বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আওতায় থাকা নেতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এটাই স্বাভাবিক। দৃশ্যত সরকার নিজেকে নিরুদ্বিগ্ন ভাবলেও তার এগিয়ে যাওয়ার পথ তেমন নির্ঝঞ্ঝাট হবে না। বিএনপি ও বিএনপি সরকারের ওপর যে জনআস্থা ছিল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটিয়ে জনগণের সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারলে রাজনৈতিক ফ্রন্টে প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করার সংগ্রামে জনগণই সরকারের পাশে থাকবে।
লেখক : যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সিনিয়র সাংবাদিক




